বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে অনশনরতরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য অভিবাসন দফতরকে অবহিত না করায় গত সোম ও মঙ্গলবার ফ্লোরিডা এবং জর্জিয়া স্টেটে দুই বাংলাদেশীকে গ্রেফতারের সংবাদ পাওয়া গেছে। তারা নিউইয়র্কে অবতরণের পরই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছেন। সে সূত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্সও রয়েছে। অর্থাৎ সবকিছু প্রসেসিংয়ে রয়েছে। এমনি অবস্থায় তারা নিউইয়র্ক ছেড়ে একজন জর্জিয়ার আটলান্টা এবং অপরজন ফ্লোরিডার মায়ামিতে গেছেন। নিউইয়র্কে অভিবাসন বিষয়ক খ্যাতনামা এটর্নী মঈন চৌধুরী বুধবার এ সংবাদদাতাকে জানান, আটলান্টায় গাড়ি চালানোর সময় রেড লাইট অতিক্রমকালে একজনকে আটকায় ট্রাফিক পুলিশ। সে সময় উদঘাটিত হয় যে, তিনি নিউইয়র্কের বাসিন্দা। কিন্তু বাস করছেন আটলান্টায়। ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য অবহিত করেননি অভিবাসন দফতরকে। সাথে সাথে আইস (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) তাকে ট্রাফিক পুলিশের কাছে থেকে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়েছে। এখোন চলছে তাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া। একই ঘটনা মায়ামিতেও ঘটেছে। নেশাগ্রস্ত হয়ে গাড়ি চালানোর সময় টহল পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর ঐ প্রবাসীর আমেরিকান স্বপ্ন তছনছ হবার পথে। ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী আরো জানান, গ্রীণকার্ডধারীরাও নানা পরিস্থিতির ভিকটিম হচ্ছেন। তাই সকলকে খুবই সতর্কতার সাথে চলাচল করতে হবে। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনাকারিরা ঠিকানা পরিবর্তন করলেই তা জানাতে হবে কর্তৃপক্ষকে। চলাফেরায় সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসন সর্বগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছে অভিবাসী তাড়ানোর জন্যে।
এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৭ আগস্ট এ সংবাদদাতা জানতে পেরেছে যে, ২০ আগস্ট পর্যন্ত ট্রাম্পের ৭ মাসে প্রায় দুই লাখ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এ সংখ্যা হচ্ছে গত দশকে যে কোন ৭ মাসের চেয়ে অনেক বেশী। যদিও ট্রাম্পের বেধে দেয়া টার্গেটের চেয়ে তা এখনো অনেক কম। আইসের ধারণা, ৩০ সেপ্টেম্বর চলতি ২০২৫ অর্থ বছরের সমাপ্তি নাগাদ বহিষ্কারের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেভাবেই চলছে সাড়াশী অভিযান। আইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ অর্থ বছর (প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে) ৩ লাখ ১৬ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের সংখ্যাটি হচ্ছে এখোন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আরো জানা গেছে, আইসের পাশাপাশি চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে সিবিপি (কাস্টমস এ্যান্ড বোর্ডার পেট্রোল)’র এজেন্টরা বেআইনীভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় এক লাখ ৩২ হাজার বিদেশীকে গ্রেফতারের পরই নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এরফলে টাম্পের এ মেয়াদের ৭ মাসে বহিস্কারের সংখ্যা সাড়ে ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকেই সন্তুষ্ট নন বহিস্কারের টার্গেটের কাছাকাছিও পৌঁছতে না পারার জন্যে। এজন্যে কংগ্রেসে পাশ হওয়া বিলে অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়ায় আইসের জনবল বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ মাসেই ১০ হাজার এজেন্ট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আইস থেকে অবসরে যাওয়া এজেন্টরা যদি পুনরায় কাজে ফিরতে চান তাহলে একেকজনকে ৫০ হাজার ডলার করে প্রণোদনার ঘোষণাও রয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনী অঙ্গিকার পূরণে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরফলে গুরুতর অপরাধে লিপ্ত অবৈধ অভিবাসীদের সাথে নীরিহরাও গ্রেফতার হচ্ছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ২৯% ছিল দন্ডিত অপরাধী, গুরুতর অপরাধের মামলায় ঝুলে থাকা ২৫%। ৪৫% ছিলেন কেবলমাত্র অভিবাসনের আইন লংঘনকারি।
Posted ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর