বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ০৭ আগস্ট ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
পারিবারিক কোটা এবং শিশুকালে মা-বাবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আগত অবৈধ অভিবাসীগণকে (ড্যাকা প্রোগামের আওতায়) গ্রীণকার্ড প্রদানের ধীরগতি কাটিয়ে উঠানোর অভিপ্রায়ে রিপাবলিকান ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির যৌথ উদ্যোগে ‘ডিগনিটি অ্যাক্ট অব ২০২৫’ নামে একটি বিল (এইচআর ৪৩৯৩) উত্থাপন করা হয়েছে কংগ্রেসে। ১৫ জুলাই ফ্লোরিডার কংগ্রেসওম্যান মারিয়া ইলভিরা সালাজার (রিপাবলিকান) এবং টেক্সাসের কংগ্রেসওম্যান ভেরনিকা ইস্কোবার (ডেমক্র্যাট) উত্থাপিত বিলটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, জুডিশিয়ারি কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সাব কমিটিতে প্রেরণ করা হয়েছে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্যে। জানা গেছে, পারিবারিক কোটায় স্বজনের জন্যে গ্রীণকার্ডের আবেদনের পর ১০ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হয়েছে-এমন আবেদনগুলো ত্বরান্বিত করতে এ বিলের গুরুত্ব অপরিসীম। ভারত, চীন, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ভিসা ক্যাটাগরিতে ধীরগতি সবচেয়ে বেশী বলে জানা গেছে। এছাড়া, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের আবেদনের প্রসেসিংয়েও বিলম্ব ঘটছে অনেকে দেশে। এহেন ব্যাকলগ কাটিয়ে উঠতে এই বিলকে সময়ের প্রয়োজনে খুবই উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করছেন আমেরিকানরাও। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-বিরোধী সাড়াশী অভিযানে ক্ষত-বিক্ষত কম্যুনিটিতে নিকটাত্মীয়গণের স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্টের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হলে স্বস্তির আবহ তৈরী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, করোনাকালিন সময়ের লকডাউনে ইমিগ্র্যান্ট-ভিসা প্রসেসিং থমকে দাড়িয়েছিল। এরপর পুনরায় চালু করা হলেও ব্যাকলগ কাটিয়ে উঠার মত জনবল নিয়োগ দূরের কথা অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা অজুহাতে কন্স্যুলার সার্ভিস এবং অভিবাসন দফতরকে সংকুচিত করা হয়েছে। এরফলে বার্ষিক গড়ে ১০ লক্ষাধিক আবেদনের প্রসেসিং ব্যাকলগের ভিকটিম হয়েছে। পারিবারিক কোটায় আবেদনগুলোর যাবতীয় প্রক্রিয়া অবলম্বনের পর ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ঝুলে রয়েছে ভিসার ইন্টারভিউয়ের তারিখের জন্যে। এই বিল আইনে পরিণত হলে এমন ব্যাকলগ ১০ বছর কমিয়ে আনার পথ সুগম হবে বলে উত্থাপনকারি কংগ্রেসম্যানদ্বয় জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে কোন কোন ক্যাটাগরির ভিসা ইন্টারভিউ ত্বরান্বিত করতে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফি ধার্য করার প্রস্তাব রয়েছে এই বিলে। বিলটি পাশ হলে বর্তমানের স্থবিরতা/ব্যাকলগ ১৫% কাটিয়ে উঠবে স্বল্পতম সময়ে। সরকারী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে অর্থাৎ করোনা থেকে জেগে উঠার পরিক্রমায় ১১ লাখ ৭০ হাজার গ্রীণকার্ড ইস্যু করা হয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে। আগের বছরের তুলনায় তা ১৫.২% বেশী। এরমধ্যে ৬৪.৬% ছিল পারিবারিক কোটায়। কর্মসূত্রে গ্রীণকার্ড ইস্যুর হার ছিল ১৬.৭%।
বিল উত্থাপনকারি কংগ্রেসওম্যান মারিয়া ইলভিরা সালাজার বিল প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘দ্য ডিগনিটি অ্যাক্ট বিলটি হচ্ছে বিরাজমান অভিবাসন সমস্যার সমাধানে একটি বৈপ্লবিক প্রক্রিয়া। সীমান্তকে নিñিদ্র নিরাপত্তার আওতায় আনা, অবৈধ অভিবাসনের পথ রুদ্ধ করা, অবৈধভাবে বসবাসরতদের মধ্যে যারা কাজ করছেন, ট্যাক্স প্রদান করছেন অর্থাৎ ফেডারেল সরকারের দয়ার ওপর নির্ভরশীল নন-এমন লোকজনের জন্যে তা অপরিসীম অবদান রাখবে। নো অ্যামনেস্টি। নো হ্যান্ডআউট। নো সিটিজেনশিপ। সকলকে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে আমেরিকার অর্থনীতিতে অপরিসীম ভ’মিকা পালনরতদের জীবন-যাপনকে দু:স্বপ্ন মুক্ত করতে এই বিল মন্ত্রের মত কাজ করবে বলে মনে করছেন এই কংগ্রেসওম্যান। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, গত চার বছরে তথা বাইডেন আমলে ২২ লক্ষাধিক বিদেশী অবৈধভাবে ঢুকেছে দক্ষিণের সীমান্ত দিয়ে। এর আগে থেকেই সোয়া কোটির অধিক অবৈধ অভিবাসী ছিলেন আমোরিকায়। অর্থাৎ অবৈধ অভিবাসী নিয়ে গোটা প্রশাসন একটি বড় ধরনের ঝামেলা পোহাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। অভিবাসনের এই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গিকার করেছিলেন। জো বাইডেনেরও অঙ্গিকার ছিল। কিন্তু কেউই কিছু করেননি। ফলে দিনদিনই সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। সেই ঝামেলা ট্রাম্প আমলে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। কারণ, অভিবাসন-ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিবর্তে ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধভাবে বসবাসরতদের ঢালাওভাবে গ্রেফতার ও বহিস্কারের পন্থা অবলম্বন করেছে। ট্রাম্পের নির্ব্চানী অঙ্গিকার ছিল গুরুতর অপরাধী অবৈধ অভিবাসী দমনের। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে নির্বিচারে গ্রেফতার ও বহিস্কারের ঘটনা। এমনি অবস্থায় নানা শর্তে গ্রীণকার্ড প্রদানের পথ সুগম করার অভিপ্রায়ে উত্থাপিত বিলটিকে অনেকেই ‘সময়ের প্রয়োজনে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
Posted ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ আগস্ট ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর