নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
রবিবার, ০৩ আগস্ট ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে অসীম সাহা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে পিঠার রূপ, রস ও তাৎপর্যকে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি বহুজাতিক সমাজে বাঙালি সংস্কৃতির ফল্গুধারা প্রবাহিত রাখার অভিপ্রায়ে নিউইয়র্কে ৩দিনের আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে’ অংশগ্রহণকারি সকল কবি-সাহিত্যিক-লেখক-সাংবাদিক-পেশাজীবীগণকে উজ্জীবিতমূলক বক্তব্য দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন অসীম সাহা। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জীবনধর্মী নাট্যচর্চা এবং গণমুখী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অভিযাত্রা আলোকে স্মৃতিচারণি বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কে বসবাসরত সাংস্কৃতিক সংগঠক অসীম সাহা। উল্লেখ্য, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার প্রত্যয়ে বেঙ্গলি ইন্টারন্যাশনাল লিটারেসি সোসাইটি (বিলস)’র উদ্যোগে ২৫, ২৬ ও ২৭ জুলাই নিউইয়র্ক স্টেটের রকল্যান্ডে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ‘থ্রিফোল্ড কম্যুনিটি’তে অনুষ্ঠিত হয় ‘আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন’। এ সমাবেশ রূপ নেয় বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক প্রাণবন্ত উৎসবে। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘পিঠা’। একে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে নানা আয়োজন। ২৫ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যায় উৎসবের সূচনা হয় স্বেচ্ছাসেবক ও পৃষ্ঠপোষকদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা ও নৈশভোজের মাধ্যমে।
২৬ জুলাই সকাল থেকে শুরু হয় মূল কর্মসূচি। প্রকৃতি নির্ভর সেশনের মধ্যে ছিল ফিটনেস ও যোগচর্চা, বনভ্রমণ ও সাঁতার। বিকেল ৩টায় শুরু হয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্বাগত বক্তব্য দেন হোস্ট সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি ড. ধনঞ্জয় সাহা। উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ‘দাস ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান শান্তনু দাস।
প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনুবাদক ও সাহিত্যিক ক্যারোলিন রাইট। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন বিদ্যা মুরালি ধর, মাদালসা মোবিলি, কবি-কলামিস্ট ফকির ইলিয়াস, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, ও ফেরদৌস খান।
উৎসবের এক অনন্য পরিবেশনায় আমেরিকান সংগীতদল ‘মিউ’ পরিবেশন করে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত এবং বাংলা ও ইংরেজিতে রবীন্দ্রসংগীত। অংশ নেয় রকল্যান্ড পয়েটস এবং ইন্ডিভার ২১+ এর অটিস্টিক তরুণ-তরুণী, যারা পরিবেশন করে নিজেদের লেখা সংগীত ও শিল্পকর্ম।
পিঠা বিষয়ে আলোচনায় বঙ্গীয় ও আমেরিকান খাদ্য-সংস্কৃতির মিল-অমিল তুলে ধরেন টিটানিয়া গুপ্তা ও ড্যানিয়েল কার্টার। আর্ট থেরাপি ও মন্ডলা তৈরির মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি এবং সৃষ্টিশীলতার চর্চা দেখান জেনেট রদ্রিগাস ও দাফনা স্টার্ন।
নৈশভোজের পর পরিবেশিত হয় সংগীত, নৃত্য, কবিতা ও শ্রুতি-নাটক। সংগীত পরিবেশন করেন অনামিকা সাহা ও আমেরিকান গ্রুপ ডীপ পিস মিউজিক। শ্রুতি নাটক পরিবেশন করে অনুপ্রাস গ্রুপ।
২৭ জুলাই সকালে লেখালেখি ও প্রকাশনা বিষয়ক সেশনে দক্ষিণ ক্যারোলিনা থেকে জুমে যুক্ত হন হাওয়ার্ড র্যাঙ্কিন। আলোচনা করেন রকল্যান্ডের কবি লরেট হুয়ান পাবলো মোবিলি। তিনি কবিতা ও পিঠা প্রস্তুতকারকের মানসিক সৃজনশীলতার মিল নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিষয়ক সেশনে যুক্ত হন স্টিফেন ওয়াটস ও ডেভিড লি মরগান। তাঁরা লন্ডন থেকে জুমে অংশ নিয়ে নজরুলের বিদ্রোহী ও নারী কবিতার ইংরেজি অনুবাদ পাঠ করেন। দুপুরে শুরু হয় সৃজনশীল লেখালেখি প্রতিযোগিতা, যেখানে অংশ নেয় ২৪ জন কবি ও লেখক। ইংরেজি বিভাগে প্রথম হন বন্নি এ মানাচাস, সম্মানজনক স্বীকৃতি পান বনেশা মুখার্জি।
এরপর নৃত্য পরিবেশন করে আড্ডা ড্যান্স একাডেমির শিশুশিল্পীরা। পরিচালনায় ছিলেন আল্পনা গুহ ও সুমিত্রা সেন। কোরাস ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন বহ্নিশিখা ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও সঙ্গীত পরিচালক সবিতা দাস। আবৃত্তি করেন তাপস সাহা, বনানী সিনহা ও সুমিত্রা সেন।
অনুষ্ঠানে ছিলেন কলামিস্ট শিতাংশু গুহ, ডেমোক্রেটিক দলের ডিস্ট্রিক্ট লিডার ও লেখক দিলীপ নাথ, লেখিকা দীপা নাথ, সঙ্গীতশিল্পী গোপা পাল মুক্তা, উদীচী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ, জ্যামাইকা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিরো চৌধুরী, প্রজ্ঞা ফাউন্ডেশনের সিইও ও সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, ফটোগ্রাফার সৌমেন বিশ্বাসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। গত বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বনী মুখার্জি। জীবনব্যাপী বাংলা সাহিত্যচর্চায় অবদানের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয় ক্যারোলিন রাইটকে। উৎসব শেষ হয় বারবিকিউ পার্টি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে রাত ১১টায়।
Posted ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৩ আগস্ট ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর