অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীগণের ২৫% হলেন অবৈধ এবং এর বড় একটি অংশ ৫ বছরের অধিক সময় যাবত বৈধতার প্রত্যাশায় রয়েছেন। ‘মাইগ্রেশন পলিসি ইন্সটিটিউট’ (এমপিআই)’র গবেষণা জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে সংস্থাটির ‘ইমিগ্রেশন পলিসি প্রোগ্রাম’র সহযোগী পরিচালক জুলিয়া জিলেট ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার এ তথ্য গণমাধ্যমে দিয়েছেন। ২০২৩ সালের সরকারী তথ্য পর্যালোচনা-বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এমপিআই আরো জানতে পেরেছে যে, ঐ বছর অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীর সংখ্যা ছিল লক্ষাধিক বাংলাদেশীসহ ১৩.৭ মিলিয়ন তথা এক কোটি ৩৭ লাখ। এর চার বছর আগে অর্থাৎ করোনার প্রাক্কালে ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ১১ মিলিয়ন অর্থাৎ এক কোটি ১০ লাখের মত। করোনার লকডাউনের সময়ে বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার প্রবণতা একেবারেই কমলেও লডডাউন শিথিলের সাথে সাথে তা চরমে উঠে এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশসমূহ থেকে মানুষ ‘বানের পানির নাহাল’ উত্তাল ঢেউয়ের মত দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে। এদিকে ইঙ্গিত করেই গত নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার অঙ্গিকার করেন এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই অঙ্গিকার প্রতিপালনে শতভাগ সচেষ্ট হয়েছেন।
এমপিআইয়ের বিশ্লেষণ-গবেষনা অনুযায়ী এখনো অবৈধ অভিবাসীর ৪০% হলেন মেক্সিকান। ২০১০ সালে তা ছিল ৬২%।
সর্বশেষ এই গবেষণা-বিশ্লেষণে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস), দ্য সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ এবং পিউ রিসার্চ সেন্টারের ড্যাটা ব্যবহার করা হয়েছে। গত গ্রীষ্মে এই সংস্থাগুলো অভিবাসী সমাজের তথ্য-চিত্র প্রকাশ করেছিল। এ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অবৈধ অভিবাসনের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছিল। তবে তা বাইডেনের আমলে অতীতের সকল হিসাব-নিকাশ ছাড়িয়ে গেছে।
গবেষণায় আরো উদঘাটিত হয়েছে যে, অবৈধভাবে বসবাসরতদের মধ্যে অন্তত: ৪২ লাখ নারী-পুরুষই বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ইউএস সিটিজেন অথবা গ্রীণকার্ডধারীর সাথে। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারি অন্তত: ৬৩ লাখ শিশু রয়েছে যাদের মা-বাবার একজন অবৈধ অভিবাসী। আরো জানা গেছে, অবৈধদের ৪৫% বাস করছেন ২০ বছরের অধিক সময় যাবত। ১৫ বছর থেকে ১৯ বছর হয়েছে এমন অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা হচ্ছে ১৪%। আর ২০% এরও কম রয়েছেন ৫ বছরের কম সময় যাবত।
অবৈধরা সিটিজেনদের বেকারত্ব বাড়াচ্ছে বলে যারা গলাবাজি করেন তাদের সে ধারণা একেবারেই সঠিক নয়। কারণ, অবৈধরা সাধারণত: যে সব কাজ করছেন তা সিটিজেনরা করেন না বা করার সামর্থ্য রাখেন না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে ১৯ লাখ অবৈধ অভিবাসী কাজ করতেন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে। এর পরের অবস্থানে ছিলেন খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে অথবা মুদির দোকানে। সে সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৫৫ হাজারের মত। অবশিষ্টরা কাজ করেছেন কৃষি সেক্টর অথবা ভ’মি উন্নয়ন এবং বাসা-বাড়ির চাকর/চাকরানি হিসেবে। অবৈধদের মধ্যে ৩১% বাড়ির মালিক হয়েছেন। তারা নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও তাদের অবদান অপরিসীম বলে অর্থনীতিবিদরা হরহামেশা মন্তব্য করছেন। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, অভিবাসনের আইন লংঘন করা ছাড়া অবৈধদের ৯০% অন্য কোন অপরাধে লিপ্ত নেই। এতদসত্বেও ট্রাম্পের চলমান অভিযানে ঢালাওভাবে গ্রেফতারের ভিকটিম হচ্ছেন সহজ-সরল ও কঠোর পরিশ্রমী অভিবাসীরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশী অবৈধ অভিবাসী রয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, টেক্সাস স্টেটে। এজন্যে, এসব স্থানে ট্রাম্পের নির্দেশে গ্রেফতার অভিযান তীব্রতর করা হয়েছে। ট্রাম্পের চলতি মেয়াদে অর্থাৎ গত ৯ মাসে ২০ লাখের অধিক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতারের পর বহিষ্কার অথবা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে হয়েছে। গ্রেফতার ও বহিষ্কারের এই অভিযান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
এদিকে, অবৈধভাবে বসবাসরতদের মধ্যে যারা গুরুতর কোন অপরাধে লিপ্ত নেই এবং যারা সততা-নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন ও নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করেন, তাদেরকে বিভিন্ন শর্তে বৈধতা প্রদানের একটি অঙ্গিকার রয়েছে ডেমক্র্যাটদের। কিন্তু রিপাবলিকানদের আন্তরিক সহযোগিতা না পাওয়ায় দুই দশকেরও অধিক সময় যাবত তেমন কোন বিল কংগ্রেসে পাশ হতে পারেনি।
Posted ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর