আবারো আসছে ট্রাম্পের ‘ট্র্যাভেল ব্যান’

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
শনিবার, ০৮ মার্চ ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

আবারো আসছে ট্রাম্পের ‘ট্র্যাভেল ব্যান’

মুসলিম এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশসহ ১০ দেশের সাথে আফগানিস্তান জুড়ে দিয়ে আবারো ‘ট্র্যাভেল ব্যান’র আদেশ জারির চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে কিউবা, ইরান, লিবিয়া, নর্থ কোরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদেও বহুল বিতর্কিত এ আদেশ জারি করেছিলেন। হোয়াইট হাউজের উদ্ধৃতি দিয়ে শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে যে, তালিকাটি আরো দীর্ঘ হতে পারে। পররাষ্ট্র দফতরের কাছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, বার্মাসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরো কটি দেশের ব্যাপারে মতামত চাওয়া হয়েছে বলে স্টেট ডিপাার্টমেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিচার বিভাগ, জাতীয় নিরাপত্তা ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীকে ৬০ দিনের সময় দিয়ে এমন অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তাদেরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী তালিকাটি চুলচেরা বিশ্লেষণের পর ছোট করে পাঠাবেন হোয়াইট হাউজে। সে অনুযায়ী আর দু’সপ্তাহ অর্থাৎ ২১ মার্চ ‘ট্র্যাভেল ব্যান’র এই আদেশ আসতে পারে। এরফলে ‘লাল তালিকা’ভুক্ত দেশসমূহের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা কঠিন হয়ে পড়বে। ট্যুরিস্ট, বিজনেস ভিসা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসবে। যারা ইমিগ্রেশন ভিসার অপেক্ষায় আছেন, তারাও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন। অর্থাৎ উচ্চ শিক্ষিত অথবা দক্ষতাসম্পন্নরাই ভিসার যোগ্য হবেন। ইতিমধ্যেই যারা ট্যুরিস্ট ভিসা বা বিজনেস ভিসা পেয়েছেন তারা যদি নির্দেশ জারির আগে যুক্তরাষ্ট্রে না আসেন তবে সেই ভিসা বাতিলের আশংকা প্রবল হতে পারে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে আভাস দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউজের সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে যে, ‘ট্র্যাভেল ব্যান’র আওতাভুক্ত দেশের বাইরেও বেশ কয়েক ডজন রাষ্ট্রকে ‘অরেঞ্জ’ এবং ‘ইয়েলো’ ক্যাটাগরিতে রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ এসব দেশের নাগরিকরাও বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী ভিসা পাবেন না। তাদেরকে ভিসা পেতে অপেক্ষা করতে হবে ওয়াশিংটন ডিসি কর্র্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পাওয়া পর্যন্ত।

জানা গেছে, ট্র্যাভেল ব্যান’র ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের তালিকা নির্বাহী দফতরের মতামত চেয়ে বিতরণ করেছে হোয়াইট হাউজ। এটি হচ্ছে ‘রেড লিস্ট’ এবং চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এসব দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবেন না। এদিকে, তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় যেসব আফগান মার্কিন বাহিনীর পক্ষে ছিলেন তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্বেরত অলাভজনক সংস্থার প্রধান শাউন ভ্যানডিভার বুধবার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, আফগানিস্থানও রয়েছে ট্রাম্পের ট্র্যাভেল ব্যান’র আওতায়। তাই যাদের ভিসা রয়েছে তারা যেন দ্রততম সময়ে চলে আসেন।

অপরদিকে ‘অরেঞ্জ’ গ্রুপের দেশসমূহের নাগরিকদের জন্যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হবে না। কেবলমাত্র ব্যবসায়ীরা ভিসা পাবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে আসা যাওয়া করতে পারবেন। তবে বেশীদিন থাকতে পারবেন না। এ গ্রুপের দেশসমূহের নাগরিকেরা ইমিগ্র্যান্ট কিংবা ট্যুরিস্ট ভিসার জন্যে অযোগ্য হবেন। ভিসার জন্যে এসব দেশের নাগরিকদের দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ইন্টারভিউ দিতে হবে।

তৃতীয় গ্রুপটি হচ্ছে ‘ইয়েলো’। এ গ্রুপকে ৬০ দিন সময় দেয়া হতে পারে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত না হবার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো সম্পন্নের জন্যে। এরমধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া যাত্রীর বিস্তারিত তথ্য ফ্লাইট ছাড়ার আগেই ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। পাসপোর্ট ইস্যুতে যথাযথভাবে সতর্কতা অবলম্বন, যাতে ভিনদেশী সন্ত্রাসীরা পাসপোর্ট না পায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধ দেশের নাগরিকেরা যাতে ইয়েলো ক্যাটাগরির দেশের পাসপোর্ট বানাতে না পারে।
ট্র্যাভেল ব্যান কার্যকর হলে কী ধরনের ভিসাধারির যুক্তরাষ্ট্রে আসা পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে অথবা আপনা-আপনি ভিসা বাতিল বলে গণ্য হবে- এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস অফিস জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সুসংহত করতে ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা বদ্ধপরিকর। জননিরাপত্তার প্রশ্নে ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়ায় তা যথাযথভাবে মেনে চলতে আমরা বদ্ধ পরিকর।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, প্রথম মেয়াদে অর্থাৎ ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রসমূহের নাগরিকদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। সেখানে ছিল না বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান। এরপর সে তালিকায় যুক্ত করা হয় স্বল্প আয়ের কটি দেশসহ আফ্রিকাকে। সে সময় এধরনের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সারা আমেরিকায় প্রধান প্রধান এয়ারপোর্টে ঘেরাও, বিক্ষোভ হয়েছে। আইনী লড়াইয়ে অবশ্য ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা জয়ী হয়েছিল। পরবর্তিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই আদেশ উঠিয়ে নিয়েছেন। এবারও তুমুল বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছে মুসলিম আমেরিকানদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স’ এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা। তারা জানিয়েছেন, বিনা চ্যালেঞ্জে ট্রাম্পকে এ মেয়াদেও বিশেষ জাতিগোষ্ঠির লোকজনকে অযথা অপবাদ দেয়ার মত কান্ড করতে দেয়া হবে না।

Facebook Comments Box

Posted ২:৪৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৮ মার্চ ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us