বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেআইনী পথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার সময় সীমান্ত রক্ষী কর্তৃক গ্রেফতার হওয়া বিদেশীরা প্যারলে মুক্তির জন্যে এক হাজার ডলারের ফি ধার্য করলো ট্রাম্প প্রশাসন। ১৬ অক্টোবর কার্যকর হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নয়া এই রীতি। উল্লেখ্য, এই ফি দিতে হবে ইমিগ্রেশন জজ কর্তৃক আইএনএ সেকশন (২১২ (ডি)(৫)(এ) অনুযায়ী প্যারলের অনুমোদন দেয়ার পর। আরো উল্লেখ্য, ফি আদায়ের কোন বিধি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে ছিল না মানবিকতার স্বার্থে। আরো অনেককিছুর মতো বাইডেনের এই ব্যবস্থাটিকেও পাল্টে দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যা নিয়ে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে। নিজ দেশে যারা নিগৃহিত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছিলেন, তাদেরই একটি অংশ রিক্ত হস্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন। তারা কোথায় পাবেন এই এক হাজার ডলার-এমন প্রশ্ন উঠেছে। স্মরণ করা যেতে পারে, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে ক্ষমতা গ্রহনের দিন থেকেই অভিবাসন-বিরোধী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। প্যারলে মুক্তির ব্যাপারটি এতদিন ছিল অকল্পনীয়। এ অবস্থায় হাজার ডলারের ফি ধার্যের ব্যাপারটি কারো কারোর জন্যে স্বস্তির সংবাদ হলেও ফি ধার্যের সংবাদে অধিকাংশই হতাশ। কারণ, যাদের আত্মীয়-স্বজন যুক্তরাষ্ট্রে নেই, তারা কোথায় পাবেন এক হাজার ডলার?
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রতিমন্ত্রী ত্রিসিয়া ম্যাকলোলিন এ প্রসঙ্গে বলেন, অভিবাসন দপ্তরের বিদ্যমান আইনের অপপ্রয়োগ যাতে না হয় সেজন্যেই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। যারা যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা নিতে চান তাদেরকেও এখোন থেকেই ট্যাক্সের মত প্রক্রিয়ার হিস্যা হতে হবে। এই মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক পদস্থ কর্মকর্তা মর্গ্যান বেইলি উল্লেখ করেছেন, গত ৪ জুলাই ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ কংগ্রেসে পাস হয়েছে। সেখানেই এই হাজার ডলার ফি ধার্যের প্রসঙ্গ রয়েছে। এবং শুধু অভিবাসীরাই নন, অন্য যে কোন মামলায় প্যারল পেতে নগদ এক হাজার ডলারের ফি দিতে হবে।
এদিকে, অবৈধ অভিবাসী ধর-পাকড়ের পরিধি অবিশ্বাস্যরকমভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কম্যুনিটি সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েছে। ১৭ অক্টোবর বিশ্বখ্যাত নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কোয়ারে গ্রেফতারের অভিযান চালানো হয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়েছে যেন জঙ্গি-বিরোধী অভিযান চলছে। এরও দুদিন আগে বস্টনের অলি-গলিতে চালানো অভিযানে দেড় হাজারের অধিক অভিবাসীকে গ্রেফতার হয়েছে। এর আগেই জানানো হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাস ১০ দিনে ২০ লাখের অধিক অভিবাসীকে গ্রেফতারের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীগণের মধ্যে যারা গুরুতর অপরাধী তারাই হবেন গ্রেফতারের টার্গেট-এমন অঙ্গিকার করা হলেও বাস্তবে ঘটছে একেবারেই উল্টো। এমনকি অনেক গ্রীণকার্ডধারীকেও গ্রেফতারের পর বহিস্কারের সংবাদ পাওয়া গেছে।
এদিকে, অভিবাসী সমাজে সর্বশেষ আতংক তৈরী হয়েছে সিটিজেনশিপ প্রদানের প্রক্রিয়ায়। গ্রীণকার্ড পাবার ৫ বছর পর সিটিজেনশিপের আবেদন করতে হয়। এটি হচ্ছে বিধি। এখনো একইবিধি কার্যকর থাকলেও আবেদনকারি কীভাবে গ্রীণকার্ড পেয়েছেন সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রীণকার্ডের আবেদনের সময় কিংবা এসাইলাম প্রার্থনার সময় কোন মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন কিনা অথবা কোন তথ্য গোপন করেছেন কিনা সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Posted ৪:৫৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর