বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বি পার্টির শীর্ষ পদে দুই নারীর নাম আবারো সামনে এসেছে। এরা হলেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (৫৩) এবং ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান (৩০)। পুতুল এবং জাইমা উভয়েই বিশেষ দুটি পরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে আবির্ভূত হলেও নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরিবারের শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়েছেন। তার সাথে যোগ হয়েছে নানা-মা এবং দাদা-দাদির নেতৃত্ব গুণ।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে নয়া দিল্লীতে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতি সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে হবেন (প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র সদস্য হিসেবে শেখ সেলিমের নাম এসেছে) তা প্রকাশের পর আওয়ামী পরিবারে নানা মুখী-আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের এবং ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারাও শেখ সেলিমকে পছন্দ করছেন না। সর্বশেষ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় শেখ সেলিম নিজেকে কখনো শেখ হাসিনার চেয়েও ক্ষমতাবান দেখানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনার আত্মীয় পরিচয়ে তিনি আরো এমনকিছু করেছেন-যাকে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ভালোভাবে নিতে পারেননি। আওয়ামী লীগের চরম এই দু:সময়ে তেমন একজনকে আওয়ামী লীগের হাল ধরার দায়িত্ব প্রদানের অর্থ হবে সবচেয়ে পুরনো এই রাজনৈতিক দলটিকে আরো নাজুক অবস্থায় নিপতিত করা-এমন মতামত-মন্তব্য সোস্যাল মিডিয়ায় অবিরতভাবে প্রকাশের মধ্যেই শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে প্রেসিডিয়াম মেম্বার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সংবাদে অনেকে স্বস্তিবোধ করছেন। প্রখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ পুতুল বিগত বছরসমূহে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজের ধারাবাহিকতায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগদানের মধ্যদিয়ে নিজের অবস্থানকে মানবিকতায় বিশেষ এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় পুতুল এমন কোন মতামত/মন্তব্য করেননি-যা তার নানার গড়া রাজনৈতিক দলের প্রধান প্রতিপক্ষের কাউকে কষ্ট দিতে পারে। শুধু তাই নয়, ন্যায়-নিষ্ঠভাবে নিজেকে পরিচালিত করতেও কার্পণ্য করেননি পুতুল। আর এভাবেই বঙ্গবন্ধুর অপর নাতি অর্থাৎ শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের চেয়ে অনেক বেশী গুণের অধিকারী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনে সক্ষম হয়েছেন সর্বসাধারণের কাছে। সবকিছু মিলিয়ে পুতুলকেই বর্তমানের দু:সময়ে আওয়ামী লীগের কান্ডারি হিসেবে নির্ভরযোগ্য মনে করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
ঠিক এমনি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও বিএনপি রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দুতে উঠেছেন। রাজনৈতিক কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া বাবা তারেক রহমানের সাথে লন্ডনে বসতি গড়েন জাইমা রহমান ২০০৮ সালে। এরপর সেখানে উচ্চতর শিক্ষা লাভের পর ব্যারিস্টার হয়েছেন। এমনি অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তালুকদার জাইমা সম্পর্কে কট্যুক্তি করার পর জাইমা লাইম লাইটে এসেছেন। এরপর চব্বিশের জুলাইয়ে কথিত আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পতন ঘটলে মুহম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বাবা তারেক রহমান এবং মা জুবাইদা রহমানের সাথে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরেছেন ব্যারিস্টার জাইমা। আওয়ামী লীগকে সুযোগ না দিয়ে বিএনপি-জামাত-এনসিপির অংশগ্রহণে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচনের প্রচারাভিযানে জাইমা রহমান নিজের অবস্থানকে বিএনপির রাজনীতিতে অবিসম্বাদিত করেছেন। এছাড়া, ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্রেকফাস্ট প্রেয়ার মিটিংয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ এবং উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতাতেও ছিলেন ব্যারিস্টার জাইমা। নারীর ক্ষমতায়নে অন্যতম প্রবক্তা হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। আর এভাবেই ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে বিএনপির ভবিষ্যত কান্ডারি হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা। নানার পরিবারের খ্যাতির পাশাপাশি নিজের যোগ্যতা ও পৈত্রিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ জাইমা হবেন বিএনপির ভবিষ্যত নেতা-এমনটি ভাবতেও দ্বিধা করছেন না অনেকে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম এই জাতিসংঘ সফরের প্রাক্বালে গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে এসেছেন ব্যারিস্টার জাইমা। অবস্থান করছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানের বাসায়। সম্পর্কে খালা হোন জাইমার। অত্যন্ত কৌশলে বাবার মিটিংয়ের প্রক্রিয়াগুলো তৈরী করছেন বলে জানা গেছে।
Posted ৬:৩৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর