অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
সেমিনারের সঞ্চালনা করেন ড. দীলিপ নাথ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
সেমিনারে সুধীজনের কয়েকজন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
মার্কিন সিনেটে সংখ্যালঘিষ্ট দল ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা সিনেটর (নিউইয়র্ক)চাক শ্যুমার বলেছেন যে, বাংলাদেশে নাকি সমস্যা নেই। মানবাধিকার পরিস্থিতিও নাকি ভালো। কারণ, চব্বিশের জুলাইয়ের আগে প্রতি মাসে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি সম্পর্কিত যে হারে অভিযোগ পেতেন এখোন তার সিকিভাগও পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি ভালো বলেই হয়তো কেউ আর স্মারকলিপি দিচ্ছেন না, ই-মেলও পাঠাচ্ছেন না। ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ফোবানার সমাপনী দিবসে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যত’ সম্পর্কিত এক সেমিনারের সঞ্চালনাকালে ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দিলীপ নাথ সিনেটরের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলেন, শুধু প্রবীন এই সিনেটরই নন, বাংলাদেশ নিয়ে যারা কাজ করেন তেমন কংগ্রেসম্যানের অফিসেও এখোন স্মারকলিপি প্রদানের ঘটনা অনেক কম। অথচ আগের যে কোন সরকারের তুলনায় গত দু’বছরে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে এবং প্রতিদিনই ক্ষমতাসীনদের মদদে খুন-ধর্ষণ-লুটতরাজের ঘটনা ঘটে চলেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মত ভিন্নমত পোষণকারি সাংবাদিক-লেখক-রাজনীতিকদের ওপর চলছে বর্বরতা-যা ভাষায় প্রকাশেরও অযোগ্য। ড. দীলিপ নাথ সচেতন প্রবাসীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আবারো চরমপন্থি-আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কবলে নিপতিত হয়েছে-জাতিসংঘের তথ্যেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি প্রকাশ পেয়েছে। হিন্দুশূন্য করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। দেশ তাগে বাধ্য করা হচ্ছে হিন্দুদেরকে।
সেমিনারের প্যানেলিস্টরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
সেমিনারের প্যানেলিস্ট হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন বলেছেন, খুনের মামলায় আটক রাখা হয়েছে প্রথিতযশা সাংবাদিকদের। শতশত সাংবাদিক-সম্পাদকের বিরুদ্ধে কল্পিত হত্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। হাজারো সাংবাদিককে বরখাস্ত করতে মালিক পক্ষকে বাধ্য করা হয়েছে। বিটিভিতে হরিলুটের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনার সময়েই বেসরকারী কয়েকটি টিভি চ্যানেল এবং সংবাদপত্রে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। এগুলো কি আন্দোলন? এসব হচ্ছে জঙ্গিদের আচরণ। ভয়ের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে গণমাধ্যম থেকে সমাজ-জীবনে সর্বত্র। এহেন অবস্থার অবসান ঘটাতে না পারলে বাংলাদেশ আফগানিস্তান, পাকিস্তানের ন্যায় ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। ফরিদা ইয়াসমিন উল্লেখ করেন, চব্বিশের কথিত আন্দোলনের মোটিভই ছিল একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটানো এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার। গত দু’বছরে সেই ষড়যন্ত্রেরই প্রকাশ ঘটেছে বেআইনীভাবে ক্ষমতা দখলকারিদের আচরণে। জাতীয় প্রেসক্লাবের দু’বারের সাধারণ সম্পাদক এবং দু’বারের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন অবিলম্বে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রূপা, শাকিল-সহ গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিকের নি:শর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন।
সেমিনারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশের পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নুরুন্নবী বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বাংলাদেশকে হায়েনামুক্ত করতে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে বাংলাদেশকে ফেরাতে চাই শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন। এটাই হচ্ছে সময়ের দাবি।
প্যানেলিস্ট হিসেবে সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গির এবং সাজ্জাদ হোসেন সবুজ বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি আলোকপাতকালে বলেছেন, একাত্তরের চেয়েও ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে বাংলাদেশে। নোবেল বিজয়ী ইউনূসের পদরেখায় হাঁটছেন তারেক রহমানও। এহেন অবস্থায় প্রবাসীদের সরব হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তুলতে হবে দু:শাসনের বিরুদ্ধে। ওয়াশিংটন দূতাবাসে বাংলাদেশের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ বলেন চব্বিশের কথিত আন্দোলনের পর সন্ত্রাসীদের হামলায় বেশ ক’জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বহু সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে। চাকরিচ্যুতির ঘটনা রয়েছে হাজারো সাংবাদিকের।
Posted ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর