Category: প্রবাস

  • ৯/১১’র সন্ত্রাসীদের প্রতি ঘৃণা ও ভিকটিমদের স্মরণ

     

    গ্রাউন্ড জিরোতে নির্মিত স্মৃতিসৌধে শাকিলা-নূরুল হক মিয়ার স্বজনেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    আনিসুর রহমান/অজিৎ ভৌমিক

    যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভয়ংকরতম সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় হিল সাইডে একটি পার্টি হলে ‘বাংলাদেশী আমেরিকান্স ইন নিউইয়র্ক’র ব্যানারে এক শ্রদ্ধাঞ্জলী-স্মরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘আমরা কখনো ভুলবো না’ মন্ত্রে উজ্জীবিত এ সমাবেশে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ট্যুইন টা্ওয়ারে আত্মঘাতি হামলার স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ঐ হামলায় দায়ী ও মদদদাতাদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন  করা হয়।  নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় শুরুতে নিরবতা পালন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

    গ্রাউন্ড জিরোতে শাকিলা-নূরুল হক মিয়ার স্বজনেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    উল্লেখ্য, ৬ বাংলাদেশীসহ মোট ২৯৭৭ জনের প্রাণ ঝরেছে ১১ সেপেটম্বর মঙ্গলবারের সেই হামলায়। সমাবেশে কম্যুনিটির বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারিরা ছিলেন।
    আয়োজকদের অন্যতম এবং সঞ্চালক সাংবাদিক শেখ সিরাজ, সাঈদ তারেক এবং অধ্যাপক আজিজুল হক মুন্নাসহ ভয়ংকর সেই সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড. মহসিন পাটোয়ারী, কম্যুনিটি লিডার ওসমান গনি, প্রবীন সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, মূলধারার রাজনীতিক এডভোকেট মজিবর রহমান, সাংবাদিক মাহমুদ খান তাসের, কম্যুনিটি লিডার নারগিস আহমেদ, নাসির খান পল, বিএনপি নেতা শাহজাহান শেখ, কবি সালেহা ইসলাম, মনিউর রহমান জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন, সামছুল মবিন, ফিরোজ আলম, শাহ আলম দুলাল প্রমুখ।

    স্মরণ সমাবেশে (বাম থেকে) আজিজুর রহমান, ড. মহসিন পাটোয়ারি, শাহজাহান শেখ, শেখ সিরাজ, আজিজুল হক মুন্না। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    ট্যুইন টাওয়ারের গুরুত্ব এবং মানবিকতা আলোকে স্মৃতিচারণ করেন আজিজুর রহমান। উল্লেখ্য, তিনি সেখানকার সিকিউরিটি মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তবে সৌভাগ্যক্রমে ঐদিন বিকেলের শিফটে (বেলা ২টা থেকে) থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন।

    স্মরণে-সমাবেশে সুধীজনের একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    বক্তারা উল্লেখ করেছেন, এটাই আমাদের দেশ এবং এই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্তদের প্রতিহত করার দায়িত্বও আমাদের। সন্ত্রাসীদের কোন জাতি, ধর্ম, অঞ্চল অথবা বর্নের পরিচয় থাকতে পারে। ওদের পরিচয় একটাই এবং তা হচ্ছে মানবতার দুশমন। ঐ দুশমনদের চিহ্নিত এবং নির্মূলের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের। এজন্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    ৬ বাংলাদেশী ভিকটিম।

     শিব্বীর আহমেদ জানান:  ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্মরণসভা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় হামলার তিনটি প্রধান স্থানে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও পালিত হয়েছে দিনটি। একই দিনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সদ্য অবমুক্ত করা গোয়েন্দা নথি প্রকাশ পাওয়ায় হামলার আগে ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার তৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা কী জানতেন, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    ২০০১ সালের ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে সমন্বিত হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। চতুর্থ বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে বিধ্বস্ত হয়। যাত্রীরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করার পরই এটি মাটিতে পড়ে।

    গ্রাউন্ড জিরোতে স্বজনদের অশ্রুসিক্ত স্মরণ

    নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের গ্রাউন্ড জিরোতে নিহতদের স্বজনেরা শুক্রবারের মূল স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে নিহতদের নাম পাঠ করেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। স্থানীয় সময় ২০০১ সালের এই সময়েই আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হেনেছিল। নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা ও জো বাইডেন উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে বর্তমান ও সাবেক জাতীয় নেতাদের এই উপস্থিতি ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    স্মরণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ টাওয়ারে হামলা, পেন্টাগনে বিমান আঘাত এবং ফ্লাইট ৯৩ বিধ্বস্ত হওয়ার সময়গুলোতেও নীরবতা পালন করা হয়। এ বছর প্রথমবারের মতো বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র এলাকায় বিষাক্ত ধূলিকণা ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শে এসে পরবর্তী সময়ে যারা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন, তাদের স্মরণেও একটি আলাদা নীরবতা পালন করা হয়েছে। ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম জানিয়েছে, বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নিহতদের জীবন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের আকাশে ঐতিহ্যবাহী ‘ট্রিবিউট ইন লাইট’ কর্মসূচির মাধ্যমে দুটি আলোকরশ্মি জ্বালানো হয়।

    পেন্টাগনে ট্রাম্পের স্মরণ অনুষ্ঠান

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে পেন্টাগনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকী স্মরণ করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাই করা আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭ পেন্টাগনে আঘাত হানে। এতে বিমানের যাত্রী ও পেন্টাগনে থাকা ১৮৪ জন নিহত হন।

    ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সামরিক ও সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পেন্টাগনের অনুষ্ঠানে হামলায় নিহত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিমানের যাত্রীদের স্মরণ করা হয়। বক্তব্যে ট্রাম্প ও হেগসেথ ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সঙ্গে বর্তমান মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশের সামরিক ভূমিকার বিষয়ও তুলে ধরেন। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন কাউন্টিসহ অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকাতেও স্থানীয়ভাবে নিহত, উদ্ধারকর্মী ও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    পেনসিলভেনিয়ায়  স্মরণ

    পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে ফ্লাইট ৯৩ ন্যাশনাল মেমোরিয়ালে শুক্রবার নিহত ৪০ যাত্রী ও ক্র’র  সদস্যকে স্মরণ করা হয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাইয়ের পর যাত্রীরা টেলিফোনে অন্য বিমানগুলো বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ও পেন্টাগনে আঘাত হানার খবর জানতে পারেন। এরপর তারা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিমানটি শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। অনুষ্ঠানে নিহত যাত্রী ও ক্রদের নাম পাঠ করা হয় এবং তাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীদের প্রতিরোধ ৯/১১ হামলার ইতিহাসে সাধারণ মানুষের সাহসিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণ করা হয়।

    সিআইএর ৭১টি গোয়েন্দা নথি প্রকাশ

    ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে ওয়াশিংটনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএর সদ্য অবমুক্ত করা ৭১টি গোয়েন্দা নথি। প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ৭০টি হামলার আগে তৈরি এবং একটি ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের। এসব নথি প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হয়েছিল।

    নথিগুলো থেকে দেখা যায়, হামলার বহু বছর আগেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছিল। ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারির একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিন লাদেনের রাসায়নিক, জৈবিক ও পারমাণবিক উপাদান সংগ্রহের আগ্রহের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। অন্যান্য প্রতিবেদনে আল-কায়েদার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম এবং বিন লাদেনকে হস্তান্তর করতে তালেবানের অনীহার বিষয় উঠে আসে।

    ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিস্ফোরকবোঝাই বিমান ব্যবহার করে আল-কায়েদার সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার কথাও বলা হয়েছিল। পরবর্তী কিছু প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই এবং বিভিন্ন স্থাপনায় নজরদারির বিষয় উঠে আসে।

    ২০০১ সালের আগস্টের বহুল আলোচিত প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফে ‘বিন লাদেন ডিটারমাইন্ড টু স্ট্রাইক ইন ইউএস’ শিরোনামে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে দেশটির অভ্যন্তরে বিমান ছিনতাইসহ সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সন্দেহজনক তৎপরতার কথা উল্লেখ ছিল।

    তবে নতুন করে প্রকাশিত নথিগুলো ৯/১১ হামলা প্রতিরোধে মার্কিন সরকারের ব্যর্থতার বিষয়ে বিদ্যমান ঐতিহাসিক মূল্যায়নকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে না। বরং এসব নথি হামলার আগে মার্কিন কর্মকর্তাদের হাতে থাকা গোয়েন্দা তথ্য এবং আল-কায়েদার হুমকি সম্পর্কে তাদের ধারণার আরও বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে। ৯/১১ কমিশনের তদন্তে এর আগে বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, ব্যবস্থাপনা, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান তথ্য যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যর্থতা হামলা প্রতিরোধে সরকারের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।

    গ্রাউন্ড জিরোর বিষাক্ত ধূলিকণার স্বাস্থ্যঝুঁকি

    ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে হামলার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ ও ধূলিকণার সংস্পর্শে আসা হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক, পুলিশ কর্মকর্তা, উদ্ধারকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য মানুষ পরবর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। নিউইয়র্কের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ নিয়মিতভাবে এমন সদস্যদের নাম স্মরণ করছে, যারা বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। বিভাগটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯/১১-সংশ্লিষ্ট অসুস্থতায় ৬০০-এর বেশি অগ্নিনির্বাপক মারা গেছেন।

    এদিকে নিউইয়র্ক সিটি সরকার বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র এলাকায় হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশের কাজ শুরু করেছে। এসব নথির মধ্যে বায়ুর মান, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং সেই ঝুঁকি সম্পর্কে বাসিন্দা ও কর্মীদের কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সে-সংক্রান্ত নথিও রয়েছে। নতুন নথি প্রকাশের ফলে হামলার পর লোয়ার ম্যানহাটানের বায়ু ও পরিবেশের ঝুঁকি সম্পর্কে কর্মকর্তারা কী জানতেন এবং কখন তা জনসাধারণকে জানানো হয়েছিল—সে প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

    ৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। কংগ্রেস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার করা হয়। বিমানবন্দর ও বিমান ভ্রমণে নিরাপত্তাব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করা হয়। হামলার পর আল-কায়েদা ও তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০০৩ সালে ইরাকেও সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী প্রায় দুই দশক ধরে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

    এই দুই যুদ্ধে হাজার হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হন। একই সঙ্গে আফগানিস্তান ও ইরাকে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারান।৯/১১-পরবর্তী সময়ে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, নজরদারি, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলে।

    মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় আমেরিকানদের ওপর প্রভাব

    ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম, আরব ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও হামলার ব্যাপক প্রভাব পড়ে। হামলার পরবর্তী বছরগুলোতে এসব সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিদ্বেষমূলক অপরাধ, বৈষম্য, জাতিগত ও ধর্মীয় প্রোফাইলিং এবং বাড়তি সরকারি নজরদারির মুখোমুখি হন। তবে একই সময়ে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পেশাগত জীবনে আরও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের স্মরণ কর্মসূচিতেও তাই হামলায় নিহতদের পাশাপাশি হামলার পরবর্তী সামাজিক ও মানবিক প্রভাবের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে।

    টেক্সাসসহ দেশজুড়ে স্মরণ কর্মসূচি

    নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়ার তিনটি প্রধান স্থানের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও শুক্রবার ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মরণসভা, প্রার্থনা, প্রদর্শনী, পতাকা উত্তোলন, বিশেষ অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। টেক্সাসের হিউস্টনে একটি আন্তধর্মীয় স্মরণ অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবীরা ৯/১১ হামলায় নিহত ২ হাজার ৯৭৭ জনের নাম পাঠ করেন। একই অনুষ্ঠানে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে নিহতদেরও স্মরণ করা হয়। দেশটির বিভিন্ন শহরে স্থানীয় বাসিন্দা, অগ্নিনির্বাপক, পুলিশ কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীদের স্মরণে পৃথক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। অনেক অনুষ্ঠানে হামলায় নিহত স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবার এবং ৯/১১-পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়া উদ্ধারকর্মীদেরও সম্মান জানানো হয়।

    ২৫ বছর পর নতুন প্রজন্মের কাছে ৯/১১

    ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তির সময় যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি প্রজন্ম বড় হয়ে উঠেছে, যারা হামলার দিনটির কোনো ব্যক্তিগত স্মৃতি বহন করে না। ২০০১ সালের পর জন্ম নেওয়া অনেক আমেরিকানের কাছে ৯/১১ এখন ইতিহাসের একটি ঘটনা। তারা হামলার ছবি, ভিডিও, নথি, স্মৃতিচারণ ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে।

    তবে নিহতদের স্বজন, হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং প্রথম সারির উদ্ধারকর্মীদের কাছে ৯/১১ এখনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘস্থায়ী শোকের বিষয়। নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো, ভার্জিনিয়ার পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে শুক্রবারের কর্মসূচিগুলোতে তাই হামলার রাজনৈতিক বা সামরিক প্রভাবের চেয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণই ছিল প্রধান বিষয়।

    ২৫ বছর পরও অব্যাহত পর্যালোচনা

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৫ বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রে ওই দিনের ঘটনা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সিআইএর নতুন নথি হামলার আগে বিন লাদেন ও আল-কায়েদার তৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে থাকা তথ্যের আরও কিছু বিবরণ সামনে এনেছে। নিউইয়র্কে প্রকাশিত সরকারি নথি হামলার পর বিষাক্ত ধূলিকণা ও বায়ুর মান নিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    অন্যদিকে ৯/১১-পরবর্তী সামরিক অভিযান, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবারের স্মরণ কর্মসূচিতে এসব বিতর্কের পাশাপাশি মূল গুরুত্ব ছিল প্রায় ৩ হাজার নিহত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।
    ২৫ বছর পরও ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক দিন হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন নথি, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য এবং হামলার পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সেই দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও জনপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  • ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রমি-রায়ান তাজের ‘জনপ্রিয় গানের একটি মন্ত্রমুগ্ধ-রজনী’

     

    অজিৎ ভৌমিক

    প্রবাসের জনপ্রিয় জুটি প্রমিতাজ ও রায়ান তাজের জনপ্রিয় গানের আসর বসবে ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে অবস্থিত কুইন্স প্যালেসে (Queens Palace, 37-11, 57th Street, Woodside, NY 11377 )। ‘জনপ্রিয় গানের একটি মন্ত্রমুগ্ধ-রজনী’ (A Mesmerizing Musical Night) শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে এই শিল্পী দম্পতি বাংলা সঙ্গীত ও সংস্কৃতির আবহকে আরো প্রাণবন্ত করতে বিস্তারিত প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আর এ অনুষ্ঠানটি হবে Ôলাইভ ফিউশন এন্টারটেইনমেন্টÕর উদ্যোগে। আয়োজকরা জানিয়েছেন কুইন্স প্যালেসের গেট খুলবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।  নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশি সংগীতপ্রেমী, সাংস্কৃতিক অনুরাগী এবং শুভানুধ্যায়ীদের এই বিশেষ সন্ধ্যায় উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন সঙ্গীতের বিশেষ এ আয়োজনটি হয়ে উঠবে সংগীত, সংস্কৃতি, আনন্দ ও মিলনের এক স্মরণীয় সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে  ৩৪৭-৩০৯-৮৩৪১ নম্বরে ফোন অথবা ই-মেইল: tjsoundsnyc@gmail.com করা যাবে।

  • ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার বাংলাদেশী ভিকটিম শাকিলা-নূরল হক মিয়া দম্পতির কথা

     

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশীর মধ্যে শাকিলা ইয়াসমিনের নামে তার গ্রামের বাড়িতে ‘শাকিলা স্মৃতি আবাসন’-এ দরিদ্রতম ১৯টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয় কয়েক বছর আগে। গ্রাউন্ড জিরোতে হারিয়ে যাওয়া একমাত্র কন্যা শাকিলার স্মৃতি রক্ষায় সিলেটের মৌলভীবাজারের গ্রামের বাড়িতে শাকিলা ইয়াসমিনের স্মরণে তার বাবা শরীফ চৌধুরী নির্মিত এই প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছে শীঘ্রই মালিকানা দলিল হস্তান্তরের কথা জানালেন শরীফ চৌধুরী। ঐ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদদাতাকে শরিফ চৌধুরী আরো জানান, বয়সের কারণে নানাবিধ অসুস্থতায় দিনাতিপাত করছি। নিকটজনদের দায়িত্ব দিয়েছি ঐ পরিবারগুলোর দেখভালের। তবুও স্বস্তি পাচ্ছি না। কারণ ওদের যদি মনোকষ্ট বাড়ে তাহলে আমার মেয়েটির আত্মা শান্তি পাবে না। এজন্যেই শীঘ্র বাংলাদেশে গিয়ে ঐসব জমির দলিল করে দিয়ে আসবো।

    গ্রামের বাড়িতে শাকিলা স্মৃতি আবাসন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
    শাকিলা হাউজিংয়ের বাসিন্দারা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    শরীফ চৌধুরী বললেন, ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির গ্রাউন্ড জিরোতে (টুইন টাওয়ার ধ্বসে পড়ার স্থান) স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলী সমাবেশে শাকিলার মা-সহ এসেছেন। সেখানে তারা আরো শতশত সন্তান হারানো স্বজনের সাথে শাকিলার নাম খোদাই করা স্মৃতির পাথরে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেন। অসহনীয় স্মৃতি রোমন্থনকালে শরীফ চৌধুরী জানালেন, দীর্ঘ ২৫ বছরের একটি মুহূর্তও ভুলে থাকতে পারিনি শাকিলাকে। ২০০১ সালে তার বয়স হয়েছিল ২৬ বছর। শাকিলা কাজ করতেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে অবস্থিত মার্ক এ্যান্ড ম্যাকলিলনে। কর্মরত অবস্থায়ই ইন্তেকাল করেছেন। তার স্বামী নূরুল হক মিয়াও কাজ করতেন একই কোম্পানীর অডিওভিজ্যুয়াল টেকনোলজির ডিরেক্টর হিসেবে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার সন্তান নূরুল হক মিয়ার স্মরণে সেখানে একটি এতিমখানা-কাম মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন তার পরিবার। শরীফ চৌধুরী বললেন, তাদের উভয়ের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত হচ্ছে গ্রামের বাড়িতেও। শরিফ চৌধুরী জানালেন যে, ঐ সন্ত্রাসী হামলায় সত্যিকার অর্থেই যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই।

    ব্রুকলীনে শাকিলা-নূরুল হক মিয়া ওয়ে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    নূরল হক মিয়া-শাকিলা ইয়াসমিন দম্পতি বাস করতেন নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে বে রিজ এলাকায়। এই দম্পতির স্মরণে তাদের বাসার সামনের সড়কের নামকরণ ২০০৫ সালে করা হয়েছে, ‘শাকিলা ইয়াসমিন অ্যান্ড নূরল হক মিয়া ৯/১১ মেমরিয়্যাল ওয়ে’। সেখানেও স্মরণ-সমাবেশ করছেন এলাকাবাসী।

    গ্রাউন্ড জিরোতে সন্ত্রাসী হামলার ভিকটিম ৬ বাংলাদেশী। ছবি-সংগ্রহ।
    গ্রাউন্ড জিরোতে স্মরণ সমাবেশে সাবেক প্রেসিডেন্টসহ বিশিষ্টজনেরা। ছবি-সংগ্রহ।

    উল্লেখ্য, ঐ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছে ২৯৭৭ জন। তারমধ্যে বাংলাদেশী ছিলেন ৬ জন। অপর ৪ জন হলেন মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কে চৌধুরী, সাব্বির আহমেদ এবং মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তাদের স্বজনেরাও এসেছিলেন শুক্রবার ঐ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গ্রাউন্ড জিরোর সন্নিকটে ৯/১১ মেমরিয়্যাল এ্যান্ড মিউজিয়ামে শোক-শ্রদ্ধাঞ্জলি সমাবেশে।

    এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ, বারাক ওবামা, বিল ক্লিন্টন, জো বাইডেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইউএস সিনেটর চাক শ্যুমার, সাবেক মেয়র ব্লুমবার্গ সহ নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির স্টেট গভর্নর ছাড়াও সিনেটর-কংগ্রেসম্যানরা ছিলেন। গ্রাউন্ড জিরোতে সিটি মেয়র জোহরান মামদানিকে সাবেক মেয়র জুলিয়ানির সাথে করমর্দন করতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, দুদিন আগেই মামদানিকে এই স্মরণ সমাবেশে আসতে বারণ করেছিলেন ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার সময়ের সিটি মেয়র জুলিয়ানি।

     

  • নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশী গ্রেফতার

     

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    কর্মস্থলের নিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ প্রদান না করেই মোটা অংকের অর্থ নিয়ে শতশত জাল সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স থেকে দুই বাংলাদেশীকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়েছেন ব্রুকলীন ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী এরিক গঞ্জালেজ। ৮ সেপ্টেম্বর তাদেরকে গ্রেফতারের পর সোপর্দ করা হয় ব্রুকলীন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি ড্যানি চুনের এজলাসে। তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে ১০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে প্রকাশ। এবং ৪ নভেম্বর তাদেরকে কোর্টে হাজির হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টিগেশন কমিশনার নাদিয়া আই সিহাটাকে পাশে নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী গঞ্জালেজ গণমাধ্যমকে জানান , নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজের পূর্বশর্ত হচ্ছে স্টেট প্রশাসনের নির্দ্ধারিত ট্রেনিং গ্রহণ করার পর সার্টিফিকেট নেয়া। আর এ দায়িত্ব সম্পাদনের জন্যে বাংলাদেশী লুৎফুর রহমান (৩৪) এবং মোহাম্মদ তুষার (৩৪) কুইন্সের ১৪৬–০৪ হিলসাইড এভিনিউ এবং ব্রুকলীনে ৫২৯ ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউতে Ôরেডকোড ইনকÕ নামে দুটি অফিস খুলেন। এ অফিস থেকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে পেশা শুরুর জন্যে Ôদ্য অক্যুপেশনাল সেইফটি এ্যান্ড হেল্থ এডমিনিস্ট্রেশনÕ তথা ওষাÕর ট্রেনিং দেয়ার কথা। কিন্তু তারা ট্রেনিং ছাড়াই অনেক মানুষকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন বলে তদন্তে উদঘাটিত হয়। আর এভাবে জাল সার্টিফিকেট প্রদানের বিনিময়ে মাথাপিছু ৫০০ ডলার করে নেয়ার প্রমাণও পেয়েছেন তদন্তকারিরা। ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী উল্লেখ করেছেন, নির্মাণকাজ চলার স্থানে শ্রমিকসহ সকলের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রয়োজনীয় ট্রেনিংয়ের বিকল্প নেই। কিন্তু উপরোক্ত দুই ব্যক্তি প্রশিক্ষণের ন্যূনতম প্রক্রিয়া অবলম্বন না করেই সার্টিফিকেট ইস্যু করেছেন। এহেন অপকর্মে লিপ্ত থাকায় Ôরেডকোড ইনকÕর মালিক জ্যামাইকার বাসিন্দা লুৎফুর রহমান এবং সহযোগী হিসেবে হাওয়ার্ড বীচের বাসিন্দা মোহাম্মদ তুষারকে অবশ্যই কঠিন শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে। ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ২২ এপ্রিল থেকে এ বছরের ১৬ জুলাই পর্যন্ত তদন্ত চালানো হয়। তদন্তকারিরা ছদ্মবেশ ধারণ করেন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে। তারা উপরোক্ত Ôরেডকোড ইনকÕর অফিস ভিজিট করেছেন। সে সময় রহমান এবং তুষার ৫০০ ডলার পেলেই একেকজনকে ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংয়ের ওষা কার্ড এবং সাইট সেইফটি ট্রেনিং (এসএসটি) কার্ড দিতে সম্মত হন। এজন্যে বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী কোন ক্লাস বা ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করা হয়। কারণ তারা ব্যাক ডেটে ট্রেনিং প্রদানের যাবতীয় কাগজ রেডি রেখেছেন। এরপর তারা জাল সার্টিফিকেট ও ওষা কার্ড প্রদান করেন।

    উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় বেশ কজন বাংলাদেশীসহ অর্ধ শতাধিক নির্মাণ শ্রমিক নিহত এবং আহত হয়েছেন। তারা ওষা কার্ডধারী এবং এসএসটি সার্টিফিকেটধারী হলেও ক্ষতিপূরণের মামলার সময় তার সত্যতা মেলেনি। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই হয়তো সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন, যার খেসারত দিতে হয়েছে প্রাণের বিনিময়ে-অভিমত প্রবীন নির্মাণ ব্যবসায়ীগণের।

  • নজরুল সম্মেলনে মেধাবি শিশু-কিশোর বাছাইয়ের প্রতিযোগিতা

    বাছাই পর্বে সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত শিশু-কিশোরেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    নিজস্ব প্রতিনিধি
    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম, সংগীত ও সাহিত্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ২১তম ‘নর্থ আমেরিকা নজরুল কনফারেন্স’ উপলক্ষে ৬ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হয় এক প্রতিযোগিতার। মেধাবি প্রতিভাসম্পন্ন শিশু ও তরুণ-তরুণী বাছাইয়ের এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়  ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডে হলিডে ইন এক্সপ্রেসে।

    উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলা সংস্কৃতি ও নজরুলের সৃষ্টির সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় ৫–১১ বছর এবং ১২–১৮ বছর বয়সী প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে। বিষয় ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও সাহিত্য। একক প্রতিযোগিতায় নৃত্য, কণ্ঠসংগীত ও আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিরা তাদের প্রতিভা তুলে ধরে।

    প্রবাসের মাটিতে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বাংলা সংস্কৃতির প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। তাদের পরিবেশনা শুধু উপস্থিত দর্শকদের আনন্দিত করেনি, বরং প্রমাণ করেছে যে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ রয়েছে।

    প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশুকে সম্মানসূচক সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বিভাগ ও বয়সভিত্তিক গ্রুপের বিজয়ীদের জন্য ট্রফি প্রদান করা হবে ২১তম কনফারেন্সের মূল মঞ্চে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ।

    বাছাই পর্বে অভিভাবকের সাথে শিশু-কিশোরেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    আরও আনন্দের বিষয় হলো প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রতিযোগীরা ১৯ সেপ্টেম্বর সম্মেলনের মূলমঞ্চে তাদের প্রতিভা উপস্থাপনের বিশেষ সুযোগ পাবে।

    বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের (বাই) এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা নয়; বরং প্রবাসের নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

    জানা গেছে, কবিতা বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অনুতোষ সাহা ও শওকত খান দিপু। সঙ্গীত বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ডরোথি বোস ও ফয়সল কাদের। নৃত্য বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন পরমা সান্যাল ও রণবীর সাহা। এই প্রতিযোগিতা পর্বটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন বাইয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি আফরিন ফ্যান্সি এবং তাঁকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন বোর্ড সদস্য তানিয়া রহমান ও মুহাম্মদ দিদার।

  • ট্রাম্পকে বিজয় দিলে ভোটাররা পাবেন ৫ হাজার ডলার করে!

     

    টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি-সংগ্রহ।

    বিশেষ সংবাদদাতা

    ভোটের বিনিময়ে মাথাপিছু ৫ হাজার ডলার করে প্রদানের অঙ্গিকার করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসছে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তি নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয়কক্ষে (সিনেট ও হাউজ) রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অটুট রাখলেই প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক আমেরিকানের নামে ঐ চেক ইস্যুর অঙ্গিকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে অনুষ্ঠানরত রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তি জাতীয় সম্মেলনের প্রথম রজনীতে পৌণে দুই ঘন্টার অধিক সময়ের এই ভাষণে মূলত: আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিগণের পক্ষে ভোট প্রার্থনার আকুতি উচ্চারিত হয়েছে। ৫ হাজার ডলার করে প্রদানের এই অঙ্গিকার বাস্তবায়িত করতে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মত লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ২৭ কোটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ আছেন বলে সেনসাস ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দেনার পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার। এমন একটি নাজুক পরিস্থিতি সত্বেও আরো ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গিকারকে অনেকে অযৌক্তিক মনে করছেন। আরো উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছিলেন যে, জয়ী হতে পারলে তিনি ক্ষমতা গ্রহণের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ থামাবেন। এমনকি বিরাজমান মূল্যস্ফীতি দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গিকারও করেছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনী অঙ্গিকারের অন্যতম ছিল সীমান্তে দেয়াল নির্মানের তহবিল মেক্সিকো-কে প্রদান করতে হবে। বাস্তবে কী তা ঘটেছে?

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় কোন দলের ‘মধ্যবর্তী জাতীয় সম্মেলন’ আয়োজনের রেকর্ড নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন আয়োজনের মধ্যদিয়ে নিজ দলের প্রার্থীগনের নাজুক অবস্থা ঠেকানোর কৌশল অবলম্বন করেছিলেন বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। এমনকি, একেকটি ভোটের মূল্য ৫ হাজার ডলার করে স্থির করতেও দ্বিধা করেননি-যা বিদ্যমান আইনের পরিপন্থি বলে নির্বাচনী আইন নিয়ে কর্মরতরা মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের অতিতের অঙ্গিকার পূরণের ইতিহাস খুব একটা না থাকায় এবারের এই টোপ তেমন কাজে আসবে বলে সচেতন নাগরিকেরা গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিক মন্তব্যে প্রকাশ করেছেন। এ সময় অবশ্য ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমক্র্যাটদের একটি অঙ্গিকারের কথা স্মরণে এনেছেন সুধীজনেরা। সে সময় জর্জিয়া সিনেট নির্বাচনের সময় ডেমক্র্যাটরা অঙ্গিকার করেছিলেন যে, ইউএস সিনেটের ঐ আসনটি তাদের প্রদান করা হলে প্রত্যেক আমেরিকানের নামে দুই হাজার ডলারের করোনা ভাইরাস রিলিফ চেক ইস্যু করা হবে। জর্জিয়ার আসনে জয় পেয়েছে ডেমক্র্যাটরা। এবং পরবর্তীতে দুই হাজার ডলারের চেক প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প তার সর্বশেষ অঙ্গিকার অনুযায়ী  মাথাপিছু দুই হাজার ডলারের ‘ট্যারিফ চেক’ প্রদান করেননি। এর আগে ইলন মাস্কের মদদ অনুযায়ী ফেডারেল কর্মচারি ঢালাওভাবে ছাটাইয়ের মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া অর্থ থেকে মাথাপিছু ৫ হাজার ডলার করে প্রদান করেননি। অর্থাৎ অঙ্গিকার পূরণ না করার অনেক উদাহরণ রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। ট্রাম্পের এমন অঙ্গিকারের কঠোর সমালোচনা করে ‘দ্য সেন্টার ফর ইলেকশন ইনোভেশন এ্যান্ড রিসার্চ’র নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেকার গণমাধ্যমে বলেছেন, ট্রাম্পের এমন কথাবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন-ব্যবস্থাকে সন্দেহপ্রবণ করে তোলার একটি প্রয়াস পরিলক্ষিত হচ্ছে।

  • প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতির বনভোজনে উৎসবের আমেজ

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    মরমী জ্ঞান সাধক গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজী’র স্মৃতি বিজড়িত

    প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক বনভোজন’২৬ ও মিলন মেলা।

    ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক শহরের অদূরে লং আইল্যান্ডের বেবিলনের বেলমন্ট লেক স্টেট পার্কে প্রায় আড়াই শতাধিক প্রবাসী শেরপুরবাসীসহ তাদের শুভাকাংখী ও বিভিন্ন জেলার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। দুপুর ১২টার দিকে লাল-নীল রং-বেরঙের বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মার্কস হোম কেয়ার ও কুইন্স এডাল্ট ডে কেয়ারের সিইও ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হকের প্রতিনিধি মার্কস হোম কেয়ারের মহা ব্যবস্থাপক মাসুম বিল্লাহ শিশির ।নিউ ইয়র্কের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌর্দযে সজ্জিত লং আইল্যান্ড স্টেট পার্কে দিনব্যাপী এ বনভোজনে ছিল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনু্ষ্ঠান ও আকর্ষণীয় র‌্যা‍ফেল  ড্র । উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হল প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতির বার্ষিক বনভোজন ।

    বনভোজনের উদ্বোধন করেন অতিথিগণ।

    ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন নাইচ চৌধুরী, মো. সিরাজুল ইসলাম, রুপচাঁন মিয়া, ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ সুমন, রাশেদ মামুন ও রাকিবুল হাসান রাসেল, শামীম রেজা প্রমুখ। পড়ন্ত বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা । সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার প্রদোষ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন  মাসুম বিল্লাহ শিশির, গেস্ট অব অনর বিশিষ্ট চিকিৎসক সফিউল্লাহ শিবলী, এম ডি, বিশেষ অতিথি খামার বাড়ী সুপার মার্কেটের স্বত্বাধিকারী ,বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সাপ্তাহিক প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, দেশ পত্রিকার সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান , প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক মোঃ মনজুরুল হক, সংগঠনের সাবেক সভাপতি মামুন রাশেদ,ও সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মোঃ ছামেদুল হক।

    বনভোজনে বিভিন্ন পর্বে বিজয়ীগণের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিসহ কর্মকর্তারা।

    প্রবাসী শেরপুরবাসীর এবারের বনভোজনে র‌্যা‍ফেল ড্র’র প্রথম পুরুস্কার নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউ ইয়র্ক বিমান টিকেট প্রদান করেন মার্কস হোম কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক। দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল সোনার গহনা সংগঠনের সভাপতি প্রদোষ চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক ছামেদুল হকের সৌজন্যে, তৃতীয় পুরস্কার ছিল ৫৫” তসিবা এলজিডি টিভি ইউ এস ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরের সিইও মশিউর রহমান মজুমদারের সৌজন্যে ।এ ছাড়াও ল্যাপটপসহ ১৩টি আকর্ষণীয় পুরুস্কার জিতে নেন প্রবাসী শেরপুরবাসী ও আমন্ত্রিত ভাগ্যবান অতিথিরা। আর্কষণীয় র‌্যাফেল ড্র পরিচালনা করেন প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক আবুল কাশেম। তাঁকে সহযোগিতা করেন রাকিবুল ইসলাম রাসেল, ছামেদুল হক, শামীম রেজা,মামুন রাশেদ, লিটন জামান, ইনজিনিয়ার জাকির হোসেন প্রমুখ। পুরস্কার বিতরন করেন মাসুদ পারভেজ মুক্তা, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সংগঠনের সাবেক সভাপতি নাহিদ রায়হান লিখন। শিল্পী শামীম রেজা ও আনোয়ার হোসেন সহ স্হানীয় শিল্পীরা প্রায় সারা দিন দেশের গান পরিবেশন করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছামেদুল হক ঝন্টু ।

  • ইউনুসের পাপের বোঝা টানতে হচ্ছে তারেক রহমানকে

     

    লন্ডন থেকে মতিয়ার চৌধুরী

    ড. মুহাম্মদ ইউনুসের রেখে যাওয়া পাপের বোঝা টানতে হচ্ছে, তারেক রহমানকে।  ইউনুস এবং তার অনুসারিরা দেশটাকে খাদে ফেলে  দিয়ে গেছে। ইউনুস নির্বাচন দিতে চায়নি, সেনা বাহিনী এবং দেশবাসীর চাপের মুখে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিল, তার ইচ্ছে ছিল ধর্মীয় উগ্রবাদিদের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকা। এই ইউনুস যে এতটাই প্রতারক আমরা বুঝতে পারছিলাম তার ক্ষমতা গ্রহনের তিন দিনের মাথায়। দেশটাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলে তারেক রহমানকে আরো কৌশলী হতে হবে। এ মন্তব্য লন্ডন সফররত সাংবাদিক মাহবুব কামালের।

    গত ৭ সেপ্টেম্বর লন্ডন সময় সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের বাংলা টাউনের কাফেগ্রীল রেষ্টুরেন্টে প্রবাসীদের সাথে ‘‘বাংলাদেশ ভাবনা‘‘ এবং আদান প্রদান শীর্ষক এক আড্ডায় সাংবাদিক মাহবুব কামাল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এবং দেশের সাধারন মানুষ চায়, একাত্তরের চেতনা- ৭২ এর সংবিধান। তা অবশ্যই আমাদের ধরে রাখতে হবে। কিন্তু সমস্যা হচেছ উগ্রবাদী গোষ্টী। এই স্বাধীনতা বিরোধী ও উগ্রপন্থিরা  চাইছে মুক্তিযুদ্ধ  এবং ৭২ এর সংবিধান মুছে ফেলতে, এসব ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। এটা যেমন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তারেক রহমান এর পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারনকারী কোন বাঙালিই তা  চাইবেনা।  ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭২ এর সংবিধান বাদ দিলে  আর কিছুই অবশিষ্ট  থাকেনা।

    সাংবাদিক মাহবুব কামাল উল্লেখ করেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেই ভাল নেই, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলে-সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।

    বিশিষ্ট  কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মতিনের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক মোরছালিন মিজানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আড্ডায় আরো বক্তব্য রাখেন ব্যারিষ্টার তানিয়া আমির। মতিউর রহমান মতিন, অ্যাডভোটেক মুজিবুল হক মনি, ফরহাদ আলম হিরুল, ও মোরছালিন মিজানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আড্ডায়  ব্রিটেনে বসবারত সাংবাদিক, আইনজীবি , ব্যবসায়ী সহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন। দেশের বর্তমান সংকট বিশেষ করে গ্যাস বিদ্যুৎ এবং আমদানী রপ্তানী , কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং দেশের বর্তমান আইনশৃঙাখলা পরিস্থিতি, মব সন্ত্রাস এবং দেশের কৌমি মাদ্রসাগুলোতে ক্রমাগত বলাৎকার, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উপস্থিত অনেকেই প্রশ্ন করেন। প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিক মাহবুব কামাল বলেন এঅবস্থা চলতে থাকলে দেশের অধিকাংশ গার্মেন্টস ইন্ডাষ্ট্রি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিস্তির উন্নয়নে আমাদের সকলকে আরো সচেতন হতে হবে।

     

     

     

  • সপ্তম মেয়াদের স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ হবার পথে আবুল বি খান

    আবুল বি খান।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    সপ্তম মেয়াদের জন্যে নিউ হ্যামশায়ার স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশী আমেরিকান আবুল বি খান। ৮ সেপ্টেম্বর রিপাবলিকান পার্টি থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের (প্রাইমারি) নির্বাচনে তিনি আবারো জয়ী হয়েছেন। বোর্ড অব ইলেকশন সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। উল্লেখ্য, এই স্টেটের রকিংহাম ডিস্ট্রিক্ট-৩০ তে তালিকাভুক্ত ভোটারের অধিকাংশই রিপাবলিকান হওয়ায় আসছে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও আবুল খানই জয়ী হবেন। তারপর ১ জানুয়ারি থেকে পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান সপ্তম মেয়াদের জন্যে শপথ গ্রহণ করবেন। ২০১২ সালে সর্বপ্রথম তিনি এ আসনে বিজয় লাভ করেন। দু’বছর মেয়াদি ‘স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ’ পদে ২০১৪ সালে পুনরায় প্রার্থী হননি। তবে ২০১৬ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই তিনি জয়ী হয়ে আসছেন।

    আবাসন ব্যবসায়ী আবুল খান এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সাথে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখায় বারবার বিজয় পাচ্ছেন। আবুল খান এ সংবাদদাতাকে জানান, শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকা হলেও সকল ভোটার আমাকে তাদের একজন হিসেবে মনে করেন। কারণ, আমি সবসময় তাদের পাশে রয়েছি। আবুল খান আরো জানালেন যে, তার নির্বাচনী এলাকায় জনা পাঁচেক বাংলাদেশী ভোটার রয়েছেন। তবে ভারতীয় ভোটারের সংখ্যা একটু বেশী হলেও ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন শ্বেতাঙ্গরা। ‘পুনরায় দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের এ নির্বাচনে আমাকে বিজয় দেয়ায় আমি সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি’-বলেন আবুল খান। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, বিভিন্ন সিটি এবং স্টেট পার্লামেন্টে কমপক্ষে ৩১ জন বাংলাদেশী আমেরিকান স্টেট সিনেটর, সিটি মেয়র, কাউন্সিলম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এরমধ্যে আবুল খান হলেন একমাত্র রিপাবলিকান। অন্য সকলেই ডেমক্র্যাট।

    কারিশমা মন্জুর।

    নিউ হ্যামশায়ার স্টেট থেকে ইউএস সিনেটে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নের নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি বাংলাদেশী আমেরিকান ড. কারিশমা মন্জুর। একইদিন এ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। কারিশমা মন্জুর মোট গৃহিত ভোটের ৩২% পেয়েছেন। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন লাভে সক্ষম হলেন ৬৫% ভোট পেয়ে ক্রিস পাপাস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের কন্যা কারিশমা মন্জুর যুক্তরাষ্ট্রে বসতি গড়েন বহুবছর আগে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার মধ্যদিয়ে। চিকিৎসা-বিজ্ঞানী কারিশমা পেশাগত দক্ষতার মধ্যদিয়ে মানবসেবাকে বেছে নিয়েছেন। তিনি ‘সমাজতান্ত্রিক-প্রগতিশীল ভাবধারা’র ডেমক্র্যাট হিসেবে প্রার্থী হয়েছিলেন। মার্কিন সিনেটে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে অবতীর্ণ হয়ে কারিশমা গোটা কম্যুনিটির দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হলেও নির্বাচনী তহবিল গঠনে পিছিয়ে ছিলেন। তাঁর এই উত্থানকে পরবর্তী নির্বাচনে থামিয়ে রাখা সম্ভব হবে না যদি সকল বাংলাদেশী আমেরিকান তহবিল সংগ্রহে কার্পন্য না করেন-এমন অভিমত অভিজ্ঞজনদের।

    আবুল খানের এ বিজয়ের সংবাদকে স্বাগত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফজলুল হক, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, নিউইয়র্কে সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জাফরউল্লাহ, বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির চেয়ারম্যান ও সিইও আলিম খান আকাশ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুন্নাহার খান নিশা প্রমুখ। তাঁরা পৃথক পৃথকভাবে বলেছেন যে, আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের পথে আবুল বি খানের অবস্থান নতুন প্রজন্মকেও উৎসাহিত করছে।

  • নিউইয়র্কে চট্টগ্রামের মেজবানে ৫ হাজারের অধিক প্রবাসী

    ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) এবং ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবানে অতিথিগণের একাংশ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    নিজস্ব প্রতিনিধি
    বীর চট্টলার সর্বস্তরের প্রবাসীদের সমাগম ঘটেছিল নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন রেস্টুরেন্ট ও পার্টি হলে ৬ সেপ্টেম্বর রোববার ‘মেজবান এবং ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) উপলক্ষে। বিকেল থেকে মধ্যরাত অবধি ৫ হাজারের অধিক প্রবাসী পর্যায়ক্রমে এতে অংশ নেন। মূলধারার রাজনীতিকদের মধ্যে ছিলেন হায়রাম মনসেরাত, এটর্নী মঈন চৌধুরী, খোরশেদ খন্দকার, এডভোকেট মজিবর রহমান, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আব্দুল কাদের মিয়া, সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জাফরউল্লাহ প্রমুখ। বিশাল এ আয়োজনের জন্যে গঠিত কমিটির আহবায়ক ছিলেন সামসুল আলম চৌধুরী। অপর কর্মকর্তাগণের মধ্যে ছিলেন : সদস্য-সচিব মো. সেলিম হারুন, সমন্বয়কারি মনির আহমেদ। নিউইয়র্ক, কানেকটিকাট, বস্টন, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন মেট্র এলাকা ছাড়াও রোড আইল্যান্ডের প্রবাসীদেরকে স্বাগত জানান চট্টগ্রাম সমিতির প্রতিষ্ঠাতাগণের অন্যতম এবং পরবর্তীতে নেতৃত্ব প্রদানকারি আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ হানিফ, কাজী আজম, আবু তাহের, কামাল হোসেন মিঠু, আরিফুল ইসলাম, নাজিমউদ্দিন, আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, সরোয়ারুজ্জামান সিপিএ, মো. আলী নূর, হাজী টি আলম, অজয় তালুকদার, নাসির চৌধুরী, শফিকুল আলম, মো, ঈষা, চৌধুরী আজিজ, মোরশেদ রিজভী চৌধুরী, মোহাম্মদ এনাম চৌধুরী প্রমুখ।
    মাগরিবের আগে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই বীর চট্টলার প্রবাসীরা সর্বজনীন এ আয়োজন করে আসছেন। দিনদিনই তার প্রতি সাধারণ প্রবাসীগণের আগ্রহ বাড়ছে বলে এবারের আয়োজনে তা দৃশ্যমান হয়েছে। নবান্ন রেস্টুরেন্ট ও পার্টি হলের ভেতরে বাইরে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ স্ট্রিট খ্যাত ৭৩ স্ট্রিটেও ভীড় দেখা যায় রাত ১০টা নাগাদ। নারীর সমাগমও ঘটেছিল উল্লেখযোগ্যভাবে। নবান্নের খাবার-দাবারে সকলেই তুষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

     

     

  • বাংলাদেশের পরিস্থিতি কি আগের চেয়ে ভালো?

    সেমিনারের সঞ্চালনা করেন ড. দীলিপ নাথ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
    সেমিনারে সুধীজনের কয়েকজন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    মার্কিন সিনেটে সংখ্যালঘিষ্ট দল ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা সিনেটর (নিউইয়র্ক)চাক শ্যুমার বলেছেন যে, বাংলাদেশে নাকি সমস্যা নেই। মানবাধিকার পরিস্থিতিও নাকি ভালো। কারণ, চব্বিশের জুলাইয়ের আগে প্রতি মাসে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি সম্পর্কিত যে হারে অভিযোগ পেতেন এখোন তার সিকিভাগও পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি ভালো বলেই হয়তো কেউ আর স্মারকলিপি দিচ্ছেন না, ই-মেলও পাঠাচ্ছেন না। ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ফোবানার সমাপনী দিবসে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যত’ সম্পর্কিত এক সেমিনারের সঞ্চালনাকালে ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দিলীপ নাথ সিনেটরের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলেন, শুধু প্রবীন এই সিনেটরই নন, বাংলাদেশ নিয়ে যারা কাজ করেন তেমন কংগ্রেসম্যানের অফিসেও এখোন স্মারকলিপি প্রদানের ঘটনা অনেক কম। অথচ আগের যে কোন সরকারের তুলনায় গত দু’বছরে বাংলাদেশে মানবাধিকার  পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে এবং প্রতিদিনই ক্ষমতাসীনদের মদদে খুন-ধর্ষণ-লুটতরাজের ঘটনা ঘটে চলেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মত ভিন্নমত পোষণকারি সাংবাদিক-লেখক-রাজনীতিকদের ওপর চলছে বর্বরতা-যা ভাষায় প্রকাশেরও অযোগ্য। ড. দীলিপ নাথ সচেতন প্রবাসীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আবারো চরমপন্থি-আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কবলে নিপতিত হয়েছে-জাতিসংঘের তথ্যেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি প্রকাশ পেয়েছে। হিন্দুশূন্য করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। দেশ তাগে বাধ্য করা হচ্ছে হিন্দুদেরকে।

    সেমিনারের প্যানেলিস্টরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।

    সেমিনারের প্যানেলিস্ট হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন বলেছেন, খুনের মামলায় আটক রাখা হয়েছে প্রথিতযশা সাংবাদিকদের। শতশত সাংবাদিক-সম্পাদকের বিরুদ্ধে কল্পিত হত্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। হাজারো সাংবাদিককে বরখাস্ত করতে মালিক পক্ষকে বাধ্য করা হয়েছে। বিটিভিতে হরিলুটের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনার সময়েই বেসরকারী কয়েকটি টিভি চ্যানেল এবং সংবাদপত্রে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। এগুলো কি আন্দোলন? এসব হচ্ছে জঙ্গিদের আচরণ। ভয়ের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে গণমাধ্যম থেকে সমাজ-জীবনে সর্বত্র। এহেন অবস্থার অবসান ঘটাতে না পারলে বাংলাদেশ আফগানিস্তান, পাকিস্তানের ন্যায় ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। ফরিদা ইয়াসমিন উল্লেখ করেন, চব্বিশের কথিত আন্দোলনের  মোটিভই ছিল একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটানো এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার। গত দু’বছরে সেই ষড়যন্ত্রেরই প্রকাশ ঘটেছে বেআইনীভাবে ক্ষমতা দখলকারিদের আচরণে। জাতীয় প্রেসক্লাবের দু’বারের সাধারণ সম্পাদক এবং দু’বারের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন অবিলম্বে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রূপা, শাকিল-সহ গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিকের নি:শর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন।

    সেমিনারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশের পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নুরুন্নবী বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বাংলাদেশকে হায়েনামুক্ত করতে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে বাংলাদেশকে ফেরাতে চাই শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন। এটাই হচ্ছে সময়ের দাবি।

    প্যানেলিস্ট হিসেবে সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গির এবং সাজ্জাদ হোসেন সবুজ বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি আলোকপাতকালে বলেছেন, একাত্তরের চেয়েও ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে বাংলাদেশে। নোবেল বিজয়ী ইউনূসের পদরেখায় হাঁটছেন তারেক রহমানও। এহেন অবস্থায় প্রবাসীদের সরব হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তুলতে হবে দু:শাসনের বিরুদ্ধে। ওয়াশিংটন দূতাবাসে বাংলাদেশের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ বলেন চব্বিশের কথিত আন্দোলনের পর সন্ত্রাসীদের হামলায় বেশ ক’জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বহু সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে। চাকরিচ্যুতির ঘটনা রয়েছে হাজারো সাংবাদিকের।

  • আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে রিট আবেদন

    নিউজ ডেস্ক

    আওয়ামী লীগ ও দলটির ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন হয়েছে।

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের মো. আল আমিন নামে এক ব্যক্তি রিট আবেদনটি করেছেন।

    এতে ২০২৫ সালের মে মাসে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল চাওয়া হয়েছে।

    রুল জারি হলে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

    রিট আবেদনটি সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ছিল। তবে আবেদনটির ক্রমিক পর্যন্ত এদিন শুনানি হয়নি।

    হাই কোর্টের ওই বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রিট আবেদনটি কার্যতালিকায় ৬০ নম্বর ক্রমিকে ছিল। তবে আজ আদালত ওই ক্রমিক পর্যন্ত পৌঁছায়নি। কার্যতালিকায় থাকা আগের বিভিন্ন মামলার শুনানির মধ্য দিয়ে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়েছে।”

    জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তোলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

    ওই দাবির মুখে গত বছরের ১২ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।

  • ৪১তম ফোবানা কনভেনশন ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, হিউস্টন এবং বাফেলোতে

     

    বিশেষ সংবাদদাতা

    চার খন্ডে বিভক্ত ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েন্স ইন নর্থ আমেরিকা)‘র ব্যানারে আগামী বছর ৪১তম সম্মেলন হবে চার সিটিতেই। ঐক্যের স্লোগানে কর্মরত ফোবানা অনৈক্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবার কোন লক্ষণ এবারও দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, এবারের লেবার ডে উইকেন্ডে (৪-৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং কানাডার টরন্টোতে ফোবানা সম্মেলন হলো। সে সব সম্মেলনের গৃহিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বছর লেবার ডে উইকেন্ডে ফোবানার আসর বসবে ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ইউএস-বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’,  নিউইয়র্ক সিটিতে ‘বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা’ এবং টেক্সাসের হিউস্টন সিটিতে বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে। টরন্টোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের পক্ষ থেকে এখনো পরবর্তী সম্মেলনের হোস্ট সিটি ঘোষণা করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে সেটি নিউইয়র্ক স্টেটের বাফেলোতে হতে পারে।

    এদিকে, ফোবানার নয়া কমিটির নেতৃত্বে চার গ্রুপের দুই চেয়ারম্যান বাস করছেন ফ্লোরিডায় এবং অপর দুই চেয়ারম্যান হলেন নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা। নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসরত চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী আওয়ামী ঘরানার এবং অপর চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ হলেন বিএনপির। অর্থাৎ এ দু’জনের মধ্যে ঐক্যের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও ফ্লোরিডায় বসবসারত আতিকুর রহমান ও এডভোকেট জহীর হলেন আওয়ামী ঘরানার। ফলে সময়ের কারণে তাদের মধ্যে ঐক্যের সম্ভাবনা এখনো উজ্জ্বল বলে সচেতন প্রবাসীরা মনে করছেন। তবে ৪১তম সম্মেলনের হোস্ট সংগঠনকেও এক্ষেত্রে নমনীয় হতে হবে-যার কোন সম্ভাবনা কেউই দেখছেন না। উল্লেখ্য, গত ৪০ বছর ধরেই সম্মেলনের প্রাক্কালে সংশ্লিষ্টরা ঐক্যের কথা উচ্চারণ করলেও কার্যত ফলাফল শুন্য। আর এভাবেই গত কয়েক বছরে ভাঙতে ভাঙতে চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মহামিলনমেলা হিসেবে পরিচিত ‘ফোবানা’।

    ৬ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে সমাপ্ত ৪টি সম্মেলনেই বিপুল লোক-সমাগম ঘটেছিল। বাংলাদেশ এবং প্রবাসের সমসাময়িক ইস্যুতে আলোচনাও হয়েছে। তবে প্রাধান্য পেয়েছে নাচ-গান। নিউইয়র্কের ফোবানায় তিনদিনই বাংলাদেশের এতিহাস-ঐতিহ্য নির্ভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল আশাব্যঞ্জক। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের মানবাধিকার, সুশাসন, সম্ভাবনা, বিদ্যমান সমস্যা নিয়েও সংশ্লিষ্ট সেক্টরের অভিজ্ঞজনেরা কথা বলেছেন।

    ফ্লোরিডার ওরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনেও লোক-সমাগমে ঘাটতি ছিল না। সেমিনারগুলো বরাবরের মত জনশূন্য থাকলেও সাংস্কৃতিক পর্বে অডিটরিয়াম ছিল পূর্ণ বলে জানা গেছে।

    একই অবস্থা কানাডার টরন্টোতেও। উদ্বোধন থেকে সমাপনী-সবকটি সন্ধ্যাতেই লোকে-লোকারণ্য ছিল।

    ক্যালিফোর্নিয়ার লসএঞ্জেলেস সিটিতে অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলনে বেশ কটি স্টেটের প্রবাসীরা সপরিবারে অংশ নেন। স্থানীয়দের ঢল নেমেছিল সন্ধ্যার  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

    সভাপতি আতিকুর রহমান

    সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী

    সভাপতি এডভোকেট জহির
    সভাপতি গিয়াস আহমেদ।

    এদিকে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফোবানার পরবর্তী নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা হলেন : চেয়ারম্যান-জাকারিয়া চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি-দেওয়ান মনিরুজ্জামান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নূরল আমিন বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম, যুগ্ম এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি সুব্রত তালুকদার ও মাহমুদুল হাসান, ট্রেজারার-সাজ্জাদুল হাসান।

    ফ্লোরিডার ওরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠিত ফোবানার পরবর্তী নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা হলেন : চেয়ারপার্সন-আতিকুর রহমান, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি-রহিম নিহাল, ভাইস চেয়ারম্যান-জিয়াউল হক জিয়া এবং আমিনুল ইসলাম কলিন্স, জয়েন্ট সেক্রেটারি-সাহাবউদ্দিন এবং ইমরান জনি আলম, ট্রেজারার-শাহেদুল ইসলাম অঞ্জন।

    লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে ফোবানার বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে  এম রহমান জহির চেয়ারপারসন এবং প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব হয়েছেন। নির্বাচিত অপর কর্মকর্তারা হলেন : ভাইস চেয়ারম্যান আবির আলমগীর, যুগ্ম সচিব অ্যান্থনি গোমেজ পিয়ুস, ট্রেজারার-নাহিদা নাসের ইয়াসমিন।

    এছাড়াও আউটস্ট্যান্ডিং সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন  রবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদীন, মোঃ ইকবাল, শামসুদ্দিন সাগর, মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, মকবুল এম আলী, বাবুল হাই ও ড. আব্দুস সাত্তার।

    সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামান।
    সেক্রেটারি রহিম নিহাল।
    সেক্রেটারি প্রিয়লাল কর্মকার।
    সেক্রেটারি ফিরোজ আহমেদ।

    কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ফোবানার নির্বাহী কমিটির পুরনো কমিটিকেই বহাল রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সভাপতি গিয়াস আহমেদ এবং সেক্রেটারি ফিরোজ আহমেদ। তারা এ ব্যাপারে শীঘ্রই বৈঠকে মিলিত হবেন এবং সামনের বছরের ৪১তম ফোবানার স্থান ও হোস্ট সংগঠনের নামও জানাবেন বলে এই অংশের অন্যতম সংগঠক অনিক রাজ এ সংবাদদাতাকে জানান।

  • নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সম্বর্ধনার আয়োজক কন্স্যুলেট

    প্রধানমন্ত্রীর আগমণের প্রাক্কালে (৩ বছর আগে) পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচিতে মুখোমুখী বিএনপি-আওয়ামী লীগ। ফাইল ফটো।

    বিশেষ সংবাদদাতা

    তারেক রহমানও কী শেখ হাসিনার মত আমলাবেষ্টিত? দীর্ঘ দেড় যুগেরও অধিক সময় যারা নিউইয়র্কে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে মূলধারায় দেন-দরবা্র চালিয়েছেন, তাদের কী মূল্যায়ন হবে না? এমন প্রশ্ন বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীগণের। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, কন্সাল জেনারেল অথবা রাষ্ট্রদূতরাই যদি প্রধানমন্ত্রীর সম্বর্ধনা সমাবেশের সঞ্চালনা/সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে জেএফকে এয়ারপোর্টে আওয়ামী লীগের তুমুল বিক্ষোভের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীরা থাকবে কেন? জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণের সময় বাইরে শান্তি-সমাবেশও তো কূটনীতিকদেরই করা উচিত। এমন প্রশ্নবাণে জর্জরিত নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, ‘আওয়ামী লীগের আক্রমণে রক্ত ঝরে আমাদের, পুলিশের হয়রানির ভিকটিমও হতে হয় আমাদেরই, তাহলে প্রিয়নেতার আগমণের সময় আমরা অবজ্ঞা-অবহেলার শিকার হচ্ছি কেন?

    জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে নিউইয়র্কস্থ কন্সাল জেনারেল মোজাম্মেল হক বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতার সাথে বৈঠক করেন। তারেক রহমান নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বিএনপির কোন নেতাকে সাক্ষাৎ দেবেন না, নাগরিক সম্বর্ধনা যেটি হবে সেখানেও দলীয় কাউকে সভাপতির দায়িত্ব কিংবা পরিচালনায় রাখা হবে না। সম্বর্ধনা সমাবেশে ৭০০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এর মধ্যে নিউইয়র্কস্থ বিএনপির ৩০০ জন, বাইরের স্টেটের ৩০০ জন এবং বাকি ১০০ জন থাকবেন সুশীল সমাজ/এনসিপি, জামায়াতের। এর বাইরে পছন্দের কিছু গণমাধ্যম কর্মীকেও দাওয়াত দেয়া হবে। আর এই নির্দেশনা এসেছে উচ্চ পর্যায় থেকে। এমন তথ্য জানিয়ে নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে আরো বলা হয়েছে যে, পান থেকে চুন খসে পড়ারও সুযোগ নেই। সরকারের নীতি-নির্দ্ধারকদের কথার বাইরে যাবার ন্যূনতম সুযো্গ নেই।

    এমন নির্দেশনার কথা জানাজানি হবার পর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারাই শুধু নন, দুই বছর আগে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত স্টেট ও সিটি কমিটির কর্মকর্তারাও ক্ষুব্ধ-প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এ সংবাদদাতার কাছে। তারা উল্লেখ করেছেন, ‘দীর্ঘ্ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত ফসল হিসেবে প্রিয়নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান এবং আমাদের দলীয় প্রধান হওয়া সত্বেও আমরা কেন তার সান্নিধ্য পাবো না। এটা কেমন আচরণ?’

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকাস্থ নীতি-নির্দ্ধারকেরা জাতিসংঘের এই সফরকে একেবারেই বিতর্কের উর্ধে রাখার অভিপ্রায়ে দলীয় কোন নেতা-কর্মীর সাথে প্রধানমন্ত্রীর দহরম-মহরম না করাকে শ্রেয় ভাবছেন। অর্থাৎ তারেক রহমানের সবকিছুই আমলাবেষ্টিত থাকবে। এমন মনোভাবের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপিসহ সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা। একই অজুহাতে নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীগণের সাথেও তারেক রহমানের প্রেস কনফারেন্সের ব্যাপারটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    অপর একটি সূত্রে এ সংবাদদাতা জানতে পেরেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাগরিক সম্বর্ধনার জন্যে আড়াই লাখ ডলারের বাজেট দিয়েছেন আমলারা। তারেক রহমান সম্মতি দেননি এ বাজেটের ব্যাপারে। সেস্থলে বিকল্প হিসেবে ঢাকায় অবস্থানরত বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন যে, তাকে তথা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে যদি দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে রাষ্ট্রকে এত মোটা অংকের দায় নিতে হবে না। দলীয় নেতা-কর্মীরা অর্থের সংস্থান করতে পারবেন। এ ব্যাপারে গিয়াস আহমেদের বক্তব্য/মতামত জানতে ঢাকায় ফোন করা হয়েছিল। তিনি রিসিভ করেননি। নিউইয়র্কে বসবাসরত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা এম এ বাতিন ঢাকায় গিয়ে পার্টির হাই কমান্ডের সাথে দেন-দরবার চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সম্বর্ধনার সমাবেশ দলীয় নেতৃবৃন্দের সভাপতিত্বে হবার জন্যে। তাহলেই অতীতের ন্যায় সামনের দিনগুলোতেও সাংগঠনিক কর্ম্কান্ডে আরো গতি আসবে।

    বিএনপি ঘরানার একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিউইয়র্কে এ সংবাদদাতাকে জানান, ৭০০ আসনের মিলনায়তনে সম্বর্ধনা সমাবেশ করতে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলার লাগতে পারে। আড়াই লাখ ডলারের প্রয়োজন হবে না। কারণ, আগতদের আপ্যায়নের কোন সুযোগ নেই। শুধুমাত্র মিলনায়তনের ভাড়া, ডিজিটাল ব্যানার, সাউন্ড সিস্টেম এবং বড়জোর লাইটিং আর অতিরিক্ত সিকিউরিটির জন্যে অর্থ লাগবে।

    ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অবতরণের কথা তারেক রহমানের। এজন্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেএফকে এয়ারপোর্টে শান্তিপূর্ণভাবে তুমুল বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। সারা আমেরিকার নেতা-কর্মীরা নিউইয়র্কে আসবেন বলে জানা গেছে। ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি ঠেকানোর দায়িত্বও কী আমলারা নেবেন-এ জিজ্ঞাসা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, জাসাসের নেতৃবৃন্দের। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনা আমলের শেষের দিকে নাগরিক সম্বর্ধনার নামে যে তামাশা হয়েছে সেটির আয়োজক হিসেবে ব্যানারে ‘যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ’ লেখা থাকলেও মঞ্চে বসতেন রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বক্তব্যের সুযোগ দূরের কথা আওয়ামী লীগের কাউকে পরিচয় করিয়ে দেয়াও হয়নি। এর কারণ হিসেবে সংগঠনের সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-অনাচারে লিপ্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ পেশ করা হয়েছিল। যদিও এখোন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সেই সভাপতিকে সরানো হয়নি। বিকল্প হিসেবে পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলীয় কমিটি দেয়া  হচ্ছে।

    এদিকে, বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার কোন কমিটি নেই ২০১২ সাল থেকে। এ অবস্থায় কয়েক খন্ডে বিভক্ত হয়ে কার্য্ক্রম চালানো হচ্ছে নিউইয়র্কে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিকল্প হিসেবে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, মিশিগান, টেক্সাস, ইলিনয়, ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেট্‌ স্টেট শাখার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তাদেরকেও পাত্তা দেয়া হচ্ছে না ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাগরিক সম্বর্ধনা সমাবেশ আয়োজনে। এ ব্যাপারে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন ভিপি ৬ সেপ্টেম্বর এ সংবাদদাতাকে জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন সবকিছুর দেখভাল করছেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা মাঠে থাকবো।

  • নিউইয়র্কে জন্মাষ্টমী প্যারেডে মানবতার জয়গান

    নিউইয়র্কে জন্মাষ্টমী প্যারেডে মানবতার জয়গান

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন তথা ‘জন্মাষ্টমী’ উপলক্ষে ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্কে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ঢল নেমেছিল কুইন্সের হিলসাইড এভিনিউতে। সনাতনী ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষেরা পড়ন্ত বিকেলে বর্ণাঢ্য এক শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে। এর আগে ‘ব্যাক টু স্কুল’ উপলক্ষে শতাধিক শিশু-শিক্ষার্থীর মধ্যে নতুন ক্লাসের জন্যে যাবতীয় সামগ্রি সহ স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়।  শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে বহুজাতিক এ সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতির জয়গান গেয়েছেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেঙ, সিটি কম্পট্রোলার মার্ক লেভাইন, স্টেট এ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্টে (৩২) ডেমক্র্যাট প্রার্থী নাথানিয়েল হ্যাজিকাইয়া প্রমুখ। তারা বিশাল এ শোভাযাত্রার শুরুতে কেক কেটে শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনের মাহাত্ম ছড়িয়ে দেন সমগ্র কম্যুনিটিতে। প্রার্থনা করা হয় মানবতার শোক-শান্তি আর সমৃদ্ধির জন্যে।

    কেক কাটেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা

    এ সময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের পাশে ছিলেন নাভা’র (নিউ আমেরিকান ভোটার এ্যাসিস্ট্যান্স) প্রেসিডেন্ট দীপা নাথ, সেক্রেটারি তাইবা আহমেদ, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হরি শুক্লা, ‘একাত্তর জেনোসাইড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন ড. প্রদীপ কর, বাংলাদেশ হিন্দু –বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা ড. দ্বীজেন ভট্টাচার্য্, শিতাংশু গুহ, ভজন সরকার, এই প্যারেড আয়োজক কমিটির আহবায়ক ইন্দ্রজিৎ সরকার, কো-কনভেনর শক্তি দাসগুপ্ত, অর্জুন কর্মকার, শ্রীবাস দেবনাথ, উৎপল কর্ম্কার, সুবল দেবনাথ, সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা দ্বীপক চক্রবর্তী প্রমুখ। পুরো কর্মসূচির সমন্বয় এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দিলীপ নাথ।

    জন্মাষ্টমীর প্যারেড জ্যামাইকার রাজপথে। ছবি-বাংলা কাগজ।
    জন্মাষ্টমীর প্যারেড জ্যামাইকার রাজপথে। ছবি-বাংলা কাগজ।

    শোভাযাত্রার প্রস্তুতিলগ্নে জন্মাষ্টমী আলোকে বেশ কটি সঙ্গীত পরিবেশন করে সকলকে আপ্লুত করেছেন কৃষ্ণাতিথি, সবিতা দাস ও রুনা রায়। আর শ্রীকৃষ্ণের মহানুভবতার আমেজেই ১৭৫ স্ট্রিটের পার্ক থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা (প্যারেড) পুলিশ প্রহরায় ঢাক-ঢোল আর মানবতার জয়গানে ১৫০ স্ট্রিট পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। শোভাযাত্রাকালিন থমকে যায় বাংলাদেশী অধ্যুষিত এই জনপদ।

    প্যারেড শেষে আয়োজকরা প্রবাসীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পুরো অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে সাড়া দেয়ার জন্যে।