এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১:২২ অপরাহ্ণ
করিডোর প্রদান ও পোর্ট ব্যবস্থাপনা বিদেশীদের হাতে ছেড়ে দেয়ার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহার দাবিতে জাতিসংঘের সামনে সমাবেশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
গণতন্ত্র ও মানবতার শত্রু, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ইউনূসের নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার দাবিতে গগনবিদারি স্লোগান উচ্চারিত হলো ১৯ মে অপরাহ্নে জাতিসংঘের সামনে প্রবাসীদের এক র্যালি থেকে। ‘বাংলাদেশী ডায়াসপোরা ইন ইউএসএ’র ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ র্যালি থেকে আরো স্লোগান উঠেছিল, অ্যানিমি অব ইউনাইটেড নেশন্স-ইউনূস ইউনূস, অ্যনিমি অব ইউএসএ-ইউনূস ইউনূস, বাংলাদেশের উন্নয়ন-শেখ হাসিনার দু’নয়ন, পদ্মা মেঘনা যমুনা-তোমার আমার ঠিকানা, তুমি কে আমি কে-বাঙালি বাঙালি, জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু, একাত্তরের হাতিয়ার-গর্জে উঠুক আরেকবার, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ-মানি না মানবো না, লং লীভ লং লীভ-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রিভোক নোবেল পীচ এওয়ার্ড ফ্রম ইউনূস ইত্যাদি।
বাংলাদেশ-আরাকান কোরিডোর চুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশী কোম্পানীর হাতে ন্যস্ত করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন সচেতন প্রবাসীদের পক্ষে ‘জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ড. প্রদীপ কর। এরপরই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের ঘটনা ঘটায় পুরো আওয়ামী পরিবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে। সাংগঠনিক বিরোধে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের বিভক্তির কোন ছাপ এখানে পরিলক্ষিত হয়নি। সকল গ্রুপের নেতা-কর্মী-সমর্থকের সরব উপস্থিতি ছিল।
এ সময় ড. প্রদীপ কর উল্লেখ করেন. গণহত্যার আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী গত বছরের ৫ আগস্ট বা তার আগে বাংলাদেশে কোন গণহত্যা হয়নি। ৫ আগস্টের পরের হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলিলাকে গণহত্যার পর্যায়ে ফেলা যায়। কারণ, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর একটি বিশেষ গোষ্ঠিকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নি:শেষ করে দেয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এছাড়া, একাত্তরে সংঘটিত গণহত্যার বিচার পাশ কাটানোর অভিপ্রায়ে ২০২৪ এর মিথ্যা গণহত্যা সামনে এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) ভ’য়া মামলা এনে বিরোধীদের দমন ও নীপিড়নের জঘন্য একটি চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
যুুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং আমেরিকা-বাংলাদেশ এলায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারপার্সন এম এ সালাম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শি নেতৃত্বে বাংলাদেশ অভাবনীয় উন্নয়ন পেয়েছে গত ১৫ বছরে। উন্নয়নে অবাক বিশ্বকে দমিয়ে রাখতে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তার দোসরদের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কোটা-বিরোধী আন্দোলনের আড়ালে জঙ্গি লেলিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মত ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের মাধ্যমে। তাই আমি বিশ্ব সংস্থার মাধ্যমে নোবেল পুরস্কার কমিটির প্রতি উদাত্ত আহবান রাখছি অধ্যাপক ইউনূসের মত একটি জঘন্য প্রকৃতির মানুষের কাছ থেকে সেই পুরস্কার কেড়ে নেয়ার জন্যে।
এ র্যালিতে অংশগ্রহণকারি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। জঙ্গি আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে গোটা বাংলাদেশ। অবিলম্বে এহেন অবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটাতে দেশ ও প্রবাসের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হবার বিকল্প নেই।
র্যালির স্লোগানে নেতৃত্ব দেন নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সহ-সভাপতি শেখ আতিক, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা রফিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগের নেতা হৃদয় প্রমুখ। অংশগ্রহণকারি বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন দেওয়ান, শেখ হাসিনামঞ্চের সভাপতি জালালউদ্দিন জলিল, সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, আওয়ামী লীগ নেতা ড. সিদ্দিকুর রহমান, রমেশ নাথ, মাসুদুল হাসান, আবুল হাসিব মামুন, এম এ করিম জাহাঙ্গির, এডভোকেট শাহ বখতিয়ার, আকতার হোসেন, ইকবাল হোসেন, মো. জাফরউল্লাহ, শাহানারা রহমান, রুমানা আকতার, জাহিদ খন্দকার, শহিদুল ইসলাম, আলী হোসেন গজনবী প্রমুখ।
অধ্যাপক ইউনূসের নোবেল কেড়ে নেয়ার স্লোগান জাতিসংঘের সামনের র্যালি থেকে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড্ডীন করে বাংলাদেশে চলমান ধ্বংসযজ্ঞ এবং হত্যাযজ্ঞ, লুটতরাজ-অগ্নি সংযোগের আলোকে প্লেকার্ড হাতে নিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর এ কর্মসূচি চলাকালে জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনীতিকের কৌতুহলী দৃষ্টি প্রসারিত হয়েছিল। তারা অধ্যাপক ইউনূসের মতো একজন মানুষ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর কীভাবে বর্বরোচিত আচরণ করা হচ্ছে তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা প্রকাশ্যে ধিক্কার জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী কর্তৃক জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতাকে।
ছবির ক্যাপশন-১ ইউএন র্যালি-ইউনূস
অধ্যাপক ইউনূসের নোবেল কেড়ে নেয়ার স্লোগান জাতিসংঘের সামনের র্যালি থেকে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
ছবির ক্যাপশন-২ ইউএন র্যালি-ইউনূস
করিডোর প্রদান ও পোর্ট ব্যবস্থাপনা বিদেশীদের হাতে ছেড়ে দেয়ার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহার দাবিতে জাতিসংঘের সামনে সমাবেশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
ছবির ক্যাপশন-৩ ইউএন র্যালি-ইউনূস
অধ্যাপক ইউনূসের নোবেল কেড়ে নেয়ার স্লোগান জাতিসংঘের সামনের র্যালি থেকে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
Posted ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর