অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি-সংগ্রহ।
বিশেষ সংবাদদাতা
ভোটের বিনিময়ে মাথাপিছু ৫ হাজার ডলার করে প্রদানের অঙ্গিকার করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসছে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তি নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয়কক্ষে (সিনেট ও হাউজ) রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অটুট রাখলেই প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক আমেরিকানের নামে ঐ চেক ইস্যুর অঙ্গিকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে অনুষ্ঠানরত রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তি জাতীয় সম্মেলনের প্রথম রজনীতে পৌণে দুই ঘন্টার অধিক সময়ের এই ভাষণে মূলত: আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিগণের পক্ষে ভোট প্রার্থনার আকুতি উচ্চারিত হয়েছে। ৫ হাজার ডলার করে প্রদানের এই অঙ্গিকার বাস্তবায়িত করতে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মত লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ২৭ কোটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ আছেন বলে সেনসাস ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দেনার পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার। এমন একটি নাজুক পরিস্থিতি সত্বেও আরো ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গিকারকে অনেকে অযৌক্তিক মনে করছেন। আরো উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছিলেন যে, জয়ী হতে পারলে তিনি ক্ষমতা গ্রহণের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ থামাবেন। এমনকি বিরাজমান মূল্যস্ফীতি দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গিকারও করেছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনী অঙ্গিকারের অন্যতম ছিল সীমান্তে দেয়াল নির্মানের তহবিল মেক্সিকো-কে প্রদান করতে হবে। বাস্তবে কী তা ঘটেছে?
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় কোন দলের ‘মধ্যবর্তী জাতীয় সম্মেলন’ আয়োজনের রেকর্ড নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন আয়োজনের মধ্যদিয়ে নিজ দলের প্রার্থীগনের নাজুক অবস্থা ঠেকানোর কৌশল অবলম্বন করেছিলেন বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। এমনকি, একেকটি ভোটের মূল্য ৫ হাজার ডলার করে স্থির করতেও দ্বিধা করেননি-যা বিদ্যমান আইনের পরিপন্থি বলে নির্বাচনী আইন নিয়ে কর্মরতরা মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের অতিতের অঙ্গিকার পূরণের ইতিহাস খুব একটা না থাকায় এবারের এই টোপ তেমন কাজে আসবে বলে সচেতন নাগরিকেরা গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিক মন্তব্যে প্রকাশ করেছেন। এ সময় অবশ্য ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমক্র্যাটদের একটি অঙ্গিকারের কথা স্মরণে এনেছেন সুধীজনেরা। সে সময় জর্জিয়া সিনেট নির্বাচনের সময় ডেমক্র্যাটরা অঙ্গিকার করেছিলেন যে, ইউএস সিনেটের ঐ আসনটি তাদের প্রদান করা হলে প্রত্যেক আমেরিকানের নামে দুই হাজার ডলারের করোনা ভাইরাস রিলিফ চেক ইস্যু করা হবে। জর্জিয়ার আসনে জয় পেয়েছে ডেমক্র্যাটরা। এবং পরবর্তীতে দুই হাজার ডলারের চেক প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প তার সর্বশেষ অঙ্গিকার অনুযায়ী মাথাপিছু দুই হাজার ডলারের ‘ট্যারিফ চেক’ প্রদান করেননি। এর আগে ইলন মাস্কের মদদ অনুযায়ী ফেডারেল কর্মচারি ঢালাওভাবে ছাটাইয়ের মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া অর্থ থেকে মাথাপিছু ৫ হাজার ডলার করে প্রদান করেননি। অর্থাৎ অঙ্গিকার পূরণ না করার অনেক উদাহরণ রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। ট্রাম্পের এমন অঙ্গিকারের কঠোর সমালোচনা করে ‘দ্য সেন্টার ফর ইলেকশন ইনোভেশন এ্যান্ড রিসার্চ’র নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেকার গণমাধ্যমে বলেছেন, ট্রাম্পের এমন কথাবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন-ব্যবস্থাকে সন্দেহপ্রবণ করে তোলার একটি প্রয়াস পরিলক্ষিত হচ্ছে।
Posted ৭:০১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর