Blog

  •  নিউইয়র্কে শাহীনকে সম্বর্ধনা দিলো স্টেট বিএনপি

     নিউইয়র্কে শাহীনকে সম্বর্ধনা দিলো স্টেট বিএনপি

    বিএনপির চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য গোলাম ফারুক শাহীনকে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন উপলক্ষে ২২ ডিসেম্বর রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের এলমহার্স্টে পাকশালা রেস্টুরেন্টে নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। এসময় নেতৃবৃন্দ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন নিউইয়র্কে বিএনপির কান্ডারি হিসেবে পরিচিত গোলাম ফারুক শাহীনকে সম্প্রতি এই নিয়োগ প্রদানের জন্যে।

    এ সম্বর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্যাহ আতিকুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও ষ্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাঈদ। নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসীম উদ্দিন ভিপি, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রইস উদ্দিনসহ ষ্টেট বিএনপির কর্মকর্তারা। এ সময় প্রদত্ত বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা গোলাম ফারুক শাহীন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন আর সংগ্রামের পথ বেয়ে বাংলাদেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। এখোন সময় হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের। এই নির্বাচনে শহীদ জিয়া প্রতিষ্ঠিত বিএনপির বিপুল বিজয়ের জন্যে এই প্রবাস থেকেও সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    কন্সাল জেনারেলের সাথে স্টেট বিএনপির নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    এদিকে, ২৩ ডিসেম্বর সোমবার ষ্টেট বিএনপির নেতৃবৃন্দ নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদার সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এ সময় নেতৃবৃন্দ কন্সাল জেনারেলকে অবহিত করেন যে, দীর্ঘদিন বিএনপির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আসছে ৮ জানুয়ারী বাংলাদেশে যাবে। তারা জাতীয় সংসদ ভবনের সন্নিকটে শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে যাবেন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে মতবিনিময় করবেন। প্রবাসী নেতৃবৃন্দের এই সফরসূচি প্রশাসনিক চ্যানেলে ঢাকা এয়ারপোর্টসহ হাই কমান্ডকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয় কন্সাল জেনারেলকে।

    নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক সাঈদুর রহমান সাঈদ, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, হুমায়ুন কবীর, সাংবাদিক আনিসুর রহমান, আশরাফ হোসেন এবং দেওয়ান কাউসার। উল্লেখ্য, বিএনপির এসব নেতা নিউইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পতন হওয়া শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন জেলায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সে সব মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়ায় তারা নিজ এলাকায় যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    Facebook Comments Box
  • স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যাখ্যা: মার্কিনীরা অন্য দেশের নীতি-নির্ধারণে অংশ নিলে নাগরিকত্ব বাতিল হবে

    স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যাখ্যা: মার্কিনীরা অন্য দেশের নীতি-নির্ধারণে অংশ নিলে নাগরিকত্ব বাতিল হবে

    যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা অন্য দেশের নীতি-নির্দ্ধারণীতে অংশ নিতে পারেন না। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ৩৪৯(এ)(৪) সেকশন অনুযায়ী ভিন্ন দেশের নীতি-নির্দ্ধারণে অংশ নিলে সেই মার্কিন নাগরিকের সিটিজেনশিপ বাতিল হয়ে যাবে। অনেক আগেই প্রনীত এই আইনের সর্বশেষ ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় এ বছরের ১২ মার্চে। সে অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরিহার না করেই কেউ যদি অন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোন দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হোন এবং এ তথ্য যদি নিকটস্থ কন্স্যুলেট জানতে পারে তাহলে ঐ আমেরিকানের নাগরিকত্ব বাতিলের সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট, মন্ত্রি পরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদ, সংবিধানসহ আইন সংস্কারের নানা কমিটিতে মার্কিন নাগরিকেরা অংশ নিচ্ছেন। এদের অনেকেই প্রচলিত রীতি অনুযায়ী স্বেচ্ছায় সিটিজেনশিপ পরিত্যাগ করেননি। অর্থাৎ সেই তথ্য গোপন করেছেন। সর্বশেষ এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঐ ধরনের আচরণে লিপ্তরা এখোন থেকে আর ছাড় পাবেন না।
    এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক অঞ্চলে ইমিগ্রেশন বিষয়ক খ্যাতনামা এটর্নী অশোক কর্মকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আইন লংঘনের ব্যাপারগুলো গুরুতর অপরাধের সামিল নয়। এজন্যে সিটিজেনশিপের তথ্য গোপন করে অন্য দেশের নীতি-নির্দ্ধারণীতে অংশ নিলে কেবলমাত্র সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে। অন্য কিছু নয়। তবে নীতি-নৈতিকতার ব্যাপারটি সামনে আসবে অবশ্যই। নৈতিক স্খলনজনিত আচরণের পর্যায়ে পড়বে। কারণ, আপনি একইসাথে দুটি দেশের প্রতি অনুগত থাকতে পারেন না। বিশেষ করে যদি রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্দ্ধারণীতে থাকেন। সেনাবাহিনীর পদস্থ অফিসার, সচিব, এমপি, মন্ত্রী, প্রধান মন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টা, প্রেসিডেন্ট ইত্যাদি পদগুলো এখানে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। এটর্নী অশোক উল্লেখ করেন, তবে যারা সাধারণ নাগরিক, অন্য দেশের নীতি-নির্দ্ধারণীতে লিপ্ত নেই, তারা দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারেন এবং অনেকে নিচ্ছেন-এটা কোন অন্যায়ের নয়। নৈতিকভাবেও প্রশ্ন নেই।

    ইদানিং প্রবাসেও গুঞ্জন উঠেছে যে, আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণকারি অনেকেই বাংলাদেশে গিয়ে এমপি, মন্ত্রী, উপদেষ্টা হচ্ছেন। কয়েক বছর আগে এক ব্যক্তি প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন। বিচারপতির দায়িত্বও পালন করেছেন একাধিক ইউএস সিটিজেন। বাংলাদেশের আইন এ ব্যাপারে কী বলে জানতে চাইলে এটর্নী অশোক বলেন, যদি শপথ গ্রহণের ব্যাপারটি থাকে অর্থাৎ দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের শপথ নিতে হয়। আর এটি করার পর ধরেই নেয়া হয় যে, আপনার আনুগত্য শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রতিই, অন্য কোন দেশের প্রতি নয়। এতদসত্বেও যারা অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের তথ্য গোপন করেন বা মিথ্যা বলেন সেটিকে শপথ ভঙ্গের সামিল বলে গণ্য করা হয়। কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব নিতে একইসাথে দুটি দেশের স্বার্থ সুরক্ষা সম্ভব হয় না। এজন্যে পার্লামেন্ট মেম্বার পদে মনোনয়নের ফরম পূরণের সময় অন্য কোন দেশের নাগরিকত্ব নেই বলে ঘোষণা দিতে হয়। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণের শপথ নামায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ‘অন্য দেশের সাথে সকল সম্পর্ক-আনুগত্য ছিন্ন করছি। —-আমি যুক্তরাষ্টে্রুর সংবিধান ও আইন মেনে চলবো, সমর্থন করবো, —-Õ(Ihereby declare, on oath, that I absolutely and entirely renounce and abjure all allegiance and fidelity to any foreign prince, potentate, state, or sovereignty of whom or which I have heretofore been a subject or citizen; that I will support and defend the Constitution and laws of the United States of America against all enemies, foreign and domestic; that I will bear true faith and allegiance to the same; that I will bear arms on behalf of the United States when required by the law; that I will perform noncombatant service in the Armed Forces of the United States when required by the law; that I will perform work of national importance under civilian direction when required by the law; and that I take this obligation freely without any mental reservation or purpose of evasion; so help me God.)

    এ প্রসঙ্গে ডেমক্র্যাটিক পার্টির এশিয়ান-আমেরিকান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স সম্পর্কিত লিডারশিপ কাউন্সিলের মেম্বার এবং ম্যারিল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশী আমেরিকান আনিস আহমেদ বলেন, যে মুহূর্তে তারা শপথ নেবেন সেই সময়েই ধরে নেয়া হবে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরিহার করেছেন। আনিস আহমেদ আরো উল্লেখ করেন, তারা যদি শপথ না নিয়েও অন্য দেশের নীতি-নির্দ্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব শুরু করেন তখোন আপনা-আপনি ইউএস সিটিজেনশিপ বাতিলের মত পরিস্থিতি তৈরী হয়। অর্থাৎ গত ১২ মার্চের সার্কুলারের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সিটিজেনশিপ পরিহারের আবশ্যকতা নেই। আনিস আহমেদ উল্লেখ করেছেন, তবে কেউ যদি অন্য দেশের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হবার পর জানতে পারেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইন লংঘন করেছেন, তাহলে সাথে সাথে যদি নিকটস্থ ইউএস কন্স্যুলেটে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন তাহলে আইন লংঘনের দোষে দোষী হবেন না। এক্ষেত্রে সময়টি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ আপনি দায়িত্বের পুরো সময় অতিবাহিত করে যদি নিজের অজ্ঞতার অজুহাত দাঁড় করান তাহলে সেটি গ্রহণযোগ্য না-ও হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ ব্যবস্থায় বিশেষ খ্যাতি অর্জনকারি নিউ অর্লিন্স ইউনিভার্সিটির এমিরিটাস অধ্যাপক ড. মোস্তফা সারোয়ার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের অন্য দেশে যেমন ধরুন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার নিয়ম নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। ইমিগ্রেশন এবং ন্যাশনালিটি এ্যাক্ট সেকশন ৩৪৯ (এ) (৪)তে এর উত্তর মিলবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক যখন অন্য দেশে নীতিনির্ধারণী পদে বহাল হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারে। নীতিনির্ধারণী পদ যদি হয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী (অথবা সমমর্যাদার পদ), পররাষ্ট্রমন্ত্রী (অথবা সমমর্যাদার পদ), সে ক্ষেত্রে স্টেট ডিপার্টমেন্ট সক্রিয় পর্যালোচনা করে থাকে। বর্তমান বাংলাদেশের জন্য ট্রাম্পের এটা প্রয়োগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে।”

     

    Facebook Comments Box
  • বিল ক্লিন্টন হাসপাতালে

    বিল ক্লিন্টন হাসপাতালে

    সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন (৭৮) ২৩ ডিসেম্বর অপরাহ্নে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মেডস্টার জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় ক্লিন্টনকে এই হাসপাতালে নেয়ার পরই নানাবিধ পরীক্ষা চলছে বলে বিল ক্লিন্টনের ডেপুটি চীফ অব স্টাফ এঞ্জেল ইউরিনা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এঞ্জেল ইউরিনা বলেন, ‘তিনি শারীরিকভাবে ভালোই আছেন। চিকিৎসকেরা আন্তরিকতার সাথে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করছেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিল ক্লিন্টন। তারপর থেকেই নিউইয়র্কে ওয়েস্টচেস্টার এলাকায় বাড়ি কিনে বসতি গড়েছেন। নতুন এই ঠিকানা ব্যবহার করে হিলারি ক্লিন্টন ইউএস সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন। বারাক ওবামা হিলারিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছিলেন।

    ২০০৪ সালে বিল ক্লিন্টন নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন শ্বাস-প্রশ্বাসে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়ায়। বুকে প্রচন্ড ব্যাথা হয়েছিলো। সে সময় তার করোনারি বাইপাস সার্জারি হয়। এর ৬ বছর পর ২০১০ সালে আবারো হৃদরোগে আক্রান্ত হলে নিউইয়র্ক হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর দুটি স্টেন্ট বসানো হয়েছে। ২০২১ সালে পস্রাবে ইনফেকশন হওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেটি সেপিসে পরিণত হয়েছিল। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ক্লিন্টনের স্কীন ক্যান্সার, চিস্ট এবং এলার্জির পাশাপাশি কানে কম শোনার রোগও রয়েছে। আরো উল্লেখ্য, বিল ক্লিন্টন হচ্ছেন প্রথম এবং এযাবতকালের একমাত্র মাার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি ২০০০ সালে ঢাকায় গিয়েছিলেন।

     

    Facebook Comments Box
  • ৫ আগস্টের মতো রাজপথে নামার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    ৫ আগস্টের মতো রাজপথে নামার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    ভোটের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আবারও ৫ আগস্টের মতো জনগণকে রাজপথে নেমে আোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিএনপির সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নিজের অধিকার আদায়ে সবাইকে ৫ আগস্টের মতো আবারও রাজপথে নেমে আসতে হবে। দেশের সংস্কার চান, নাকি হাসিনার নৌকায় যাবেন, সিদ্ধান্ত জনগণের।

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ভোট চাইতে আসি নাই। দেশ, মাটি, মানুষের জন্য প্রয়োজন হলে আবার ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

    মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শেখ মুজিব ব্যর্থ হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোট দেয়ার জন্য, ভালো থাকার জন্য, কম দামে খাওয়ার জন্য, মা বোনদের কাপড়ের জন্য, ভালো অর্থনীতি চেয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের মানুষ আশা করেছিল শেখ মুজিব বড় নেতা, তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু দেশের মানুষ শান্তি পায়নি। যে দলটাকে সাধারণ মানুষ ভালোবাসতো, কিন্তু তারাই জনগণের ওপর চড়াও হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের পর। তাদের দুর্নীতি, নির্যাতন, খুন-গুমের কারণে অনেকেই আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসেছিল।

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিল আওয়ামী লীগ। শেয়ালকে যদি মুরগির খাঁচায় ঢোকানো হয় তাহলে কি হবে, ঠিক সেরকমই করে নিজেরা ঢুকে ভোট দিয়ে দিত, জনগণকে ভোট দিতে দিত না।

    এ সময় বিএনপির দীর্ঘ সময়ের রাজপথের আন্দোলন ও ত্যাগেই শেখ হাসিনার পতন সম্ভব হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে বলে বিএনপিতো পারে নাই, কিন্তু বিএনপি ১৫ বছর লড়াই করেছে বলেইতো ছাত্র-জনতা হাসিনাকে বিদায় দিতে পেরেছে। তোমরা সাহস করে দাঁড়িয়ে গেছ বলে সাধুবাদ জানাই। তবে বিএনপির ত্যাগ নির্যাতন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

    বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, ভারতে বসে শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্র করছে। এ অবস্থায় উগ্রবাদ মোকাবিলা ও প্রতিহত করতে হবে।

    তিনি তাবি করেন, বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িকতা নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। কৃষক, শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা হবে। আর গায়েবি মামলা হবে না।

    দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এ সময় তিনি দায়িত্বশীলদের আরও সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেকে যারা দ্বায়িত্বশীল যায়গায় আছেন, তাদের উল্টাপাল্টা কথা বন্ধ করতে হবে। দ্বায়িত্বশীল যায়গায় বসে ভুল কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। দেশের মানুষ অনেক নির্যাতন সহ্য করেছে এবার শান্তি চায়। মানুষ নির্বাচন চায়, যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চায়।

    Facebook Comments Box
  • শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে চিঠি

    শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে চিঠি

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

    সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতকে আমরা জানিয়েছি ক্লিয়ারলি। আমরা তাকে যে ফেরত চাচ্ছি বিচার ব্যবস্থার জন্য সেটা জানিয়েছি।

    ফেরত চাওয়ার প্রক্রিয়াটা কী হতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারত সরকারকে নোট ভারবালের (কূটনৈতিক পত্র) মাধ্যমে।

    এর আগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিজিবি দিবসে পদক প্রদান ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    এসময় উপদেষ্টা জানান, বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ীই তাকে ফেরানো যাবে।

    Facebook Comments Box
  • বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠন

    বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠন

    ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে পিলখানার বিজিবি সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আপনারা সব সময় চেয়েছেন বিডিআর একটা কমিশন হোক। রোববার রাতে কমিশনটিতে প্রধান উপদেষ্টা সই করে দিয়েছেন। কমিশনের সদস্য সংখ্যা সাতজন।

    কমিশনে রয়েছেন- বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক এ এল এম ফজলুর রহমান, তিনিই এ কমিশনের সভাপতি। তার সঙ্গে আরও থাকবেন সামরিক বাহিনীর দুজন সদস্য, সিভিল সার্ভিসের একজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকবেন।

    রোববার কুমিল্লায় একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতকারী সব জায়গায় রয়ে গেছে। যে দুষ্কৃতকারীরা তাকে হেনস্তা করেছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

    ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। এক্সট্রা অডিশন করার জন্য, এটা প্রক্রিয়াধীন।

    কোন উপায়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী হবে।

    সম্প্রতি ৬০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুই মাসে নয় বরং গত দেড়-দুই বছরে দেশে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। আমরা রোহিঙ্গাদের আর কোনো অবস্থাতেই প্রবেশ করতে দেবো না।

    তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বর্ডার (সীমান্ত) আছে সেটি পুরোটাই আরাকান আর্মির দখলে চলে গেছে। এখন আমাদের বিজিবির সঙ্গে কথা বলার অবস্থা ছিল সেটি নেই। তাদের (আরাকান আর্মি) সঙ্গে এখন অফিসিয়াল কথা বলার সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি, যতদ্রুত সম্ভব এ সমস্যা (রোহিঙ্গা) সমাধানের।

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমি ডিটেইলস (বিস্তারিত) বলতে পারবো না, আপনারা (সাংবাদিক) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন তারা ভালো বলতে পারবেন।

    আমাদের প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা কাজ করছি। আমরা ভবিষ্যতে একটা ভালো ফল পাবো।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে দুর্নীতির মাধ্যমে। বিজিবি এ ঘটনায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে জড়িত কি-না। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা ওইখানে গেলে জানতে পারবেন পরিস্থিতি কি। ওইখানে যুদ্ধ হচ্ছে। ওইখানের পরিস্থিতিও আপনারা জানেন। রোহিঙ্গারা দুর্নীতির মাধ্যমে প্রবেশ করে।

    Facebook Comments Box
  • চাঁদপুরে জাহাজ থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার

    চাঁদপুরে জাহাজ থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার

    চাঁদপুরের মেঘনায় মালবাহী জাহাজ থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতের হামলায় তাদের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে মরদেহের খবর পাওয়া যায়।

    বাংলাদেশে কোস্টগার্ডের স্টাফ অফিসার (ঢাকা জোন) লে. কর্নেল শামস গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    জানা গেছে, জাহাজটির নাম এমভি আল-বাখেরা। জাহাজটি নোঙর করা অবস্থায় ছিল।

    চাঁদপুর নৌ-পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ওই ছয়জনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুমূর্ষু অবস্থায় আরও দুইজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    Facebook Comments Box
  • মাথাপিছু ১৪০০ ডলারের স্টিম্যুলাস চেক পাচ্ছেন ১০ লাখ আমেরিকান

    মাথাপিছু ১৪০০ ডলারের স্টিম্যুলাস চেক পাচ্ছেন ১০ লাখ আমেরিকান

    করোনায় বিপর্যস্ত আমেরিকানদের জন্যে ২০২০ ও ২০২১ সালে ফেডারেল সরকারের দেয়া মাথাপিছু ১৪০০ ডলারের চেক পায়নি ১০ লাখ আমেরিকান। তা এখন পাঠানো হচ্ছে বলে আইআরএস (ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস) জানিয়েছে। মোট ২.৪ বিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি টাকা)এর চেক চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্টদের বাসায় পৌঁছবে। উল্লেখ্য, আর্থিকভাবে নাজুক অবস্থায় নিপতিতদের মধ্যেকার ঐ চেকের সমপরিমাণ অর্থ দাবি করে ২০২১ সালের ট্যাক্স রিটার্নে উল্লেখ করার কথা। যারা সেটি ভুলে কিংবা অন্য কোন কারণে করতে পারেননি, তাদের তালিকা তৈরীর পর শুক্রবার আইআরএস এ তথ্য জানিয়েছে। আরো উল্লেখ্য, সেটি ছিল বাইডেন প্রশাসনের ‘ইকনোমিক ইমপেক্ট পেমেন্ট’ (ইআইপি) কর্মসূচি। এটি ছিল পুরোপুরি অফেরতযোগ্য একটি অনুদান।

    এ প্রসঙ্গে আইআরএস কমিশনার ড্যানি ওয়েরফেল বলেন, ট্যাক্স প্রদানকারি আমেরিকানদের জীবন-মানের উন্নয়নে আইআরএস সর্বদা নিবেদিত রয়েছে। সে আলোকেই ১০ লাখ আমেরিকানের বাসায় চেক পাঠানো হচ্ছে। আর এই তালিকা উদঘাটিত হয়েছে আমাদের নিজস্ব অডিটে। উপরোক্ত ইআইপি প্রোগ্রামে স্টিম্যুলাস চেক পাবার ন্যায়সঙ্গত অধিকার থাকা সত্বেও যারা নিজেদের ভুলে অথবা অজ্ঞতায় তা পাননি, সেটি এখোন আমরা পাঠাচ্ছি।

    কারণ, এখনো অনেক মানুষ নিদারুণ অর্থ সংকটে রয়েছেন। ড্যানি ওয়েরফেল আরো উল্লেখ করেছেন, এই চেকের জন্যে কাউকে কোন অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে না কিংবা কোন আবেদনেরও প্রয়োজন নেই। আশা করছি এই চেক পেয়ে অনেক মানুষ সাময়িকভাবে হলেও কিছুটা স্বস্তিবোধ করতে পারবেন। আর এটি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনের দরদি হৃদয়ের সর্বশেষ উদাহরণ।

    Facebook Comments Box
  • আলবেনিতে বিজয়ের অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ের গভীরে ভালোবাসায় আঁকা প্রিয় বাংলাদেশ প্রিয় আমেরিকা’

    আলবেনিতে বিজয়ের অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ের গভীরে ভালোবাসায় আঁকা প্রিয় বাংলাদেশ প্রিয় আমেরিকা’

    ‘বাংলাদেশী আমেরিকান ফাউন্ডেশন অব আলবেনী’ (বাফা), নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবেনীর ‘লেথাম রিজ স্কুল’ চত্বর এবং অডিটরিয়ামে ২১ ডিসেম্বর শনিবার দিনব্যাপী বিজয় দিবস’র অনুষ্ঠানটি বিপুলসংখ্যক বাঙালির উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয়। আবহাওয়ার প্রতিকুলতা উপেক্ষা করেই সকাল থেকে সংগঠনের নারী-পুরুষ এবং শিশুদের লাল-সবুজ পোষাকে আগমন, নিবন্ধন, কুশল বিনিময়, আলোকচিত্র ধারণ, বিভিন্ন স্টলে কেনাবেচা এবং সাজসজ্জার ব্যস্ততায় যেন এক টুকরো লাল-সবুজের বাংলাদেশ প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠেছিল। সাথে ছিলেন এলাকার উৎফুল্ল প্রবাসীরাও। সকাল গড়িয়ে দুপুর ভর করতেই চত্বরটি আলবেনীর বাঙালিদের একটি বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়।

    বাফা স্বেচ্ছাসেবক দলের সুশৃঙ্খলভাবে বিজয় দিবসের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মিষ্টান্ন থেকে কোমল পানীয়, চা, কফি কোনো কিছুরই কমতি ছিল না। খাবার পর্ব শেষ করে পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী সবাই অডিটরিয়ামে নিজ নিজ আসন গ্রহণের পর বিকেল ৩.০০ টায় শুরু হলো বিজয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠানটি চার পর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে শুধুমাত্র শিশু- কিশোরদের পরিবেশনা ‘হৃদয়ের গভীরে ভালোবাসায় আঁকা প্রিয় বাংলাদেশ প্রিয় আমেরিকা’ পর্বটিতে বাংলাদেশ এবং আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন রহিম বাদশাহ। পরবর্তীতে দেশাত্মবোধক গানের সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয়, কোরিওগ্রাফার ছিলেন তানিয়া মানির। প্রথম পর্বে অংশ গ্রহণকারী শিশুরা ছিল আফিজা চৌধুরী, আলিশা হক, আরিবা তারিক, আরমীণ ভুঁইয়া, ফাইজা ফরহাদ, ফারিয়া হক, মাহাদ তারিক, মাহ্রাস কাজী, মুয়াদ আহমেদ, নাজিয়া হুদা, নিহাল মাসুদ, রাযিন রাইসা, রিহান বাদশাহ, সাফা জামান, সিফান আহমেদ, সঞ্জিতা শিকদার, শাহান রাকিন আনোয়ার, সুমায়রা রাহা আহমেদ, তাসকিন আরেফিন, তাজমীন জামান, জাহিন হোসেন, জাহিয়া জামান, এবং জারিয়া আহমেদ।
    দ্বিতীয় পর্বে ছিল বিজয় দিবসের আলোচনা এবং স্পন্সর পরিচিতি পর্ব। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাফার চেয়ারম্যান ড. হুমায়ুন কবির এবং প্রেসিডেন্ট সোহেল আহমেদ। বক্তাগণ স্বাধীনতা আন্দোলনের সকল মহান নেতৃত্ব, সংগঠক, ৩০ লক্ষ শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখা সকল স্তরের বাঙালিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তাঁদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বাংলা সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে বাফা পরিবারের আগ্রহকে সাধুবাদ জানান। বিশেষত নতুন প্রজন্মের আমেরিকান-বাঙালি শিশুদের মনে মা-বাবার শেকড়ের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে বাঙালি সংস্কৃতিকে লালন করার জন্য পিতা-মাতার অব্যাহত প্রচেষ্টাকে অভিনন্দিত করেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের ভেতর আরও ছিলেন ক্লিফটন পার্কের টাউন সুপারভাইজার এবং ‘চেয়ার অব দা স্যারাটোগা কাউন্টি বোর্ড’র সুপারভাইজার ফিল ব্যারেট ও ক্লিফটন পার্ক টাউন জজ রবার্ট রাইবেক। তাঁরা উভয়েই অনুষ্ঠানের সবগুলো পর্ব উপভোগ করেন এবং অনুষ্ঠান শেষে শিল্পীদের অভিনন্দিত করেন।

    আয়োজনের অন্যতম পৃষ্টপোষক নিউইয়র্ক লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানার এবং সাংবাদিক সুলতানা রহমান পুতুল ও অফিস পার্টনার ব্র্যানডন কার্ল । এসময় তাঁরা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কীভাবে মানুষের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পুরো আয়োজনে আরো সহযোগিতা করেছেন মোঃ আহসানুল হক (রিয়্যালটি ওয়ান গ্রুপ) এবং আলাদীন হালাল গ্রুপ।

    তৃতীয় পর্বে বাফা সদস্যদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় গীতি-নৃত্যাল্লেখ্য ‘সবকটা জানালা খুলে দাও না’ । ১৭৫৭ সালের পলাশির প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যাওয়ার পর থেকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন পর্যন্ত এক সুদীর্ঘ সময়ের অব্যাহত আন্দোলন, সংগ্রাম, আত্ম-উৎসর্গ আর ত্যাগের মহিমান্বিত উপাখ্যানের আলোকে গীতিনৃত্যাল্লেখ্যটির স্ক্রীপ্ট, গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ছিলেন আবৃত্তি শিল্পী আনোয়ারুল হক লাভলু।

    বাফা আলবেনীর সঙ্গীত, নৃত্য এবং আবৃত্তির একত্রিশ জন শিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত গীতিনৃত্যাল্লেখ্যটিতে যে সব কবি এবং লেখকদের গান, কবিতা এবং লেখা সংযোজিত হয়েছে তারা হচ্ছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মুকুন্দ দাস, মোহিনী চৌধুরী, আব্দুল গাফ্ফার চৌধূরী, আব্দুল লতিফ, গৌরী প্রসন্ন মজুমদার, গিরীন চক্রবর্তী, শামসুর রাহমান, সিকান্দার আবু জাফর, সৈয়দ শামসুল হক, প্রতুল মুখোপধ্যায়, ফজল শাহাবুদ্দীন, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, নঈম গওহর, নজরুল ইসলাম বাবু, আনোয়ার হোসেন রনি, আনোয়ারুল হক লাভলু এবং কবি বেনজির শিকদার।

    অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আনিকা সুবাহ আহমদ উপমা কবি বেনজির শিকদারের ‘বিজয় উৎসব’ কবিতা আবৃত্তির মধ্যদিয়ে পর্বটির সূচনা করেন এবং আবৃত্তিশিল্পী আনোয়ারুল হক লাভলুর ইতিহাস কথনের মধ্যদিয়ে দর্শকবৃন্দ গীতিনৃত্যাল্লেখ্য ‘সবকটা জানালা খুলে দাও না’ এর মুল পর্বে প্রবেশ করেন।

    পিন পতন নিরবতায় ইতিহাস, কথা, কবিতা, নৃত্য এবং সঙ্গীতের মূর্ছনায় সেই বৃটিশ বিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের বীরগাথার বর্ণনায় হলভর্তি দর্শকের অনেকেই ফিরে যান একাত্তরের ৭ মার্চে, ফিরে যান একাত্তরে, ফিরে যান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে। কেউবা শেকড়ের গৌরবগাথায় বারবার শিহরিত হতে থাকেন। এমনকি এসময় অনেক দর্শক অশ্রুসজল হড়ে পড়েন। ‘বিজয় উৎসব’ কবিতার শেষ লাইনটি “শোক নয় শোক নয় হোক উৎসব” সকল শিল্পীর কণ্ঠে সমবেত উচ্চারণের মধ্যদিয়ে গীতিনৃত্যাল্লেখ্য ‘সবকটা জানালা খুলে দাও না’র পরিবেশনা শেষ করা হয় । সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেছেন শিল্পী শর্মী রহমান খান, এলিজা সাত্তার লিসা, সুমিতা দে, সোমা পাল, নুরুন্নাহার বিউটি, প্রিংকা সাহা, মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান, আব্দুল্লাহ খান তুষার এবং রহিম বাদশাহ। আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস আরা জলি, ফারহানা পলি, জয়া সাহা, জাবেদ মনির, মিজানুর রহমান প্রধান এবং আনোয়ারুল হক লাভলু । নৃত্যে অংশগ্রহণ করেছেন জারিয়া আহমেদ ,রাযিন রাইসা, মাহাদ তারিক, নিহাল মাসুদ, রাবাব আহসান, তাজমিরা তামান্না, ফারহানা ইসলাম , সাদিয়া শামস, রাকিবা আহমেদ এবং নৃত্য শিল্পী তানিয়া মানির। নৃত্যের সাথে চরিত্র রূপায়ণ করেছেন রকিবুল আনোয়ার, আসিফ আহমেদ এবং দিলরুবা কলি। সঙ্গীত পরিচালনা করেন সঙ্গীতশিল্পী শর্মী খাঁন, তবলায় সঙ্গত করেছেন- শিল্পী খশবু আলম, কিবোর্ড মিউজিকে ছিলেন মোস্তফা জামান। কোরিওগ্রাফ, নৃত্যের পোষাক পরিকল্পনা এবং নৃত্য পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নৃত্যশিল্পী এলিজা সাত্তার।

    অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আনিকা সুবাহ আহমদ উপমা এবং মিজানুর রহমান প্রধান সকল শিল্পীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং অনুষ্ঠানের নির্দেশক আনোয়ারুল হক লাভলুকে শুভেচ্ছা প্রদানের আমন্ত্রণ জানান। নির্দেশক লাভলু বক্তব্যের শেষ অংশে উল্লেখ করেন, “বৃটিশ শাসন আমল থেকে বাঙালির মুক্তির জন্য যাঁরা সংগ্রাম করেছেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে আমি মনে করি। কারন স্বাধীনতা না পেলে, স্বাধীনজাতি হিসেবে পরিচিত হতে না পেলে বাংলাদেশী বাঙালি হিসেবে পৃথিবীর বুকে কখনোই আমরা এমন প্রতিষ্ঠা পেতাম না। সেই সম্মান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই ছিল আমাদের আজকের “সবকটা জানালা খুলে দাও না” গীতিনৃত্যাল্লেখ্য’র মূল মন্ত্র”। নির্দেশকের শুভেচ্ছা বক্তব্েযর পর তুমুল করতালির মাধ্যমে দর্শকবৃন্দ শিল্পী, কলাকুশলী এবং নির্দেশক আবৃত্তিশিল্পী আনোয়ারুল হক লাভলুকে অভিনন্দিত করেন।

    বাফার প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মিজানুর রহমান প্রধানের পরিচালনায় শেষপর্বটি অর্থাৎ র‌্যাফেল ড্র আয়োজনটি অত্যন্ত আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

     

    Facebook Comments Box
  • বহুজাতিক সমাজে ইসলামিক শিক্ষাদানে এলহাম একাডেমির প্রশংসা

    বহুজাতিক সমাজে ইসলামিক শিক্ষাদানে এলহাম একাডেমির প্রশংসা

    প্রতিষ্ঠার কিছুদিনের মধ্যেই নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে প্রায় অবিশ্বাস্য গতিতে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছে শিশুদের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘এলহাম একাডেমি’। বিশ্বমানের পাঠদানের পাশাপাশি নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এলহাম একাডেমির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল বার্ষিক আয়োজন ‘ফেইথ অ্যান্ড নলেজ’।

    ১৫ ডিসেম্বর জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউর আল আকসা হলে এই মিলনমেলা বসে। অবশ্য পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল এলহাম একাডেমির শিক্ষার্থীদের ঘিরে। তারা অনুপ্রেরণামূলক বিভিন্ন ধরনের ইসলামি পারফরম্যান্সে অংশগ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন এলহাম একাডেমির কোরআন ও ইসলামিক স্টাডিজের ইন্সট্রাক্টর শেখ জুনায়েদ আহমদ। অনুষ্ঠানে শিশু শিক্ষার্থীদের সুললিত কণ্ঠের কোরআন তেলাওয়াতে মুগ্ধ হন উপস্থিত মেহমানরা। এছাড়া শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে ইসলামি সংগীতের আয়োজনে। ছিল উপস্থিত বক্তৃতা, অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ আরও অনেক কিছু। তারা ক্লাসওয়াইজ পারফরম্যান্সে অংশ নেয়, যার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় মুসলিম জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি।

    এলহাম একাডেমির শিক্ষার্থী মারিয়াম আদিবা মাসুদ মাত্র ৭ বছর বয়সেই পুরো কোরআন হেফজ করে আলোড়ন তোলেন। কীভাবে এই সাফল্য অর্জন করলো সেই অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করেছে ফেইথ অ্যান্ড নলেজ অনুষ্ঠানে। এসব বক্তৃতা ছাড়াও আরও নানা পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেটসহ পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

    ‘ফেইথ এন্ড নলেজ’ নামের অনুষ্ঠানটিতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ফাতিমা মাসুদ ও প্রচারক মস। এলহাম একাডেমির বিষয়ে জানাতে গিয়ে তারা বলেন, একটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশকে নিশ্চিত করতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও আত্মিক শিক্ষার ব্যতিক্রমী সংমিশ্রন নিয়ে হাজির হয়েছে এলহাম একাডেমি। শুধু একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব নয়, শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের ইহকাল এবং পরকাল উভয় ক্ষেত্রেই সাফল্যের সিঁড়ি মাড়াতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে পাঠ্যক্রম সাজিয়েছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ।

    অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন এলহাম একাডেমির প্রশংসা করেন। পরে নিউইয়র্ক স্টেটের সাইটেশন তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল শাহানা ওয়ালিদের হাতে। ডেভিড ওয়েপ্রিন বলেন, ইসলামি শিক্ষার আলোকে পরিচালিত হলেও এলহাম একাডেমির পরিবেশ সকল বর্ণ ও ধর্মের মানুষের জন্য সহায়ক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। নিউইয়র্ক সিটি যে মাল্টিকালচারাল আবহকে ছড়িয়ে দিতে চায়, এলহাম একাডেমিও সেটাকে ধারণ করে। এজন্য আমরা প্রতিষ্ঠানটির নেপথ্যে থাকা সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

    স্টেট গভর্নর হোকুলের মুসলিম-আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স পরিচালক মামাদৌ সিরে বাহ বলেন, বর্তমান বিশ্বে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। আবার দক্ষতা থাকলেও কোনো লাভ নেই, যদি ওই মানুষের চরিত্রে স্খলন থাকে। একটি শিশু যেন সমানতালে এই দুটোই অর্জন করতে পারে, সেই চেষ্টা করে যাক এলহাম একাডেমি-এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

    এলহাম একাডেমির শিক্ষার্থীরা কতটুকু এগিয়ে, তা বুঝা যায় ‘আই এম দ্য ফিউচার’ নামক বইয়ের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে বইটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। কেজি থেকে শুরু করে সিক্স গ্রেডের শিশু শিক্ষার্থীদের লেখা দিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে। এত ছোট ছোট শিক্ষার্থীর লেখা দেখে বিস্মিত হয়েছেন অতিথিরা। তারা এলহাম একাডেমির এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    অতিথির মধ্যে ছিলেন জ্যামাইকা মুসলিম সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. ইমরান হোসাইন, মসজিদে কোবার প্রেসিডেন্ট সেলিম খান, দারুস সালাম মসজিদের ইমাম আবদুল মুকিত, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ, বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন।

    আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, আল মামুর স্কুলের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মহসিন পাটোয়ারী, আল মামুর স্কুলের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন, দারুল হিকমাহ মসজিদের প্রেসিডেন্ট শাহাদাৎ খানও অনেকে।

    জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ফখল রুসলাম দেলোয়ার এ সময় এলহাম একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার হাত দিয়ে যে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছে, সেটা একদিন ছড়িয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। আমরা, বাংলাদেশি কমিউনিটি এমন ভালো উদ্যোগে সবসময় আপনার পাশে আছি।

    আল মামুর স্কুলের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মহসিন পাটোয়ারী বলেন, নিউইয়র্কবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটা খুবই আনন্দের ব্যাপার যে, এলহাম একাডেমির মতো একটা প্রতিষ্ঠান এখানে আছে। আশাকরি স্কুলটির কর্তৃপক্ষ নবীন শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলবে, যাতে তারা ব্যক্তিজীবনে সমস্ত খারাপ জিনিস থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।

    সাপ্তাহিক নবযুগ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর বলেন, যখন মুসলিম আমেরিকান যুবকরা তাদের পরিচয়, বিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে, তখন আমাদের সামনে আছে এলহাম একাডেমি। এই প্রতিষ্ঠান তরুণদের মধ্যে একাডেমিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অসাম্প্রদায়িক চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়, যাতে তারা আগামী প্রজন্মের মধ্যে একটি শক্তিশালী ইসলামিক পরিচয় গড়ে তুলতে পারে।

    ফেইথ অ্যান্ড নলেজ অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করতে অপরিসীম ভ’মিকা পালনকারি বিশ্বখ্যাত কারি ও দারুল ইসলাহ মসজিদ অ্যান্ড স্কুলের প্রিন্সিপাল শায়েখ ওয়ালিদ আল বেটরাইউশ বলেন, আইটিভির মাধ্যমে আমেরিকার মাটিতে কোরআনের খেদমত হচ্ছে। তাদেরই উদ্যোগে চলছে এলহাম একাডেমি। এই সমাজে আমরা যখন নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছি, তখন বাচ্চাদেরও সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তৈরি করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এলহাম একাডেমি।

    হলিস মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারের বোর্ড মেম্বার জসিম উদ্দিন বলেন, নিউইয়র্কের মতো বৈচিত্র্যময় শহরে আমাদের শিশু কিশোর ও তরুণদের গাইড করার জন্য এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান খুবই দরকার ছিল। এলহাম একাডেমি ঠিকঠাকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে আমরা আমাদের শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হতে পারবো।

    Facebook Comments Box
  • এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যা বাড়লো ৩৩ লাখ

    এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যা বাড়লো ৩৩ লাখ

    এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বেড়েছে ৩৩ লাখ। গত দুই যুগের মধ্যে কোন বছরে এটি সর্বোচ্চ বলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান দফতর জানিয়েছে। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অনেক বেশী মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার সাথে পারিবারিক কোটা-সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে গ্রীণকার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের ঘটনাকেও বৃদ্ধিতে ভ’মিকা রেখেছে বলে পরিসংখ্যান দফতর উল্লেখ করেছে। সরকারী সূত্রে আরো বলা হয়েছে, ২০০১ সালের পর এবারই ১% জনসংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটে মোট জনসংখ্যা হয়েছে ৩৪ কোটি ৫৪ লাভ। বৃদ্ধির এই ঘটনা সকল স্টেটে সমানভাবে ঘটেছে বলেও পরিসংখ্যান দফতরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ বছর আন্তর্জাতিক অভিবাসনের প্রভাব পড়েছে ৮৪%। বলা হয়েছে, এ বছর ২৮ লক্ষাধিক বিদেশী এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে অবৈধভাবে প্রবেশকারীরাও আছেন। যুদ্ধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিপতিত অঞ্চলের মানুষকে মানবিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি প্রদানের ব্যাপারটিও রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে। স্মরণ করা যেতে পারে গত বছরের শেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ছিল ৩৩ কোটি ৪৯ লাখ।

    পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহকারি প্রধান ক্রিস্টিন হ্যার্টলী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, অভিবাসন প্রক্রিয়াসহ অন্যসব সেক্টরের তথ্য সন্নিবেশনের প্রক্রিয়াকে ডিজিটাইজ করার ফলে জনসংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধির বিবরণী সহজসাধ্য হয়েছে। আর এর মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসনের প্রভাব সম্পর্কেও সম্যক একটি ধারণা পাওয়া গেছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরো উদঘাটিত হয়েছে যে, ২০২২ সালে ১৭ লাখ এবং ২০২৩ সালে ২৩ লাখ অভিবাসী যোগ হয়েছে আমেরিকার জনসংখ্যায়। এমন তথ্য অনুযায়ী জন্মের হারের সাথে অভিবাসনের পার্থক্যও স্পষ্ট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবৈধ অভিবাসীগণের প্রভাব একেবারেই হ্রাসের অভিপ্রায়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকেই ঐসব অবৈধদের গ্রেফতার করেই নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।

    Facebook Comments Box
  • জাতিসংঘ বললো গাজা এখন গোরস্থানে পরিণত

    জাতিসংঘ বললো গাজা এখন গোরস্থানে পরিণত

    গাজা এখন একটি গোরস্থানে পরিণত হয়েছে। সেখানকার জীবিতরা খাবারের জন্যে প্রতিনিয়ত আহাজারি করছে। এক টুকরো গরম অথবা বিশুদ্ধ খাবার তাদের জন্যে কল্পনার বিষয় বলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কর্মকর্তারা শুক্রবার জানিয়েছেন। উত্তর গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ/আগ্রাসনের ৭৫তম দিবসে জাতিসংঘ কর্মকর্তারা সেখানকার অবিশ্বাস্য-ভয়ংকর পরিস্থিতি জানানোর সময় আরো উল্লেখ করেন, একদিকে হাঁড় কাপানো শীত, অতিবৃষ্টি-অপরদিকে ইসরায়েলি বর্বরতা গাজার মানুষদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে। খাদ্য সংকট, চিকিৎসা ব্যবস্থার অণুপস্থিতি-পুরো উত্তর গাজাকে একটি কবরস্থান বললেও অত্যুক্তি হবে না বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘের ত্রাণ কর্মীরা।

    ফিলিস্তিনি শরনার্থীদের জন্য জাতিসংঘ সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)’র প্রতিনিধি লুইস ওয়াটারিজ বলেন, গাজাবাসীর সাথে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে তা বিশ্ব দেখার প্রয়োজন বোধ করছে না। এহেন অবস্থায় কোন মানুষ বাস করতে পারেন না। শুক্রবার সকালে প্রচন্ড ঠান্ডা আর অঝোর ধারার বৃষ্টির পর গাজার নুসেইরাত থেকে ভার্চুয়ালে কথা বলার সময় ইউএনআরডব্লিউএ’র কর্মকর্তা লুইস আরো উল্লেখ করেন, এখানকার পুরো একটি সমাজ-ব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন হয়ে কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। এখনো ২০ লাখের মানুষ আটকা পড়েছে ইসারায়েলি লাগাতার হামলার মধ্যে। তাদের পক্ষে পালিয়ে আত্মরক্ষা করাও সম্ভব হচ্ছে না। এমনি অসহনীয় পরিস্থিতিতে নিপতিত মানুষের মধ্যে খাদ্য সংকট চরমে উঠেছে। মৌলিক চাহিদার কিছুই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ ক্রমাগতভাবে সবগুলো পথ আটকে পড়া মানুষদের মৃত্যুর দিয়ে ধাবিত করছে।

    একই পরিস্থিতির আলোকপাত করে ইউনিসেফের কর্মকর্তা রোজালিয়া বোলেন জানান, ছিটমহলেও আটকে পড়া মানুষেরা দুর্ভিক্ষের শিকার। সেখানে গাজার ৯৬% এর অধিক নারী-শিশু রয়েছে। তারা নিশ্চিত মৃত্যুর পথে। ইসরায়েল হামলা বন্ধ করা সম্ভব না বলে অসহায় মানুষেরা মৃত্যুকে আলিঙ্গনে বাধ্য হবেন। আম্মান থেকে রোজালিনা বোলেন আরো জানান, গাজার সবচেয়ে উত্তরের অংশটি ৭৫দিন ধরেই অবরোধের মধ্যে। এটি ১০ সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে অবরুদ্ধ। সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতেও প্রতিনিয়ত বাধা দেয়া হচ্ছে। দুর্ভোগ শুরু শারীরিক নয়, মানসিকও—শিশুরা শীতে কাতরাচ্ছে, এমনি অবস্থায় বৃষ্টির পানিতে ভিজছে, পায়ে জুতা-স্যান্ডেলও নেই, অনেক শিশুকে দেখেছি যারা এখনো গ্রীস্মের পোশাক পরে এবং রান্নার গ্যাস চলে যাওয়ায় অনেকে আবর্জনার স্তুপের মধ্যে ময়লা ফেলার প্লাস্টিক খুঁজছে, পুড়িয়ে শীত নিবারনের চেষ্টায়।

    এর আগেরদিন বৃহস্প্রতিবার উত্তর গাজা কর্র্তৃপক্ষের একটি অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। অনুরোধটি ছিল অবরুদ্ধ এলাকায় পানি ও খাদ্য সরবরাহের। জাতিসংঘ আশা করেছিল মানবেতর পরিস্থিতিতে নিপতিতদের প্রতি ইসরায়েলিদের সদর আচরণ পাবে। কিন্তু সেটি ঘটেনি। এ অবস্থায় বেইট হ্যানোন, বেইট লেহিয়া এবং জাবারিয়ার ফিলিস্তিনিরা বেঁচে থাকার ন্যূনতম খাদ্য পাওয়া থেকেও চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছে বলে ওসিএইচএ’র কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।

     

     

     

     

    ছবির ক্যাপশন-এলহান একাডেমি-১
    এলহাম একাডেমির ‘ফেইথ অ্যান্ড নলেজ’ অনুষ্ঠানে বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শনকারি শিশুদের সাথে অতিথিরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
    ====

    Facebook Comments Box
  • ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য নথি পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল

    ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য নথি পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির জন্য সব নথি পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রেড নোটিশ জারি করার বিষয়টি নিশ্চিত করবে পুলিশ সদর দপ্তর। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে রেড নোটিশ এখনো দেখানো হয়নি।

    রবিবার (২২ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডসহ শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ করা হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

    তিনি বলেন, সারাদেশের আদালতে হওয়া মামলা আলাদাভাবে চলবে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করার জন্য কাজ করছে তদন্ত সংস্থা।

    আর ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সরকারের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বলে জানান মো. তাজুল ইসলাম।

    গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপরই পলাতক হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ও তার অবস্থান জানতে ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

    তিনি আরও বলেন, রেড নোটিশ জারির বিষয়ে প্রসিকিউশনের কাছে কোনো তথ্য নেই। এটা জানবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ হেডকোয়ার্টার।

    এর আগে গত ১০ নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখা এনসিবিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে আবেদন করেন বলেও জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

    গত ১০ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল গণমাধ্যমকে বলেন, শেখ হাসিনাসহ জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় অভিযুক্ত পলাতক সব আসামিকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট নোটিশ জারি করতে যাচ্ছে সরকার। এরপরে গত ১২ নভেম্বর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা গণহত্যা, গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এবং মামলার আসামি। তবে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন এবং বর্তমানে দেশের সীমানার বাইরে অবস্থান করছেন। এরকম একজন অপরাধীকে গ্রেফতার করতে বা তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট নোটিশ জারি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে ইন্টারপোলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    গত ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার। আর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এর আগে চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য, পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর শেখ হাসিনার বিষয়ে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন আদালত।

    Facebook Comments Box
  • হাসান আরিফের দাফন শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

    হাসান আরিফের দাফন শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

    অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমি এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের মরদেহ মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আপাতত হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে মরদেহ। ২৩ ডিসেম্বর (সোমবার) মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তবে সময় এখনও নির্ধারিত না।

    শনিবার (২১ ডিসেম্বর) প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে হাইকোর্ট এবং সচিবালয়ে। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা বলেছেন, কর্মজীবনে হাসান ছিলেন একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি। ন্যায়ের প্রশ্নে তিনি ছিলেন অবিচল।

    আজ সকালে দীর্ঘ ৫৫ বছরে আইন পেশার সমাপ্তি টেনে শেষবারের মতো সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে আসা হয় সিনিয়র আইনজীবী, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের মরদেহ। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা বর্ষীয়ান এই আইনজীবীরা জানাজায় হাজির হন।

    হাইকোর্টে সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ অনুষ্ঠিত হয় তার দ্বিতীয় জানাজা। জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা ও তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। এছাড়া সরকারের উপদেষ্টা, প্রধান নির্বাচন কমিশনসহ আইনজীবীরাও অংশ নেন।

    জানাজা শেষে তার কফিনে ফুলের শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিরা। এরপর শ্রদ্ধা জানানো হয় আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে।

    এসময় তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন নিরহংকার আর সাদা মনের মানুষ।

    সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, যাকে হারিয়েছি তিনি সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ওনাকে হারানোয় বারে (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি) একটা শূন্যতা সৃষ্টি হবে। যারা চিনতেন তারা ভালা বন্ধু এবং অভিজ্ঞ আইনজীবী বন্ধুকে হারিয়েছেন। এ রকম লোক এক জনের পর এক জন আমরা হারাচ্ছি, যেটা খালি হচ্ছে সেটাকে পূরণ করা যাচ্ছে না।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন আইনের পণ্ডিত। তার মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের জন্য তিনি নীরবে কাজ করে গেছেন।

    সিনিয়র আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেন, হাসান আরিফের কাজ কর্ম নতুন আইনজীবীদের কাছে অনুকরণীয় হবার মতো। তার মৃত্যু আইন অঙ্গনে বিশাল একটি শূন্যতা তৈরি হবে।

    হাসান আরিফ প্রতিভাবান একজন মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, তিনি একজন বিশ্বাসযোগ্য সরল মানুষ ছিলেন। তার সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে নি। আইন অঙ্গনে তার কর্মকাণ্ড রেফারেন্স হিসেবে থাকবে।

    সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের হাসান আরিফের দ্বিতীয় জানাজার শেষে বেলা ১২টার দিকে সিনিয়র আইনজীবী ও অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সচিবালয়ে। এতে অংশ নেন সচিবসহ কর্মকর্তারা।

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এসময় বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সাথে নতুনভাবে দেশ গড়ার কাজ করছিলেন। তার চলে যাওয়া অভিজ্ঞতার একটা শূন্য জায়গা তৈরি হলো।

    আগামী ২৩ তারিখ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে উপদেষ্টা হাসান আরিফের মরদেহ দাফন করা হবে।

    জানাজায় স্মৃতিচারণ করেন এ এফ হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফ ও তার জুনিয়র অ্যাডভোকেট আশিক আল জলিল।

    শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল রাজধানী একটি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হাসান আরিফ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

    হাসান আরিফ ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন।

    এরপর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ৯ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান। একই বছরের ২৭ আগস্ট তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান।

    ১৯৪১ সালের ১০ জুলাই হাসান আরিফ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক এবং পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি সম্পন্ন করেন।

    তিনি কলকাতা হাইকোর্টে ১৯৬৭ সালে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ঢাকায় এসে বাংলাদেশ হাইকোর্টে কাজ শুরু করেন। ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

    Facebook Comments Box
  • গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা প্রকাশ

    গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা প্রকাশ

    জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল।

    শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সেলের দলনেতা অতিরিক্ত সচিব খন্দকার জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে শহীদ বা আহত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ৬৪টি জেলায় গঠিত জেলা কমিটি এবং গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    এরই অংশ হিসেবে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ওয়েবসাইটে (https://musc.portal.gov.bd) প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের উল্লিখিত খসড়া তালিকা দুটি আগামী ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    এতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায়, প্রকাশিত খসড়া তালিকা দুটিতে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি যাচাই অথবা সংশোধন অথবা চূড়ান্ত করতে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য অথবা ওয়ারিশ অথবা প্রতিনিধিদের মতামত প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।

    এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত তালিকার বিষয়ে কারো কোনো মতামত অথবা পরামর্শ থাকলে অথবা সংযোজন অথবা বিয়োজন করার মতো যুক্তিসংগত কোনো তথ্য থাকলে তা আগামী ২৩ ডিসেম্বর মধ্যে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ইমেইলে (muspecialcell36@gmail.com) অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

     

    Facebook Comments Box