নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট।’ ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
এই প্রথম একটি গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অভিবাসীরা একমাত্র অবলম্বনে পরিণত হওয়ায় মার্কিন প্রশাসনের শ্যেন দৃষ্টিতে পড়েছেন অভিবাসী সমাজ। ২০২২-২০২৩ সালের সেনসাস রিপোর্টের ওপর গভীর এই পর্যবেক্ষণ-গবেষণা চারিয়েছে অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মাইগ্রেশন পলিসি ইন্সটিটিউট’ (এমপিআই) এবং তা গণমাধ্যমে এসেছে বুধবার। যুক্তরাষ্ট্রের জন্মহার হ্রাস পাওয়ায় এহেন অবস্থা তৈরী হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। আর এ তথ্যটি এমন সময়ে উদঘাটিত হলো যখোন অবৈধ অভিবাসী তাড়ানোর ব্যাপক কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। এমপিআই’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের মধ্যে অভিবাসীর সংখ্যা ১৬ লাখ বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৪ কোটি ৭৮ লাখ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ১৪.৩% এ দাঁড়িয়েছে অভিবাসীরা। এবং এই হার হচ্ছে সর্বকালের সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, ১৮৫০ সাল থেকেই জনসংখ্যার গতি-প্রকৃতির তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে সেনসাস ব্যুরো। আর অভিবাসী আগমনের তথ্য পর্যালোচনা শুরু করেছে নব্বইয়ের শতকের শুরু থেকে। ঐ শতকের মাঝামাঝিতে কিছুটা ভাটা পড়লেও ১৯৭০ সালের পর অভিবাসনের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
সেনসাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়েসী আমেরিকান মহিলাদের সন্তান ধারণের হার একেবারে হ্রাস পাওয়ায় জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে তার ভ’মিকা খুবই সংকুচিত হয়েছে। ব্যাপকভাবে বলতে গেলে ২০ বছর থেকে ৩৯ বছরের মধ্যেকার আমেরিকান নারীর সন্তান ধারনের হারও কমেছে বলে কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধক (সিডিসি) সংস্থা উল্লেখ করেছে।
অপরদিকে, ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসি (এনএফএপি)’র সাম্প্রতিক মাসমূহের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী শ্রম সেক্টরেও আমেরিকানের চেয়ে অভিবাসীর আগমন বেশী ঘটছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, একদিকে জন্মহার হ্রাস, অপরদিকে আমেরিকানদের বয়স বৃদ্ধি পাওয়া। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম সেক্টরের ১৮% ছিলেন অভিবাসীরা। এর ২৩% মেক্সিকান, ৬% ভারতীয় এবং ৫% হলেন চায়নিজরা। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’ (সিএসআই) নামক আরেকটি দল নিরপেক্ষ অলাভজনক সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সামগ্রিক প্রভাব ফেলেছে সেন্ট্রাল ও সাউথ আমেরিকানরা। সাথে রয়েছেন ফিলিপিনো, নাইজেরিয়ান এবং আফগানরা। উপরোক্ত সময়ে (২০২২-২০২৩)দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত বেআইনীভাবে অতিক্রমকারিরাও যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রবল ভ’মিকা রেখেছে। ২০২৩ সালে অভিবাসীদের ২৭%এরই বৈধ স্ট্যাটাস ছিল না। ১৯% এর গ্রীণকার্ড ছিল। আর ৪৯% গ্রীণকার্ডের পথ মাড়িয়ে সিটিজেনশিপ নিয়েছেন। আরো জানা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকে অভিবাসীর গর্ভে সন্তান জন্মের হার বাড়ছে। সে বছর ছিল ১৩% এবং ২০২৩ সালে তা দ্বিগুণ অর্থাৎ ২৬% হয়েছে। সিএসআই’র তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশী অভিবাসী রয়েছে নিউইয়র্ক সিটিতে। এই সিটিতে বসবাস করছেন ৫৯ লাখ অভিবাসী। অপরদিকে ফ্লোরিডার মায়ামীর মোট জনসংখ্যার ৪২% হলেন অভিবাসীরা। অভিবাসীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন স্টেটের শীর্ষে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস এবং ফ্লোরিডা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে ডেকটা, সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ৮০% অবদান রেখেছেন অভিবাসীরা। ডেলওয়ারে, টেনেসী এবং সাউথ ক্যারলিনা স্টেটও শীর্ষস্থানীয় ১০ স্টেটের তালিকায় রয়েছে।
অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সামনের দিনগুলোতে শুধু শ্রম সেক্টরেই নয়, নীতি-নির্দ্ধারন এবং কর্পোরেশনের পদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষাঙ্গনের নেতৃত্বেও অধিষ্ঠিত হবেন অভিবাসীরা-এমন আশংকা থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার নীতি-নির্দ্ধারকের শ্যেন দৃষ্টিতে পড়েছেন অভিবাসীরা-এমন মন্তব্য করেছেন এমপিআই’র সিনিয়র ডেমগ্রাফার জিনে ব্যাটালোভা।
সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ বাস করছেন যাদের জন্ম ভিনদেশে অর্থাৎ তারা সবাই অভিবাসী-যা মোট জনসংখ্যার ১৫.৮%। এর আগে এমন অবস্থা দেখা গেছে ১৮৯০ সালে। সে সময় বিদেশে জন্মগ্রহণকারি মানুষের হার ছিল ১৪.৮%। অভিবাসন-বিরোধী সংস্থা হিসেবে পরিচিত ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’র গবেষণা পরিচালক স্টিভেন ক্যামারোতা এহেন অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এমন এক অবস্থানে এসেছি যা কখনো ঘটেনি।
Posted ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর