কিছু উপদেষ্টা ও দলের সুর কিছুটা ভিন্ন: তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

কিছু উপদেষ্টা ও দলের সুর কিছুটা ভিন্ন: তারেক রহমান

ছবি সংগৃহীত

নির্বাচন ইস্যুতে কোনো কোনো উপদেষ্টা এবং দুই-একটি রাজনৈতিক দল ভিন্ন সুরে কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, বন্দোবস্তের নামে ভিন্ন সুরে কথা বললে জনগণের মনে প্রশ্ন দেখা দেবে, সুযোগ নেবে পরাজিত শক্তি। চরমপন্থা ও উগ্র ধর্মীয় মতবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে গণতন্ত্রের কবর রচনা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কার আর নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে যখন নানা মেরুকরণ, এমনই এক সময়ে এক ছাদের নীচে এলো দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল।

রাজনীতিবিদদের সম্মানে বিএনপির এই ইফতার মাহফিলে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া প্রায় সব দল মিলে এক মিলনমেলার সৃষ্টি হয় রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে।

অনুষ্ঠানের মধ্যমনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তাই ঐক্য অটুট রাখতে হবে।

সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর দরকার নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশের সঙ্কট যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সেটি সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিতে হবে।

সম্প্রতি হঠাৎ করেই অতীতের মতো দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে মন্তব্য করে তারেক বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের নিরাপত্তাহীন রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। সরকার, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি কিংবা অন্য কোনো কাজে হয়তো বেশি মনোযোগী থাকার কারণে, আমাদের নারীরা নিরাপত্তা সঙ্কটে পড়েছে কিনা, এ বিষয়টি গভীরভাবে ভাবার প্রয়োজন আছে।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের অনেকের সঙ্গেই পরামর্শ করেই রাষ্ট্র রাজনীতি মেরামতের লক্ষে আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের সামনে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি উপস্থাপন করেছিল। ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে বিএনপি সারাদেশে বিভিন্ন স্তরের জনগণের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রেখেছে।

তবে আমরা আগেও বলেছি আজও আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই যে, এই ৩১ দফাই চূড়ান্ত নয়। এই ৩১ দফাতেও প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। বিএনপিসহ প্রতিটি রাজনৈতিক দল মনে করে সংস্কার ও নির্বাচন উভয়টি প্রয়োজন।

এসময় নির্বাচন না দেওয়ার কারণেই ফ্যাসিস্টদের চরমভাবে বিদায় হয়েছে বলেও স্মরণ করিয়ে দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দলের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতের সংস্কার প্রস্তাবগুলো ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পৌঁছে গেছে। আমি অনুরোধ করবো, এগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে মতামত দেওয়ার, যাতে সবাইকে নিয়ে সামনের পথ এগোতে পারি।

ঐক্যের প্রতি জোর দিয়ে ফখরুল বলেন, এই মুহূর্তে ঐক্য অত্যন্ত প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো নিরসন করা।

গণতন্ত্রের পথে যাওয়ার বিকল্প নেই জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দ্রুত নির্বাচনের কথা পরিষ্কারভাবে বলছি। কারণ জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে।

বিএনপির ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূরসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

Facebook Comments Box

Posted ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us