বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ২:৫৩ অপরাহ্ণ
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে নির্বাচনের সদস্যগণ। ছবি-বাংলা গেজেট।
![]()
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে নির্বাচনের সদস্যগণ। ছবি-বাংলা গেজেট।
বিশেষ সংবাদদাতা
নিউইয়র্ক অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নির্বাচনে সরাসরি দুটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। ৪৫ হাজার ভোটারের এ নির্বাচন হবে ২৫ অক্টোবর।
জ্যাকসন হাইটসের নিকটে বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব ভবনে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চ’ড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের জানান, ৫ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র একজন (রাব্বি সৈয়দ)প্রার্থী ছাড়া অন্য ২১ আসনে দুই প্যানেলে ৪২ জন রয়েছেন। সকলেই মাঠে নেমেছেন নিজ নিজ প্যানেলের কর্মসূচি নিয়ে। সকলের কাছে সমাদৃত চমৎকার একটি নির্বাচনে আমরা অঙ্গিকারাবদ্ধ এবং এজন্যে গণমাধ্যমের সহযোগিতার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের। এ সময় তার পাশে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য শামসুদ্দিন আজাদ, রুহুল আমিন সরকার, মিয়া মো. দুলাল এবং মিঠু হামিদ। বিদায়ী কমিটির সভাপতি সেলিম এম রহমান ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে গঠিত প্যানেলকে ‘বি প্যানেল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে ‘এ প্যানেল’ হচ্ছে আজমল হোসেন ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্যানেল।
প্যানেল-এ ‘র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। ছবি-বাংলা গেজেট।
প্রার্থীরা হলেন : সভাপতি পদে সেলিম এম এ রহমান এবং আজমল হোসেন। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট : মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান এবং দুলাল বেহেদু, ভাইস প্রেসিডেন্ট:আবুল কালাম ভ’ইয়া এবং মো. কামরুজ্জামান, জেনারেল সেক্রেটারি: ফিরোজ আহমেদ, মোহাম্মদ আলী এবং রাব্বি সৈয়দ, সহকারি সাধারণ সম্পাদক নওশাদ হোসেন এবং হারুন-অর রশীদ, ট্রেজারার মো. নওশাদ হায়দার ও মফিজুল ইসলাম ভ’ইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল আনসারী ও জেড এইচ খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তফা অনিক রাজ এবং আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ ও সাঈদ গওসুল হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মনসুর আহমদ এবং কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ এ আকতার ও রোমানা আহমেদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মোর্শেদ আলম ও হাসান খান, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক এ এস এম মইনউদ্দিন এবং মো. মইনউদ্দিন, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক বেগম এম চৌধুরী ও শাহনাজ হোসেন, যুব ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গির শহীদ সোহরাওয়ার্দি ও কাজী আর হাসান। নির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন ‘প্যানেল এ’ থেকে সিরাজউদৌলাহ হক, মো. এ সিদ্দিক, মো. আব্দুল বশির, মাসুদুল হক সানু, মো. কাওসার আলম এবং মোহাম্মদ এম ইসলাম। প্যানেল বি থেকে মো. উজ্জল পিপুল, সরোয়ার খান, শামীম আহমেদ, কাজী রবিউজ্জামান, মো. এ মান্নান এবং আব্দুল মালেক খান।
প্যানেল-বি’র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। ছবি-বাংলা গেজেট।
৭৬ বছর বয়েসী বাংলাদেশ সোসাইটির বিগত দিনে কোন কোন পর্যায়ের নেতৃত্বে কম্যুনিটির কল্যাণে আন্তরিক উদ্যোগ পরিলক্ষিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর সদস্য সংখ্যা আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পেলেও মূলধারার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তেমন কোন অবদান রাখতে সক্ষম হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিদায়ী কমিটি নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে দূরের কথা জ্যাকসন হাইটসেও একটি প্যারেডের অনুমতি সংগ্রহে সক্ষম হয়নি। অথচ এই কমিটি এবং তাদের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত বোর্ড অব ট্রাস্টিতে কেউ কেউ রয়েছেন যারা মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করে আসছেন। আসন্ন নির্বাচনে মাঠে নামা উভয় প্যানেলের প্রার্থীরাও বিগত দিনের মত নানা অঙ্গিকার করছেন। আগে নেতৃত্বে থেকে কিছুই করতে পারেননি-এমন প্রার্থীগণের মুখে কম্যুনিটির কল্যাণের অঙ্গিকার খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন না। অধিকন্তু সুধীজনে পুরনো প্রশ্নই আবর্তিত হচ্ছে যে, ৩৫ হাজার ভোটারের এই সংগঠনের প্রতি সাধারণ প্রবাসীগণের আগ্রহ থাকলে ভোটারের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবার কথা। কারণ, নিউইয়র্ক অঞ্চলে বর্তমানে তিন লাখের বেশী বাংলাদেশী বাস করছেন। যে ৩৫ হাজার জন ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন তার ৮০% এরও বেশী নিজে সদস্য ফি প্রদান করেননি বলেও গুঞ্জন রয়েছে। প্রার্থীরা দিয়েছেন অনেকের ফিÕর অর্থ-এটা কারোরই অজানা নেই। তারপরও অনেকে আশা করছেন অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সোসাইটির নয়া নেতৃত্ব নবউদ্যমে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে বাস্তবমুখী কর্মসূচি নিতে দ্বিধা করবেন না। এক্ষেত্রে তাদেরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকতে হবে। জড়িয়ে পড়তে হবে ডেমক্র্যাট আর রিপাবলিকান শিবিরে।
মার্কিন নির্বাচনের আলোকে উভয় প্যানেলের শীর্ষ প্রার্থী নিয়ে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। আইটি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ করেছেন। সোস্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচারের চেষ্টাও চলছে পুরো অনুষ্ঠানটি। এরফলে প্রার্থীগণের অঙ্গিকার এবং অতীতে কি করেছেন সে সব নিয়েও সরাসরি কথা বলা সম্ভব হবে। এমন আয়োজনের কথা অতীতে কোন কোন আঞ্চলিক সংগঠনের নির্বাচন উপলক্ষে বলা হলেও বাস্তবে তা দৃশ্যমান হয়নি। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের উদ্যোগ অবশ্য নতুন প্রজন্মে সাড়া জাগিয়েছে।
Posted ২:৫৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর