নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১:৫৯ অপরাহ্ণ
জেনিভা : জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক ডিভিশনের প্রধান ররি মুনগোভেনের কাছে বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের তথ্য-চিত্র হস্তান্তর করেন অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম। পাশে ওএইচসিএইচআর কর্মকর্তা লিভিয়া কসেনজা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
ফ্রান্সভিত্তিক ‘জাস্টিস মেকারস বাংলাদেশ’ (জেএমবিএফ)-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম বাংলাদেশের অবনতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতি ২ অক্টোবর বৃহস্প্রতিবার জেনিভায় জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে উত্থাপন করেছেন। জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) এবং জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অ্যাডভোকেট শাহানুর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সুইজারল্যান্ডের সময় বৃহস্প্রতিবার দুপুরে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক ডিভিশনের প্রধান ররি মুনগোভেনের সঙ্গে বৈঠকে শাহানুর ইসলাম জেএমবিএফ-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সে সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং নাগরিক স্বাধীনতার সংকোচনের বিষয় তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে অ্যাডভোকেট শাহানুর বাংলাদেশের নিষ্ঠুর বর্বরতার সচিত্র তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, “বাংলাদেশে এলজিবিটিকিউআই (LGBTQI+) জনগোষ্ঠীর ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে হামলা চলছে।” অ্যাডভোকেট শাহানুর আরও উল্লেখ করেন, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছে, যা আইনজীবীদের ওপর বিস্তৃত দমন-পীড়নের অংশ।
অ্যাডভোকেট শাহানুর অভিযোগ করেন যে, সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করছে। তিনি বিশেষভাবে সাংবাদিক ফারজানা রূপার কথা উল্লেখ করেন, যিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মিথ্যা হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। পাশাপাশি শাহানুর বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দায়ের এবং সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেযয়েছে।
প্রত্যুত্তরে মুনগোভেন জানান, সংস্কারের উদ্যোগে অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতিসংঘ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারা, বিশেষ করে সাজানো মামলা, এখনও অব্যাহত রয়েছে। মুনগোভেন শাহানুরকে আশ্বস্ত করেন যে, তার উত্থাপিত উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এলজিবিটিকিউআই+ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লঙ্ঘনগুলো যৌন অভিমুখিতা ও লিঙ্গ পরিচয় বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের কাছে প্রেরণ করা হবে।
জেনিভা : বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে মানবাধিকারের নাম-নিশানা নেই বলে অভিযোগ করা হয় আন্তর্জাতিক সেমিনারে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
বৈঠকে অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম জেএমবিএফ-এর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন বাংলাদেশের এলজিবিটিকিউআই+ অধিকারের ওপর বার্ষিক প্রতিবেদন, অন্তর্বর্তীী সরকারের অধীনে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যুর সারসংক্ষেপ, এবং আইনজীবীদের ওপর দমন অভিযানের একটি অপ্রকাশিত পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ হস্তান্তর করেন। বৈঠকে জেএমবিএফ-এর সদস্য মো. শফিক আহমদ এবং ওএইচসিএইচআর কর্মকর্তা লিভিয়া কসেনজা উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া এদিন সকালে অ্যাডভোকেট ইসলাম জাতিসংঘ দপ্তরে বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের কার্যালয়ের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মেলানি সান্তিজো সান্দোভাল। বৈঠকে অ্যাডভোকেট ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে “পদ্ধতিগত হয়রানি, ইচ্ছাকৃত গ্রেপ্তার এবং সাজানো মামলা” চলছে। বিশেষ প্রতিবেদকের কার্যালয় এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে উদ্ভ’ত পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হবে বলে জানানো হয়।
বৈঠকের পর অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম টেলিফোনে এ সংবাদদাতাকে বলেন, “এই বৈঠকগুলো অত্যন্ত জরুরি ছিল, যাতে বাংলাদেশের ভুক্তভোগীদের কণ্ঠ আন্তর্জাতিক পরিসরে উপেক্ষিত না হয়। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে প্রমাণ উপস্থাপন করতে থাকব, যতদিন না জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।”
জেনিভায় অনুষ্ঠিত এই ধারাবাহিক বৈঠক জেএমবিএফ-এর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তুলে ধরে, যেখানে সংগঠনটি আইনজীবী, সাংবাদিক ও এলজিবিটিকিউআই জনগোষ্ঠীর ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে অন্তর্বর্তী সরকারের মুখোমুখি করতে কাজ করে যাচ্ছে।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ইসলামিক জঙ্গিদের উত্থান এবং প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় জেনিভায়। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের চলমান ৬০তম অধিবেশনের সাইডলাইনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় ‘এশিয়ান-ইউরেশিয়ান হিউম্যান রাইটস ফোরাম’র সহযোগিতায় ‘ফোরাম অন ইন্টার-কালচারাল এ্যান্ড ইন্টার রিলিজিয়াস ডায়ালগ’র উদ্যোগে। এতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সমসাময়িক বিশ্ব নিয়ে কর্মরত বিজ্ঞানী, গবেষক, সাংবাদিক-লেখক এবং মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের বর্তমানের অরাজক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুরন্নবী। তিনি বলেন, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের মদদে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে। আফগানিস্তানের মত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে বাংলাদেশকে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। পশ্চিমাদের ইন্ধনে নির্বাচিত সরকার হটিয়ে অসাংবিধানিক সরকারের প্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশে প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার মানুষকে নির্বিচারে হত্যার ঘটনা ঘটছে। এই সেমিনারে অন্যতম আলোচক ছিলেন ‘নিউ অ্যাজ ইসলাম’র প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শাহীন। তিনি বলেন, পাকিস্তানী জঙ্গিদের হামলার হুমকিতে নিপতিত হয়েছে ভারত। অতিসম্প্রতি পাহালগ্রামে তেমনি একটি ভয়ংকর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরফলে পাকিস্তানের সাথে দীর্ঘ ৪৫ বছরের বৈরিতা চরমে উঠেছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির নাম-নিশানা নেই প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে। এভাবে মানবতা ডুকরে কাঁদছে বিশ্বায়নের এ যুগেও।
Posted ১:৫৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর