ক্যাপিটল হিলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির বলি হচ্ছেন বাংলাদেশীসহ এশিয়ান-আমেরিকান ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১ অপরাহ্ণ

ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির বলি হচ্ছেন বাংলাদেশীসহ এশিয়ান-আমেরিকান ব্যবসায়ীরা

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।

চাল-ডাল-তেল-মশল্লাসহ হিমায়িত মাছ, সব্জি, শুটকি মাছ, প্রসাধনী পণ্য, পোশাক, বিস্কুট ইত্যাদির আমদানি-শুল্ক বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দাম বাড়ানো হয়েছে। এরফলে বিক্রি কমেছে এবং এর জের পড়ছে বাংলাদেশীসহ এশিয়ান-আমেরিকানদের মালিকানাধীন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে। শতশত রেস্টুরেন্ট এবং গ্রোসারি স্টোরের কর্মচারি ছাটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। দেনার দায়ে জর্জরিত ব্যবসায়ীরা নিজকে দেউলে ঘোষণার মত নিদারুন পরিস্থিতিতে নিপতিত হয়েছেন। করোনার ভয়ংকর থাকা থেকে উত্তরণের পথে থাকা এসব ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানকে ট্রাম্পের নয়া শুল্ক নীতির যাতনা গোটা কম্যুনিটিকে বিষিয়ে তুলেছে। এমন অভিমত পোষণ করা হয় ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে। এতে কথা বলেন কংগ্রেসনাল এশিয়া প্যাসিফিক আমেরিকান ককাসের চেয়ার কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং (নিউইয়র্ক), ভাইস চেয়ার কংগ্রেসম্যান টেড লু (ক্যালিফোর্নিয়া), সেকেন্ড ভাইস চেয়ার কংগ্রেসম্যান জিল টকুডা (হাওয়াই), এমিরিটাস চেয়ার কংগ্রেসওম্যান জুডি চু (ক্যালিফোর্নিয়া), ককাসের মেম্বার কংগ্রেসম্যান ডেভ মিন (ক্যালিফোর্নিয়া) এবং কংগ্রেসম্যান এড কেস (হাওয়াই)। সকলেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক আরোপের জন্যে। কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের দিনই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য হ্রাসের অঙ্গিকার করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু শুল্ক আরোপের ফলে এশিয়ানদের মালিকানাধীন সারা আমেরিকায় ৩০ লাখের অধিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে লালবাতি জ্বলার উপক্রম হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য-সামগ্রি বিক্রি একেবারেই কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাথায় বাজ পড়ার সামিল হয়েছে। মূল্য বাড়িয়েছেন ফলে বিক্রি কমেছে। এ অবস্থায় তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এহেন অবস্থাকে মেনে নেয়া যায় না। ক্রেতা-সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে দ্রব্যমূল্য। এবং এজন্যে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখবো। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট ফেডারেল আপিল কোর্ট এক রুলিংয়ে আমদানি শুল্ক-কে বেআইনী ঘোষণা করেছেন। তবে এই মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ধার্যকৃত শুল্ক বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে মাননীয় আদালতের ঐ রুলিংয়ে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসার ১১% এর মালিক হলেন এশিয়ান আমেরিকানরা। সারা আমেরিকায় রেস্টুরেন্টসমূহের ২০% এর মালিক এশিয়ানরা। সর্বশেষ কঞ্জ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী এশিয়ান আমেরিকান স্টোরসমূহের পণ্য-সামগ্রির মূল্য ২০% এর মত বেড়েছে। আমদানি পণ্যের শুল্ক বাড়ানোর জের পড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রির ওপর। আর এটি বইতে হচ্ছে কঠোর পরিশ্রমী ক্রেতা-সাধারণকে, যাদের আয়-রোজগার বৃদ্ধি পায়নি কিংবা সে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি ফেডারেল সরকার। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, খাদ্য সামগ্রির মত গৃহ-নির্মাণ সামগ্রির দামও বাড়াতে হয়েছে। চুল-দাড়ি কাটা থেকেও অনেকে বিরত হয়েছেন আয়-রোজগার কমে যাওয়ায়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে আমদানি শুল্ক হ্রাসের দাবি জানানো হয়। এবং ট্রাম্পের এহেন মনোভাবকে গণ-বিরোধী হিসেবে অভিহিত করা হয়। ব্যালট যুদ্ধে ট্রাম্পের গণবিরোধী পদক্ষেপকে রুখে দিতে সর্বসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহবান জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ১২:০১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us