নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ২:১৪ অপরাহ্ণ
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশীর মধ্যে শাকিলা ইয়াসমিনের নামে তার গ্রামের বাড়িতে ‘শাকিলা স্মৃতি আবাসন’-এ দরিদ্রতম ১৯টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয় কয়েক বছর আগে। গ্রাউন্ড জিরোতে হারিয়ে যাওয়া একমাত্র কন্যা শাকিলার স্মৃতি রক্ষায় সিলেটের মৌলভীবাজারের গ্রামের বাড়িতে শাকিলা ইয়াসমিনের স্মরণে তার বাবা শরীফ চৌধুরী নির্মিত এই প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছে শীঘ্রই মালিকানা দলিল হস্তান্তরের কথা জানালেন শরীফ চৌধুরী। ঐ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদদাতাকে শরিফ চৌধুরী আরো জানান, বয়সের কারণে নানাবিধ অসুস্থতায় দিনাতিপাত করছি। নিকটজনদের দায়িত্ব দিয়েছি ঐ পরিবারগুলোর দেখভালের। তবুও স্বস্তি পাচ্ছি না। কারণ ওদের যদি মনোকষ্ট বাড়ে তাহলে আমার মেয়েটির আত্মা শান্তি পাবে না। এজন্যেই শীঘ্র বাংলাদেশে গিয়ে ঐসব জমির দলিল করে দিয়ে আসবো।
গ্রামের বাড়িতে শাকিলা স্মৃতি আবাসন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
শাকিলা হাউজিংয়ের বাসিন্দারা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
শরীফ চৌধুরী বললেন, ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির গ্রাউন্ড জিরোতে (টুইন টাওয়ার ধ্বসে পড়ার স্থান) স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলী সমাবেশে শাকিলার মা-সহ এসেছেন। সেখানে তারা আরো শতশত সন্তান হারানো স্বজনের সাথে শাকিলার নাম খোদাই করা স্মৃতির পাথরে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেন। অসহনীয় স্মৃতি রোমন্থনকালে শরীফ চৌধুরী জানালেন, দীর্ঘ ২৫ বছরের একটি মুহূর্তও ভুলে থাকতে পারিনি শাকিলাকে। ২০০১ সালে তার বয়স হয়েছিল ২৬ বছর। শাকিলা কাজ করতেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে অবস্থিত মার্ক এ্যান্ড ম্যাকলিলনে। কর্মরত অবস্থায়ই ইন্তেকাল করেছেন। তার স্বামী নূরুল হক মিয়াও কাজ করতেন একই কোম্পানীর অডিওভিজ্যুয়াল টেকনোলজির ডিরেক্টর হিসেবে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার সন্তান নূরুল হক মিয়ার স্মরণে সেখানে একটি এতিমখানা-কাম মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন তার পরিবার। শরীফ চৌধুরী বললেন, তাদের উভয়ের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত হচ্ছে গ্রামের বাড়িতেও। শরিফ চৌধুরী জানালেন যে, ঐ সন্ত্রাসী হামলায় সত্যিকার অর্থেই যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই।
ব্রুকলীনে শাকিলা-নূরুল হক মিয়া ওয়ে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
নূরল হক মিয়া-শাকিলা ইয়াসমিন দম্পতি বাস করতেন নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে বে রিজ এলাকায়। এই দম্পতির স্মরণে তাদের বাসার সামনের সড়কের নামকরণ ২০০৫ সালে করা হয়েছে, ‘শাকিলা ইয়াসমিন অ্যান্ড নূরল হক মিয়া ৯/১১ মেমরিয়্যাল ওয়ে’। সেখানেও স্মরণ-সমাবেশ করছেন এলাকাবাসী।
গ্রাউন্ড জিরোতে সন্ত্রাসী হামলার ভিকটিম ৬ বাংলাদেশী। ছবি-সংগ্রহ।
গ্রাউন্ড জিরোতে স্মরণ সমাবেশে সাবেক প্রেসিডেন্টসহ বিশিষ্টজনেরা। ছবি-সংগ্রহ।
উল্লেখ্য, ঐ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছে ২৯৭৭ জন। তারমধ্যে বাংলাদেশী ছিলেন ৬ জন। অপর ৪ জন হলেন মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কে চৌধুরী, সাব্বির আহমেদ এবং মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তাদের স্বজনেরাও এসেছিলেন শুক্রবার ঐ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গ্রাউন্ড জিরোর সন্নিকটে ৯/১১ মেমরিয়্যাল এ্যান্ড মিউজিয়ামে শোক-শ্রদ্ধাঞ্জলি সমাবেশে।
এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ, বারাক ওবামা, বিল ক্লিন্টন, জো বাইডেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইউএস সিনেটর চাক শ্যুমার, সাবেক মেয়র ব্লুমবার্গ সহ নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির স্টেট গভর্নর ছাড়াও সিনেটর-কংগ্রেসম্যানরা ছিলেন। গ্রাউন্ড জিরোতে সিটি মেয়র জোহরান মামদানিকে সাবেক মেয়র জুলিয়ানির সাথে করমর্দন করতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, দুদিন আগেই মামদানিকে এই স্মরণ সমাবেশে আসতে বারণ করেছিলেন ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার সময়ের সিটি মেয়র জুলিয়ানি।
Posted ২:১১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর