কম্যুনিটিতে স্বস্তি

ভিসার ক্ষেত্রে `পাবলিক চার্জ’ বিধি বাতিলের দাবিতে ২২ স্টেটের মামলা

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : ৩:০৯ অপরাহ্ণ

 

স্টেট এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমসকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মামলা প্রসঙ্গে কথা বলছেন সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি-সংগ্রহ।

বিশেষ সংবাদদাতা

জরুরী চিকিৎসা, আবাসন-সহ সরকারী সহায়তা গ্রহণকারিদের জন্যে গ্রীণকার্ড নিষিদ্ধ করার একটি নীতি থামিয়ে দেয়ার অভিপ্রায়ে সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ফেডারেল কোর্টে একটি মামলা হয়েছে। নিউইয়র্কসহ ২২ স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি, ওয়াশিংটন ডিসিসহ বেশ কটি সিটির পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের এহেন পরিকল্পনাকে অমানবিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং মাননীয় আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে সেই নীতি কার্যকর করা থেকে প্রশাসনকে বিরত থাকার নির্দেশ জারির জন্যে। উল্লেখ্য, সামনের শুক্রবার নয়া এই নীতি কার্যকর হবার কথা। মামলা দায়েরকারি স্টেটসমূহ হচ্ছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, কলরাডো, কানেকটিকাট, দেলওয়ারে, হাওয়াই, মেইন, ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসেচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, নিউজার্সি, নিউ মেক্সিকো, নেভাদা, ওরেগণ, পেনসিলভেনিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া। সিটি প্রশাসনের পক্ষে রয়েছেন নিউইয়র্ক সিটি, শিকাগো, সানফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, সান্তাক্লারা, কিং কাউন্টি।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এমন বিধি চালুর শিকার হবে কম্যুনিটিভিত্তিক সুপার মার্কেট/গ্রোসারিসহ হাসপাতালসমূহ। কারণ, এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ গ্রাহকই ফুডস্ট্যাম্প অথবা মেডিকেইডের ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী সিটিজেনশিপ গ্রহণের পরই ফুড স্ট্যাম্প এবং মেডিকেইডÕর যোগ্য হন ইমিগ্র্যান্টরা। এর বাইরে গ্রীণকার্ড হয়নি অথবা অবৈধভাবে বসবাসরত পরিবারে জন্মগ্রহণকারি মার্কিন শিশুরা ফুডস্ট্যাম্প-সহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছে। এমন যোগ্যতাসম্পন্ন অভিবাসীদেরকে ভবিষ্যতে গ্রীণকার্ড এবং ফুডস্ট্যাম্প/হাউজিং/মেডিকেইডের সুবিধা গ্রহণকারিগণের স্বজনের অভিবাসন ভিসা প্রাপ্তির প্রত্যাশাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে-ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নয়া নীতি কার্যকর হলে। মামলা দায়েরকারি স্টেট এটর্নী জেনারেলগণের পক্ষে নিউইয়র্কের এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস এক বিবৃতিতে বলেছেন, কঠোর পরিশ্রমী মানুষদের তার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। অথচ শুক্রকর কার্যকর হতে যাওয়া বিধির পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের ভয়ে ন্যায়সঙ্গত সুযোগ-সুবিধা নিতেও সাহসী হবেন না। অপরদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নীতির সমর্থকেরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই Ôপাবলিক চার্জÕ নীতি সমুন্নত রাখতে হচ্ছে আমেরিকানদের স্বার্থেই। কারণ, অভিবাসনের ভিসা গ্রহণের সময়েই সংশ্লিষ্টরা অঙ্গিকার করেন যে, তারা সরকারী সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। এমন নীতি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই কার্যকর করা হয়েছিল। তবে তা রদ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে। স্মরণ করা যেতে পারে, নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন হ্রাসের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে আসছে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট টানার অভিপ্রায়ে অভিবাসী সমাজের বিরুদ্ধে সাড়াশী অভিযান চালানো হচ্ছে। কথা ছিল কেবলমাত্র গুরুতর অপরাধে লিপ্ত অথবা দন্ডিত অবৈধ অভিবাসীদেরকে যুক্তরাস্ট্র  থেকে বহিস্কারের। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টো। দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকে এখোন পর্যন্ত যত অভিবাসীকে গ্রেফতারের পর বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে তার ৮৯% এর বিরুদ্ধেই অপরাধের কোন অভিযোগ নেই। এভাবে গোটা কম্যুনিটিকে সন্ত্রস্ত জনপদে পরিণত করা হয়েছে। এমনকি, ফেডারেল সরকারের উদ্ধৃতি দিয়ে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কোন দেশের অভিবাসীরা কত পার্সেন্ট সরকারী সহায়তা নিচ্ছেন তার একটি চিত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। সেখানে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশী আমেরিকানদের ৫৫% ফুড স্ট্যাম্প নিচ্ছেন। কোন কোন দেশের সিটিজেনের ৭২% নিচ্ছেন সরকারী সুবিধা।

ইতিমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারাবিশ্বের কন্স্যুলেটকে ব্রিফ করা হয়েছে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে স্পন্সরকারিদের আর্থিক সক্ষমতা এবং ভিসা প্রত্যাশীগণের দক্ষতা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার জন্যে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনায় অনেকে বিব্রত। এ অবস্থায় ফেডারেল কোর্টে মামলার ঘটনায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে কম্যুনিটিতে।

 

Facebook Comments Box

Posted ৩:০৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us