নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন ।
বাংলা একাডেমি থেকে শহীদ জননী জাহানারা ইমামসহ প্রগতিশীল লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের বই সের দরে বিক্রি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ‘একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন, নর্থ আমেরিকা’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন্নবী এবং সেক্রেটারি স্বীকৃতি বড়ুয়া। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আসলাম আহমাদ খান প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ড. নবী এবং স্বীকৃতি বড়ুয়ার যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে : আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তথাকথিত আগস্ট বিপ্লবের পর ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জোর করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ধানমন্ডি ৩২ নম্বর জাদুঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে, ধ্বংস করেছে ভাস্কর্য সহ মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতিচিহ্ন। এবার তারা হাত দিয়েছে জাতির মনন হিসেবে পরিচিত বাংলা একাডেমির উপর। বাংলা একাডেমির কাজ হলো বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্যের চর্চা, বিকাশ ও সংরক্ষণ করা। সে স্থলে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির মূল্যবান সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সহ অন্যান্য লেখকের লিখা বাংলা সাহিত্যেরে অমূল্য গ্রন্থসমূহ বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সের দরে বিক্রি করে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক লাইব্রেরি নীতিমালার পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম শুধু একজন লেখকই নন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রুমির মা। মুক্তিযুদ্ধের সময় সন্তান হত্যার বিচারসহ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম-এর ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলা একাডেমিকে দান করা হয়েছিল, সেগুলো এখন সের দরে বিক্রি করে দিচ্ছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। এই সংগ্রহে বিশ্বসাহিত্যের অনেক উল্লেখযোগ্য বই, শহীদুল্লাহ কায়সারসহ অনেক বরেণ্য সাহিত্যিকের স্বাক্ষর দেওয়া অনেক বই রয়েছে। এই নিন্দনীয় ও বেদনাদায়ক ঘটনাটি কেবল সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি অসম্মান নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতি চরম অবমাননা। এই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষথেকে এমন ঘটনা সংঘটিত করা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কারও কর্তৃত্বে হচ্ছে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দাবী জানাই, যে কোনো মূল্যে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম-এর পরিবারের পক্ষ থেকে দান করা যেসব বই বিক্রি হয়েছে, যে কোনো মূল্যে সেই বইগুলো ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট সংগ্রহশালায় পুনরায় মর্যাদার সাথে সংরক্ষণের। সেই সঙ্গে দাবি জানাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করার, সত্য ইতিহাস মুছে ফেলার এই ঘৃণ্য চক্রান্তের সাথে জড়িতদের আদালতে বিচার ও যথাযোগ্য শাস্তির মুখোমুখী করার।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ মানসিক বিকাশের উপর নির্ভর করে জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও গতিধারা। বাংলা একাডেমির মতো, একই অপশক্তি অদৃশ্য কালো থাবা বসিয়েছে শিশুদের মনন বিকাশে আবশ্যক সঙ্গীত ও শরীরচর্চা পাঠ্যক্রমের উপর। এক কলমের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বন্ধ করে দিয়েছে শিশুর সুকুমার বৃত্তি বিকাশের স্বীকৃত মাধ্যম সঙ্গীত শিক্ষা। সঙ্গীত শুধু বিনোদন নয়; এটি কোমলমতি শিশুদের হৃদয় ও মস্তিষ্কের বিকাশ, জ্ঞান-বুদ্ধি ও মানবিকতার উৎকর্ষের জন্য অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের কাছ থেকে সঙ্গীতের পাশাপাশি শরীরচর্চা শেখার অধিকার কেড়ে নেওয়া মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনন, নান্দনিকতা, সংবেদনশীলতা এবং শারীরিক ও সচেতনতাকে স্তব্ধ করে দেওয়া। এটি একটি সাংস্কৃতিক আত্মহনন। জাতিকে সংস্কৃতিশূন্য করার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা (একাত্তরের প্রহরী ) সরকার কর্তৃক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের সিদ্ধান্তেরও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাই। তা নাহলে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গর্বিত উত্তরাধিকার বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ধ্বংসের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুমকিও দেয়া হয়েছে বিবৃতিতে।
Posted ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর