নতুন এইচ-১বি ভিসা নীতি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে আসুন, প্রশিক্ষণ দিন, ফিরে যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রে আসুন, প্রশিক্ষণ দিন, ফিরে যান

নতুন নীতিতে অন্য দেশের দক্ষ কর্মীরা কয়েক বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবেন। মার্কিন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তাদেরকে ফিরে যেতে হবে নিজ নিজ দেশে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন এইচ-১বি ভিসা নীতির লক্ষ্য মূলত: বিদেশি দক্ষ কর্মীদের অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এনে মার্কিনিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এইচ-১বি ভিসা সংক্রান্ত নিয়মে গত কয়েক মাসে একের পর এক বদল এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ভিসার জন্য এক লাখ ডলার ফি বাড়ানোসহ আরও সব কড়াকড়ি নিয়ম চালুর ঘোষণা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু একদিন আগেই ট্রাম্প এই ভিসা নিয়ে সুর নরম করেন। আগ্রাসী নীতির বিপরীতে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সত্যিই বিদেশি প্রতিভা আনা প্রয়োজন। কারণ, এখনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞান ও দক্ষতায় পিছিয়ে আছে মার্কিন কর্মীরা।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই এইচ-১ বি ভিসা নিয়ে নতুন নীতির কথা বললেন অর্থমন্ত্রী স্কট। এই নীতিতে অন্য দেশের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীরা কয়েক বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবেন। এসে মার্কিন কর্মীদের ‘প্রশিক্ষণ’ দেবেন তারা। তবে প্রশিক্ষণ শেষে তাদের আর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হবে না। ফিরে যেতে হবে নিজ নিজ দেশে। স্কটের কথায়, এর মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকদের উপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতার বদলে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের দিয়ে মার্কিনিদের চাকরির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ানো হবে, যাতে তারাও সমান দক্ষ হয়ে ওঠে।

সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, “এই নীতিটা আসলে একধরনের ‘নলেজ ট্রান্সফার’, যার লক্ষ্য আমেরিকার উৎপাদন খাতকে নতুন করে দাঁড় করানো।” তিনি বলেন, “গত ২০-৩০ বছর ধরে আমরা নিখুঁত উৎপাদনের কাজ বিদেশে পাঠিয়েছি। কিন্তু এখন আমরা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত আনতে চাই। অ্যারিজোনায় বড় বড় কারখানা তৈরি হবে। প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা হল, দক্ষ বিদেশি কর্মীরা তিন, পাঁচ, বা সাত বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসবেন, স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন, তারপর নিজ দেশে ফিরে যাবেন। তখন আমেরিকানরা সেই কাজ নিজেরাই করতে পারবে।”

বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতি মার্কিনিদের চাকরির সুযোগ কমাবে- এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বেসেন্ট বলেন, “এখনই একজন আমেরিকানের পক্ষে সেই কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা বহু বছর ধরে জাহাজ বা সেমিকন্ডাক্টর বানাচ্ছি না। বিদেশি অংশীদাররা এসে আমাদের কর্মীদের শেখালে সেটিই হবে প্রকৃত সফলতা।” বেসেন্ট জানান, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলো ফেরত আনার এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ।

Facebook Comments Box

Posted ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us