
নিজস্ব প্রতিনিধি
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটেও সরকারি ছুটির তালিকায় যোগ হয়েছে মুসলিমদের পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। স্টেট গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের সই করা নতুন আইনের আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ায় ইসলাম ধর্মের এই দুটি প্রধান উৎসব আনুষ্ঠানিভাবে স্বীকৃতি পেল।
এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় স্টেট হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া দুই ঈদকে এ ধরনের স্বীকৃতি দিল। সেখানকার মুসলিমরা এখন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য সরকারি ছুটি উপভোগ করতে পারবেন।
ওয়াশিংটন গত বছরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্টেট হিসেবে দুটি ঈদকেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবার ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম গত ২৭ সেপ্টেম্বর অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭ সই করে একই পথে হাঁটলেন। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, নিউইয়র্ক স্টেটেও দুই ঈদের দিনকে ছুটি ঘোষণার দাবি রয়েছে। এখন পর্যন্ত তা আইনে পরিণত হবার পদক্ষেপ কেউই নেয়নি।
নতুন আইনের আওতায় সরকারি কর্মী এবং স্কুলের কর্মীরা তাদের নিজেদের জমানো ছুটি ব্যবহার করে ঈদের দিন ছুটি কাটাতে পারবেন।
প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল এবং কমিউনিটি কলেজগুলো চাইলে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে ঈদের দিন তাদের প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ রাখতে পারবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষের কাছে ঈদুল-ফিতর এবং ঈদুল-আজহার সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে সম্মান জানাতেই দুই ঈদের দিনকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠনের সমন্বয়ে গত মার্চ মাসে ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ নামের বিল উত্থাপন করেছিলেন সান ফ্রান্সিসকোর ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি।
বিলের উদ্দেশ্য ছিল, মুসলিমরা যাতে স্কুল বা কর্মক্ষেত্রে কোনও ঝামেলা বা দ্বন্দ্বের মুখোমুখি না হয়ে সহজেই ঈদ উদযাপন করতে পারে তা নিশ্চিত করা।
হ্যানি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস। তাদের ঐতিহ্য স্বীকৃতি ও সম্মান পাওয়া উচিত। ঈদের ছুটির এই স্বীকৃতি ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর গুরুত্বকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
এখন থেকে তারা পড়াশোনা বা কাজের চাপ ছাড়াই পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। এই নিয়মের ফলে স্কুল এবং সরকারি কার্যালয়ে সবাই যেন সহজে ঈদ উদযাপন করতে পারে তার একটি ব্যবস্থা হল।
‘ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স’-এর চেয়ারম্যান জেসন পাগুইও-এর মতে, নতুন আইনটি দুটি ঈদ উৎসবের সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এই উৎসব পালনকারীদের ছুটি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা আরও ভালোভাবে দিতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করেছে।