মতবিনিময় সমাবেশে কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স

বাংলাদেশে নাজুক পরিস্থিতির অবসানে একযোগে কাজের আহবান

নিজস্ব প্রতিনিধি   প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি

নিউইয়র্কে ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মার্কিন কংগ্রেসে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির র‌্যাঙ্কিং মেম্বার কংগ্রেসম্যান (ডেমক্র্যাট) গ্রেগরি মিক্স বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর আলোকপাতকালে বললেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে-সেই সম্ভাবনা অথবা প্রত্যাশাকে পূরণ করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। এরপরই আমাকে এই কমিটিতে আবারো চেয়ারম্যান হিসেবে অধিষ্ঠিত করা হবে এবং তারপর আমি বাংলাদেশ সফরে গিয়ে সচক্ষে সামগ্রিক পরিস্থিতি অবলোকন করে কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা দিতে পারবো।

মতবিনিময় সমাবেশে কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

এ সময় কংগ্রেসম্যান উল্লেখ করেন, গত বছর ২৩ ডিসেম্বর আমিসহ ৫ কংগ্রেসম্যান যুক্ত স্বাক্ষরের একটি চিঠি পাঠিয়েছিলাম তদানিন্তন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবরে। সে চিঠিতে বাংলাদেশের সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ-নিরপেক্ষ সর্বজনগ্রাহ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরীর তাগিদ দিয়েছিলাম। এবং এর মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র যে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে তা দৃশ্যমান করার কথাও বলেছিলাম। উল্লেখ করেছিলাম আমাদের উদ্বেগের কথা যে, যদি সরকার রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করে এবং আবার ক্রটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চালু করে তাহলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করি না। কংগ্রেসম্যান মিক্স বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী, আইনের শাসন পুরোপুরি কার্যকর, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউ-কে হোয়াইট হাউজসহ এয়ারফোর্স ওয়ানে নিষিদ্ধ করার প্রতি ইঙ্গিত করে ক্ষোভের সাথে কংগ্রেসম্যান মিক্স বলেন, এই আমেরিকাতেও মিডিয়ার গলাটিপে ধরার মত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ভিন্নমতকে বহুমুখী নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি সিটিজেনশিপ কেড়ে নিয়ে কিংবা গ্রীণকার্ড বাতিল করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা স্তব্দ করার মত পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে-যা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার সাথে যায় না। এহেন পরিস্থিতির অবসানে আসছে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগেসের উভয়কক্ষে ডেমক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিতে বাংলাদেশী আমেরিকানদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাহলে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেখানেই অন্যায়-অবিচার, দমন-পীড়ন চলছে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে। গ্রেগরী মিক্স বলেন, আমি চাই বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। ফরেন এ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানের প্যাডে একটি চিঠি পেলে বাংলাদেশের সরকার অবশ্যই তার ক্বদর দিতে কুন্ঠাবোধ করবে না। আমি কথা দিচ্ছি, চেয়ারম্যান হিসেবে আবারো বাংলাদেশ সফরে যাবো।

কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স-কে উত্তরীয় পরিয়ে দেন কাদের মিয়া। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এই মতবিনিময় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দীলিপ নাথ।

কথা বলছেন ড. এ কে এ মোমেন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকপাত করেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এ মোমেন এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন। তারা অভিযোগ করেন যে, কোটা আন্দোলনের আড়ালে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের কথিত আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ‘বৈষম্য-বিরোধী সমাজ গঠন’র অঙ্গিকারে মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালিন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অবাক বিস্ময়ে সকলে অবলোকন করছেন ভিন্নমত পোষণকারিরা কি ধরনের নিষ্ঠুর নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলার ভিকটিম হচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা হত্যা, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও বর্বরোচিত হামলার শিকার হচ্ছেন। তারা উল্লেখ করেন, এভাবে গোটা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়রাণ্যে পরিণত করা হয়েছিল ইউনূসের আমলে। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।

মতবিনিময় সমাবেশে বক্তব্য দেন ফরিদা ইয়াসমিন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

তারা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা, গণমাধ্যম কর্মীর মধ্যে যারা বর্তমান সরকারের পছন্দের নিউজ করেন না, তারাই মামলা-হামলা এবং বরখাস্তের শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের স্বৈরাচারি আচরণে গোটা জনগোষ্ঠি আজ অতীষ্ঠ। এহেন অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যে অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিও উপস্থাপন করা হয় কংগ্রেসের এই সিনিয়র সদস্য সমীপে। এছাড়া, কথিত হত্যা মামলায় আটক সাংবাদিকসহ সহ রাজবন্দির মুক্তির লক্ষ্যে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

বিশিষ্টজনদের একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস ২৪ ডটকম।

শুরুতে মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই কংগ্রেসম্যানকে বিপুল করতালির মধ্যে ‘উত্তরীয় পরিয়ে’ দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া।

সমাবেশ মঞ্চে আরো ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক, ব্রুকলীনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাশেম, সমাজ-সংগঠক এনামুল হক শামীম, আমিনুল ইসলাম আমিন এবং নজরুল ইসলাম বাবু।

এই মতবিনিময় সমাবেশের কো-হোস্ট ছিল যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতি এবং হক মেডিক্যাল অফিস।

বিশিষ্টজনদের একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারিগণের মধ্যে আরো ছিলেন লেখক-কলামিস্ট-সম্পাদক নঈম নিজাম, বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির সিইও আলিম খান আকাশ, সাংবাদিক সুলতানা রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার, সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, জাগো প্রহরীর সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ড. মাহাব্বুর রহমান টুকু, শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাসুদুল হাসান, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশনের আহবায়ক সিরাজুল মাওলা, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জাফরউল্লাহ, সন্দ্বীপ এডুকেশন এ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির সভাপতি মোশারফ হোসেন, সেক্রেটারি আব্দুল হামিদ এবং কোষাধ্যক্ষ আহসান উল্লাহ সাকী, কম্যুনিটি লিডার মোবাশ্বের হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদির মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ী সরাফ সরকার,

বিশিষ্টজনেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

সমাজ-সংগঠক সাখাওয়াত আলী, ব্যবসায়ী ও সমাজ-সংগঠক ইফজাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, বাউরিয়া জনকল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা আবুল কাশেম, একাত্তর জেনোসাইড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ কর, কম্যুনিটি লিডার আব্দুল জলিল, আফসার মোহাম্মদ, আবু তাহের এম রহমান, ইয়াসিন আরাফত বাপ্পি, রাজনীতিক বাকের ভ’ইয়া, ডেমক্র্যাট মোর্শেদ আলম, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ইমদাদ চৌধুরী প্রমুখ। এদের পরিচয় করিয়ে দেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি কামাল হোসেন মিঠু।

কংগ্রেসম্যানের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের সমন্বয় করেছেন নাভার সভাপতি দীপা নাথ এবং লিন্ডা র‌্যাম্পারটেব।

বিশিষ্টজনেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

সমাপনী বক্তব্যে উপস্থিত সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সমাবেশের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, প্রিয় মাতৃভূমিকে অপশাসনের কবল থেকে মুক্ত করতে আজকের চেতনায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্মুখে এগুতে হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনার অসমাপ্ত কাজ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্পন্নের জন্যে।

Facebook Comments Box

Posted ৯:২৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us