নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
বৃষ্টিভেজা বনভোজনে জোহরান মামদানি প্রবাসীদের সরব থাকার আহবান জানান। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র প্রার্থী হিসেবে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়া জোহরান মামদানির প্রতি যুব সমাজ এবং উচ্চ শিক্ষিত ভোটারের অকুন্ঠ সমর্থন দৃশ্যমান হলো। মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ এক জরিপ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ভোটারের ৪৬% মামদানিকে (৩৩) সমর্থন প্রদানের কথা জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেটের সাবেক গভর্ণর এ্যান্ড্রু ক্যুমো (৬৭)ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তাকে সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ২৪% ভোটার। এ নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছেন মাত্র ১৫%। অপরদিকে, বর্তমান মেয়র এরিড এডামসে ৯% সমর্থন দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জোহরান মামদানিকে ধরাশায়ী করতে ট্রাম্পও নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ্যান্ড্রু ক্যুমোর বিজয় ত্বরান্বিত করার অভিপ্রায়ে ট্রাম্প এরিক এডামসকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্পের ধারণা এরিক সরে দাঁড়ালো ক্যুমোর বিজয়ের পথ সুগম হতে পারে। উল্লেখ্য, ঘুষ-দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত মেয়র (ডেমক্র্যাট)এরিক এডামস ইতিমধ্যেই ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন মামলা থেকে অব্যাহতির প্রত্যাশায়। তার সুফল এলেও পুনরায় মেয়র নির্বাচনের ময়দান থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হননি। তিনিও স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এমনি অবস্থায় ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং সিয়েনা কলেজ’ চালালো এ জরিপ। নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান হিসেবে চার বছর আগে নির্বাচিত জোহরান ভারতীয় মা চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং উগান্ডার বাবা মাহমুদ মামদানির সন্তান। নিউইয়র্ক সিটিতে দক্ষিণ এশিয়ানদের রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন এস্টোরিয়া ও লং আইল্যান্ড সিটি নিয়ে গঠিত স্টেট এ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ থেকে ২০২০ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথেও সখ্যতা বাড়িয়েছেন।
বৃষ্টিভেজা বনভোজনে জোহরান মামদানি প্রবাসীদের সরব থাকার আহবান জানান। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
সে সূত্রে তার মেয়র নির্বাচনেও বাংলাদেশীরা সরব হয়েছেন। যার প্রভাব দৃশ্যমান হলো গত শনিবার নিউইয়র্ক সিটির প্রসপেক্ট পার্কে ‘ড্রাম বীটস’ নামক একটি সংস্থার বনভোজন পার্টিতে। বৃষ্টি সত্বেও শতশত প্রবাসীর সমাগমে হাজির হয়েছিলেন জোহরান মামদানি। মামদানিকে বিজয় প্রদানে সর্বাত্মক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিটি বাংলাদেশী ভোটারকে কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট যুদ্ধে অংশগ্রহণের উদাত্ত আহবান জানান কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ। বাংলাদেশী বংশোদ্ভ’ত শাহানা হচ্ছেন এই সিটির প্রথম মুসলিম এবং প্রথম বাংলাদেশী কাউন্সিলওম্যান। শাহানা জানান, তাকে পরাজিত করতে বহু বিলিয়োনেয়ার নগদ অর্থ বিতরণ করেছে। কিন্তু ভোটাররা পক্ষে থাকায় কেউ আমাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকাসহ আশেপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে ডেমক্র্যাটিক পার্টির টিকিটে এবারও বিজয়ী হয়েছেন দ্বিতীয় বারের মত। শাহানা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিবাসন বিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন মুসলমানদের টার্গেট করে। আমি ফিলিস্তিনে ইসারায়েলি বর্বতার নিন্দা জানিয়ে আসছি বলে আমাকেও পরাজিত করার ফাঁদ পেতেছিলেন। কিন্তু ভোটাররা তা প্রতিহত করেছেন। একইভাবে জোহরানকেও বিজয় দিতে হবে কঠোর পরিশ্রমী অভিবাসীগণের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষার তাগিদে। উল্লেখ্য, এই বনভোজন আয়োজনের নেপথ্য সংগঠক ছিলেন বাংলাদেশী আমেরিকান কাজী ফৌজিয়া। এতে কম্যুনিটির সর্বস্তরে প্রতিনিধিত্বকারিরা জড়ো হয়ে জোহরানের বিজয়ে কাজের সংকল্প উচ্চারণ করেছেন। বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন মানবাধিকার নিয়ে কর্মরত এটর্নী সমতলী হক, নির্মাণ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আব্দুল কাদের মিয়া ও মো. জাফরউল্লাহ।
Posted ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর