জাতিসংঘের অধিবেশনকালে বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ ৫৫ সংগঠনের পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিনিধি   প্রিন্ট
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : ৩:৫০ অপরাহ্ণ

সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। পাশে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ। ছবি-বাংলা গেজেট।

নিজস্ব প্রতিনিধি

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে আগত বিশ্বনেতাগণের অনেকেই নানাভাবে বিতর্কিত, স্বৈরাচার, মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত বলে তাদের বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে এবং এজন্যে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ ৫৫টি সংগঠন নিউইয়র্ক পুলিশ/পার্ক ডিপার্টমেন্ট/এয়ারপোর্ট প্রশাসনের অনুমতি সংগ্রহ করেছে।

বিক্ষোভের অনুমতির জন্যে সাবমিট করা দরখাস্তের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-সহ বহু দেশের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিল করা হবে। এমন ঘটনা সারাবছরই এই সিটিতে ঘটে আসছে। তবে তার মাত্রা বেড়ে যায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকালে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রথম সংশোধনী (বাক-ব্যক্তি-মিডিয়ার স্বাধীনতা, ক্ষোভ প্রকাশের অধিকার) অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠানে পুলিশ সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে কেউ যদি সহিংস হয় কিংবা ধ্বংসাত্মক আচরণে লিপ্ত হয়-তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্প্রতিবার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত  কোন সমাবেশে অংশ নেব না। এবং আমি তাদেরকে কখনোই প্রতিবাদি হতে উৎসাহিত করিনি। আমি সবসময় তাদের বলেছি যে, এই সিটিতে তারা প্রতিবাদ-সমাবেশ-মিছিল করার অধিকার রাখেন। আমরা সেই অধিকারকে সম্মান করি, এবং এই সিটি এমন একটি জায়গা যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের জন্যে গর্বিত, প্রথম সংশোধনীর জন্যে অহংবোধ করে এবং সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। মেয়র মামদানি অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিবাদ সমাবেশকালে কোন ধরনের হামলার হুমকি চালানোর বিশ্বাসযোগ্য কোন তথ্য তার অফিসে নেই।

পুুলিশ কমিশনার এসময় জানান, ২২ সেপ্টেম্বর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুরু হবে এবং তার আগে থেকেই জাতিসংঘ সদর দফতরের সম্মুখের পার্কে, বিভিন্ন দেশের মিশনের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ শুরু হবে। কোন কোন দিন ৩/৪টি স্থানে বিক্ষোভ হবে।

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমণের সময় জেএফকে এয়ারপোর্টে পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। ২১ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে তারেক রহমান কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের কথা। সেখানে আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলো ব্যাপক বিক্ষোভের অনুমতি নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। একইসময়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে সমাবেশ করার অনুমতি নিয়েছে বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন। উভয়ের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা দেখা গেলেও এয়ারপোর্ট পুলিশসহ নিউইয়র্ক পুলিশের উপস্থিতি থাকবে। গতবছরও জাতিসংঘের অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের আগমনের সময় পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচি পালিত হয়। নিরাপত্তা বেষ্টনী সত্বেও ইউনূসের সফরসঙ্গিগণের মধ্যে কেউ কেউ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ক্ষোভের মুখে পড়ে নাজেহাল হয়েছেন। ডিম-হামলার শিকার হয়েছিলেন এনসিপির দুয়েকজন নেতা। সে আলোকে এবার বিশেষ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

তারেক রহমান যে হোটেলে অবস্থান করবেন তার বাইরেও প্রতিদিনই বিক্ষোভের কর্মসূচি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এই অবস্থা মোকাবেলা করতে বিএনপিও স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করেছে। তাদের নেতাসহ সফরসঙ্গিগণের নিরাপত্তায় থাকবেন স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা-এ তথ্য জানান নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠকেও সবকিছু ঠান্ডা মাথায় মোকাবেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট্রা জানান।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় বাইরে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ‘শান্তি-সমাবেশ’ করার অনুমতি নিয়েছে। এই কর্মসূচির সমন্বয় ঘটাচ্ছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ স¤্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান মিল্টন এবং গোলাম ফারুক শাহীন।

একইসময়ে তারেক রহমানকে ‘গণতন্ত্রের দুশমন, ফ্যাসিবাদের নায়ক, একাত্তরের ঘাতকদের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে তাকে ক্ষমতাচ্যুৎ করতে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি নিয়েছে। এ উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, মিশিগান, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ইলিনয়, ওয়াশিংটন মেট্র এলাকা, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, বস্টন থেকেও নেতা-কর্মীরা নিউইয়র্কে আসবেন বলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ১৮ সেপ্টেম্বর এ সংবাদদাতাকে জানান।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ডা. মাসুদুল হাসান জানান, সর্বকালের বৃহৎ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে জেএফকে এয়ারপোর্টে এবং জাতিসংঘের সামনে। সবটাই হবে শান্তিপূর্ণভাবে। বিশ্ববাসীকে আমরা জানান দিতে চাই যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে। গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশীরাই শুধু অনিরাপদ নন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশকেই সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হবে যদি তারেকের মত লোকজন ক্ষমতায় থাকেন।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ২৫ সেপ্টেম্বর  অপরাহ্নে নিউইয়র্কে তারেক রহমানের নাগরিক সম্বর্ধনার কর্মসূচি বাতিল করা হলেও আমেরিকার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন নিউইয়র্কে। তারা আওয়ামী লীগের যে কোন ধরনের প্রতিরোধ-কর্মসূচি রুখে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। এরফলে নিউইয়র্কে প্রবাসীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা  বিরাজ করছে। আরো উল্লেখ্য, চব্বিশের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হবার আগে প্রতি বছরই জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের জন্যে নিউইয়র্কে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামাত-শিবিরের লোকজন তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এবার ঘটবে তার উল্টো অর্থাৎ বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল-জামাত-শিবির করবে শান্তি ও স্বাগত সমাবেশ। আর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ করবে বিক্ষোভ সমাবেশ।

জানা গেছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শীর্ষ নেতাগনের বিতর্ক শুরুর আগে অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের সম্মুখস্ত ফার্স্ট এভিনিউ’র ৪১ স্ট্রিট থেকে ৪৮ স্ট্রিট পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এমনকি সর্বসাধারণকেও আইডি ছাড়া ঐ এলাকায় যেতে দেয়া হবে না।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৫০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us