Category: প্রবাস

  • `তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’

     

    Screenshotতারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আগমন উপলক্ষে লংআইল্যান্ড বিএনপির উদ্যোগে ১৬ সেপ্টেম্বর এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন লংআইল্যান্ড বিএনপির সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন ।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট । টেলি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, সাবেক যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু।

    গেস্ট অফ অনর ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মূলধারার রাজনীতিক আক্তার হোসেন বাদল এবং সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুস সবুর ।

    প্রধান বক্তা ছিলেন নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সভাপতি অলি উল্লাহ আতিকুর রহমান ।

    অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা সাইদুর রহমান সাইদ ।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রইস উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল হক আজাদ এবং দেওয়ান কাউছার, স্টেট বিএনপির নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার , মোহাম্মদ জসিম, লংআইল্যান্ড বিএনপির সৈয়দ জিল্লুর রহমান জিল্লু , মোহাম্মদ রফিউর চেয়ারম্যান, শাহাজান সিকদার এবং লংআইল্যান্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বাবর উদ্দিন ।

    আরো বক্তব্য রাখেন রুমানা আক্তার জুথী,এজাজ আহমেদ শাহীন,কাউছার হোসেন ভিপি,হাসান আলী,শওকত আলী এবং মোহাম্মদ হাসান আলী প্রমুখ। লংআইল্যান্ডের মাটি তারেক রহমানের ঘাঁটি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম ইত্যাদি স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করা হয় এ সময় ।

    সকলেই ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে সরব থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেন।

     

  • শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম আবির্ভাব তিথি মহোৎসব ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার

    অজিৎ ভৌমিক

    ‘পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম পুণ্য আবির্ভাব তিথি মহোৎসব’ উদযাপিত হবে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসে ওঁম শক্তি মন্দিরে( ৪০-২৩ ৭২ স্ট্রিট)।

    ‘যে আচরণ, বাক্য, কর্ম- বাঁচাবাড়ার উৎস হয়/তাকেই জানিস  ধর্ম বলে নইলে ধর্ম কিছুই নয়’-মন্ত্রে উজ্জীবিত দিনব্যাপী এই মহোৎসবের আয়োজক হচ্ছে ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসংঘ, ইউএস’।

    এ উপলক্ষে গঠিত কমিটির আহবায়ক সুবাশ দত্ত এবং সদস্য-সচিব সুবাশীষ দত্ত জানান, সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ঝুলন চৌধুরী এবং সম্পাদক সুবাষ তালুকদারের সার্বিক সমন্বয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে সবকিছুকে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ প্রবাসীর সমাগম ঘটাতে।

  • নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সম্বর্ধনা বাতিল

     

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাগরিক সম্বর্ধনা হচ্ছে না। এমনকি ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীগণের সাথে যে বৈঠক হবার কথা ছিল ২৬ সেপ্টেম্বর সেটিও বাতিল হয়েছে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে ১৬ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন যে, ২৫ সেপ্টেম্বর  অপরাহ্নে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে অভিজাত একটি হোটেলের বলরুমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনকে নাগরিক সম্বর্ধনার প্রস্তুতি চলছিল। সেজন্যে কন্স্যুলেট তিন লাখ ডলারের একটি বাজেট চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের নেতা সম্বর্ধনার নামে এত অর্থ ব্যয়ে সম্মতি দেননি। বিকল্প হিসেবে আমি জানিয়েছিলাম যে, প্রবাসে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সে অর্থের জোগান দেব। এতদসত্বেও বাংলাদেশের মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে এতবড় অংকের অর্থ ব্যয়ে আমাদের নেতা সম্বর্ধনায় রাজি হননি।

    তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত জনপদে ব্যানার। ছবি-বাংলা গেজেট।

    গিয়াস আহমেদ আরো জানান, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির শত-সহস্র নেতা-কর্মী প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাবেন। সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে সর্বত্র।

    নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটে সানফ্রান্সিসকো-তে যাবার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সেই প্রোগ্রামও বাতিল হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ন কাজের জন্যে সফরসূচি কিছুটা সংক্ষিপ্ত করে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। এর আগে হোটেলে দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে সাক্ষাৎ দিতে পারেন চেয়ারপারসন।

    গোলাম ফারুক শাহীন আরো জানান, এয়ারপোর্টে এবং জাতিসংঘের সামনে স্বাগত ও শান্তি সমাবেশের জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছে।

    নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন চলমান প্রস্তুতি আলোকে ১৬ সেপ্টেম্বর আরো জানান, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতা হিসেবে তারেক রহমান নিউইয়র্কে আসবেন ২১ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য শুরু হবে। সে পর্বে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্প্রতিবার অপরাহ্নে তারেক রহমানের ভাষণ দেয়ার কথা। সে সময় জাতিসংঘের সামনে তারেক রহমানের ভাষণকে স্বাগত জানাতে শত-সহস্র নেতা-কর্মীর সমাবেশ ঘটবে।

    এদিকে, নিউইয়র্কে তারেক রহমানের পুরো কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীগণকে সুশৃঙ্খলভাবে জেএফকে এয়ারপোর্টে এবং জাতিসংঘের সামনে উপস্থিত হবার আহবান জানিয়েছেন। চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে যাদের অভিবাসনের স্ট্যাটাস নেই বা সমস্যা রয়েছে, তারা যেন গোলযোগের আশংকা থাকা কোন স্থানেই না যান।

    এদিকে, তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে বাংলাদেশী অধ্যুষিত বাণিজ্যিক পাড়া।

    তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে প্রতিরোধের আহবানে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    অপরদিকে, নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে প্রতিরোধের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। তারাও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন জেএফকে এয়ারপোর্টে, জাতিসংঘের সামনে এবং তারেক রহমানের অবস্থানকারি হোটেলের সামনে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শনের। ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণাকালে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ডা. মাসুদুল হাসান জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না। কারণ, তিনি ইউনূসের প্রেতাত্মা হিসেবে আওয়ামী লীগ নির্মূলের চেষ্টা চালাচ্ছেন অত্যন্ত কৌশলে। একদিকে তিনি ‘অন্তর্ভুক্তি’র কথা বলেন, অপরদিকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের আইন করেছেন। বিএনপি আর জামাত-শিবিরের সাবেক জোট এখোন একাট্টা হয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংসের নীলনক্শা অনুযায়ী কাজ করছে-যা একাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিতরা মেনে নিতে পারি না।

  • নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বাংলা নাট্যোৎসব ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর

    আনিসুর রহমান

    প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের বন্ধন অটুট রাখতে নাট্যচর্চা হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মাধ্যম। সেই ধারাবাহিকতায় কয়েক বছর ধরে নিরলস প্রচেষ্টা ও ভালোবাসায় নিউইয়র্কে বাংলা নাটকের চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রবাসী নাট্যদলগুলো।

    তাদের ধারাবাহিক আয়োজনে এবার গ্রীষ্মের শেষপ্রান্তে লং আইল্যান্ডে বসছে শিল্পাঙ্গন নাট্যদলের নবম নাট্য উৎসব। আগামী ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর লং আইল্যান্ডের Levittown Hall, Hicksville-এ দুই দিনব্যাপী এ নাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে শিল্পাঙ্গনের নিজস্ব প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হবে চারটি নাটক। পাশাপাশি নিউইয়র্কের অন্যান্য নাট্যদলও তাদের নির্বাচিত নাটক নিয়ে অংশ নেবে।

    দুই দিনের এ আয়োজনে দর্শকদের জন্য থাকছে শিল্পাঙ্গন নাট্যদলের ভিন্ন স্বাদের চারটি নাটক—‘আমাদের হালখাতা’, ‘রক্তকরবী’, ‘কাঁটাতারে বিঁধে আছে লাল গোলাপ’ এবং ‘বেদের মেয়ে’। প্রতিটি নাটকের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন স্ব স্ব নাটকের রচয়িতা ও নির্দেশকরা, যাঁদের সৃজনশীল ভাবনা ও মঞ্চনির্দেশনায় প্রবাসের মঞ্চে বাংলা নাটক নতুন মাত্রা পাবে। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় মঞ্চস্থ হবে ‘আমাদের হালখাতা’ ও ‘রক্তকরবী’। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় দর্শক দেখবেন ‘কাঁটাতারে বিঁধে আছে লাল গোলাপ’ ও ‘বেদের মেয়ে’।

    প্রবাসে বাংলা নাটকের চর্চা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরিরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিশেষ করে নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক নগরীতে নিয়মিত নাট্যচর্চার মধ্য দিয়ে বাংলা সংস্কৃতির নিজস্ব পরিসর তৈরি করে চলেছে শিল্পাঙ্গন।

    কুইন্স থেকে এবার লং আইল্যান্ড—মঞ্চ বদলালেও বাংলা নাটকের প্রতি ভালোবাসা ও দর্শকের সঙ্গে শিল্পীদের সেই সম্পর্কই থাকছে এ উৎসবের মূল শক্তি। আয়োজকদের প্রত্যাশা, দুই দিনের এ উৎসব প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের জন্য হয়ে উঠবে শিল্প, সংস্কৃতি ও মিলনমেলার এক প্রাণবন্ত উপলক্ষ। নাট্যপ্রেমী ও সংস্কৃতি সচেতন প্রবাসীদের উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিল্পাঙ্গনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—“মঞ্চের আলোয় মিলিত হই, বাংলা নাটকের সঙ্গে, আপনজনের সঙ্গে।”

    উৎসবের নাটক ও সময়সূচি

    ১৯ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৪টা : আমাদের হালখাতা — রচনা ও নির্দেশনা : মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
    রক্তকরবী — রচনা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , নির্দেশনা : শিরিন বকুল।
    ২০ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৪টা : কাঁটাতারে বিঁধে আছে লাল গোলাপ — রচনা : রাজিয়া নাজমী, নির্দেশনা : মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বেদের মেয়ে — রচনা : পল্লীকবি জসীম উদ্দীন, নির্দেশনা : মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম

    উৎসবস্থান : Levittown Hall 201 Levittown Pkwy, Hicksville, NY 11801

     

  • কাদের-নাছিমসহ আওয়ামী লীগের ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

    Screenshot

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেতাকর্মীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্থানীয় সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

    আরো ছিলেন সাবেক পানি সম্পদমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের প্রচার ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক, যুবলীগের সভাপতি সেবুল মিয়া, ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ও সেক্রেটারি হৃদয় মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এইচ এম ইকবাল, সেক্রেটারি  সৈয়দ কিবরিয়া জামান, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ শাহনাজসহ সংগঠনসমূহের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও কর্মসূচিতে ছিলেন।

    বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। সেখানে ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান এবং দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের প্রচারপত্রে রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ও ‘সাজানো বিচার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরে বিচারপ্রক্রিয়া ও প্রহসনের রায় প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে রায় বাতিলের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত চব্বিশের জুলাই-আগস্ট’র কথিত গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

  • নিউইয়র্কে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

     

     

    জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    দীপক কুমার আচার্য

    ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউতে এই মহা-শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী বাঙালি অধ্যুষিত এই এলাকার ১৬২ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে ১৬৯ স্ট্রিট পর্যন্ত আনন্দমিছিলটি প্রদক্ষিণ করে। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১২০০ জনেরও বেশি পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাজে সজ্জিত শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য সবার নজর কাড়ে। ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার এই মেলবন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন

    সামাজিক সংগঠন এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন ভজন সরকার, শীতাংশু গুহ, ড. সব্যসাচী ঘোষ দস্তিদার, প্রিয়তোষ দে, রণজিৎ সাহা, সমর রায়, দীপক কুমার আচার্য, গোবিন্দজী বানিয়া এবং রীনা সাহা।

    জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    এই অত্যন্ত সফল আয়োজনের সার্বিক নেতৃত্বে ছিলেন প্রিয়তোষ দে। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে যৌথভাবে সহযোগিতা করেছে নিউইয়র্কের একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মহামায়া মন্দির, বাবা লোকনাথ আশ্রম, জ্যামাইকা কালী মন্দির, টাইমস স্কোয়ার দুর্গা পূজা, ওম শক্তি টেম্পল, গৌর নিতাই মন্দির, বালগোপাল সংঘ, সার্বজনীন গীতা সংঘ, গুরুচক্র পরিবার, হিন্দু কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ সেন্টার, উত্তর আমেরিকান হিন্দু কল্যাণ সংঘ, বাংলাদেশ সেবা সংঘ, শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ ইউএসএ ইনক, বাংলাদেশ বেদান্ত সোসাইটি, মতুয়া মিশন অব নিউইয়র্ক, শ্রীমদভগবত গীতা স্টাডি সেন্টার ইনক, হরেকৃষ্ণ নামহট্ট সোসাইটি অব নিউইয়র্ক, বাংলাদেশ পূজা সমিতি এবং সনাতন সেবাশ্রম ফাউন্ডেশন ইনক (মহাকালী মন্দির)। আয়োজকরা জানান, এই উৎসব কেবল প্রবাসী বাঙালি ও বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির অবদানকেই তুলে ধরেনি, বরং পরিবারগুলোকে একত্রিত হওয়ার, নিজেদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য উদযাপনের এবং শিশুদেও দেশীয় সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করার এক অপূর্ব সুযোগ তৈরি করেছে।

  • আবার কেন জিন্নাহ আলোচনা ঢাকায়

     

    মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে আবারও আলোচনা ঢাকায়। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহকে ঘিরে আমাদের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার বিতর্ক নতুন নয়। তবে জিন্নাহকে বুঝতে হলে শুধু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক ইতিহাস দেখলেই হবে না, দেখতে হবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং ভারত ভাগের পর তাঁর একমাত্র মেয়ে দিনা ওয়াদিয়ার জীবনও।

    মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একমাত্র মেয়ে দিনা ওয়াদিয়া পাকিস্তান সম্পর্কে বাবার মাজারে গিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বোম্বাই ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যান চিরতরে। মুম্বাইয়ের অভিজাত মালাবার হিল এলাকায় তাঁর বাড়িটি এখনও আছে। জিন্নাহর একমাত্র মেয়ে দিনা ওয়াদিয়া ভারত ভাগের পর বাবার সঙ্গী হননি। তিনি মুম্বাইয়েই থেকে যান। যাননি পাকিস্তানে।

    এই একটি তথ্যই জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক জীবনের একটি বড় বৈপরীত্য সামনে আনে। যে মানুষটি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংগ্রাম করেছিলেন, তাঁর নিজের একমাত্র সন্তান সেই নতুন রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেননি।

    দিনা ওয়াদিয়া ছিলেন জিন্নাহর একমাত্র সন্তান। ১৯১৯ সালে লন্ডনে তাঁর জন্ম। তাঁর মা রতনবাই জিন্নাহ ছিলেন পারসি পরিবারের মেয়ে। দিনার শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় সময় ভারত ও ইংল্যান্ডে কেটেছে। পরবর্তী জীবনে তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত, বিয়ে এবং জীবনযাপন নিয়ে জিন্নাহর সঙ্গে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়।

    দিনা পারসি পরিবারের যুবক নেভিল ওয়াদিয়াকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে জিন্নাহ সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। বাবা-মেয়ের সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ে। কিন্তু দূরত্ব তৈরি হলেও সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বাবার প্রতি দিনার আবেগ ও ভালোবাসা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশ পেয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হলো। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলো। জিন্নাহ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হয়ে নতুন রাষ্ট্রের নেতৃত্ব নিলেন। বোম্বাইয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান হলো। তিনি চলে গেলেন পাকিস্তানে। কিন্তু দিনা থেকে গেলেন ভারতে। তিনি পাকিস্তানে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেননি।

    দিনা জীবনে দুইবার পাকিস্তান সফর করেন। প্রথমবার, তাঁর বাবা পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুর পর, ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে তিনি পাকিস্তানে যান। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম পাকিস্তান সফর।

    এরপর দীর্ঘ সময় দিনা ওয়াদিয়া পাকিস্তান যাননি। ভারতে, বিশেষ করে মুম্বাইয়েই তিনি দীর্ঘ সময় বসবাস করেন। জীবনের শেষদিকে তিনি লন্ডন ও নিউইয়র্কেও বাস করেন।

    প্রথম সফরের দীর্ঘ ৫৬ বছর পর ২০০৪ সালে দ্বিতীয়বার পাকিস্তান সফরে যান দিনা। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের সময় আমন্ত্রণ জানান। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের একটি বিশেষ সময়ে এই সফর হয়েছিল। ক্রিকেট তখন দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছিল।

    ২০০৪ সালের সেই সফরে দিনা ওয়াদিয়া তাঁর বাবার মাজারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দীর্ঘ ৫৬ বছর পর বাবার সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর আবেগ ছিল স্পষ্ট। ব্যক্তিগত আবেগ ও বাবার প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই তিনি মন্তব্য বইয়ে লিখেছিলেন—

    “এটি আমার জন্য একই সঙ্গে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিস্ময়কর এক অভিজ্ঞতা। তাঁর পাকিস্তানের স্বপ্ন যেন সত্যি হয়।”

    বাবার মাজারে দাঁড়িয়ে একমাত্র মেয়ে দিনা ওয়াদিয়ার এই মন্তব্যে যেন তাঁর নিজের সংশয় ও বেদনার কথাই উঠে এসেছিল। একজন মেয়ের কাছে এটি ছিল বাবার স্মৃতির সামনে দাঁড়ানোর মুহূর্ত; কিন্তু ইতিহাসের দৃষ্টিতে এটি ছিল আরও বড় একটি প্রতীকী ঘটনা।

    কারণ দিনা ছিলেন সেই মানুষের একমাত্র সন্তান, যিনি পাকিস্তানের জন্মের জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অথচ সেই রাষ্ট্রে তিনি কখনো স্থায়ীভাবে বসবাস করেননি। ২০০৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে তাঁকে বাবার মাজারে দাঁড়াতে হয়েছিল একজন অতিথি হিসেবে। এই বৈপরীত্য ইতিহাসের একটি গভীর প্রশ্ন সামনে আনে—রাষ্ট্রের রাজনৈতিক জন্ম আর মানুষের ব্যক্তিগত পরিচয় কি সব সময় একই পথে চলে?

    ভারত ভাগের ইতিহাস মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ইতিহাস হলেও এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিয়েছিল সাধারণ মানুষ। পরিবার ভেঙেছে, মানুষ দেশ বদলেছে, সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ এক ভূখণ্ড থেকে অন্য ভূখণ্ডে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। জিন্নাহর নিজের পরিবারও এই বিভাজনের মানবিক অভিঘাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল না।

    দিনা ওয়াদিয়ার জীবন সেই বিভাজনের একটি ব্যতিক্রমী প্রতিচ্ছবি। তাঁর বাবা পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু তাঁর নিজের জীবন ভারতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় হননি, কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেননি এবং পাকিস্তানে বসবাসও করেননি। তাঁর পরিচয়ের মধ্যে একই সঙ্গে ছিল জিন্নাহর উত্তরাধিকার, ভারতের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং বিভক্ত উপমহাদেশের জটিল ইতিহাস।

    এখানেই জিন্নাহকে নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান আলোচনার গুরুত্ব। বাংলাদেশের ইতিহাস পাকিস্তানের ইতিহাস থেকে আলাদা হয়ে জন্ম নিয়েছে। ১৯৪৭-এর পাকিস্তান থেকে ১৯৭১-এর বাংলাদেশ—এই দীর্ঘ পথের মধ্যে বাঙালির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ভাষার অধিকার, অর্থনৈতিক বৈষম্য, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জাতীয়তাবাদের প্রশ্ন একে একে সামনে এসেছে। তাই বাংলাদেশে জিন্নাহকে নিয়ে আলোচনা কখনোই শুধু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাকিস্তানের জন্ম, পূর্ববাংলার অভিজ্ঞতা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস।

    জিন্নাহকে কেউ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দেখেন, কেউ ভারত বিভাজনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবে মূল্যায়ন করেন। আবার বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর উত্তরাধিকারকে দেখা হয় ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার অংশ হিসেবে। ফলে জিন্নাহকে নিয়ে আলোচনা করতে হলে আবেগের পাশাপাশি ইতিহাসের ধারাবাহিকতাও মনে রাখতে হবে।

    আর দিনা ওয়াদিয়ার জীবন সেই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দিক সামনে আনে। জিন্নাহ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর একমাত্র মেয়ে সেই পাকিস্তানে বসবাস করেননি। ২০০৪ সালে জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি বাবার মাজারে ফিরে এসে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁর বক্তব্যে ছিল বাবার প্রতি ভালোবাসা, স্মৃতি ও আবেগ; পাশাপাশি ছিল পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের প্রত্যাশা ও সংশয়ের ছাপ।
    ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর, ৯৮ বছর বয়সে নিউইয়র্কে দিনা ওয়াদিয়া মারা যান। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জিন্নাহ পরিবারের একটি দীর্ঘ ব্যক্তিগত অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
    কিন্তু ইতিহাসের গল্প শেষ হয় না। জিন্নাহকে নিয়ে ঢাকায় যখন আবার আলোচনা হচ্ছে, তখন তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পাশাপাশি দিনা ওয়াদিয়ার জীবনও মনে রাখা দরকার। কারণ ইতিহাস শুধু রাষ্ট্রের জন্মের গল্প নয়, ইতিহাস মানুষেরও গল্প। জিন্নাহ একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; তাঁর একমাত্র মেয়ে সেই রাষ্ট্রে বসবাস করেননি। এই বৈপরীত্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভারত ভাগের ইতিহাসের অনেক না-বলা কথা।

    ১৯৪৭ সালের বিভাজন শুধু মানচিত্র বদলায়নি মানুষের পরিচয়, পরিবার, সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎও বদলে দিয়েছিল। জিন্নাহর পরিবারও সেই ইতিহাসের বাইরে ছিল না। আর তাই আজ ঢাকায় জিন্নাহকে নিয়ে আলোচনা উঠলে প্রশ্ন শুধু হওয়া উচিত নয় জিন্নাহ কে ছিলেন? প্রশ্ন হওয়া উচিত, তাঁর রাজনৈতিক স্বপ্নের পরিণতি কী হয়েছিল, সেই স্বপ্নের ভেতরে থাকা মানুষগুলো কোথায় দাঁড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত উপমহাদেশের ইতিহাস আমাদের কোথায় নিয়ে গিয়েছিল?

  • জেএফকে-জাতিসংঘে-হোটেলের সামনে বিক্ষোভসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে স্মারকলিপি

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী। ছবি-বাংলা গেজেট।

     

    অজিৎ ভৌমিক

    নিউইয়র্কে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় এক জনাকীর্ন সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্যে আসা বাংলাদেশের ‘অসাংবিধানিক-অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তথা জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের জনক তারেক রহমান’ কে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধের বিস্তারিত কর্মসূচি অবহিত করা হয়। এ সময় জানানো হয়, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে এবং সেই সন্ত্রাসের নেপথ্য নায়ক ছিলেন তারেক রহমান। এছাড়া, এটা সকলেই জানেন যে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশুণ্য করার যে ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছিল তার মাস্টারমাইন্ডও ছিলেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের আচরণ এতটাই নৃশংস ছিল, ঘোষ দুর্নীতিতে এতটাই নিমজ্জিত ছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে নিষিদ্ধ করেছিল। কখনোই সে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। কিন্তু সুদখুর ইউনূসের কূটকৌশলে বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়রাণ্যে পরিণত করে বিশেষ গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার অঙ্গিকারে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে বাঙালি জাতিগোষ্ঠির বিরুদ্ধে জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং সর্বত্র তারেককে প্রতিহত করার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়। জেএফকে এয়ারপোর্টে তুমুল প্রতিরোধ রচনায় হাজার হাজার নেতা-কর্মীর সমাবেশ ঘটানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিক্ষোভ-সমাবেশের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সংগ্রহ করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। ছবি-বাংলা গেজেট।

    সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য প্রদানের পর লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুর রহমান চৌধুরী ইমদাদ। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান এবং মানবাধিকার সংগঠক ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মঞ্চে উপবেশনকারি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা নুরুল আবসার সেন্টু, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কিবরিয়া জামানসহ মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ।

    সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ডা. মাসুদুল হাসান (সর্ববামে)। ছবি-বাংলা গেজেট।

    এ সময় ইমদাদ চৌধুরী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে প্রতিরোধ করতে আওয়ামী পরিবার ঐক্যবদ্ধ এবং সারা আমেরিকার নেতৃবৃন্দ জড়ো হবেন নিউইয়র্কে। বিদ্যমান আইনের আওতায় আমরা সবকিছু করবো। বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমরা অবহিত করতে চাই যে, তারেক রহমান হচ্ছেন মানবতার দুশমন, গণতন্ত্রের শত্রু এবং ঘুষ-দুর্নীতির বরপুত্র। তারেকের কারণে বাংলাদেশে কেউ স্বস্তি-শান্তিতে নেই। বিচারের নামে চলছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তার হোলিখেলা। তারেক রহমানেরা গণতন্ত্রের জিকির তোলে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল ‘আওয়ামী লীগ’কে নিষিদ্ধের নামে তামাশা শুরু করেছে। এসব তথ্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবহিত করে অবিলম্বে তারেকের অপসারণ দাবি করা হবে। ডা. মাসুদুল হাসান জানান, তারেকের বিরুদ্ধে এবারের আন্দোলন হবে সবচেয়ে জোরদার এবং সুসংগঠিত।

    সংবাদ সম্মেলনের প্রারম্ভে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগানে মুখরিত অবস্থায় নবান্ন পার্টি সেন্টারে প্রবেশের সময় ভিন্ন এক পরিবেশ তৈরী হয়েছিল এবং এরমধ্যদিয়েই বাংলাদেশে চলমান অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রবাসেও তৈরী হওয়া ক্ষোভের আভাস মেলেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে সমাপনী বক্তব্য দেন রফিকুর রহমান রফিক। ছবি-বাংলা গেজেট।

    উপস্থিত সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেকের বিরুদ্ধে সকল কর্মসূচিতে সচেতন প্রবাসী এবং গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক।

    সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য এখানে উপস্থাপন করা হলো :

    আসসালামুআলাইকুম/আদাব। শুভসন্ধ্যা ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই মুজিবীয় শুভেচ্ছা। আপনারা জানেন গত ১২ ফেব্রুয়ারির সান্ধ্য ভোট তথা পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন। আপনারা জানেন তারেক রহমান সেই ব্যক্তি যাকে মার্কিন সরকার ব্যাপক দুর্নীতির জন্য তাদের দেশ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তদানীন্তন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক গোপন তারবার্তা পাঠিয়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্বে সাড়া-জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস ওই তারবার্তাটি প্রকাশ করে। তারবার্তায় বলা হয়, দূতাবাস মনে করে, রাজনৈতিকভাবে সংঘটিত ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতির জন্য তারেক রহমান দায়ী। তার দুর্নীতির কারণে মার্কিন ঘোষণাপত্রে বর্ণিত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তার লক্ষ্য বিনষ্ট হওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তারেক রহমান যাকে বাংলাদেশের মানুষ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে চেনে এবং সেই সময়ে যার আরেক নাম ছিলো “মি. টেন পারসেন্ট”, আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সফর করতে পারেননি। এই সেই তারেক রহমান যিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে হাওয়া ভবন-খোয়াব ভবন খুলে বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    একুশে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল এবং দীর্ঘ ১৭ বছর সে লন্ডনে পালিয়েছিল। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৭টি মামলা হয়েছে।

    পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, অর্থ-পাচারসহ ২০ টি মামলা বিচারাধীন ছিলো। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খুনী ও সুদখোর ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতায় আদালতের ওপর প্রভাব খাটিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ সকল মামলা থেকে তার বেকসুর খালাসের ব্যবস্থা করেন তিনি। পরে ইউনুসের সাথে লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক গোপন সমঝোতার অংশ হিসেবে ১৭ বছরের পলাতক জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন।

    সুতরাং যেই মার্কিন সরকার তারেক রহমানের মতো একজন চরম দুর্নীতিবাজ লোককে তাদের দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তাঁকে আবার তাঁদের দেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছে দেখে আমরা খুবই আশ্চর্য ও মর্মাহত হয়েছি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই এবং একই সাথে মার্কিন সরকারের নিকট এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাই।

    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,

    আপনারা জানেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত তথা মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জনগণের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। আর এই ষড়যন্ত্রের পেছনে অন্যতম প্রধান কুশীলব ছিলো তারেক রহমান ও তার দল বিএনপি।

    তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই বিএনপি-জামাত অশুভ চক্র কথিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নামে বহু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, পুলিশ সদস্যসহ অসংখ্য মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে ও পুড়িয়ে মারে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস করে ও জ্বালিয়ে দেয়।

    পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর তাদের এই বর্বরতা ইতিহাসের সকল রেকর্ড ভেঙে ফেলে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রতিশোধের নামে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতি চিহ্ন মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।

    তারা শত শত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। তাদের হামলা-মামলার কারণে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী আজ বিনাবিচারে কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এদের অনেকেই বিনা চিকিৎসায় জেলেই মারা গেছেন। তাদের প্রতিহিংসার কারণে লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আজ দেশ ছাড়া, ঘর ছাড়া।

    ষড়যন্ত্রকারী ও হায়েনাদের দখলে থাকা বিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের জীবন আজ অভিশপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন । বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির হাতে অবরুদ্ধ। তাঁদের কারণে দেশ আজ খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, বলাৎকার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মানুষের জীবনে এখন নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সারের হাহাকার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে দেশের মানুষ চরম দুঃসহ জীবন কাটাচ্ছে।

    সুশাসনের অভাবে মাত্র ৬ মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ খেলাপি ঋণের দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে বা ১ নম্বরে অবস্থান করছে ঠিক যেমন ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ টানা ৫ বার দুর্নীতিতে “বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন” হয়েছিল।

    আমরা মনে করি দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা ও এই ভয়াবহ সংকটের জন্য এই অবৈধ বিএনপি সরকার ও এর অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পূর্ণভাবে দায়ী এবং সেই জন্য জাতিসংঘের আসন্ন ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ এবং ভাষণ দেয়ার কোন অধিকার তার নেই।

    সুতরাং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক অবস্থানকালে অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণ থেকে শুরু করে তার নিউইয়র্ক ত্যাগ করা পর্যন্ত “যেখানে তারেক—সেখানেই প্রতিরোধ” কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমানের আগমনের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টের সামনে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ হেডকোয়ার্টারের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    আর এই কর্মসূচি সফল করার জন্য নিউ ইয়র্কের সাংবাদিক সমাজ থেকে শুরু করে সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

    জয় বাংলা
    জয় বঙ্গবন্ধু
    বাংলাদেশ চিরজীবী হোক ।

  • ভিসার ক্ষেত্রে `পাবলিক চার্জ’ বিধি বাতিলের দাবিতে ২২ স্টেটের মামলা

     

    স্টেট এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমসকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মামলা প্রসঙ্গে কথা বলছেন সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি-সংগ্রহ।

    বিশেষ সংবাদদাতা

    জরুরী চিকিৎসা, আবাসন-সহ সরকারী সহায়তা গ্রহণকারিদের জন্যে গ্রীণকার্ড নিষিদ্ধ করার একটি নীতি থামিয়ে দেয়ার অভিপ্রায়ে সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ফেডারেল কোর্টে একটি মামলা হয়েছে। নিউইয়র্কসহ ২২ স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি, ওয়াশিংটন ডিসিসহ বেশ কটি সিটির পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের এহেন পরিকল্পনাকে অমানবিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং মাননীয় আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে সেই নীতি কার্যকর করা থেকে প্রশাসনকে বিরত থাকার নির্দেশ জারির জন্যে। উল্লেখ্য, সামনের শুক্রবার নয়া এই নীতি কার্যকর হবার কথা। মামলা দায়েরকারি স্টেটসমূহ হচ্ছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, কলরাডো, কানেকটিকাট, দেলওয়ারে, হাওয়াই, মেইন, ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসেচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, নিউজার্সি, নিউ মেক্সিকো, নেভাদা, ওরেগণ, পেনসিলভেনিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া। সিটি প্রশাসনের পক্ষে রয়েছেন নিউইয়র্ক সিটি, শিকাগো, সানফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, সান্তাক্লারা, কিং কাউন্টি।

    মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এমন বিধি চালুর শিকার হবে কম্যুনিটিভিত্তিক সুপার মার্কেট/গ্রোসারিসহ হাসপাতালসমূহ। কারণ, এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ গ্রাহকই ফুডস্ট্যাম্প অথবা মেডিকেইডের ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী সিটিজেনশিপ গ্রহণের পরই ফুড স্ট্যাম্প এবং মেডিকেইডÕর যোগ্য হন ইমিগ্র্যান্টরা। এর বাইরে গ্রীণকার্ড হয়নি অথবা অবৈধভাবে বসবাসরত পরিবারে জন্মগ্রহণকারি মার্কিন শিশুরা ফুডস্ট্যাম্প-সহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছে। এমন যোগ্যতাসম্পন্ন অভিবাসীদেরকে ভবিষ্যতে গ্রীণকার্ড এবং ফুডস্ট্যাম্প/হাউজিং/মেডিকেইডের সুবিধা গ্রহণকারিগণের স্বজনের অভিবাসন ভিসা প্রাপ্তির প্রত্যাশাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে-ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নয়া নীতি কার্যকর হলে। মামলা দায়েরকারি স্টেট এটর্নী জেনারেলগণের পক্ষে নিউইয়র্কের এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস এক বিবৃতিতে বলেছেন, কঠোর পরিশ্রমী মানুষদের তার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। অথচ শুক্রকর কার্যকর হতে যাওয়া বিধির পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের ভয়ে ন্যায়সঙ্গত সুযোগ-সুবিধা নিতেও সাহসী হবেন না। অপরদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নীতির সমর্থকেরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই Ôপাবলিক চার্জÕ নীতি সমুন্নত রাখতে হচ্ছে আমেরিকানদের স্বার্থেই। কারণ, অভিবাসনের ভিসা গ্রহণের সময়েই সংশ্লিষ্টরা অঙ্গিকার করেন যে, তারা সরকারী সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। এমন নীতি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই কার্যকর করা হয়েছিল। তবে তা রদ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে। স্মরণ করা যেতে পারে, নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন হ্রাসের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে আসছে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট টানার অভিপ্রায়ে অভিবাসী সমাজের বিরুদ্ধে সাড়াশী অভিযান চালানো হচ্ছে। কথা ছিল কেবলমাত্র গুরুতর অপরাধে লিপ্ত অথবা দন্ডিত অবৈধ অভিবাসীদেরকে যুক্তরাস্ট্র  থেকে বহিস্কারের। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টো। দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকে এখোন পর্যন্ত যত অভিবাসীকে গ্রেফতারের পর বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে তার ৮৯% এর বিরুদ্ধেই অপরাধের কোন অভিযোগ নেই। এভাবে গোটা কম্যুনিটিকে সন্ত্রস্ত জনপদে পরিণত করা হয়েছে। এমনকি, ফেডারেল সরকারের উদ্ধৃতি দিয়ে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কোন দেশের অভিবাসীরা কত পার্সেন্ট সরকারী সহায়তা নিচ্ছেন তার একটি চিত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। সেখানে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশী আমেরিকানদের ৫৫% ফুড স্ট্যাম্প নিচ্ছেন। কোন কোন দেশের সিটিজেনের ৭২% নিচ্ছেন সরকারী সুবিধা।

    ইতিমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারাবিশ্বের কন্স্যুলেটকে ব্রিফ করা হয়েছে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে স্পন্সরকারিদের আর্থিক সক্ষমতা এবং ভিসা প্রত্যাশীগণের দক্ষতা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার জন্যে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনায় অনেকে বিব্রত। এ অবস্থায় ফেডারেল কোর্টে মামলার ঘটনায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে কম্যুনিটিতে।

     

  • তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে নিউইয়র্কে স্টেট বিএনপির জোর প্রস্তুতি

    নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন আনোয়ার হোসেন খোকন। ছবি-বাংলা গেজেট।

    আনিসুর রহমান

    জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্কে আগমণকে স্বাগত জানানোর জন্যে ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় স্টেট বিএনপির উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মৌলানা আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভায় নেতৃবৃন্দ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে দলীয় চেয়পারপাসন তারেক রহমানকে ব্যাপক অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের অভিপ্রায়ে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এ সময় বলা হয়, কারো উস্কানীতে উত্তেজিত না হয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে তারেক রহমানকে ‘শুভেচ্ছা-স্বাগত’ স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত রাখতে হবে। এ সময় উল্লেখ করা হয় যে, বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের বক্তব্য উপস্থাপনের সময়েও বাইরে ‘স্বাগত সমাবেশ’কে সাফল্যমন্ডিত করতে হবে বিপুল উপস্থিতির মধ্যদিয়ে।

    নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সমাবেশের শুরুতে অনুষ্ঠিত দোয়া-মাহফিলে নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    এই প্রস্তুতি সমাবেশে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন ছিলেন প্রধান অতিথি। কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন স্টেট বিএনপির সেক্রেটারি সাঈদুর রহমান সাঈদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রইচ উদ্দিন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন সাবেক যুক্তরাষ্ট্র বি এন পির মহিলা সম্পাদক সৈয়দা মাহমুদা আক্তার শিরিন, কাজী আসাদউজ্জামান, স্টেট বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, বদরুল হক আযাদ, হুমায়ন কবীর, দেওয়ান কাউসার, আশরাফ হোসেন এবং সাংবাদিক আনিসুর রহমান, এবাদ চৌধুরী, নীরা রাব্বানী, আর মাহবুবুল হক,  এম এ কাইয়ুম, জিয়াউর রহমান মিলন, খন্দকার সাইফুর রহমান সাবু, সাইফুল আলম অপু, রানা চৌধুরী, বাফেলো বি এন পির প্রধান উপদেষ্টা সিরাজদৌলাহ বাবুল, সহ সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল হেলাল, উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন, ইনজিনিয়ার মইনুদ্দিন, আলআমিনসহ লং আইল্যান্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ। শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত এবং তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাতে নেতৃত্ব দেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান।

    এদিকে, নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস-সহ বাংলাদেশী বাণিজ্যিক পাড়ায় ‘তারেক রহমানকে-শুভেচ্ছা-স্বাগতম-অভিনন্দন’ জানিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। সর্বত্র সাজসাজ রব উঠেছে বিএনপি নেতার জাতিসংঘে আগমণ উপলক্ষে। অপরদিকে, ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। তবে উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ কর্মসূচির পক্ষে প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

  • কয়েক দশকের বান্ধবী, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আপন বোন

     

    মীনা গেলটিঙ্ক এবং মিনাল টাইসেন। ছবি-সংগ্রহ।

    বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

    ভারতে জন্ম নেওয়া এবং নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবারে দত্তক সন্তান হিসাবে বেড়ে ওঠা দুই নারীর গল্প যেন রূপালী পর্দার কোনও আবেগঘন চিত্রনাট্য।কয়েক দশক ধরে একে অপরের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে পথচলা দুই নারী সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, তারা আসলে একই বাবা-মায়ের সন্তান, আপন বোন।

    বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী মীনা গেলটিঙ্ক এবং ৪৪ বছর বয়সী মিনাল টিসেন, উভয়েরই জন্ম ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে। জন্মের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতের মুম্বাই শহরের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে দুটি ডাচ পরিবার তাদেরকে দত্তক নিয়ে পাড়ি জমায় নেদারল্যান্ডসে।

    কৈশোরে নেদারল্যান্ডসে একটি দত্তক সংস্থার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। প্রথম দেখাতেই চেহারার গঠন, হাসির ধরন আর অমায়িক অঙ্গভঙ্গির অদ্ভুত মিল দেখে চমকে যান দুজনে।

    বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডাচ গ্রামে বেড়ে ওঠা মীনা সেই স্মৃতির কথা স্মরণ করে বলেন, “অনুষ্ঠানে বন্ধুরা আমাদের দুজনকে আয়নায় চেহারা মেলাতে বললে আমি অবাক হয়ে যাই। ওরে বাবা! তার নাক, হাসি একদম আমার মতো! সে রাতে খাবারের টেবিলে আমি কেবল তার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।”

    পরদিন ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময়ের পর শুরু হয় গভীর সখ্য। রক্তসম্পর্কের কোনও অফিসিয়াল তথ্য না থাকলেও তাদের মানসিক টান ছিল প্রবল। একে অপরকে চিঠিতে লিখতেন ‘বোন’ বলে। পড়াশোনা, কৈশোরের প্রেম, গান আর ব্যাকস্ট্রিট বয়েজের অ্যালবাম নিয়ে আলোচনাতেই কেটে যায় বছর।

    তবে জীবনের নিয়মে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মিনাল ফ্রান্সে পাড়ি জমান আর মীনা প্রথম সন্তানের মা হওয়ার পর নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

    এর আগে ২০০৩ সালে ১৯ বছর বয়সে জন্মদাত্রী মায়ের খোঁজে মুম্বাইয়ের অনাথ আশ্রমেও গিয়েছিলেন মীনা, তবে ধুলোবালি জমা পুরনো নথি ঘেঁটেও স্বজনদের সন্ধান মেলেনি।

    ২০১৭ সালে মীনা নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করালেও ডেটাবেইজে স্বজনের খোঁজ পাননি। মেমোরি ফুল হয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে ফোন থেকে অ্যাপটি মুছেও ফেলেন তিনি।

    অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিলে নেদারল্যান্ডসে এসে মিনাল নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করালে উন্মোচিত হয় দীর্ঘদিনের গোপন সত্য। মে মাসে পরীক্ষার ফলে তিনি দেখেন, মীনার ডিএনএর সঙ্গে তার শতভাগ (একই বাবা-মায়ের সন্তান) মিল রয়েছে। ২০ মে ফেসবুকে মীনাকে এই সুসংবাদ পাঠান মিনাল।

    উত্তেজনায় প্রায় ১০ বার ভুল পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাপে লগইন করার কথা জানিয়ে মীনা বলেন, “আমরা একে অপরকে সবসময় বোন বলে ডাকতাম। এই ডিএনএ টেস্ট যেন আমাদের ভেতরের সেই পুরোনো অনুভূতিরই সত্যতা দিল।”

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সত্য উন্মোচিত হওয়ার পর গত অগাস্টে তাদের আবেগঘন পুনর্মিলনী হয়। চোখের পানি, একে অপরকে জড়িয়ে ধরা আর আনন্দে কাটানো ওই মুহূর্তে তারা বোন হিসেবে তোলেন জীবনের প্রথম সেলফি।

    দুই সন্তান নিয়ে ফ্রান্সে বাস করা মিনাল রয়টার্সকে বলেন, “আমরা বোন জানার আগেই বন্ধু ছিলাম। এতদিন আমরা জানতামই না যে আমরা আসলে আপন বোন।”

    তিন সন্তানের জননী মীনা জানান, তাদের চালচলন, কথা বলার ভঙ্গি বা হেঁটে যাওয়ার ভঙ্গি দেখে এখন পরিবারের সবাই অবাক হন। বহু বছর পরস্পরের সুখ-দুঃখে পাশে না থাকার আফসোস ভুলতে এখন দুই বোন পরিকল্পনা করছেন একসঙ্গে ভারতে গিয়ে মুম্বাইয়ের সেই পুরনো রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর।

  • ফোবানার নয়া কমিটির চেয়ারপারসন আতিক, সেক্রেটারি রহিম

     

    ৪১তম কনভেনশনের হোস্ট বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার কর্মকর্তারা ফোবানার পতাকা নিচ্ছেন। ছবি-বাংলা গেজেট।

    বাংলা গেজেট নিউজ

    ফ্লোরিডার ওরল্যোন্ডোতে জাকজমকের সাথে ৪-৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ফোবানার ৩দিনব্যাপী বাংলাদেশ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নয়া নির্বাহী কমিটির তালিকা পাওয়া গেছে। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ৩ বছর মেয়াদের এই কমিটির কর্মকর্তারা হলেন : চেয়ারপারসন-আতিকুর রহমান, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি রহিম নিহাল, ভাইস চেয়ারপারস জিয়াউল হক জিয়া এবং আমিনুল জিলানি কলিন্স, যুগ্ম নির্বাহী সচিব মো. শাহাবউদ্দিন এবং ইমরান জনি আলম ও কোষাধ্যক্ষ-শাহেদুল ইসলাম অঞ্জন। উল্লেখ্য, এই কমিটির সার্বিক নেতৃত্বে সামনের বছর ফোবানার ৪১ তম সম্মেলন হবে নিউইয়র্কে এবং হোস্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা’। ফোবানার ব্যানারও গত সম্মেলনের সমাপনী রজনীতে হস্তান্তর করা হয়েছে বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার কর্মকর্তাগণের কাছে।

    চেয়ারপারসন আতিকুর রহমান।
    এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি রহিম নিহাল।
    ভাইস চেয়ারম্যান জিয়া।
    ভাইস চেয়ারম্যান কলিন্স।
    জয়েন্ট সেক্রেটারি শাহাবউদ্দিন।
    জয়েন্ট সেক্রেটারি ইমরান জনি।
    ট্রেজারার শাহেদুল ইসলাম অঞ্জন।

    প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, চারখন্ডে বিভক্ত ফোবানার ৪০তম সম্মেলনের এই আয়োজনে ৪৭টি সংগঠন অংশ নেয় এবং বিভিন্ন পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন দিনাতজাহান মুন্নী, আাঁখি আলমগীর, সাজু খাদেম, শিরিন শিলা, জায়েদ খান, ইতিশা চৌধুরী এবং সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনকারি সঞ্জয়। হোস্ট হিসেবে ছিল সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বাংলাদেশ সমিতি এবং সহযোগী সংগঠন ছিল বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা, সেন্‌ট্রাল ফ্লোরিডা স্পোর্টস ক্লাব, ওয়ার্ল্ডফেয়ার এ্যান্ড ফিস্ট ইউএসএ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা। পুরো আয়োজনের জন্যে গঠিত কমিটির কর্মকর্তাগণের মধ্যে ছিলেন : কনভেনর আনোয়ার হোসেন সেন্টু, মেম্বার সেক্রেটারি রাসেল মিয়া, প্রধান সমন্বয়কারি নাজিমউল্লাহ লিটন,  এক্সিকিউটিভ মেম্বার সেক্রেটারি মুরাদ হোসেন, এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট শামস আহমেদ, ইভেন্ট কে-অর্ডিনেটর-এ কে এম হোসেন হিটু প্রমুখ।

    নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্বেও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সমাগম ঘটায় ফোবানার সেন্ট্রাল কমিটির পক্ষ থেকে সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

  • বাংলাদেশের কল্যাণে একযোগে কাজের সংকল্প

     

    মেলায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ড. এ কে এ মোমেন। ছবি-বাংলা গেজেট।

    অজিৎ ভৌমিক/মোহাম্মদ হোসেন দীপু

    নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের পথমেলায় বাংলা আর বাঙালির জয়গানের পাশাপাশি প্রিয় মাতৃভূমির কল্যাণে একযোগে কাজের সংকল্প উচ্চারিত হলো। বক্তৃতার পাশাপাশি গানে-গানেও ধ্বনিত হলো একই সংকল্প। সংবাদ বাংলা গেজেট নিউজ সার্ভিস।

    ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার ভরদুপুরে আয়োজক সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তাগণকে পাশে নিয়ে এই মেলার উদ্বোধন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। এ সময় প্রদত্ত সঙক্ষিপ্ত বক্তব্যে ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ভালো থাকলে, আমরা আপ্লুত হই। উন্নয়নে ভাসতে থাকলে সুদূর এই প্রবাসেও আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। একইভাবে বাংলাদেশের অবস্থা খারাপ দেখলে আমাদের রক্তক্ষরণ হয়। আমি অাশা করবো যারা সরকার চালাচ্ছেন, দেশে যারা আছেন, তারা দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবেন। ড. মোমেন উল্লেখ করেন, আমরা সরকারে ছিলাম, আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। এই পশ্চিমা দেশে যে ধরনের সামাজিক পরিবেশ, এক ধরনের উন্নয়নের ধারা, আমরাও আমাদের দেশকে সেভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করেছি। অনেকটা কৃতকার‌্যতাও দেখেছেন। আমাদেরও দুর্বলতা ছিল। আমি আশা করবো, আগামীতে যারা ক্ষমতায় থাকবেন তারা সেই দুর্বলতাকে অভারকাম করে দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্যে কাজ করবেন।

    মেলায় বক্তব্য দেন মর্টগেজ ব্যাঙ্কার আকিব হোসাইন। ছবি-বাংলা গেজেট।

    এ সময় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মইনুল ইসলাম। আরো ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আতাউল গনি আসাদ, কোষাধ্যক্ষ ও মেলার জন্যে গঠিত কমিটির প্রধান সমন্বয়কারি মইনুজ্জামান চৌধুরী, ইফজাল চৌধুরী, দরুদ মিয়া রনেল, আহবায়ক  শেখ জামাল হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক লায়েছ আহমেদ মিনু, সদস্য-সচিব হেলিম উদ্দিন, যুগ্ম সদস্য-সচিব কামরুল হোসেন প্রমুখ। হোস্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন শাহীনুল ইসলাম, আব্দুর রহিম কাদির, জয়নালউদ্দিন লায়েক, মাশুক মিয়া, সৈয়দ লোকমান, বদরুলউদ্দিন, দেওয়ান মোতাচ্ছির প্রমুখ।

    সোনিয়া শারমিনের সাবলিল উপস্থাপনায় সর্বস্তরের প্রবাসীর বিপুল করতালির মধ্যে আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাড়ি-গাড়ি ক্রয়ে সর্বনিম্ন সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাইয়ে দিয়ে কম্যুনিটিতে বিশেষভাবে পরিচিত ব্যাঙ্কার আকিব হোসাইন, জেবিবিএর সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান প্রমুখ। বাংলাদেশ সোসাইটির উভয় প্যানেলের প্রার্থীরাও  মেলায়  এসে ভোট প্রার্থনা করেছেন। অর্থাৎ পথমেলাটি এক পর্যায়ে কানায় কানায় পূর্ন হয় এবং বিভিন্ন পন্যের স্টলেও ভীড় লেগে গিয়েছিল।

     

    মেলায় উপচেপড়া দর্শকের একাংশ। ছবি-মোহাম্মদ হোসেন দীপু।

    শাহ মাবুব, কালামিয়াসহ জনপ্রিয় শিল্পীগণের পরিবেশনায় পুরো মেলা নেচে উঠেছিল আকর্ষণীয় পুরস্কারের র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবার আগ পর্যন্ত। সিলেটের আঞ্চলিক গানের পাশাপাশি ছিল সকল বয়েসী প্রবাসীর জনপ্রিয় গানগুলো।

    আয়োজক সংগঠনের প্রধান মইনুল ইসলাম মেলাকে সাফল্যমন্ডিত করতে ব্যাপক সাড়া দেয়ায় প্রবাসীগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

  • বিসমিল্লাহ লাইভ পোল্ট্রিতে খাশী-ভেড়াও বিক্রি হচ্ছে

     

    বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রি-তে খাশী ও ভেড়া সংযোজনের ঘোষণার পর অনুষ্ঠিত বিশেষ দোয়া-মোনাজাত। ছবি-বাংলা গেজেট।

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    মুরগ-মুরগী- কবুতরসহ নানা জাতের পাখী এবং গ্রোসারি-সামগ্রি সুলভে বিক্রির ২৪ বছরের পথ-পরিক্রমায় উডসাইডের ‘বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রি মীট এ্যান্ড ফিশ মার্কেট’-এ পাওয়া যাবে খাশী ও ভেড়া। অর্থাৎ পছন্দের খাশী ও ভেড়া থাকবে বিসমিল্লাহ্তে। এরফলে কম্যুনিটির দীর্ঘদিনের একটি অভাব পূর্ণ হলো।

    নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের সন্নিকটে উডসাইডে ৩৭-১৫ ৫৫ স্ট্রিটে অবস্থিত বিসমিল্লাহ হালাল লাইভে জীবিত খাশী ও ভেড়ার সংযোজন উপলক্ষে গত বৃহস্প্রতিবার বিশেষ এক দোয়া-মাহফিলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মমিন ভূইয়া জানান, ফ্লোরিডায় ব্যবসার জন্যে বসবাসের সময় মনস্থির করেছিলাম কম্যুনিটির চাহিদার পরিপূরক হালাল পণ্যের গ্রোসারি স্টোর দেব। সে অনুযায়ী ২৪ বছর আগে উডসাইডে এই বিসমিল্লাহ হালাল স্টোর দেই। এ সময় তার ছোট ভাই অর্থাৎ বিসমিল্লাহর অন্যতম মালিক সালাম ভূইয়া জানান যে, সময়ের পরিক্রমা এবং প্রবাসীগণের অকুন্ঠ সহযোগিতায় এই জায়গাটি ক্রয়ে সক্ষম হয়ছি। সেজন্যেই এটিকে ঢেলে সাজিয়ে জীবিত খাশী ও ভেড়া রাখার ব্যবস্থাও হয়েছে। এখোন থেকে চিকেনের মত খাশী ও ভেড়াও পাওয়া যাবে। পছন্দের পর সেটি শরিয়া আলোকে জবাইয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। কেউ ইচ্ছা করলে নিজেই জবাইয়ের সুযোগ পাবেন। সালাম ভূইয়া উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যেই বাফেলোতে ‘বিসমিল্লাহ এ্যাগ্রো ফার্ম’ স্থাপন করেছি। সেখানে গরু-ছাগল-ভেড়ার খামারও রয়েছে। গত ৩ বছর ধরে সেই খামারে বেড়ে উঠা গরু-খাশী-ভেড়া কুরবানী হচ্ছে। সামনের বছরও সেখানে গিয়ে পছন্দের গরু-খাশী-ভেড়া কুরবানী দিতে পারবেন। পাশাপাশি এখানেও থাকবে খাশী-ভেড়া। সুতরাং প্রবাসী বাংলাদেশীরাই শুধু নন-মুসলিম কম্যুনিটির চাহিদার পরিপূরক সবকিছু আমরা তুলনামূলকভাবে কম দামে বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছি। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, মৃদুভাষী সালাম ভূইয়া পিএইচডি করছেন শরিয়া অনুযায়ী হালাল পণ্য বিষয়ে। আরো উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশী মালিকানাধীন এটাই প্রথম একটি ফার্ম যেখানে জীবিত খাশী-ভেড়া, হাঁস-মুরগী এবং ঘুঘু-কবুতরসহ যাবতীয় পাখী বিক্রি হচ্ছে।

    খাশী ও ভেড়া সংযোজেনের ঘোষণার অনুষ্ঠানে বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রির মালিক সালাম ভূইয়া। ছবি-বাংলা গেজেট।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উডসাইডে সম্প্রসারিত ‘বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রির’তে প্রতি পাউন্ড রেড চিকেনের দাম ৩.৯৯ ডলার এবং ১০টি ক্রয় করলে ২টি ফ্রি।  সাদা চিকেনের দামও প্রতি পাউন্ডে ২.৯৯ ডলার করে এবং ১০টি ক্রয় করলে একটি ফ্রি দেয়া হচ্ছে। লাল রঙের ৩টি হার্ড চিকেনের দাম ১৮ ডলার করে।

    বিশেষ এই দোয়া-মাহফিল সঞ্চালনা করেন মাওলানা শহিদুল্লাহ এবং শরিয়া আইন সম্পর্কে আলোকপাত করেন মাওলানা ফায়েক আহমেদ। মোনাজাতে নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবু জাফর বেগ।

  • নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে যত অঙ্গিকার

     

    চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে নির্বাচনের সদস্যগণ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    বিশেষ সংবাদদাতা

    নিউইয়র্ক অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নির্বাচনে সরাসরি দুটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। ৪৫ হাজার ভোটারের এ নির্বাচন হবে ২৫ অক্টোবর।

    জ্যাকসন হাইটসের নিকটে বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব ভবনে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চ’ড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের জানান, ৫ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র একজন (রাব্বি সৈয়দ)প্রার্থী ছাড়া অন্য ২১ আসনে দুই প্যানেলে ৪২ জন রয়েছেন। সকলেই মাঠে নেমেছেন নিজ নিজ প্যানেলের কর্মসূচি নিয়ে। সকলের কাছে সমাদৃত চমৎকার একটি নির্বাচনে আমরা অঙ্গিকারাবদ্ধ এবং এজন্যে গণমাধ্যমের সহযোগিতার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের। এ সময় তার পাশে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য শামসুদ্দিন আজাদ, রুহুল আমিন সরকার, মিয়া মো. দুলাল এবং মিঠু হামিদ। বিদায়ী কমিটির সভাপতি সেলিম এম রহমান ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে গঠিত প্যানেলকে  ‘বি প্যানেল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে ‘এ প্যানেল’ হচ্ছে আজমল হোসেন ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্যানেল।

    প্যানেল-এ ‘র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। ছবি-বাংলা গেজেট।

    প্রার্থীরা হলেন : সভাপতি পদে সেলিম এম এ রহমান এবং আজমল হোসেন। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট : মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান এবং দুলাল বেহেদু, ভাইস প্রেসিডেন্ট:আবুল কালাম ভ’ইয়া এবং মো. কামরুজ্জামান, জেনারেল সেক্রেটারি: ফিরোজ আহমেদ, মোহাম্মদ আলী এবং রাব্বি সৈয়দ, সহকারি সাধারণ সম্পাদক নওশাদ হোসেন এবং হারুন-অর রশীদ, ট্রেজারার মো. নওশাদ হায়দার ও মফিজুল ইসলাম ভ’ইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল আনসারী ও জেড এইচ খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তফা অনিক রাজ এবং আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ ও সাঈদ গওসুল হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মনসুর আহমদ এবং কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ এ আকতার ও রোমানা আহমেদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মোর্শেদ আলম ও হাসান খান, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক এ এস এম মইনউদ্দিন এবং মো. মইনউদ্দিন, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক বেগম এম চৌধুরী ও শাহনাজ হোসেন, যুব ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গির শহীদ সোহরাওয়ার্দি ও কাজী আর হাসান। নির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন ‘প্যানেল এ’ থেকে সিরাজউদৌলাহ হক, মো. এ সিদ্দিক, মো. আব্দুল বশির, মাসুদুল হক সানু, মো. কাওসার আলম এবং মোহাম্মদ এম ইসলাম। প্যানেল বি থেকে মো. উজ্জল পিপুল, সরোয়ার খান, শামীম আহমেদ, কাজী রবিউজ্জামান, মো. এ মান্নান এবং আব্দুল মালেক খান।

    প্যানেল-বি’র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। ছবি-বাংলা গেজেট।

    ৭৬ বছর বয়েসী বাংলাদেশ সোসাইটির বিগত দিনে কোন কোন পর্যায়ের নেতৃত্বে কম্যুনিটির কল্যাণে আন্তরিক উদ্যোগ পরিলক্ষিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর সদস্য সংখ্যা আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পেলেও মূলধারার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তেমন কোন অবদান রাখতে সক্ষম হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিদায়ী কমিটি নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে দূরের কথা জ্যাকসন হাইটসেও একটি প্যারেডের অনুমতি সংগ্রহে সক্ষম হয়নি। অথচ এই কমিটি এবং তাদের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত বোর্ড অব ট্রাস্টিতে কেউ কেউ রয়েছেন যারা মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করে আসছেন। আসন্ন নির্বাচনে মাঠে নামা উভয় প্যানেলের প্রার্থীরাও বিগত দিনের মত নানা অঙ্গিকার করছেন। আগে নেতৃত্বে থেকে কিছুই করতে পারেননি-এমন প্রার্থীগণের মুখে কম্যুনিটির কল্যাণের অঙ্গিকার খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন না। অধিকন্তু সুধীজনে পুরনো প্রশ্নই আবর্তিত হচ্ছে যে, ৩৫ হাজার ভোটারের এই সংগঠনের প্রতি সাধারণ প্রবাসীগণের আগ্রহ থাকলে ভোটারের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবার কথা। কারণ, নিউইয়র্ক অঞ্চলে বর্তমানে তিন লাখের বেশী বাংলাদেশী বাস করছেন। যে ৩৫ হাজার জন ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন তার ৮০% এরও বেশী নিজে সদস্য ফি প্রদান করেননি বলেও গুঞ্জন রয়েছে। প্রার্থীরা দিয়েছেন অনেকের ফিÕর অর্থ-এটা কারোরই অজানা নেই। তারপরও অনেকে আশা করছেন অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সোসাইটির নয়া নেতৃত্ব নবউদ্যমে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে বাস্তবমুখী কর্মসূচি নিতে দ্বিধা করবেন না। এক্ষেত্রে তাদেরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকতে হবে। জড়িয়ে পড়তে হবে ডেমক্র্যাট আর রিপাবলিকান শিবিরে।

    মার্কিন নির্বাচনের আলোকে উভয় প্যানেলের শীর্ষ প্রার্থী নিয়ে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। আইটি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ করেছেন। সোস্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচারের চেষ্টাও চলছে পুরো অনুষ্ঠানটি। এরফলে প্রার্থীগণের অঙ্গিকার এবং অতীতে কি করেছেন সে সব নিয়েও সরাসরি কথা বলা সম্ভব হবে। এমন আয়োজনের কথা অতীতে কোন কোন আঞ্চলিক সংগঠনের নির্বাচন উপলক্ষে বলা হলেও বাস্তবে তা দৃশ্যমান হয়নি। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের উদ্যোগ অবশ্য নতুন প্রজন্মে সাড়া জাগিয়েছে।