নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শনিবার, ৩১ মে ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ফাইল ছবি
প্রেসিডেন্ট বাইডেন আমলের ‘মানবিক মুক্তি’র আরেকটি আদেশকে নাকচ করে দিলো যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টে। এরফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী আরেকটি পদক্ষেপ বিজয়ের মুখ দেখলো। শুক্রবার ইউএস সুপ্রিম কোর্টের এই রুংিয়ের পরিপ্রেক্ষিতে কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া এবং ভেনিজুয়েলার ১০ লাখ অভিবাসীকে গ্রেফতার ও বহিষ্কারের অবাধ ক্ষমতা পেলো ট্রাম্প প্রশাসন। ইতিপূর্বে ট্রাম্পের এই আদেশের বিরুদ্ধে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছিল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন ট্রাম্প প্রশাসন। উল্লেখ্য, উপরোক্ত দেশসমূহে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়ায় নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত মানুষের মধ্যে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল, তাদেরকে বাইডেন প্রশাসন ‘মানবিক মুক্তি’র ব্যবস্থা করেছিলেন। অর্থাৎ তাদের ব্যাক গ্রাউন্ড যাচাইয়ের পর আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনের নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজের সুবিধা পেয়েছিলো। আরো উল্লেখ্য, এর আগে আফগানিস্তানকে আসা লোকজনের জন্যে বাইডেন প্রশাসনের এমন একটি মানবিক মুক্তির প্রক্রিয়া (টেম্পরারি প্রটেক্টেড স্টাটাস)বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সুুপ্রিম কোর্টের এই রুলিংয়ের শিকার হওয়াদের মধ্যে হাইতির ২১৩১৪০ এবং ভিনিজুয়েলার ১২০৭৬০ জন অভিবাসী রয়েছেন বলে সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন আচরণকে নির্দয়-নিষ্ঠুর হিসেবে অভিহিত করে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ‘মাইগ্রেশন পলিসি ইন্সটিটিউট’র কর্মকর্তা ক্যাথলিন বুশ-যোসেফ গণমাধ্যমে বলেছেন, কাউকেই তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের জন্যে বিমানো উঠানো সম্ভব হবে না। কারণ অনেকেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন-যা কোর্টে পেন্ডিং রয়েছে আদালতে। সেগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে বহিষ্কার করা হবে-সে প্রশ্নও উঠেছে। হাইতিয়ান ব্রিজ এলায়েন্স নামক আরেকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গোয়েরলাইন যোজেফ শুক্রবার আদালতের ঐ রায়ের পর গণমাধ্যমে বলেছেন, আফগানম হাইতিয়ান এবং ইউক্রেনের অনেক অভিবাসী ২০১৭ সালেই অর্থাৎ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে কানাডায় গেছেন।
অপরদিকে, ইউএস সুপ্রিম কোর্টের উপরোক্ত রোলিং এর মধ্যদিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি বিজয় ঘটলো বলে মন্তব্য করেছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ট্রিসিয়া ম্যাকলোলিন। তিনি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন আমেরিকানদের সাথে প্রতারণা করেছিলেন বিদেশীদের আশ্রয় প্রদানের ক্ষেত্রে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে সন্ত্রাসী ও খুনীদের যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন সেই জঞ্জাল থেকে আমেরিকাকে মুক্ত করার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাননীয় আদালতেও তার স্বীকৃতি ঘটলো।
Posted ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর