নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রিন্ট
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৮:২৫ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাগরিক সম্বর্ধনা হচ্ছে না। এমনকি ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীগণের সাথে যে বৈঠক হবার কথা ছিল ২৬ সেপ্টেম্বর সেটিও বাতিল হয়েছে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে ১৬ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন যে, ২৫ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে অভিজাত একটি হোটেলের বলরুমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনকে নাগরিক সম্বর্ধনার প্রস্তুতি চলছিল। সেজন্যে কন্স্যুলেট তিন লাখ ডলারের একটি বাজেট চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের নেতা সম্বর্ধনার নামে এত অর্থ ব্যয়ে সম্মতি দেননি। বিকল্প হিসেবে আমি জানিয়েছিলাম যে, প্রবাসে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সে অর্থের জোগান দেব। এতদসত্বেও বাংলাদেশের মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে এতবড় অংকের অর্থ ব্যয়ে আমাদের নেতা সম্বর্ধনায় রাজি হননি।
তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত জনপদে ব্যানার। ছবি-বাংলা গেজেট।
গিয়াস আহমেদ আরো জানান, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির শত-সহস্র নেতা-কর্মী প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাবেন। সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে সর্বত্র।
নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটে সানফ্রান্সিসকো-তে যাবার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সেই প্রোগ্রামও বাতিল হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ন কাজের জন্যে সফরসূচি কিছুটা সংক্ষিপ্ত করে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। এর আগে হোটেলে দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে সাক্ষাৎ দিতে পারেন চেয়ারপারসন।
গোলাম ফারুক শাহীন আরো জানান, এয়ারপোর্টে এবং জাতিসংঘের সামনে স্বাগত ও শান্তি সমাবেশের জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন চলমান প্রস্তুতি আলোকে ১৬ সেপ্টেম্বর আরো জানান, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতা হিসেবে তারেক রহমান নিউইয়র্কে আসবেন ২১ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য শুরু হবে। সে পর্বে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্প্রতিবার অপরাহ্নে তারেক রহমানের ভাষণ দেয়ার কথা। সে সময় জাতিসংঘের সামনে তারেক রহমানের ভাষণকে স্বাগত জানাতে শত-সহস্র নেতা-কর্মীর সমাবেশ ঘটবে।
এদিকে, নিউইয়র্কে তারেক রহমানের পুরো কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীগণকে সুশৃঙ্খলভাবে জেএফকে এয়ারপোর্টে এবং জাতিসংঘের সামনে উপস্থিত হবার আহবান জানিয়েছেন। চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে যাদের অভিবাসনের স্ট্যাটাস নেই বা সমস্যা রয়েছে, তারা যেন গোলযোগের আশংকা থাকা কোন স্থানেই না যান।
এদিকে, তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে বাংলাদেশী অধ্যুষিত বাণিজ্যিক পাড়া।
তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে প্রতিরোধের আহবানে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলা গেজেট।
অপরদিকে, নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে প্রতিরোধের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। তারাও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন জেএফকে এয়ারপোর্টে, জাতিসংঘের সামনে এবং তারেক রহমানের অবস্থানকারি হোটেলের সামনে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শনের। ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণাকালে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ডা. মাসুদুল হাসান জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না। কারণ, তিনি ইউনূসের প্রেতাত্মা হিসেবে আওয়ামী লীগ নির্মূলের চেষ্টা চালাচ্ছেন অত্যন্ত কৌশলে। একদিকে তিনি ‘অন্তর্ভুক্তি’র কথা বলেন, অপরদিকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের আইন করেছেন। বিএনপি আর জামাত-শিবিরের সাবেক জোট এখোন একাট্টা হয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংসের নীলনক্শা অনুযায়ী কাজ করছে-যা একাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিতরা মেনে নিতে পারি না।
Posted ৮:২৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24