লাবলু আনসার
প্রিন্ট
শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ সোসাইটির সংবাদ সম্মেলনে ডা. ওয়াদুদ ভ’ইয়া। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
নিউইয়র্ক অঞ্চলে বাংলাদেশীদের মধ্যে সততা-নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে যারা অনন্য স্বাক্ষর রাখছেন তাদের অন্যতম হলেন ডা. ওয়াদুদ ভ’ইয়া। বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতিগণের মধ্যেও তার খ্যাতি অনেক। ১৯৮৩-১৯৮৪ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৩-১৯৯৪ মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ওয়াদুদ ভ’ইয়া। অতি সম্প্রতি সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তাগণের পুনর্মিলনী সমাবেশের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সাদা মনের মানুষ বলেই কম্যুনিটির নেতৃস্থানীয় (?) অনেকের সত্যিকারের চেহারার সাথে তিনি পরিচিত নন। তেমনি অবস্থার প্রতিফলন ঘটেছিল ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সোসাইটির সংবাদ সম্মেলনে। সংগঠনটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গৃহিত কর্মসূচি নিয়ে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, বাংলাদেশ সোসাইটির অর্থে যে ভবন ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে সেই ভবনের মালিকানা দলিল কার নামে হবে? এর জবাব দিয়েছেন সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম এবং বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ। তারা জানিয়েছেন যে, সবকিছু মিলিয়ে সোসাইটির নামেই দলিল হবে। বিষয়টি নিয়ে আর কেউ প্রশ্নের অবতারণা করেননি। সবকিছু ঠিকমতোই এগুচ্ছিল। একেবারেই শেষ লগ্নে শুভেচ্ছা বক্তব্যের সুযোগ পেয়ে ডা. ওয়াদুদ ভ’ইয়া উপরোক্ত প্রশ্নটিতে স্ংাবাদিকতার পরিচয় মেলে না বলে মন্তব্য করেন। সোসাইটির অর্থে বাড়ি ক্রয় করা হবে এবং সেই দলিল কার নামে হবে-এমন প্রশ্নের কোন অবকাশ থাকতে পারে কি? এমন বক্তব্যের পরই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন কয়েকজন সাংবাদিক। তীব্র ভাষায় আপত্তি জানিয়ে বক্তব্যটি প্রত্যাহারের দাবি উঠে, ক্ষমা প্রার্থনার আহবানও জানানো হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব ওয়াদুদ ভ’ইয়া মাইক ছেড়ে দেন। বাদানুবাদের মধ্যে আমি ওয়াদুদ ভ’ইয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে উল্লেখ করি যে, গাউসিয়া মসজিদের মুসল্লীগণের চাঁদার অর্থে ক্রয় করা বাড়ির দলিল করেছিলেন গাউসিয়া মসজিদের ইমাম জালাল সিদ্দিকী। ক’বছর পর সেই মসজিদের ভবনটি বিক্রি করে জালাল সিদ্দিক পালিয়ে দেশে চলে গেছেন। এর আগে চট্টগ্রাম সমিতির সদস্যগণের চাঁদায় কেনা বাড়ির মালিকানা দলিল করা হয়েছিল ‘সেই প্রকল্প কমিটির সভাপতি ফজলুল কাদের’র নামে। বিষয়টি জানাজানি হলে মামলার উদ্ভব হয় এবং এক পর্যায়ে সেই দলিল চট্টগ্রাম সমিতির নামে করতে বাধ্য হয়েছেন ফজলুল কাদের। অতি সম্প্রতি জালালাবাদ এসোসিয়েশনের তহবিলে ক্রয় করা হয় একটি বাড়ি। সেটির মালিকানায় এমন একটি সংগঠনের নাম রয়েছে-যেটি মইনুল ইসলামের মালিকানাধীন এবং রাতারাতি গজিয়ে উঠা একটি সংগঠন। অর্থাৎ প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে তা আদালতে গেছে। শীঘ্রই এহেন অপকর্মের ব্যাপারে বিচারিক সিদ্ধান্ত আসবে বলে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সেক্রেটারি জানিয়েছেন। এ ধরনের অনেক ঘটনাই ঘটেছে বেশ কটি সংগঠন/মসজিদ/মন্দিরের ভবন ক্রয়ের সময়। সর্বশেষ আরেকটি ঘটনা ঘটেছে কবর ক্রয়ের নামে। গত ১৬ ডিসেম্বর এই বাংলাদেশ সোসাইটির বিদায়ী কমিটি আড়াই লাখ ডলারের চেক দিয়েছেন কবরের জায়গা ক্রয়ের জন্যে। ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনে এত বড় অংকের চেক ইস্যুর এখতিয়ার নেই বিদায়ী কমিটির। আর এই চেকটি যারা গ্রহণ করেছেন তারা বিদায়ী কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তাগণের খুবই ঘনিষ্ঠ এবং পরবর্তীতে উদঘাটিত হয়েছে যে, বিদায়ী কমিটির সভাপতি মো. রব মিয়া এবং সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিদ্দিকী কথিত ঐ কবরের জন্যে গঠিত কমিটির সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আরো উদঘাটিত হয়েছে যে, লাখ কবরের জায়গা ক্রয়ের নামে যে দলিল সম্পাদিত হয়েছে সেটিও ১৬ ডিসেম্বরেই অর্থাৎ কৈ-এর তেল দিয়ে কৈ ভাজার চেষ্টা। বাংলাদেশ সোসাইটি সেই কবরের (?)জায়গা পাবে না এবং সার্টিফাইড চেকটি অন্যায়ভাবে ইস্যু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হবার পরই কথিত কবর ক্রয়ের প্রকল্পের নিকট চিঠি দিয়েছে অবিলম্বে সমুদয় অর্থ ফিরিয়ে দিতে। দেই দিচ্ছি বলে ইতিমধ্যেই ৪/৫ মাস অতিবাহিত হয়েছে। অথচ কবর ক্রয়ের সাথে জড়িতরা ঢাক-ঢোল পিটিয়েছিলেন যে জুলাই মাসের মধ্যে কবর বুঝিয়ে দেয়া হবে। সেপ্টেম্বর অতিবাতি হচ্ছে কেউই কবরের জায়গা বুঝে পাননি। জানা গেছে, এই কবরস্থানের বেশ কয়েক হাজার কবরের জায়গা ক্রয়ের জন্যে বেশ কটি সামাজিক-আঞ্চলিক সংগঠন নগদ অর্থ প্রদান করেছে। এখোন তারা হতাশ বলে শোনা যাচ্ছে। স্মরণ করা যেতে, ২৫/২৬ বছর আগে ‘জমজম কর্পোরেশন’ নামক একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল এবং কবরের শতশত জায়গা বিক্রির টোপ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে জমজম কর্পোরেশনটি হায় হায় কোম্পানীর পরিচিতি পেয়েছে। মসজিদ/মন্দিরের নামে কিছু মানুষের অপকর্মে কবরের জায়গা ক্রয়ের মত স্পর্শকাতর বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াদুদ ভ’ইয়া অবহিত হবার চেষ্টা করছেন কিনা জানা যায়নি। তবে বাংলাদেশ সোসাইটির অর্থ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করছে তাদেরকে শুধু চিহ্নিত করা নয়, আইনে সোপর্দ করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরী।
বাংলাদেশ সোসাইটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে এমন কিছু লোককে মঞ্চে বসানো হচ্ছে যারা দন্ডিত অপরাধী। কম্যুনিটির সহজ সরল মানুষের সাথে এরা প্রতারণা করেছিল। এখনো তা অব্যাহত রাখার সুযোগ পাচ্ছে অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসার সুযোগ পেয়েছে। ওয়াদুদ ভ’ইয়া এবং তার মত সাদামনের মানুষদের দায়িত্ব অপরিসীম এসব দুষ্ট লোকদের বিচারে সোপর্দ করতে। অন্তত: বাংলাদেশ সোসাইটির মত সর্বজনীন একটি সংগঠনে এরা পাত্তা পাওয়া উচিত নয়। তাহলেই কম্যুনিটি অনেক অপকর্মের ছোবল থেকে রক্ষা পাবে। পকেটের অর্থে সদস্য বানিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্বে যারা অধিষ্ঠিত হচ্ছেন তাদেরও সজাগ থাকা উচিত দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে। তা না হলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। ৫০ বছরের ভাল-মন্দের বিচার বিশ্লেষণের মধ্যদিয়েই বাংলাদেশ সোসাইটি নবউদ্যমে সম্মুখে এগুতে পারবে বলে সুধীজনের প্রত্যাশা। নিউইয়র্ক বাংলাদেশীদের নিজস্ব একটি কম্যুনিটি সেন্টারের অঙ্গিকার এর আগে অনেকে করেছেন। কেউই তা প্রতিপালনে আন্তরিক কোন পদক্ষেপ নেননি। সে আলোকে বর্তমান কমিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ তার অঙ্গিকার প্রতিপালনে সততার স্বাক্ষর রাখবেন-এ প্রত্যাশা সকলের। আর এর মধ্যদিয়েই ৫০ বছরের পুরনো এই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা সকলে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন এবং সামনের নির্বাচনে গাইটের অর্থে ভোটার বানিয়ে নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হবার নাটক মঞ্চায়নের দরকার হবে না।
Posted ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর