Blog

  • কবি হেলাল হাফিজ- যার চোখের জলে অদৃশ্য বেদনা জ্বলে

    কবি হেলাল হাফিজ- যার চোখের জলে অদৃশ্য বেদনা জ্বলে

    তখন বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এবং পরে পুরানা পল্টনে আমাদের পত্রিকা অফিস আর দশটা পত্রিকা অফিসের মত প্রতিদিনই অগণিত নবীন- প্রবীন- প্রতিষ্ঠিত লেখক-সাংবাদিক, শিল্পী, কবি সাহিত্যিকদের আনাগোনা এবং সরব আড্ডায় সরগরম থাকতো । আশির দশকের শুরু মাত্র ।বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় যুক্ত নবীন কলমজীবি । তাই এসাইনমেন্ট নিয়ে চেয়ার-টেবিলে মগ্ন কাজে কান খাড়া রেখে এসব আড্ডায় মৌণ শ্রোতার ভুমিকায় থাকতাম । তবুও প্রত্যেকের সাথে হার্দিক হৃদ্যতা , বন্ধুত্ব ও প্রাণবন্ত ভালোবাসার বন্ধনটা গড়ে উঠেছিল পোক্তভাবে ।যা এত বছর পেরিয়ে আজও মলিন হয়নি এতটুকু। সেই স্মৃতিবহুল কাব্য লিখতে গেলে বিশাল আকারের উপন্যাস হবে ।সেদিকে না যাই ।

    লিখবো শুধু মাত্র স্বল্প কথায় – জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে কবি হেলাল হাফিজের যাপিত জীবনের মাত্র কয়েকটি বেদনাদায়ক দিনপঞ্জির কথা। ৮০ দশকের শেষের দিকে প্রবাস জীবন বেছে নেবার পর এই জগতের অনেকের সাথে নিবিড় যোগাযোগ থাকলেও হেলাল হাফিজের সাথে ছিল না । ২০২১ সালে মিডিয়ায় হেলাল হাফিজের অসুস্থতার খবর জানার পর তার সাথে টেলিফোনে নিবিড় সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হলো আমার ।জানতে চেয়েছিলেন – এতবছর কোথায়, কেন এভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলাম ।সেই সাথে নানান বিষয়ে জানতে চাওয়া অফুরন্ত কথা ।

    এক পর্যায়ে থেমে গেলেন স্ত্রীর অসুস্থতার কথা শুনে ।মনে হলো প্রচন্ড ধাক্কা খেলেন ।কথার মাঝে দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে হাজার প্রশ্ন – সমস্যা, সেবা-যত্ন ও চিকিৎসা নিয়ে ।আমরা দুজন এই বিষয়ের মধ্যেই আটকা পড়ে গেলাম ।এর বাইরে আর অন্য কোন প্রসংগের অবতারনার সুযোগ হলো না, হতোও না । টেলিফোনে নিয়মিতই কথা হতো।টেলিফোনে – কথা শুরু ও শেষ হতো এই একটি প্রসঙ্গেই , বৌমা কেমন আছে, তার শরীরটা কেমন যাচ্ছে ।তুমি একা কতটুকু সামলে নিতে পারছো ? তার প্রতি যেন কোন অবহেলা না হয় ।ডাক্তার কী বলছে ? কোন স্টেজ চলছে ? তুমি মোটেও ধৈর্য হারাবে না । বৌমার কষ্টের কথা আমি উপলব্ধি করতে পারি । তার কথা আমার প্রতিদিন মনে পড়ে ।

    দেশে যাওয়ার প্রসংগ উঠতেই বলেন – তুমি এলে বৌমার কী হবে ।উনাকে কে টেক কেয়ার করবে । আশ্বস্ত হবার পর বার বার বলেছেন – দেশে এলে তুমি আমার এখানে উঠবে ।আমি এখানে শাহবাগে একটি হোটেলে থাকি । এখানে থাকা খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা আছে ।এখানকার কর্মচারীরা বেশ ভালো ।আমাকে বেশ টেক কেয়ার করে ।তোমারও কোন অসুবিধা হবে না ।

    কবিকে বলেছিলাম আপনার জীবনী নিয়ে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেবো ।বই বের করবো ।২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা আমার প্রথম বইটি প্রকাশের পর, প্রকাশকের দেয়া টিপস অনুযায়ী কবির জীবনী নিয়ে লেখা এবং একটী ডকুমেন্টারি করার কথা ভেবেছিলাম। কবি  বলেছিলেন – আমি তো অসুস্থ । একনাগাড়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে পারবো না ।এজন্য তোমাকে তো অনেকদিন থাকতে হবে আমার পাশে । তাহলে বৌমার কী হবে ?

    ২০২২ এ দেশে গেলাম ।বেশ অসুস্থ ছিলেন কবি ।চিকিৎসাধীন থাকার কারণে দেখা হলো না ।গতবছর ২০২৩ এ দেশে গিয়েও দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা হলো না কবির সাথে ।করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফিরে এলাম সুইডেনে । ফিরে আসার পর টেলিফোনে যোগাযোগ হলো ।ভীষণ মনোকষ্ট নিয়ে বললেন – তোমার সাথে দেখাটা হলো না ।তবে তোমার জন্য প্রার্থনা করি – বৌমা এবং তোমাকে ভালো থাকতে হবে । তুমি অসুস্থ হলে বৌমার কী হবে ? আমি নির্বাক

    আমাদের টেলিযোগাযোগটা ছিল অব্যহত ।বেশিরভাগ কথা হতো ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে । অনেক সময় সাড়া শব্দ না পেলে, পরবর্তী কল এ দুঃখ প্রকাশ করতেন ।বলতেন শরীরটা ভালো যাচ্ছে না ।ক্লান্তিতে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম । ঘুমটাও তো ঠিকভাবে আসে না । সময় কাটে না ।চোখের সমস্যা । পড়াশোনা ও লেখালেখিও ঠিকভাবে করতে পারছি না । একজন তরুন ভক্ত- শুভাকাংখীর কথা বলেছিলেন । ও মাঝে মাঝে আসে আমার কাছে । বেশ সময় দেয় । আমার অনেক কাজ করে দেয় ।কেউ পাশে থাকলে একটু ভালো লাগে ।এছাড়া ভালো থাকার মত তো আর কিছু নাই ।

    আমি নির্বিকার চিত্তে কবির ভয়াবহ নির্জনতা, শূন্যতা, মরুপ্রান্তরের হাহাকার ধ্বনি ও মর্ম বেদনার কথা শুনি ।দিব্য দৃষ্টিতে দেখি নির্মম বেদনার কালিতে ঢাকা কবির চোখের অদৃশ্য অশ্রুজলের বন্ধ্যা ধারা ।আমার করার কিছুই থাকে না । আমি নির্বাক – স্থবির ।কখন যে আমার দু চোখ বেয়ে অশ্রু গড়াতে থাকে, বুঝি না ।কবির জন্য বেদনা গভীর হতে থাকে ।হৃদয়ের ভেতর ভাংচুর বেসামাল হয়ে উঠলে বিদায়ের আর্জি জানাতেই – বৌমার জন্য শুভকামনা জানাতে আর ভুল করেন না কবি ।বৌমাকে আমার শুভেচ্ছা দিও ।যেন এটা বলেও শেষ হয় না তার শেষ কথা ।

    আবার কথা হলেও সেই একই কথা ।সন্ধ্যায় ফোন করে খাওয়ার কথা জানতে চাইলে বলেন – এখনও তো দুপুরের খাবারই খাইনি । কেন ? শরীরটা খারাপ যাচ্ছে ।বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা হচ্ছিল না ক্ষুধাও তেমন একটা নেই । আর হোস্টেলের খাবার ভালো হলেও একই ধরনের খাবার নিয়মিত খেতে আর কত ভালো লাগে ? তবুও –এখন যাবো ভাবছি । হ্যাঁ তাই করেন বলে ফোন রাখতেই শেষ কথাটি ভেসে আসে – বৌমাকে শুভেচ্ছা দিও ।শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে অসুস্থ অন্যজনের রোগমুক্তি কামনা করার পরম হার্দিক মানুষটি আজ নেই ।নিজে অসুস্থ থেকে বেদনা জর্জরিত শরীর মন দিয়ে অন্যের বেদনামুক্তির প্রার্থনা করে নিজের বেদনাকে ঢেকেছে্ন অদৃশ্য চোখের জলে – গোটা যৌবন ও বার্ধক্যকে একান্ত সঙ্গী করে ।যাপিত জীবনে একটি আজানুলম্বিত বেদনার কাব্য লিখে গেছেন অমর প্রেমের উপাখ্যানে । কবি তুমি ভালোবাসায় থেকো, স্মরনীয়-বরনীয় থেকো আমাদের ভালোবাসার বন্ধনে ।

    স্টকহোল্ম, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

    (লেখক সুইডেন প্রবাসী সাংবাদিক )

    Facebook Comments Box
  • কম্যুনিটির কল্যাণে কাজের অঙ্গিকারে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির অভিষেক

    কম্যুনিটির কল্যাণে কাজের অঙ্গিকারে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির অভিষেক

    বিবাদ-বিভক্তি পরিহার করে পরস্পরের সহযোগী হয়ে কম্যুনিটির সার্বিক কল্যাণে কাজের অঙ্গিকার এবং নিউইয়র্কে একটি বাংলাদেশ সেন্টার প্রতিষ্ঠার সংকল্প ব্যক্ত করা হলো বাংলাদেশ সোসাইটির ২০২৫-২০২৬ মেয়াদের জন্যে নির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ-সমাবেশে। ১৬ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের বিজয় দিবসের আমেজে মনোরম এক পরিবেশে এ অভিষেক সমাবেশে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয় ৫০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের প্রয়াত সকল কর্মকর্তা এবং সম্মান জানানো হয় জীবিতদেরকে। নবীন আর প্রবীণের সমন্বয়ে নয়া কমিটির সকল কর্মকর্তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি। হাজার খানেক প্রবাসীর উচ্ছ্বল উপস্থিতির এ সমাবেশ আরো প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক এডামসের আগমণে। অভিষিক্তদের প্রত্যাশার পরিপূরক সকল কাজে সিটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকার কথা জানান মেয়র এডামস। তবে এজন্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সিটি, স্টেট, ফেডারেল পর্যায়ের সকল নির্বাচনে কাজ করার আহবানও জানিয়েছেন কম্যুনিটির প্রিয় ব্যক্তিত্ব স্টেট অ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমার। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেটে প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান-নারী জেনিফার রাজকুমার সবসময়ই বাংলাদেশীদের পাশে রয়েছেন। সেই সুবাদে সামনে নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলার পদে লড়ার সময়েও বাংলাদেশীদের অকুন্ঠ সমর্থন আশা করে বক্তব্য দেন এ সময়। কম্যুনিটির আরেক ঘনিষ্ঠ সিনেটর জন ল্যু ছিলেন মধ্যমনি এবং সামনের দিনগুলোতেও প্রবাসীদের পাশে থাকার অঙ্গিকার করেন বিপুল করতালির মধ্যে।

    সিটি মেয়র এরিক এডামসকে ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতার আগে বাংলাদেশ সোসাইটি পরিচালিত দুই বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা পারফর্ম করে। ওরা অবলিলায় বাঙালির বিজয়ের ইতিহাসের ভিত্তিতে কবিতা, গান ও নাচ পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেছে। এ সময় উচ্চারিত হয় মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘জয় বাংলা’, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম। এরপর ‘অভিষেক ও মহান বিজয় দিবস’ সমাবেশের জন্যে গঠিত সাব কমিটির আহবায়ক মহিউদ্দিন দেওয়ানের সভাপতিত্বে এবং ফারহানা চৌধুরীর সমন্বয়ে মাইনুলউদ্দিন মাহবুবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এ সময় সোসাইটির এগিয়ে চলার গতি-প্রকৃতি এবং কিছু অসামঞ্জস্য নিয়েও উত্তপ্ত কথাবার্তা হয়। তবে তা শালিনতা ছাড়িয়ে যায়নি। এপর্বে ছিলেন এম আজিজ, মো. আকতার হোসেন, জামাল আহমেদ জনি, মোহাম্মদ হোসেন খান, ফখরুল আলম, মো. রব মিয়া, রুহুল আমিন সিদ্দিকী, আব্দুর রহিম হাওলাদার প্রমুখ। এরপর অভিষেক পর্ব শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কন্সাল জেনারেল নাজমুল হুদা, কম্যুনিটি লিডার শাহনেওয়াজ, নয়া সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী এবং সিটি মেয়রের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার।

    আলোচনা সভামঞ্চে সোসাইটির নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪

    নির্বাচন কমিশনের সদস্য আব্দুল হাকিম মিয়া, আনোয়ার হোসেন, মো. হেলালউদ্দিন, আহবাব চৌধুরী খোকনকে পাশে নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক শপথ বাক্য পাঠ করেন : সভাপতি-আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি-কামরুজ্জামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক-মোহাম্মদ আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক- আবুল কালাম ভ’ইয়া, কোষাধ্যক্ষ-মফিজুল ইসলাম ভ’ইয়া রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক-ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক-অনিক রাজ, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক-রিজু মোহাম্মদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক-জামিল আনসারী, সাহিত্য সম্পাদক-আকতার বাবুল, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক-আশ্রাব আলী খান লিটন, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক-মোহাম্মদ হাসান জিলানী এবং কার্যকরী সদস্য-হারুন-অর রশীদ, জাহাঙ্গির সোহরাওয়ার্দি, মো. সিদ্দিক পাটোয়ারি, আবুল কাশেম চৌধুরী, মনসুর আহমেদ এবং হাসান খান। উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন প্রায় ১৯ হাজার। সবশেষে ডিনারের প্রাক্কালে সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজের সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

    Facebook Comments Box
  • প্রবাসের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ গড়তে চান যুুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ১১ নেতা

    প্রবাসের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ গড়তে চান যুুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ১১ নেতা

    বাংলাদেশে নির্বাচনের ডামাডোলের সাথে সঙ্গতি রেখে আমেরিকাতেও একই স্রোত বইছে সম্ভাব্য প্রার্থীগণের মধ্যে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ডজনখানেক নেতা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন শীঘ্রই বাংলাদেশে নিজ এলাকায় ফিরে জনসংযোগে অংশগ্রহণের। এরমধ্যে একাধিক নেতা রয়েছেন যারা দীর্ঘ ১২ বছরেরও অধিক সময় পর দেশে ফেরার কথা ভাবছেন। তবে এসব নেতার প্রায় সকলেই নিজ এলাকার দলীয় নেতা-কর্মী এবং অসহায় মানুষের সাথে নানাভাবে সংযুক্ত ছিলেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও যে কোন বিপদে তহবিল সরবরাহ করেছেন। সাবেক সরকারের রোষানলে পড়া নেতা-কর্মীগণকে মামলা পরিচালনাতেও তহবিল দিয়েছেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগের পর কয়েকজন ছুটে গেছেন প্রিয় মাতৃভ’মিতে। যুক্ত হয়েছেন এলাকার বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ডের সাথে। এসব নেতা পৃথক পৃথকভাবে এ সংবাদদাতাকে বলেছেন যে, দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতায় নিজ এলাকা তথা প্রিয় মাতৃভ’মিকে গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার প্রয়োজন। সে অভিপ্রায়ে দলের মনোনয়ন নিয়ে লড়তে চাই।

    সামনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রবাসীগণের অন্যতম হচ্ছেন আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাট (নড়াইল-১), গিয়াস আহমেদ (ঢাকা-১), জিল্লুর রহমান (সিলেট-৬), আলহাজ্ব সোলায়মান ভ’ইয়া (ফেনী-৩), দিনাজ খান (মুন্সিগঞ্জ-২), ইলিয়াস খান (শেরপুর-২), মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল (চট্টগ্রাম-৩), মিল্টন ভ’ইয়া (চট্টগ্রাম-৩), পারভেজ সাজ্জাদ (চট্টগ্রাম-১) এবং হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা (ঝালকাঠি)। এমন মনোভাব পোষণকারি আরেকজন হচ্ছেন হাসানুজ্জামান হাসান (নিলফামারি-২ অথবা রংপুর-২)। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশী ত্যাগী ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী হলেন আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাট। ‘৬২ এর হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে গোপালগঞ্জ মহকুমায় তদানিন্তন কায়েদে আজম মেমরিয়্যাল কলেজে নেতৃত্ব দেন তিনি। এরপর বাংলাদেশে চাকরি জীবনে সেক্টর কর্পোরেশন জাতীয়তাবাদি অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বরত অবস্থায়ই যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিএনপির হাল ধরেন আব্দুল লতিফ সম্রাট। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ১/১১ তে মঈন-ফখরুদ্দিনের কথিত কেয়ারটেকার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন লতিফ সম্রাট। এক পর্যায়ে বহিবিশ্বে বিএনপির সাংগঠনিক নেটওয়ার্কেরও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। সে সময় জাতিসংঘ, মার্কিন কংগ্রেস, ইউরোপিয়ো ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির পক্ষে দেন-দরবারেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। কয়েক মাস আগে তাকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের সন্তান হলেও তিনি নড়াইল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে এ সংবাদদাতাকে জানালেন। এবং ৮ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় গেছেন।

    গিয়াস আহমেদ।

    যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অপর কান্ডারি গিয়াস আহমেদ ঢাকা-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঢাকায় গেছেন ১৫ ডিসেম্বর। প্রবাসে আসার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। নিউইয়র্কে অবতরণের পর যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের হাল ধরেছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এবং সর্বশেষ কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন রাজনীতির সাথেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রচনা করেন। এক পর্যায়ে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন। একইসাথে তিনি ডেমক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতা হিলারি ক্লিন্টন, যোসেফ ক্রাউলি, রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কংগ্রেসম্যান বেঞ্জামীন গিলম্যান, পিটার কিং-এর সাথেও বিএনপির রাজনীতির পরিপূরক দেন-দরবারে জড়িয়ে ছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে নিউইয়র্ক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। গিয়াস আহমেদ বললেন, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, দলের নীতি-নির্দ্ধারকরা না চাইলে নির্বাচনে প্রার্থীতার কোন ইচ্ছা নেই। তবে যেহেতু বিএনপির সাথে বহুদিন যাবত জড়িয়ে আছি, তাই দলের প্রয়োজনে আমাকে যে দায়িত্ব দেয়া হবে তা মাথা পেতে নেব।

    জিল্লুর রহমান

    সিলেটের সন্তান জিল্লুর রহমান দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংগঠনিকভাবে সারা আমেরিকায় তার নেটওয়ার্কের পাশাপাশি সিলেটের সন্তান হিসেবে পৃথক একটি অবস্থান তৈরীকে সক্ষম হয়েছেন। একইভাবে নিজ এলাকার প্রবাসীদেরকেও উজ্জীবিত রেখেছেন প্রার্থী হিসেবে বিজয়ের পথ সুগম করার অভিপ্রায়ে। কয়েক মাস আগে জিল্লুর রহমানকেও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। একইভাবে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত মিল্টন ভ’ইয়াও সন্দ্বীপ থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি মোস্তফা কামাল পাশা বাবুলও আগে থেকেই সন্দ্বীপ আসনে প্রার্থীতার চেষ্টা করছেন। এবারও দ্বিগুণ আগ্রহে এলাকাবাসীর সাথে সম্পর্ক রচনা করেছেন।

    দিনাজ খান।

    মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ফ্লোরিডা বিএনপির সাবেক সভাপতি দিনাজ খান। তিনিও বহুবছর ধরেই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি এলাকা এবং প্রবাসের আর্ত-মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। এজন্যে তার নেতৃত্বাধীন একটি ফাউন্ডেশন রয়েছে ফ্লোরিডায়। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত দিনাজ খান এ সংবাদদাতাকে বললেন, আমি সারাটি জীবন বিএনপির সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় জড়িত রয়েছি। চরম দু:সময়েও নিরব হইনি। সামনের নির্বাচনে দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করবো।

    আলহাজ্ব সোলায়মান ভূইয়া

    ফেনীর সন্তান আলহাজ্ব সোলায়মান ভ’ইয়া বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারিগণের অন্যতম নির্মাণ ব্যবসায়ী হিসেবে অর্জিত অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় করেছেন নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে। দলের গরীব কর্মীরাও তার আশির্বাদ পেয়েছেন সবসময়। আলহাজ্ব সোলায়মান ভ’ইয়া ফেনী-৩ (সোনাগাজী এবং দাগনভঁ’ইয়া )আসন থেকে এমপি হতে আগ্রহী। ফেব্রুয়ারিতে যাচ্ছেন নিজ এলাকায়। তবে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় নিজেকে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ফেলেছেন।

    ইলিয়াস খান।

    শেরপুর-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস খান ইতিমধ্যেই এলাকার মানুষের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন। গ্রেফতার-নির্যাতনের ভয়ে বহুবছর এলাকায় যেতে না পারলেও সকল সময়েই সাংগঠনিক নেটওয়ার্কে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়েছেন। নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জনকারি ইলিয়াস খানেরও একই অভিমত, বিএনপি যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে শেরপুর-২ আসনটি অবশ্যই ধানের শীষের বিজয়ে অনন্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে-এতে কোন সন্দেহ নেই।

    পারভেজ সাজ্জাদ।

    ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা পারভেজ সাজ্জাদ এবং হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা নিউইয়র্কে এসে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। উভয়েই পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবে কম্যুনিটিতেও সুপরিচিতি রয়েছে। পারভেজ সাজ্জাদ চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকা থেকে এমপি হবার প্রত্যাশায় ইতিমধ্যেই এলাকা ঘুরে এসেছেন। নেতা-কর্মীরাও তাকে কাছে পেয়ে উজ্জীবিত বলে জানা গেছে।

    হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা

    অপরদিকে হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর নিউইয়র্কে ঢাকা হয়ে ঝালকাঠিতে গমনের সময় বিশাল শো-ডাউন করেছেন। তার সমর্থকেরা মিছিল করে এলাকায় নিয়ে গেছেন। ছাত্রদলের সাবেক নেতা সেলিম রেজা বিএনপির চরম দু:সময়ে এই প্রবাসে থেকেও সকল কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি (দক্ষিণ)’র সভাপতি হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন। কদিন আগে ফিরেছেন নিউইয়র্কে। পুনরায় নির্বাচনী এলাকায় যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন এ সংবাদদাতার সাথে কথা বলার সময়।

    হাসানুজ্জামান হাসান

    উপরোক্ত নেতৃবৃন্দের সমর্থকেরাও ইতিমধ্যেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে হাই কমান্ডে যোগাযোগ শুরু করেছেন প্রার্থীতা নিশ্চিতে। এক্ষেত্রে সকলেই লন্ডনে বসবাসরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সান্নিধ্য কামনা করছেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে এরা প্রায় সকলেই লন্ডনে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পেয়েছেন। অপরদিকে, এক সময়ের সাংবাদিক এবং পরবর্তীতে নিউইয়র্কে বসতি গড়ে নির্মাণ ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছিলেন হাসানুজ্জামান হাসান। প্রবাসে অর্জিত অর্থে রংপুরের তারাগঞ্জ এলাকায় ‘ব্লিং লেদার প্রডাক্টস’ নামক একটি জুতা প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান গড়েছেন কয়েক বছর আগে। সেটি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের রফতানী বাণিজ্যে নয়া মাত্রা যোগ করেছে। সেখানকার মানুষেরা দাবি জানাচ্ছেন সামনের নির্বাচনে তিনি যেন প্রার্থী হোন। এছাড়া, নিজ এলাকা নিলফামারি সদর থেকেও অনেকে চাচ্ছেন হাসানুজ্জামান হাসানকে। নিরব সমাজকর্মী এবং মৃদুভাষী হাসান জানালেন, নিজ এলাকার পাশাপাশি দেশমাতৃকার কল্যাণে জনগণ যদি সুযোগ দেন তাহলে দ্বিধা করবো না সামনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

    Facebook Comments Box
  • বাংলাদেশের বিজয়ের প্রতীক ৭ই মার্চের ভাষণ

    বাংলাদেশের বিজয়ের প্রতীক ৭ই মার্চের ভাষণ

    নয় মাস এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ এক গৌরবময় অধ্যায়ে প্রবেশ করে, যেদিন এই ভূখণ্ড বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্থান পায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে ওঠেন কোটি মেহনতি মানুষের নেতা। তার ৭ই মার্চের ভাষণ এই ভূখণ্ডের মানুষদেরকে একতাবদ্ধ করেছিল, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে সাহস যুগিয়েছিল এবং সৌভাত্রের বন্ধনে পুড়ো জাতীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। সেই ভাষণে ছিল অঙ্গীকার, দৃঢ়তা, ভালোবাসা এবং স্বাধীনতার স্পষ্ট আহ্বান। তবে আজ, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও আমরা অনেক ক্ষেত্রে বিভক্ত। আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আবারও বিভেদ আর সাম্প্রদায়িকতার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। ঐক্যে নেমে এসেছে বিভাজনের ধ্বস। অথচ এটাই ধ্রুব সত্য যে এই দেশ সকলের। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম-বর্ণ-জাতি-উপজাতির মানুষেরা বসবাস হাজার বছর ধরে। আমাদের জন্ম এই মাটিতে, এখানেই আমাদের জীবনের সংগ্রাম। তাই বিভেদের দেয়াল ভেঙে আমাদের ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে একতাবদ্ধ হওয়া আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। স্বাধীনতা আমাদের গর্ব এবং চেতনা। সেই চেতনার মূলে রয়েছে সৌভ্রাতৃত্ব, সম্মান এবং মানবতার প্রতি অবিচল আস্থা। আবারো সেই ৭ই মার্চের ভাষণের দৃঢ়তায়, অঙ্গিকার আর সন্মানে আমাদেরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়র কাজে আত্ম নিয়োগ করতে হবে।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অমর অধ্যায়। এই ভাষণটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা, যা একটি জাতির স্বাধীনতার আন্দোলনকে সুসংগঠিত ও উজ্জীবিত করেছিল। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া এই ভাষণটি ছিল স্বাধীনতার সংগ্রামের অনন্য এক ঘোষণাপত্র, যা শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্যই ছিল না, বরং একটি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, এটি ছিল জাতির স্বাধীনতার সনদ। ভাষণের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য সেদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে বিদ্যুৎ-গতিতে প্রবাহিত হয়েছিল এবং জ্বেলে দিয়েছিল এক নতুন আশার আলো। পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে সৌভাত্রের বন্ধনে একদণ্ডে আবদ্ধ হয়েছিলো পুরোজাতী। জাতীর সেই দুর্দিনে বঙ্গবন্ধু তাঁর অসাধারণ বক্তৃতার মাধ্যমে জাতিকে একত্রিত করেছিলেন এবং একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের সূচনা করেন। আজও এই ভাষণ আমাদের আত্মপরিচয় ও জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি হিসেবে জেগে রয়েছে, এবং ভবিষ্যতেও এই ভূখণ্ডের মানুষদেরকে অনুপ্রাণিত করবে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে। ৭ই মার্চের ভাষণ আমাদের জাতীয় ইতিহাসের চেতনার একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আমাদের উপলব্ধিতে প্রজ্বলিত হয়ে উঠে যে ধ্রুব সত্যটি তা হলো, মুক্তির পক্ষে জনগণের সংগ্রাম কখনও থেমে থাকে না।

    সম্প্রতি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আটটি দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মধ্যে ৭ই মর্চের দিবসটিকে বাতিল করায় বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ অনেক জনপ্রিয় হলেও ২০২১ সালের আগ পর্যন্ত ৭ই মার্চ জাতীয় দিবস বলে পালিত হতো না। শুধু গত কয়েক বছর ধরে দিনটি জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। বাংলাদেশের জনগণ নানা ভাবে, নানা আকারে এই দিনটিকে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে পালন করতো।  এখনো এই বিশেষ দিনটিকে বাংলাদেশের মানুষ স্বরন করবে বিশেষ মর্যাদার সাথে নানা ভাবে নানা আয়োজনে শহরে, গ্রামে-গঞ্জে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। জাতীয় দিবস হিসেবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত এই আলোচনার বিষয় বস্তু নয়। তবে এ ভাষণকে কখনোই কোটি মানুষের চিন্তা-চেতনা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না এটাই যেন ধ্রুব সত্য। এই ভাষণের গুরুত্বকে তুলে ধরাই এই লেখার মূল উদ্দেশ্য।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ১৯৭১ সালের এক উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দেওয়া হয়েছিল, যখন দেশের মানুষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তি চাচ্ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ, বৈষম্য এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার ছিল। পাকিস্তানি শাসকেরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে তাদের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। এক সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন চরমে পৌঁছে যায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের পরও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি দমন-পীড়ন চালায়। ১৯৭১ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ঢাকায় কয়েক দফা সামরিক অভিযান এবং দমনমূলক কার্যকলাপ চলছিল। বিশেষ করে পহেলা মার্চ পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন, যা পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর ফলে ঢাকায় ব্যাপক জন-বিক্ষোভ ও হরতাল শুরু হয়। দেশের প্রতিটি মানুষ স্বাধীনতার জন্য অধীর হয়ে উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে, ৭ই মার্চের ভাষণ জাতিকে মুক্তির পথে একত্রিত করে। বঙ্গবন্ধু সেই দিন তার ভাষণে বলেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি পরিষ্কারভাবে জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেন। এটি একটি স্পষ্ট আহ্বান ছিল যে, বাঙালি জাতি আর পাকিস্তানি শাসন মেনে নেবে না এবং স্বাধীনতার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে।

    তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকেরা বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আরও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছিল। কয়েক সপ্তাহ পর, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সামরিক অভিযান চালিয়ে ঢাকার নিরীহ মানুষকে গণহত্যা শুরু করে। কিন্তু এর আগেই, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেছিল। এই সময়ে, বাঙালিরা নৈতিকভাবে অনেক বেশি সক্রিয় এবং সংগঠিত হয়ে উঠেছিল। শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, পেশাজীবী, এমনকি সামরিক বাহিনীর মধ্যেও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ছড়িয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ জাতিকে শুধু উজ্জীবিতই করেনি, বরং তাদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তির জন্ম দিয়েছিল, যা স্বাধীনতার চূড়ান্ত যুদ্ধে প্রতিফলিত হয়। এই ভাষণ তাই কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা ছিল না, এটি একটি জাতির মুক্তির সনদ ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের প্রতিটি শব্দ বাঙালি জাতির হৃদয়ে গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছে। এ ভাষণের প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি উক্তি মুক্তিকামী মানুষকে এমনভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল যে, তারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করেনি। “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” এই কথাগুলো জাতির জন্য স্বাধীনতার মন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। প্রতিটি শব্দে বঙ্গবন্ধু একটি অসীম শক্তি ও সাহস ঢেলে দিয়েছিলেন। এমন সময়ে যখন শোষিত বাঙালি জাতি দিশা-হীন ছিল, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রতিটি বাক্য তাদের নতুন দিশা দেখিয়েছিল। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি যে সাহসিকতা ও দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন, তা একটি নিরস্ত্র জাতিকে অস্ত্রহীনভাবেই শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ শুধুমাত্র রাজনৈতিক আহ্বান ছিল না, এটি ছিল একটি জাতির মনের কথা। লাখ লাখ মানুষ এই ভাষণে নিজের আকাঙ্ক্ষা, ব্যথা এবং স্বাধীনতার স্বপ্ন খুঁজে পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ আজও বাঙালি জাতির মননে এবং হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে। এটি কেবলমাত্র ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়, এটি জীবন্ত একটি আদর্শ যা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষের মধ্যে প্রেরণা যোগায়। বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, যখন তিনি লক্ষ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের বলেছিলেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো, তবু এই দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।” এই বাক্যগুলো আজও দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে অনুরণিত হয়। এই ভাষণের প্রতিটি শব্দ বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় এবং স্বাধীনতা অর্জনের প্রতিচ্ছবি। লক্ষ লক্ষ মানুষ বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে মুক্তির আহ্বান শুনে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ভিত্তি ছিল এই ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাংলাদেশের জনগণের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ।

    ২০১৭ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (UNESCO) এই ভাষণকে ” ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ ” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে “মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড” স্বীকৃতি দিয়ে UNESCO এটিকে সর্বজনীন মানবতার জন্য এক মূল্যবান সম্পদ হিসেবে তুলে ধরেছে। এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়ে একটি প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ভাষণ স্বাধীনতার জন্য একটি জাতির সংগ্রামকে প্রতিফলিত করে এবং সেই কারণেই এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। UNESCO ছাড়াও, আন্তর্জাতিক ইতিহাসবিদ, গবেষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই ভাষণটি শুধু রাজনৈতিক এবং সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, মানবাধিকার ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। বিশেষত, এটি একটি নিপীড়িত জাতির জন্য স্বাধীনতার প্রেরণা এবং মুক্তির আহ্বানকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।

    বিশ্বের বিভিন্ন জাতি তাদের ঐতিহাসিক ভাষণগুলোকে সযত্নে লালন করে এবং বিশেষ উদযাপনের মাধ্যমে সেগুলোর স্মৃতিকে জীবিত রাখে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গ ভাষণ যা ১৮৬৩ সালে আব্রাহাম লিংকন দিয়েছিলেন, আজও মার্কিনীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভাষণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় জাতির ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে পুনঃ-প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান। আজও প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে গেটিসবার্গ ভাষণের দিনটি উদযাপিত হয় এবং তা আমেরিকানদের জাতীয় অহংকার ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ব্রিটেনেও উইনস্টন চার্চিলের বিখ্যাত ভাষণগুলো, বিশেষ করে তার “We shall fight on the beaches” ভাষণ, আজও ব্রিটিশ জনগণের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কঠিন সময়ে এই ভাষণ ব্রিটিশদের সাহস ও মনোবল বাড়িয়েছিল। আজও ব্রিটিশ জনগণ এই ভাষণগুলো স্মরণ করে এবং সেই সময়ের দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে পালন করে। ভারতের মহাত্মা গান্ধীর “কুইট ইন্ডিয়া” (Quit India) ভাষণ উল্লেখযোগ্য। ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এই ভাষণ ভারতীয়দের স্বাধীনতা সংগ্রামে নতুন উদ্দীপনা এনে দিয়েছিল। আজও ভারত এই ভাষণকে জাতীয় গৌরবের অংশ হিসেবে উদযাপন করে এবং এটি স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন উপলক্ষে স্মরণ করা হয়। এটি ভারতীয় জাতির ঐক্য ও সংগ্রামের প্রতীক। দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলার ভাষণগুলোও একইভাবে স্মরণীয়। বিশেষ করে তার ১৯৯০ সালে কারাগার থেকে মুক্তির পর দেওয়া ভাষণটি দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের জন্য এক নতুন স্বাধীনতার সূচনা হিসেবে দেখা হয়। আজও দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণ ম্যান্ডেলার এই ভাষণকে তাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বর্ণবৈষম্য-বিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে লালন করে। ফ্রান্সেও শার্ল দ্য গলের ১৯৪০ সালের “Appeal of 18 June” ভাষণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফরাসি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। আজও ফরাসি জাতি এই ভাষণকে তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করে এবং উদযাপন করে।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়, এটি আমাদের জাতীয় চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এবং মুক্তিকামী বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ীভাবে স্থান করে নেওয়া এক মহান বার্তা। ভাষণটির প্রতিটি শব্দ ছিল সাহসিকতার মন্ত্র, যা কেবলমাত্র তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নয়, পুরো জাতির আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছিল। যখন আমরা সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির দিকে ফিরে তাকাই, তখন আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে এই ভাষণ আজও আমাদের জাতীয় সংগ্রামের, ঐক্যের এবং মুক্তির শক্তিশালী প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৭ই মার্চের সেই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেখানে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে ফুটে ওঠা প্রত্যেকটি বাক্য, প্রতিটি উচ্চারণ ছিল বাঙালির স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের আহ্বান। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে উচ্চারিত সেই ভাষণ কেবল একটি বিশেষ মুহূর্তের জন্য নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছিল আমাদের সংগ্রামী ইতিহাসের এক চিরন্তন সঙ্গীত। জাতি হিসেবে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরা আমাদের অন্যতম দায়বদ্ধতা। যদিও ৭ই মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দিবস হিসেবে বাতিল করা হয়, তবুও এই দিনটি বাঙালির হৃদয়ে জাতীয় স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে চিরকাল স্থান করে নিয়েছে। বাঙালি জাতি প্রতিনিয়ত এই ভাষণকে নানা উপায়ে লালন ও উদযাপন করে থাকে। প্রতিটি বছর, প্রতিটি প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের মাধ্যমে নতুন করে শক্তি এবং প্রেরণা পায়। এ ভাষণ শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য এক অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস। আমাদের জাতির জন্য এটি শুধুমাত্র একটি বক্তৃতা নয়, বরং একটি বেঁচে থাকার প্রেরণা, একটি ইতিহাস, একটি সংগ্রাম, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি অমূল্য উত্তরাধিকার হিসেবে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ চিরকাল আমাদের চিন্তা, চেতনা এবং মননের অংশ হয়ে থাকবে এবং আমাদের জাতীয় পরিচয়কে গৌরবান্বিত করে চলবে।

    লেখক:  ড. পল্টু দত্ত

    শিক্ষক, গবেষক এবং কলামিষ্ট

     

     

    Facebook Comments Box
  • রাহাত ফতেহ আলীর কনসার্ট: টোল নেবে না এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

    রাহাত ফতেহ আলীর কনসার্ট: টোল নেবে না এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

    ঢাকায় মঞ্চ মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রাহাত ফাতেহ আলী খান। আগামী ২১ ডিসেম্বর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ইকোস অব রেভ্যুলেশন’ শিরোনামে একটি চ্যারিটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কনসার্ট থেকে আয়কৃত অর্থ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের পরিবারকে সহায়তার জন্য শহিদ জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনে দান করা হবে। এই কনসার্টেই সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে গান গাইবেন রাহাত ফাতেহ আলী খান।

    জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতের পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়াতে ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী আয়োজন করেছে এই চ্যারিটি কনসার্ট। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রি।

    চ্যারিটি কনসার্টটি ঘিরে আসছে একের পর এক সুসংবাদ। শিক্ষার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্যে বড় ছাড় রাখা হয়েছে। এই আয়োজনে ভেন্যুর অর্থাৎ আর্মি স্টেডিয়ামের ভাড়া নেবে না সেনাবাহিনী। এবার জানা গেল, এই কনসার্টটির আয়োজনের দিনে (২১ ডিসেম্বর) যানবাহন থেকে কোনো টোল আদায় করবে না ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ। দুপুর ২ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত বনানী, আর্মি গলফ ক্লাব, এয়ারপোর্ট, কুড়িল বিশ্বরোড- এই চারটি প্রবেশপথে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন টোল ফ্রি প্রবেশ করতে পারবে। তবে মোটরসাইকেল এই সুবিধার আওতাভুক্ত থাকবে না।

    শুধু তাই নয়, এদিন যানজট নিরসনে ও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দুপুর ২টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাহাঙ্গীরগেট এবং জিয়া কলোনির গেটও খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসময় গেট দিয়ে শুধুমাত্র রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, রোগীবাহী গাড়ি, বিদেশগামী যাত্রী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করা যাবে।

    জানা গেছে, কনসার্টের দিন ট্র্যাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে স্টাফরোড রেলগেট থেকে নেভি হেড কোয়ার্টার্স পর্যন্ত উত্তরা থেকে মহাখালী অভিমুখী রাস্তাটি বন্ধ থাকবে। তবে বিপরীতমুখী রাস্তা খোলা থাকবে। উল্লিখিত সময়ে যানজটের দুর্ভোগ এড়াতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার জন্য জনসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ‘ইকোস অব রেভোল্যুশন’ কনসার্টে বিশ্বখ্যাত সংগীতজ্ঞ রাহাত ফাতেহ আলী খান মূল আকর্ষণ হিসেবে তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করবেন। এছাড়া, জনপ্রিয় দেশী ব্যান্ড আর্টসেল, চিরকুট, আফটারম্যাথ এবং সিলসিলার শিল্পীরা পারফর্ম করবেন। এর বাইরে, জনপ্রিয় র‍্যাপ সংগীত শিল্পী শেজান ও হান্নানের পরিবেশনাও দর্শক মাতাবে। সংগীত ছাড়াও কনসার্ট ইভেন্টে জুলাই বিপ্লব-সংক্রান্ত গ্রাফিতি প্রদর্শনী, মঞ্চ নাটক এবং মুগ্ধ ওয়াটার জোনসহ আরও বিভিন্ন কর্নার থাকবে। কনসার্টে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে আমাদের সঙ্গে রয়েছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি।

    Facebook Comments Box
  • ইভিএম বাদ, ব্যালটে হবে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি

    ইভিএম বাদ, ব্যালটে হবে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি

    আর ইভিএম নয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ ব্যালটে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

    মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে কথা জানান তিনি।

    এর আগে গতকাল (সোমবার) নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমেদ বলেন, ২০২৫ সালের শেষে বা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

    ওইদিনই সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, সংস্কার ও ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে প্রণয়ন সাপেক্ষে ২০২৫ সালের শেষদিকে অথবা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ওপর নির্ভর করছে জাতীয় নির্বাচনের সময়কাল। এ ক্ষেত্রে সংস্কার ও ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে প্রণয়ন সাপেক্ষে ২০২৫ সালের শেষদিকে অথবা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন হতে পারে।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রথমে সবচেয়ে বড় কাজ ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা। এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। এর মধ্যে বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় কাজটি এখন আরও কঠিন। কারও ভোটার তালিকা যাচাই করার সুযোগ হয়নি। গত ১৫ বছরে যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছে, তাদের সবার নাম ভোটার তালিকায় তোলা নিশ্চিত করতে হবে। এটি বড় একটি কাজ।

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন পর এবার বহু তরুণ-তরুণী জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবে। অতীতে তাদের সেই অধিকার ও আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তাই এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটদান একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। এই অভিজ্ঞতাকে মসৃণ করার সমস্ত আয়োজন করতে হবে।

    Facebook Comments Box
  • নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির অভিষেক উৎসবে ভুয়া ভুয়া স্লোগানে তুলকালাম কাণ্ড

    নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির অভিষেক উৎসবে ভুয়া ভুয়া স্লোগানে তুলকালাম কাণ্ড

    সেই ‘ভূয়া ভূয়া’ স্লোগানের তোপে মাইক ছাড়তে বাধ্য হলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম। শতশত প্রবাসীর উপস্থিতিতে চলমান শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানের চেহারা মুহূর্তেই পাল্টে রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। তবে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে মিনিট দশেকের মত আক্রমণাত্মক হুমকি-ধমকিতে অতিথিসহ সকলেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। আয়োজকরা সকলকে অনুরোধ করেন সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে সংগঠনের অভিষেক উৎসব এবং বিজয় দিবস’র কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সহায়তার জন্যে।

    ১৬ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন উডসাইডে একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচিত কমিটির কর্মকর্তাগণের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সকলকে ক্ষেপিয়ে তোলার প্রয়াস চালালে উপস্থিত অনেকে ‘ভ’য়া ভ’য়া’ শব্দ উচ্চারণ করেন। কেউ কেউ মঞ্চের প্রতি তেড়ে যান। আকস্মিক এ ঘটনায় হতভম্ব প্রবাসীরা চেষ্টা করেন সকলকে শান্ত করতে। আয়োজকরাও মাইকে করজোড়ে মিনতি করতে থাকেন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতার জন্যে। কিন্তু কোন অনুরোধই কাজে আসছিল না। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি এবং গালিগালাজের মত নিন্দনীয় আচরণ। এহেন অবস্থায় আয়োজকরা ফখরুল আলমের কাছে থেকে মাইক কেড়ে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

    হট্টগোলের একটি মুহূর্ত। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    ৫০ বছরের পুরনো এই সোসাইটির নতুন কমিটির (২০২৫-২০২৬) অভিষেক উৎসবটি ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিজয় দিবসের প্রসঙ্গও অনেকে আলোকপাত করেন। সাবেক অন্তত: তিনজন কর্মকর্তা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বের কথা বলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মর্মার্থও উপস্থাপন করেন। এই সংগঠন পরিচালিত একটি বাংলা স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীরাও ‘জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’কে গভীর শ্রদ্ধা এবং একাত্তরে পাক হায়েনার দোসরদের বর্বরতার কথাও অবলিলায় উপস্থাপন করে। হলভর্তি দর্শক-শ্রোতার মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া (৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর যা ছিল স্বাভাবিক) পরিলক্ষিত হয়নি। দলমত নির্বিশেষে সকলেই বিজয় দিবসের আমেজে নিবিষ্ট ছিলেন। এমনি অবস্থায় ১৯৯৯-২০০০ এবং ২০০৩-২০০৪ এই দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারি সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম বলেন, ভাইরে- আজ বিজয় দিবস, আপনারা এতো হতাশ কেন? কোন প্রিয় জিনিষ যদি হারিয়ে যায়, আপনার থেকে চলে যায়, অথবা কেউ যদি কেড়ে নেয়, তাহলে সেই প্রিয় জিনিষের দরদ কী, তার প্রতি ভালবাসাটি কেমন ছিল, বুঝা যায়। আমরা তিনবার বিজয় অর্জন করেছি তিন রকমের।’ ‘———আমাদের প্রিয় জিনিষ সেই গণতন্ত্রকে, কথা বলার অধিকারকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়ে আমাদেরকে একটা সেবাদাসে পরিণত করেছিল কোন একটি গোষ্ঠি। সেখান থেকে আমরা বিজয় লাভ করেছি। সেই বিজয়েই আজ একটা দিন। সুতরাং আসুন এই বিজয়টাকে আমরা চ্যারিশ করি। আজ শপথ গ্রহণ করি অতীতে যারা আমাদেরকে ঠকিয়েছে, লুন্ঠন করেছে, অতীতে আমাদেরকে ভাগ্য বিড়ম্বিত করেছে, অতীতে যারা আমাদের অধিকারের নিকটেও যেতে দেয়নি, শুধু তাই নয় আমাদের ঘর-বাড়ি ধ্বংস করেছে, আমাদেরকে জেলখানায় রেখেছে, আমাদেরকে গুম করেছে, আমাদেরকে হত্যা করেছে, আমাদের নারীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, আমাদের যত অধিকার ছিল সবগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের প্রতি আজকের এ দিনে শপথ গ্রহণ করতে হবে’। এ সময়ই হল উচ্চকিত হয়। ‘ভ’য়া ভ’য়া শব্দ উঠে উচ্চস্বরে। শুরু হয় তুমুল প্রতিবাদ। অনেকে আসন ছেড়ে মঞ্চের দিতে তেড়ে যান ফখরুল আলমকে থামাতে। অবস্থা বেগতিক দেখে মাইক নেন নির্বাচিত সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। তিনি গোলযোগে লিপ্তদের নিবৃত্ত করার আকুল আহবান জানিয়েও সাড়া না পেলে অপর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খান মাইকে করজোড়ে মিনতি করতে থাকেন। এরপর নির্বাচিত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন দেওয়ান মাইকে ক্ষুব্ধ কয়েকজনের নামোল্লেখ করেন এবং বীনিত অনুরোধ জানাতে থাকেন। জসীম, রিপন, অপু, মামুন প্রমুখের নামোল্লেখ করেন এবং করজোাড়ে মিনতি করতে থাকেন। সবকিছু তলিয়ে যায় ক্ষোভের মধ্যে। আর্ত-চিৎকার চলতে থাকে। এ সময় আরেকজন কর্মকর্তা মাইকে বলেন, এটা কোন রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান নয়। এটা বাংলাদেশ সোসাইটির অনুষ্ঠান। এটা সামাজিক সংগঠন। এখানে কোন রাজনৈতিক বক্তব্য হবে না, চলবেও না। প্লিজ সকলে শান্ত হয়ে নিজ নিজ আসনে বসুন। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হবার জন্যে এখানে এসেছি। এটা কোন রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম নয়।

    বিদায়ী কমিটির ক্রীড়া ও বিনোদন সম্পাদক মাইনুদ্দিন মাহবুব বলেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়রসহ অনেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আসছেন। আপনারা এই মেহমানদের সম্মানার্থে নিজ নিজ জায়গায় বসুন প্লিজ। ঝগড়াঝাটি করা আমাদের মানায় না। আমরা এই সভ্যসমাজে বাস করে যেভাবে মারামারি করছি তা মানায় না। এটা বাংলাদেশ সোসাইটির অণুষ্ঠান। ৫ মিনিটের মধ্যে সিটি মেয়র আসছেন। আপনারা দয়া করে বসুন। প্লিজ, ক্ষমা চাচ্ছি। মেয়র এসেছেন জানার পরই সকলে মোটামুটি শান্ত হন এবং অনুষ্ঠানের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। উল্লেখ্য, ফখরুল আলম জাসদ ঘরানার মানুষ। তার বক্তব্য এই ফোরামে বেমান ছিল। কারণ বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্যগণের মধ্যে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামাতে ইসলামী, জাসদ, লিবারেল পার্টি, বাসদ সহ সকল দলের সমর্থকই আছেন। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের অনুষ্ঠানে সবসময়ই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভাজন এড়িয়ে চলা হয় কম্যুনিটির সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে।

    হট্টগোলের পর সিটি মেয়র এরিক এডামস সোসাইটির কর্মকর্তাগণকে স্বাগত জানিয়ে প্রদত্ত ‘বিশেষ সম্মাননা স্মারক’ পাঠ করেন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    উল্লেখ্য, ১৮ হাজারের অধিক ভোটারের অংশগ্রহণে গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে এই নির্বাচনে। সেটিতে পূর্ণ প্যানেলে বিজয় পেয়েছে ‘সেলিম-আলী প্যানেল’। সেই প্যানেলের বিজয়ীদের শপথ অনুষ্ঠানে এমন অনাকাংখিত পরিস্থিতি সকলকে হতবাক করেছে। সিটি মেয়র এরিক এডামসের উপস্থিতি এবং কম্যুনিটির সার্বিক কল্যাণে তার সহযোগিতা অব্যাহত থাকার অঙ্গিকার করায় সকলে অবশ্য সন্তুষ্টচিত্তেই ঘরে ফিরেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্বাহ্নে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে সিটি মেয়র তার বক্তব্যে বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বহুজাতিক এ সমাজে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা আদায়ের পথ সুগম করতে। এ সময় বাংলাদেশ সোসাইটির নয়া কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে একটি সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন সিটি মেয়র। এর আগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল নাজমুল হুদা, নিউইয়র্ক স্টেটট অ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমার, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের চীফ এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মীর আবুল বাশারও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিজয় দিবসের আলোকে।

    Facebook Comments Box
  • নিউইয়র্কে বিএনপির বিজয় র‌্যালিতে অবিলম্বে নির্বাচন দাবি

    নিউইয়র্কে বিএনপির বিজয় র‌্যালিতে অবিলম্বে নির্বাচন দাবি

    বিজয় দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে ষ্টেট বিএনপির উদ্যোগে ১৫ ডিসেম্বর রোববার সন্ধ্যায় বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয় জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায়। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ফসল ঘরে উঠানোর মধ্যদিয়ে এবারের বিজয়কে পরিপূর্ণতা দিতে দলমত-নির্বিশেষে সকল প্রবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহবান জানান র‌্যালি পরবর্তী সমাবেশে সভাপতির সমাপ্তি বক্তব্যে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিঊল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

    বিজয় র‌্যালিতে বিএনপি নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    হোস্ট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান সাঈদের সঞ্চালনায় র‌্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য জিল্লুর রহমান জিল্লু কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার দাবি জানান। বিশেষ অতিথি আরো বক্তব্য দেন স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন ভিপি, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি পরিষদের সভাপতি শাহাদাত হোসেন রাজু, বিএনপি নেতা ও সাংবাদিক আনিসুর রহমান, সিনিয়র সহ-সাধারন সম্পাধক আরিফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রইচ উদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাংগীর আলম, মোস্তাক আহমেদ, আবদুল কাইয়ুম, ষ্টেট বিএন পির নেতা আনোয়ার হোসেন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবীর, আশরাফ হোসেন, দেওয়ান কাওসার, কাজী আসাদউল্লাহ, এম এ কাইয়ুম, জাহাংগীর হোসেন ।

    বিজয় র‌্যালিতে বক্তব্য দিচ্ছেন স্টেট বিএনপি সভাপতি মাওলানা আতিক।

    নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন রহিমুল ইসলাম প্রিন্স, শহিদুল্লাহ রানা আলমগীর, মোকতাদীর হোসেন, ফারুক আহমেদ, সোয়েব আহমেদ, সাহিদা আক্তার অপু, মিনারা রহমান, হাফিজুর রহমান পিন্টু ও তারেক সাইফুল ইসলাম অপু প্রমুখ। বাংলাদেশের পতাকা হাতে অংশগ্রহণকারিরা খালেদা জিয়া, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেতা হিসেবে ধ্বনি দেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত রাষ্ট্র গঠনে তাদের নেতৃত্বের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন।

    Facebook Comments Box
  • ফিনিক্সে বাংলাদেশে ছাত্র-গণ আন্দোলন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে নাট্যসন্ধ্যা

    ফিনিক্সে বাংলাদেশে ছাত্র-গণ আন্দোলন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে নাট্যসন্ধ্যা

    বাংলাদেশ থিয়েটার অব আরিজোনা (বিটিএ) এবং শিকড় বাংলা স্কুলের উদ্যোগে ১৬ নভেম্বর আরিজোনার ফিনিক্স শহরের অদূরে চ্যান্ডলারের হ্যামিল্টন হাই স্কুল মিলনায়তনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র-গণ আন্দোলন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে একটি নাট্যসন্ধ্যা আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে দুটি নাটক মঞ্চায়িত হয়। প্রথমটি শিকড় বাংলা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “রাজা ও রাজদ্রোহী” এবং দ্বিতীয়টি শুভঙ্কর চক্রবর্তী রচিত নাটক “মড়া” অবলম্বনে মুস্তফা রিয়াদের রূপান্তরে নাটক “কানার হাট-বাজার”। নাটক দুটোর নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ শামস ভাস্কর এবং আরিফ মাহমুদ।

    আরিজোনা থেকে অনি বাশার ও শেখ শামস ভাস্কর আরো জানান, ফিনিক্সে বাংলাদেশ থিয়েটার অব আরিজোনা (বিটিএ) ১৯৯৯ সাল থেকে আরিজোনার বাঙ্গালি অভিবাসী সমাজে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি প্রসারে বিভিন্ন ভাবে বড় ভূমিকা রেখে আসছে। যেমন – নাটক মঞ্চায়ন, বাংলা সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ, বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মূলধারারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলা এবং বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা, বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবস আয়োজন। তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো আরিজোনার বাঙ্গালি পরিবারের শিশু সন্তান-সন্ততি ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে প্রাথমিকভাবে দীক্ষিত করবার স্বপ্ন নিয়ে ২০০৩ সালে শিকড় বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা। এদেশে জন্ম নেয়া বাঙালি বাচ্চারা তাদের আদি এবং সাম্প্রতিক পূর্বপুরুষদের জানতে পারবে, তাদের বাবা-মা’র জন্মভূমি- বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করতে শিখবে, বাংলাদেশের দুর্দিনে, দুর্যোগে ব্যথিত হয়ে চিন্তা করবে কিভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া যায়- এসব উদ্দেশ্য নিয়েই শুরু হয়েছিল বাংলা স্কুলটির পথযাত্রা। আর বিটিএ সুনিপুণ দক্ষতায় শিকড় বাংলা স্কুলটি পরিচালনা করে আসছে গত ২১ বছর যাবত । বিটিএর আরেকটি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হলো – এদেশে জন্ম নেয়া পরবর্তী প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের নিয়ে পূর্ণ-দৈর্ঘ বাংলা নাটক মঞ্চস্থ করা, যেটি প্রবাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত। মূলত ইংরেজী ভাষায় অভ্যস্ত শিশু-কিশোররা যখন কখনো আটপৌরে, আবার কখনো বা পোশাকি বাংলা ভাষায় সংলাপ দিয়ে এসব নাটকে অনায়াসে অভিনয় করে যায় তখন উপস্থিত দর্শকমন্ডলী যারপরনাই বিস্মিত ও চমৎকৃত হয়ে পড়ে। আর এ’কাজটা বাংলা স্কুল এবং বিটিএ নিরলসভাবে করে যাচ্ছে বছরের পর বছর, ব্যাচের পর ব্যাচ স্কুল ছাত্রদের নিয়ে।

    পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিটিএর রজত জয়ন্তী উদযাপনে দুদিনব্যাপী নাট্যৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও – বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ আন্দোলন এবং তৎপরবর্তী বন্যার কারণে বিটিএ অনুষ্ঠানটি একদিনের নাট্যসন্ধ্যায় রূপান্তর করে এবং এই অনুষ্ঠান থেকে অর্জিত সমুদয় অর্থ বাংলাদেশের গণ আন্দোলন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে ব্যয় হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে শিকড়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিটিএর সদস্যদের সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর রিপন সাহার নির্দেশনায় পরিবেশিত হয় এই অনুষ্ঠানের চ্যারিটি উপলক্ষ্য পরিবেশনে একটি স্লাইড শো, যেখানে “মুক্তির মন্দির সোপানতলে” গানের সাথে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ অভ্যুত্থান, এবং সেই অভ্যুত্থানে শহীদ, আহত এবং শেষে বন্যার চিত্র ফুটে ওঠে। আরিজোনা ষ্টেট ইউনিভার্সিটির পি,এইচ,ডি ছাত্র এবং বাংলাদেশের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ আজিম, যিনি গত জুলাই মাসের অস্থির সময়ে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন, তিনি গণ আন্দোলনে আহতদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন এবং আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবাইকে সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান।

    এরপর বিটিএর বার্ষিক সাহিত্য পত্রিকা “সিঁড়ি” অষ্টম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফিনিক্সের সভাপতি হামিদ কাজী। অনিরুদ্ধ বাশারের সম্পাদনায় এবারের সিঁড়িতে অন্য সম্পাদকরা ছিলেন শেখ শামস ভাস্কর, রচনা সেন মৈত্র এবং ফাহিম হুসেইন। সহযোগিতায় ছিলেন – আসাদ আজিম, হাসানুর খান এবং সন্দীপন বিশ্বাস। এবারের সিঁড়িতে স্থান পেয়েছে বেশ কিছু সুন্দর বাংলা লেখা, কবিতা, সাক্ষাৎকার, আঁকা ছবি, শিকড়ের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা। পত্রিকাটিতে প্রকাশিত একটি বিশেষ নিবন্ধে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ আন্দোলনে অংশ নেয়া কিছু ছাত্র ও ছাত্রী সমন্বয়কেরা তাদের প্রত্যয়, অভিজ্ঞতা ও স্বপ্ন নিয়ে লিখেছেন।

    অনুষ্ঠানের এই পর্যায়ে শুরু হয় শিকড়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বিটিএর ৪৪তম পরিবেশনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এবং শেখ শামস ভাস্কর এবং আরিফ মাহমুদ নির্দেশিত নাটক “রাজা ও রাজদ্রোহী”। এর আগে বিটিএ শিশু-কিশোরদের নিয়ে আরো ২৩টি পরিবেশনা করেছিল – যার মধ্যে পূর্ণ দৈর্ঘ মঞ্চ নাটকঃ “হীরক রাজার দেশে”, “রাজার নতুন জামা”, “তোতা কাহিনী”, “হবু চন্দ্র রাজার দেশে”, “ভূতের জাদু” উল্লেখযোগ্য। প্রায় একশ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “রাজা ও রাজদ্রহী” মঞ্চনাটকটি এখনো বিস্ময়করভাবে কতোটা প্রাসঙ্গিক। রাজার অন্যায়, অহেতুক কোন কারণ ছাড়া যুদ্ধ বাঁধানো, শত্রুকে নিপীড়নের মাধ্যমে স্বৈরাচার হয়ে ওঠা এবং প্রজাদের বিদ্রোহের মাঝে রাজার পতন – সমসাময়িক বিবেচনায় এটি ছিল বিটিএ এর খুবই সময়োপযোগী নাটক নির্বাচন। নাটকটিতে অভিনয় করেছে শিকড় বাংলা স্কুলের ছাব্বিশ জন ক্ষুদে ছাত্র-ছাত্রী যাদের বয়স চার থেকে তেরো। নাটকে সংযুক্ত হয়েছে সাতটি রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং রচনা সেন মৈত্র এবং ফাবিহা নওমি হুসেইন এর পরিচালনায় ছাত্র-ছাত্রীরা সেগুলোতে নিজেরাই কন্ঠ দিয়েছে এবং অনিরুদ্ধ বাশারের রেকর্ডিং এ সেগুলো নাটকে বাজানো হয়েছে বিভিন্ন দৃশ্যের পর এবং সেই গানের সাথে ছাত্র-ছাত্রীরা শ্রুতি দাসের পরিচালনা নৃত্য পরিবেশন করেছে। প্রতিটি দৃশ্যের পর ঘটনার সাথে মিল রেখে খুবই প্রাসঙ্গিক রবীন্দ্রসঙ্গীত নির্বাচন করা হয়েছে। নাটকের পোশাক ছিল অভাবনীয়।

    চাঁদ সুলতানা লিপির পরিকল্পনায় নাটকের প্রতিটি চরিত্র হয়ে ঊঠেছিল প্রাণবন্ত। আর বিভিন্ন দৃশ্যের পর খুব দ্রুত এতোগুলো চরিত্রের পোশাক পরিবর্তন ছিল অকল্পনীয়। আরিফ মাহমুদের আবহ সঙ্গীত পরিকল্পনা ছিল দারুণ। তার মঞ্চসজ্জা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড প্রজেকশন করেছে শামীম চৌধুরী জয়। স্বতঃস্ফূর্ত করতালির মাধ্যমে নাটক শেষ হয়, তারপর সমস্ত কলাকুশলীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন নাটকটির একজন নির্দেশক শেখ শামস ভাস্কর। নাটকটি সফল মঞ্চায়ন সম্ভব হয়েছে দীর্ঘ ছয় মাসব্যাপী ছাত্র-ছাত্রীদের মহড়া এবং অভিভাবকদের অভাবনীয় সহযোগিতায়। শিকড়ের যেসকল ছাত্র-ছাত্রী নাটকটিতে অংশ নিয়েছে তারা হলেনঃ নয়লি, জাইম, আয়ান, জীনিন, ঈশান, মাঈশা, মাঈরীন, নাবা, মানহা, বর্নাদিত্য, আনবী, রাফসান, ইউকি, মুনিফ, রিয়াসাত, জিশান, আনাস, নাহাদ, ওনুর, নাভান, আয়রা, বুরহান, নাফি, অর্নাদিত্য, অলিভিয়া, অহনা। মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় সাবরিনা এবং মেজবা, নার্গিস, নাজহি, আবীর, বিন্দু, নূরী, রিনা সহ আরো অনেকে। নৃত্য অনুশীলন সহযোগিতায় পিঙ্কী এবং পোশাক পরিকল্পনা সহযোগীরা ছিলেন – নার্গিস, সাবরিনা, বিন্দু, নূরী, তানিয়া, মঞ্চ পরিবর্তনে শিকড়ের অভিভাবকগণ। ছয় মাসব্যাপী মহড়া ব্যবস্থাপনায় – রেজাউল, বিন্দু, মাহাবুব এবং অন্যান্যদের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য।

    রাতের খাবারের বিরতির সময় ছিল ৪৫ মিনিট। এরপর দেখানো হয় বিটিএ এর গত পঁচিশ বছরের যাত্রাপথ এটি তৈরী করেছেন – মনজুর এবং ভাস্কর। এবং পরে বাশারের তৈরী স্লাইডে পৃষ্ঠপোষকদের পরিচিতি।

    বিটিএর বার্ষিক সাহিত্য পত্রিকা “সিঁড়ি” অষ্টম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফিনিক্সের সভাপতি হামিদ কাজী। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    এরপর শুরু হয় বিটিএ এর বড়দের নাটক ৪৫তম পরিবেশনা “কানার হাট-বাজার”। এর আগে – বিটিএ গত ২৫ বছরে অসংখ্য মঞ্চনাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলোঃ বিটিএর পরিবেশণায় “আম্বিয়ার বিয়া”, “নিস্তব্ধ আর্তনাদ”, “একাত্তর বারবার”, “মুক্ত করো ভয়”, মাসুম আজিজ রচিত “বৃত্ত”, মলিয়েরের নাটক অবলম্বনে “কেরামতের মসিবত”, “ভদ্দরনোক”, হুমায়ূন আহমেদ রচিত “১৯৭১”, “এসো নবধারা জলে”, মনোজ মিত্রের নাটক অবলম্বনে “চলো যাই হাওয়াই”, রবি ঘোষের নাটক অবলম্বনে “হোম মিনিস্টার একদিন” সহ আরো অনেক। এবারের মঞ্চ নাটক “কানার হাট-বাজার” নাটকটি শুভঙ্কর চক্রবর্তীর “মড়া” নাটক অবলম্বনে মুস্তফা রিয়াদ কর্তৃক রূপান্তরিত। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন আরিফ মাহমুদ এবং শেখ শামস ভাস্কর। নাটকটিতে ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষের মাঝে যে বিভাজন এবং তা থেকে সমাজে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ব্যাঘাত ঘটে তা ফুটে উঠেছে। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এই নাটকের নির্বাচনও খুবই প্রাসঙ্গিক ছিল। অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাবলিল অভিনয় দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছে। নাটকটিতে স্থান পেয়েছে তিনটি লালনের গান। অভিনয় করেছেনঃ আতিকুর রহমান, রেজাউল করিম নয়ন, আদিয়াত ওয়াশিক রহমান, ফাহিম হুসেইন, মোহাম্মদ হাসান জান, মামুন রহমান, মুস্তাফা রিয়াদ, শায়লা নাহার মুক্তি, নাহিদা ইসলাম সিলভি, আহমেদ জেবা তানহা, আসাদ আজিম, কলিমুর রহমান আফতাব, অনিরুদ্ধ বাশার, নাজিম উদ্দীন, নিয়ত রহমান, আবু ওসমান, রেজাউল করিম রেজা, ফাবিহা নওমি হুসেইন, সন্দীপন বিশ্বাস। অপূর্ব সুন্দর মঞ্চ সাজিয়েছেন শামীম চৌধুরী জয়। পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন চাঁদ সুলতানা লিপি, তাকে সহযোগিতা করেছেন – নার্গিস এবং নূরী। আবহ শব্দ পরিকল্পনা এবং শব্দ ও আলোক নিয়ন্ত্রনে ছিলেন আরিফ মাহমুদ।

    Facebook Comments Box
  • নিউইয়র্কে বিজয় দিবসের সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধাগণকে সম্বর্ধনা

    নিউইয়র্কে বিজয় দিবসের সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধাগণকে সম্বর্ধনা

    বাংলাদেশের ৫৫তম বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় সকালে নিউইয়র্কে অন্তত: ৫টি স্থানে বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্ববৃহৎ সমাবেশটিতে ছিল যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রবাসে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সম্বর্ধনা প্রদান। লাল-সবুজের উত্তরীয় পরিয়ে অন্তত: ৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বিপুল করতালির মধ্যে সম্বর্ধনা জ্ঞাপনের এ অনুষ্ঠান হয় জ্যাকসন হাইটসের শেফ মহল পার্টি হলে। এতে সভাপতির বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আব্দুল কাদের মিয়া সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করেও বিপুলভাবে সাড়া দিয়েছেন বলেই আজকের বিজয় সমাবেশ সফল হলো। এ সময় বিশেষ সম্মানীত অতিথির বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাশেদা হক কনিকা, জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ কর, ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন, হাজী জাফরউল্লাহ, চট্টগ্রাম সমিতির সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম আরিফ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা মতিউর রহমান, নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক রহমান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সদস্য আমিনুল ইসলাম কলিন্স, ম্যানহাটান আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফুল হক চৌধুরী, ছাত্রলীগ নেতা তারিকুল ইসলাম মাসুম। অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হাসান, মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন, নাজমুল হক, গোলাম মোস্তফা খান মিরাজের দ্রুত আরোগ্যে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় ইমাম কাজী কায়্যুমের নেতৃত্বে।

    বিজয় দিবসের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠুর পরিচালনায় বিশেষ সম্মাননা প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, আবুল বাশার চুন্নু, আব্দুর রহমান, গুলজার হোসেন, আশরাফুল হক চৌধুরী, আশরাফ আলী, এম এ হাসান, মোহাম্মদ আলী, নাসির উদ্দিন, ইমদাদুল হক, মোজাম্মেল হক, প্রাণ গোপাল কুন্ডু, হেলাল মজিদ, নূরল ইসলাম মিয়া, জাহিদ হোসেন, হাসান মাহমুদ, আবুল বাশার ভূইয়া, ড. প্রদীপ কর প্রমুখ।

    বিজয় দিবসের সমাবেশে স্থানীয় শিল্পীরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য সবিতা দাস, ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দি এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাকিলা রুনার সম্মিলিত নেতৃত্বে বিজয়ের গান পরিবেশনের আগে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশিত হয় উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে। এ ছাড়াও বিজয় দিবস আলোকে বক্তব্য রাখেন এবং সম্মাননা জ্ঞাপন পর্বে অংশ নেন ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম ইরান, যুগ্ম সম্পাদক আলিম খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক-মো. আলমগীর কবির, তথ্য ও প্রযুক্ত বিষয়ক সম্পাদক-নুরুন্নাহার খান নিশা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাকিলা রুনা, শিক্ষা সম্পাদক মোর্শেদ খান বদরুল, নির্বাহী সদস্য সবিতা দাস, আবু তাহের রহমান, মো. রুহুল আজাদ রাশেদ, নুরল আবসার এবং মুক্তার হোসেন।

    একইসময়ে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় তাজমহল পা্ির্ট হলে শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইয়ের উদ্যোগে পানশি পার্টি হলে বিজয় দিবসের সমাবেশ হয় বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর অংশগ্রহণে।

    Facebook Comments Box
  • বিজয় পেয়ে

    বিজয় পেয়ে

    কবি: সুফিয়ান  আহমদ  চৌধুরী

    বিজয় পেয়ে পাখ পাখালির
    কিচির মিচির মেলা,
    বিজয় পেয়ে শিশু কিশোর
    জুড়িয়ে দেয় খেলা।

    বিজয় পেয়ে টোনাটুনি
    বাঁধে নতুন বাসা,
    বিজয় পেয়ে রঙিন আশায়
    স্বপ্ন বুনে চাষা।

    বিজয় পেয়ে মেঠোপথে
    রাখাল বাজায় বাঁশি,
    বিজয় পেয়ে শোকটা ভুলে
    মায়ের ঠোঁটে  হাসি।

    বিজয় পেয়ে দেশের বুকে
    পতাকা ওই ওড়ে,
    বিজয় পেয়ে শীতল হাওয়ায়
    মনটা ফুরফুরে।

    বিজয় পেয়ে মনের ভেতর
    সুখের পরশ দোলে,
    বিজয় পেয়ে বাঙালিদের
    স্বপ্ন আশা খুলে।

    বিজয় পেয়ে মনটা করে
    বাক বাকুম রাঙা,
    বিজয় পেয়ে শাপলা হাসে
    বিজয় মিছিল চাঙা।

    Facebook Comments Box
  • বিজয় মানে

    বিজয় মানে

    কবি: সুফিয়ান  আহমদ  চৌধুরী

    বিজয় মানে নতুন সকাল
    রাঙা ভোরের হাসি,
    বিজয় মানে ফুল বাগানে
    হরেক ফুল রাশি।

    বিজয় মানে  আলোর বান
    মনটা সুখে জুড়ে,
    বিজয় মানে পাখ পাখালি
    ডাকছে সুরে সুরে।

    বিজয় মানে পতাকা  উড়ে
    জয়ের সুখে সুখে,
    বিজয় মানে ছেলেরা খেলে
    কতই খুশি মুখে।

    বিজয় মানে আকাশ  নীলে
    ঘুড়ির মেলা ভিড়,
    বিজয় মানে চাষির কত
    শান্তি সুখের নীড়।

    বিজয় মানে শিশির  ভেজা
    ওড়ছে ফড়িং  ঘাসে,
    বিজয় মানে রঙিন কী যে
    মধুর স্বপ্ন ভাসে।

    বিজয় মানে মনের সুখে
    বাউল গায় গান,
    বিজয় মানে রাখাল মাঠে
    দেয় তো বাঁশি টান।

    বিজয় মানে দীঘির জলে
    শাপলা ফুল দুলে,
    বিজয় মানে বিজয় মিছিল
    হাঁটছে মন খুলে।

    বিজয় মানে জয়োধ্বণি
    জয় বাংলার জয়,
    বিজয় মানে স্বাধীন সুখে
    নেই তো দুঃখ ভয়।

    Facebook Comments Box
  • ‘জনগণের আস্থা আমার ওপর আছে, আমি জনগণের পাশে আছি’

    ‘জনগণের আস্থা আমার ওপর আছে, আমি জনগণের পাশে আছি’

    বিজয় দিবস উপলক্ষে ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে টেলিফোনে প্রদত্ত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমার কথা বন্ধ করতে পারবে না। আমি জনগনের পাশে আছি। জনগণের আস্থা আছে আমার ওপর। আমি দাবি করতে পারি যে, আওয়ামী লীগের আমলেই বাংলাদেশের মানুষ ভালো ছিল। শান্তিতে ছিল, তাদের জীবন-মান উন্নত হচ্ছিল। তারা দারিদ্রের হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছিল। হতদরিদ্র একেবারেই থাকবে না-আমি সেই পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। দারিদ্রসীমা ২৫.১ ভাগ থেকে মাত্র ৫.৬ ভাগে নেমে এসেছিল। আমরা আরো ২১ হাজার ঘর-বাড়ি তৈরীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাত দিয়েছিলাম। সেটি সম্পন্ন হলে অতিদরিদ্র আর থাকতোই না। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আশ্রায়ন প্রকল্পে যাদেরকে ঘর দিয়েছি, তাদের ঘরগুলোও দখল করে নিচ্ছে ইউনূস বাহিনীর লোকেরা। এরফলে আবার তারা ভ’মিহীন, গৃহহীনে পরিণত হচ্ছে-এটাই হলো দুর্ভাগ্যের বিষয়।’ শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ‘গরিবের পেটে লাথি মারা আর জনগণ নিয়ে তামাশা করাই হচ্ছে তার চরিত্রের বৈশিষ্ট।’ নেতা-কর্মী এবং দেশবাসীর উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ ও প্রবাসের সকলকেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এই ফ্যাসিস্ট খুনী মাস্যলম্যান ইউনূস, তার ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই’ বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করেছে সন্ত্রাসীদের দ্বারা, অস্ত্র আর অর্থ দ্বারা। সারা বাংলাদেশে সে (ইউনূস) এজেন্ট নিয়োগ করেছে। গ্রাম-গঞ্জে, ইউনিয়নে জেলা পর্যায়ে খোঁজ করতে হবে যে তার এজেন্টরা কী করছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করা, অর্থ নিয়ে সন্ত্রাসীকে জড়ো করা, আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের খুঁজে বেরাই হচ্ছে ঐসব এজেন্টের কাজ। কাজেই জনগণেরও কাজ হবে তাদেরকে খুঁজে বের বরা যে, অপকর্ম কারা করছে। আজকে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই ইউনূন ক্ষমতায় থাকলে এদেশের মানুষের কখনো অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে না। জীবনের শান্তি আসবে না। নিরাপত্তা আসবে না। নিরাপদে চলতেও পারবে না। নিরাপদে বাড়িতে ঘুমাতেও পারবে না। এখোন কিন্তু মানুষের জীবন-মালের কোনই নিরাপত্তা নেই। এরকমই দুরাবস্থা’। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে বাংলাদেশকে। যে বাংলাদেশ ছিল শান্তির দেশ, সেই দেশকে সে সন্ত্রাসী জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তাই এই জঙ্গিদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। আর জঙ্গিদের লিডার হচ্ছে ইউনূস। এটাই আমার নির্দেশ যে, দেশের মানুষকে মুক্ত করতে হবে। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে। মানুষকে উন্নত জীবন দিতে হবে। ’৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। সেই লক্ষ্য যাতে বাস্তবায়ন করতে পারি, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যেন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা স্বাভাবিকভাবে আমরা করতে পারি তার জন্যে আওয়ামী লীগকেই সরকার গঠন করে দেশকে উন্নয়নশীল দেশে রুপান্তরিত করে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রবাসীরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস24।

    যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এ সমাবেশে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, সংঘবদ্ধ পরিকল্পনাতে বাংলাদেশে এখন গণহত্যা চলছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, ধর্মস্থান এবং ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের উপর হামলারও নিন্দা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মুহাম্মদ ইউনূসই ছাত্র সমন্বয়কদের নিয়ে একটি সুনিপুণ পরিকল্পনার মাধ্যমে গণহত্যায় লিপ্ত হয়েছেন। তারাই মাস্টারমাইন্ড।
    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ থেকে ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে, তার হাতে মারা যাওয়া ৩৫ জন মৃত ব্যক্তি ইতোমধ্যে জীবিত হয়ে ফিরে এসেছেন। এভাবে তার নামে এ পর্যন্ত আড়াই ‘শ মামলা হয়েছে যার অধিকাংশই হত্যা মামলা। হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আটক করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই নন, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতি কর্মীরাও ইউনূস বাহিনীর মামলার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। মহিলা সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তিনি সকল মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন।
    নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বস্টন, ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, মিশিগানসহ বিভিন্ন স্টেটের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

    যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রবাসীরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস24।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে যত জঙ্গি ছিলো ড .ইউনূস সব জঙ্গিদের জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছেন। নরসিংদি জেল খুলে দেওয়া হয়েছিল। বগুড়া জেল হাজতে নির্যাতনে আওয়ামী লীগের ৭/৮ জন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, যত ষড়যন্ত্র-পরিকল্পনা করাই হোক না কেন আওয়ামী লীগকে ধংস করা এতটা সহজ নয়। আইয়ুব খানও চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগকে ধংস করতে পারেন নাই। জিয়া-এরশাদ-খালেদা পারেনি। ইউনূস বাহিনীও পারবে না।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি গণহত্যা চাইনি। আমি যদি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে চাইতাম, তাহলে গণহত্যা হত। যখন নির্বিচারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমার চলে যাওয়া উচিত। আমাকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমার নিরাপত্তারক্ষীরা তা ঠেকাতে যদি গুলি চালাতেন তবে গণভবনে বহু মানুষের মৃত্যু হত। আমি তা চাইনি।’
    শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের নির্দেশনায় সমাবেশে পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ইউসুফ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ শাহনাজ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসুদুল হাসান, আব্দুর রহিম বাদশা, যুবলীগ নেতা আবু তাহের, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আশরাফউদ্দিন প্রমুখ। উল্লেখ্য, এটি ছিল নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দ্বিতীয় টেলি-ভাষণ।

    Facebook Comments Box
  • দুই মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হাসান ও নাজিমউদ্দিন নিউইয়র্কে রিহ্যাব সেন্টারে

    দুই মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হাসান ও নাজিমউদ্দিন নিউইয়র্কে রিহ্যাব সেন্টারে

    বাংলাদেশের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হাসান এবং মো. নাজিমউদ্দিন নিউইয়র্ক সিটির একটি পুনর্বাসন সেন্টারে অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে রাস্তা অতিক্রমের সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি ধাক্কা দিলে মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিনের বাম হাঁটুর নীচে হাড় ফেটে চৌচির হয় এবং ডান পায়েও প্রচন্ড ব্যাথা পান। পাবনার সন্তান এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর কর্মকর্তা নাজিমউদ্দিনকে সাথে সাথে নিকটস্থ এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেয়ার পর বাম পায়ে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। এরপর তাকে স্থানান্তর করা হয় জ্যাকসন হাইটসে রিগ্যাল হেইট রিহ্যাবে। সেখানে তাকে গভীর পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা-পরবর্তী পরিচর্যা চলছে।

    শহীদ হাসানের পাশে রথীন্দ্রনাথ রায় এবং লাবলু আনসার।

    অপরদিকে, কয়েক মাস আগে অসুস্থ হয়ে জ্যামাইকা হাসপাতালে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নেয়ার সময় কন্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসানের দুটি কিডনিই অকার্যকর বলে উৎঘাটিত হয়। এরপর সপ্তাহে ৩ দিন তাকে ডায়ালাইসিস নিতে এই রিহ্যাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের সন্তান এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর উপদেষ্টা শহীদ হাসান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিনের চিকিৎসা-কার্যক্রম এবং তাদের উভয়ের শারীরিক অবস্থা দেখতে ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঐ পুনর্বাসন কেন্দ্রে যান আরেক কন্ঠযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর অন্যতম উপদেষ্টা রথীন্দ্রনাথ রায় এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার। এ সময় নাজিমউদ্দিনের পাশে ছিলেন তার স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যা।
    শহীদ হাসান এবং নাজিমউদ্দিন সকলের দোয়া চেয়েছেন দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্যে।

    Facebook Comments Box
  • বিজয়ের মাসে শিল্পকলায় কেন ‘ডিসেম্বরের উৎসব’

    বিজয়ের মাসে শিল্পকলায় কেন ‘ডিসেম্বরের উৎসব’

    বিজয়ের মাস ডিসেম্বরজুড়ে নানা আয়োজন সাজিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি; সেই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডিসেম্বরের উৎসব’, যা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

    গত বছরও ডিসেম্বর মাসজুড়ে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনের শিরোনাম ছিল ‘বিজয়ের উৎসব’। তাহলে এবারের আয়োজন কেন ‘ডিসেম্বরের উৎসব’ নাম পেল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    তাদের কেউ কেউ বলছেন, গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ‘মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে’ শিল্পকলার উৎসবের এবার এমন নামকরণ।
    কেউ কেউ আবার একে দেখছেন ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান থেকে বাদ পড়া, ৭ মার্চ জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ পড়ার ‘ধারাবাহিকতা’ হিসেবে।

    বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন ফেইসবুকে লিখেছেন- “বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি! ডিসেম্বর উৎসব কি জিনিস রে ভাই? ডিসেম্বরের বিজয় উৎসব কোথায় গেল? কার কাছে জানতে চাইব? কে দেবে উত্তর?”

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে  বলেন, “শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ সম্পর্কে আমার যে ধারণা, তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো কিছু করবেন বলে মনে করি না। তবে শিল্পকলার মাসব্যাপী এই আয়োজনের শিরোনামে কেন ‘বিজয়’ শব্দটা নাই, তা আমারও প্রশ্ন।”

    শিল্পকলার মাসব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় যে বৈচিত্র্য তুলে ধরা হচ্ছে, তার প্রশংসাও করেন আনু মুহাম্মদ।

    তিনি বলেন, “মাসব্যাপী যে অনুষ্ঠানমালা, তাতে বাংলাদেশের সংস্কৃতির নানা ধারার বিষয়টি এসেছে, এটি ভালো। এমন অনেক বিষয় এসেছে, যা আগে তেমন গুরুত্ব পায়নি। ঢাকার বাইরে উৎসবের নানা কর্মসূচি সাজানো হয়েছে, এটাও খুব ভালো।

    “তবে এই উৎসবের যে নামকরণ করা হয়েছে, তা প্রশ্ন তৈরি করে। এটা কি ডিসেম্বর মাসের উৎসব? নাকি এর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ও আছে। এটা স্পষ্ট হয় না। শিল্পকলার উচিত, এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করা।”

    সূত্র- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

    Facebook Comments Box