Blog

  • সিলেট সদর থানা এসোসিয়েশনের শীতবস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ

    সিলেট সদর থানা এসোসিয়েশনের শীতবস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ

    সিলেট সদরের রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ৩১ জানুয়ারি দুস্থ, অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ করেছে নিউইয়র্কস্থ সিলেট সদর থানা এসোসিয়েশন।

    এসময় শতাধিক মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও খাদ্য তুলে দেন সিলেট সফররত সংগঠনের সভাপতি আর. সি টিটো, সাবেক ট্রাস্টি কল্লোল আহমদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার হাজী দুলাল মিয়া (এনাম) সহ সিলেট সদরের নেতৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচি সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি আর. সি টিটো ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব খান।

    Facebook Comments Box
  • বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বের মাতৃভাষা পরিস্থিতি: কিছু সুপারিশ

    বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বের মাতৃভাষা পরিস্থিতি: কিছু সুপারিশ

    পৃথিবীর এক নম্বর মধুরতম ভাষা হচ্ছে বাংলা। বর্র্তমানে বিশ্বে প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে। যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৫%। এই ভাষার অবস্থান পঞ্চম। আমরা বিশ্বে সেই মহান জাতি যারা ভাষার দাবিতে লড়াই করেছি এবং প্রাণ বিসর্জন দিয়ে মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। এই একটি মাত্র বিষয়কে কেন্দ্র করে বিশ্বে আমাদের মর্যদাকে উন্নত স্তরে নিয়ে যেতে পারি। ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশ্ব তা পালন করুক বা না করুক, বিশ্বের সকল দেশ ২১ শে ফেব্রুয়ারি স্মরণ করে সেদিন কী ঘটেছিল বাংলা ভাষা নিয়ে। বাংলা আজ আর শুধু বাঙালির ভাষা হিসেবে আবদ্ধ নেই। বিশ্বের অনেক দেশে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে। আমরা সে বিষয়ে পরে আলোকপাত করব। তবে এখানে বলে রাখতে চাই যে সিয়েরা লিয়নে বাংলাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

    বাংলা অতি প্রাচীন ভাষা। আজকে আমরা বাংলা ভাষার যে আধুনিকায়ন দেখতে পাই, হাজার বছর আগে এর রূপ এমন না থাকলেও বাংলা ভাষা ছিল। বিভিন্ন পুঁথিতে আমরা তার কিছুটা সন্ধান পাই। অতি প্রাচীন ভাষা হওয়াতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন গবেষকের মতও ভিন্ন। সন তারিখ নিয়ে গবেষকদের মতের ভিন্নতা থাকলেও উৎপত্তির উৎস প্রায় একই। যেহেতু বাংলা এখন বিশ্বের প্রভাবশালী ভাষা, সুতরাং এই ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে খানিকটা ধারণা থাকা দরকার। এমন তো নয় যে পৃথিবী সৃষ্টির সাথে সাথেই বাংলা ভাষারও প্রচলন শুরু হয়েছিল। তবে একথা বলতে পারি যে বাংলা সরাসরি সৃষ্টি হওয়া কোনো ভাষা নয়। বিভিন্ন ভাষার সংমিশ্রণে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। এর মধ্যে সংস্কৃত এবং পালি অন্যতম। লক্ষণীয় বিষয় যে সংস্কৃত ভাষা এখন বিলুপ্তির পথে। ভারতে মাত্র দশ হাজার মানুষ এখন সংস্কৃত ভাষায় কথা বলে। পালি ভাষার কোনো ব্যবহার কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই।

    বাংলা ভাষা খুঁজে পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দে ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা গোত্রে। সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপত্তির কিংবদন্তি থাকলেও বাংলা ভাষাবিদরা বিশ্বাস করেন, বাংলা মাগধী প্রাকৃত এবং পালির মতো ইন্দো-আর্য ভাষা থেকে এসেছে।

    ইন্দো-আর্য হলো ইন্দো-ইরানীয় ভাষা উপবিভাগের একটি প্রধান শাখা, যা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোত্রের পূর্বাঞ্চলীয় ধরন। প্রখ্যাত ভাষাবিদ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বৈদিক এবং সংস্কৃত উপভাষাগুলোকে প্রাচীন ইন্দো-আর্য যুগের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। মধ্য ইন্দো-আর্য ভাষাগুলোর মধ্যে আছে পালিসহ প্রাকৃতের বিভিন্ন রূপ, যেগুলো পাওয়া যায় সম্রাট অশোক এবং থেরবাদ বৌদ্ধ কাননের শিলালিপিতে।

    প্রথম সহস্রাব্দে বাংলা যখন মগধ রাজ্যের অংশ ছিল তখন মধ্য ইন্দো-আর্য উপভাষাগুলোর বেশ প্রভাব ছিল বাংলায়। এই উপভাষাগুলো মাগধী প্রাকৃত নামে পরিচিত আর এটিই ছিল আধুনিক বাংলা, বিহার ও আসামের লোকদের কথ্য ভাষা। এই ভাষারই বিবর্তিত রূপ অর্ধ-মাগধী প্রাকৃত, যেখান থেকে প্রথম সহস্রাব্দের শেষের দিকে উদ্ভব হয় অপভ্রংশের। অত:পর কালক্রমে এই অপভ্রংশ থেকে একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে জন্ম হয় বাংলা ভাষার।

    বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে সাধারণ ধারণা লাভের পর আমরা জেনে নিতে পারি এই ভাষার বিবর্তন কীভাবে হলো। বাংলা ভাষার উৎপত্তি হওয়ার পর তা একটি জায়গায় থেমে থাকেনি। বিবর্তিত হতে হতে আজকের এই আধুনিক রূপ লাভ করেছে। আজ আমরা যে বাংলা ভাষা ব্যবহার করছি, শুরুতে কিন্তু এই ভাষা এতটা সমৃদ্ধশালী ছিল না। বাংলা ভাষার শুরুটা যদি আমরা দেখি তাহলে বিশ্বাসই হবে না যে এটি আমাদের বাংলা ভাষা। আমরা সেগুলো পড়তেও পারব না, লিখতেও পারব না।

    বাংলা ভাষার বিবর্তনের তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে। পুরাতন, মধ্য এবং আধুনিক বাংলা। পুরাতন বাংলা ছিল ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার পুরোহিত এবং পণ্ডিতদের সাহিত্যের ভাষা। এই সময়ের খুব কম চিহ্নই এখন অবশিষ্ট আছে। সবচেয়ে প্রাচীনতম নিদর্শনের মধ্যে একমাত্র চর্যাপদ পাওয়া যায়। এটি বৌদ্ধ ধর্মের ওপর ভিত্তি করে কবিতার একটি সংকলন যা অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে লিপিবদ্ধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়। চতুর্দশ শতকে বাংলায় শুরু হয় মুসলমানদের সালতানাত। সালতানাত বাংলাকে এই অঞ্চলের সরকারী দরবারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। এই ধারাবাহিকতায় ক্রমেই বাংলার স্থানীয় ভাষায় পরিণত হয় বাংলা।

    ষোড়শ শতকে মুঘলরা বাংলা দখল করলে বাংলা ভাষার সাথে যোগসাজশ ঘটে ফার্সি ভাষার। বর্তমান বাংলা ভাষার আধুনিক রূপটি পাওয়া যায় ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের সময় বাংলার নদীয়া অঞ্চলে কথিত উপভাষায়। এই ভাষার দুটি ভাগ। শুদ্ধ ও চলিত। এগুলোর ভিত্তি গড়েছে প্রধানত মাগধী প্রাকৃত এবং পালিসহ তুর্কি, পর্তুগিজ, ফার্সি ও ইংরেজি।

    ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বাংলাকে সরকারি ভাষা করার দাবিতে বাংলা ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদকে লালন করে। ফলে ১৯৭১ এ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের পর অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশের। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। উনিশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলার প্রমিতকরণের সময় বাংলার সাংস্কিৃতিক কেন্দ্র ছিল ব্রিটিশ অধীন কলকাতা শহর। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উভয় ক্ষেত্রেই যেটি প্রমিত রূপ হিসেবে গৃহীত হয়েছে, তা মূলত নদীয়া জেলার পশ্চিম-মধ্য উপভাষার উপর ভিত্তি করে।
    প্রায় ১৩০০ বছরের দীর্ঘ বিবর্তনে বাংলা ভাষার সাথে যুক্ত হয়েছে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় এবং বিদেশি শব্দ। বহু শতাব্দীর পর ১৯ শতকে এসে রাজা রাম মোহন রায় ও বিদ্যাসাগরের হাতে বাংলা চূড়ান্ত রূপ পায়। বাংলা ভাষা এখন আর বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর বিশ্বায়ন ঘটেছে অনেক বছর আগে থেকেই। খানিকটা দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের বাইরে বাংলা ভাষার পত্তন কতটা হয়েছে এবং বহির্বিশ্বে বাংলা ভাষা কতটা আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছে। এক কথায় বলতে গেলে ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা লাভ করার পরই বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষার দোর্দণ্ড প্রতাপ থাকার কথা কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা, বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবনে অক্ষমতা, আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ব, ঘুষ, দুর্নীতিকে জাতীয়করনের ফলে বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষা একক ছড়ি ঘোরানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা হয়ে ওঠেনি। মাতৃভাষা আদায়ের জন্য আত্মাহুতির ঘটনা বিশ্বে দ্বিতীয়টি নেই। শুধু এই সম্বলটুকু পুঁজি করেই আমরা বিশ্বে এক মহান জাতির মর্যাদা লাভ করতে পারি। কিন্তু আমরা তা না করে আমাদের মহান অর্জনগুলো কীভাবে ভুলুন্ঠিত করা যায় সে কাজে ব্যস্ত আছি। তারপরও বহির্বিশ্বে বাংলা ভাষা কতটা স্থান করতে পেরেছে তার সামান্য উদাহরণ দেওয়া যাক।

    বাংলার বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, আসাম, বিহারসহ আরও কয়েকটি প্রদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম বাংলা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, মালয়েশিয়া এবং ইউরোপের প্রায় সব দেশে যে অসংখ্য বাংলাভাষী বসবাস করেন, তাঁরাও নিজ উদ্যোগে বাংলা ভাষার চর্চা, গবেষণা ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান ও কানাডা থেকে বাংলা ভাষায় বর্তমানে একাধিক সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে, টেলিভিশন-বেতার চ্যানেলে বাংলা ভাষার অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো হচ্ছে বাংলা ভাষা। বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা হচ্ছে মন্ট্রিয়ল, নিউইয়র্ক, টরেন্টো, সিডনি, মেলবোর্ন, টোকিও, ওসাকা, বেইজিং, সিঙ্গাপুর, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিশ্বের বহু নগরীতে। ইউরোপ ও আফ্রিকার একাধিক দেশে মোতায়েন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীরা। ফলে সেখানেও নানাভাবে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে। সিয়েরা লিয়নে কিছুদিন আগে বাংলা ভাষাকে দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এভাবে বাংলা ভাষা ক্রমান্বয়ে বিশ্ব ভাষা প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    বাংলাদেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি বাংলা চর্চা হয় ইউরোপ ও আমেরিকায়। এ দুই মহাদেশে একাধিক নজরুল ও রবীন্দ্র সেন্টার রয়েছে। ইংল্যাণ্ডের ইস্ট লণ্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহামে অসংখ্য বাংলাভাষীর বাস। সেখানকার সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে বাংলা শেখা ও চর্চার সুযোগ রয়েছে। ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষায় গবেষণাকর্ম পরিচালিত হয়, দেখতে পাওয়া যায় নানা ধরনের প্রকাশনা। মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই লন্ডনের সোয়াস নামের শিক্ষায়তনে প্রাচ্যবিদ্যা ও ভাষাচর্চা বিভাগে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে, চলছে গবেষণাও। যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষাকে গবেষণার বিষয় করেছেন জেডি এন্ডারসন, টি ডব্লিউ ক্লার্ক (কেমব্রিজ), জন বোল্টন, উইলিয়াম রাদিচে, হানারুথ থমসন প্রমুখ। তাদের কারোরই মাতৃভাষা বাংলা নয়। হানারুথ থমসন সোয়াসে বাংলার শিক্ষক ছিলেন, ইংরেজিতে বাংলা ভাষার একটি ব্যাকরণও লিখেছেন তিনি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অদিতি লাহিড়ি বাংলা রূপতত্ত্ব ও ধ্বনিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন কয়েক দশক ধরে। এছাড়া সেখানে সিলেটি নাগরি লিপি নিয়ে কাজ করছেন জেমস লয়েড দম্পতি ও রজার গোয়েন।

    যুক্তরাজ্যেও পর বাংলাচর্চা ও গবেষণার অন্যতম স্থান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে কমপক্ষে ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয় ও এশীয় গবেষণাকেন্দ্রে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে, যার মধ্যে নিউইয়র্ক, ইথাকা, শিকাগো, মিনেসোটা, ফ্লোরিডা, মেরিল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়া, উইলকিনসন, হার্ভার্ড উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার অর্থ প্রকাশে মনস্তত্ত্বের ভূমিকা নিয়ে কাজ করছেন জাস্টিন আলফানসো চাকোন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশি বংশদ্ভূত রাশাদ আহমেদ গবেষণা করছেন বাংলা অপশব্দ বা ‘স্ল্যাং’ নিয়ে। নিউইয়র্কে মারিয়া হেলেন বেরো কাজ করেন নজরুল সাহিত্য নিয়ে। এ বিষয়ে তাঁর একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে।
    বাংলা ভাষা শিক্ষাদান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, লালন, চর্যাপদ ও মধ্যযুগের সাহিত্য নিয়ে। যেসব গবেষক এ কাজে জড়িত ছিলেন এবং আছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হচ্ছেন ক্লিন্টন বু থ সিলিচ্যানল ভন বমার, রাফল নিকোলাস, ডেভিড কফ ব্যাচেলবাওয়া, ক্যারল সলোমন, রিকি সলোমন, উইন্সটন ল্যানলি, ক্যারোলিন রাইট, হেনরিগ্রাসি, কেলম্যান, এন্ড্রু সিম্পসন, আন ডেভিড প্রমুখ। তাঁদের মধ্যে ক্লিন্টন বু থ সিলি কবি জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। এন্ড্রু সিম্পসন দক্ষিণ কালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী বংশদ্ভুত দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সলিম-উদ-দৌলা খান ও ভারতের ইন্দ্রনীল দত্ত উচ্চতর গবেষণা করেছেন বাংলা ধ্বনি নিয়ে। কানাডায় প্রয়াত অধ্যাপক জোসেফ ওকনেল, ভ্যাংকুভারে ব্যারি মরিসন বাংলা ভাষার অধ্যাপনা ও গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। মন্ট্রিয়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজেন্দ্র সিংহের তত্ত্বাবধানে বাংলা শব্দ গঠন বিষয়ে গবেষণা হয়েছে সেই ২০০৭ সালে। রাজেন্দ্র সিংহ সম্পাদিত সাউথ এশিয়ান জার্নাল অব ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাণ্ড লিঙ্গুইস্টিকস শিরোনামের গবেষণামূলক পত্রিকায় বাংলা ভাষা নিয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ২০১২ সাল পর্যন্ত। কানাডার টরেন্টো ও মন্ট্রিয়ল থেকে বেশ কয়েকটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়ে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলা কাগজ। টরেন্টো ভিক্টোরিয়া পার্ক-ড্যানফোর্থ এলাকায় গড়ে উঠেছে বাঙালি পাড়া। টরেন্টোতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় বাংলা।

    বহির্বিশ্বে বাংলা ভাষা চর্চার বিষয়ে রাশিয়া এবং জাপানের কথা না লিখলেই নয়। ১৯৯৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি বাংলা একাডেমি আয়োজিত তরুণ লেখক প্রকল্পে অংশ গ্রহণ করি। সেই সময় মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি সাবলীলভাবে বাংলা বলতে পারতেন। তিনি মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় পড়াশোনা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুটি বৃত্তির অফার নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের কোর্স কোঅর্ডিনেটর জনাব সিরাজ উদ্দিন আমাকে একটি বৃত্তি নিয়ে দুই বছরের জন্য মস্কো গিয়ে বাংলায় পড়াশোনা করার অফার দিয়েছিলেন। সে সময় পারিবারিক কারণে দুই বছর বিদেশে থাকা আমার পক্ষে অসম্ভব হওয়ায় আমি বিনয়ের সাথে না বলি। সেই সময় টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন প্রফেসর এসেছিলেন। তিনিও চমৎকার বাংলা বলতে পারতেন। আজও তাঁর নামটা আমার মনে আছে। অধ্যাপক সুয়োশিনারা। সম্প্রতি তিনি প্রয়াত হয়েছেন। জাপানে কতটুকু বাংলা ভাষা চর্চা হচ্ছে তার একটু আলোকপাত করে আমরা জাতিসংঘের দিকে নজর দেব। বাংলা ভাষা নিয়ে কী ভাবছে জাতিসংঘ?

    জাপান, চীন, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণা ও চর্চা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে অগ্রণী নি:সন্দেহে জাপান আর চীন। জাপানে প্রায় ৭০ বছর আগে কাজুয়ো আজুমা রবীন্দ্রপ্রেম থেকে বাংলা ভাষার চর্চা শুরু করেছিলেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চা করে তাঁর সারা জীবন কেটে গেছে। কেই শিরাই, অধ্যাপক নারা (সম্প্রতি প্রয়াত), কাজুহিরো ওয়াতানাবে, কিউকা নিওয়া, তোগাওয়া মাসিকোসহ বেশ কয়েকজন গবেষক জাপান ফাউন্ডেশন ও টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা করেছেন, করছেন। টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজে বাংলা ভাষা শেখানো শুরু হয়েছে পাঁচ বছর আগে। বর্তমানে এই বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ জন। সেখানে পাঠদান করছেন কিউকা নিওয়া, কাজুহিরো ওয়াতানাবে, মনজুরুল হক প্রমুখ। আর কিয়োতো ও ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বাংলা ভাষা শিক্ষা দিচ্ছেন বাংলা ভাষার তরুণ গবেষক হুজিয়ারা। বাংলাদেশের চাক ভাষাও তাঁর গবেষণার বিষয় এবং এই ভাষায় তিনি একটি অভিধান রচনা করেছিন। এছাড়া গিফু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিদিক মাকি বাংলা ও জাপানি ভাষার বাক্য গঠন নিয়ে তুলনামূলক গবেষণা করেছেন। রেডিও এনএইচকেতেও কাজুহিরো ওয়াতানাবের নেতৃত্বে বাংলা ভাষা শিক্ষাসহ নিয়মিত বাংলা অনুষ্ঠান হচ্ছে।

    জাতিসংঘে আমাদের বাংলা ভাষার বর্তমান অবস্থান এক নজর দেখা যাক।

    জাতিসংঘের ছয়টি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছেÑ ইংরেজি, ফরাসি, রুশ, স্প্যানিশ, চীনা এবং আরবি। বাংলা এই ভাষাগুলোর মধ্যে একটি নয়। বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘে বাংলা ভাষার দাবিকে সমর্থন করার জন্য অন্যান্য দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ করছে।

    জাতিসংঘে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি পেলে এর অনেক সুবিধা হবে। এটি বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষার মর্যাদা বাড়াবে এবং বাংলাভাষী মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ করা সহজ হবে।

    যিনি সর্বপ্রথম বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেন তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার জন্য কাজ শুরু করেন। ১৯৭২ সালে তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব উথান্টকে একটি চিঠি লেখেন এবং বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করার অনুরোধ জানান।

    ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। প্রস্তাবটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা এবং নেপালসহ ১৪ টি দেশের সমর্থন পায়। বঙ্গবন্ধু প্রথম ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ২৯ তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন।
    বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থের অভাব। জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার স্বীকৃতি পেতে হলে একটি দেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রভাবশালী হতে হবে। বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব সীমিত। বাংলা ভাষার জন্য জাতিসংঘের সভাগুলোতে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং দক্ষতা তৈরি করা ব্যয়বহুল। বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারে, তাহলে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশে^র ৭ম সৌন্দর্যমণ্ডিত শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস করছি গত ২২ বছর ধরে। বর্তমানে এটি বিশে^র অন্যতম ব্যয়বহুল শহরে পরিণত হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের খরচ বহন করতে না পেরে অনেকে এই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। অনেকে আবার ফিরেও আসছেন। এই শহরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চমৎকার আবহাওয়া। গোটা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে লসঅ্যাঞ্জেলেস বসবাসের জন্য অন্যতম সেরা। এই শহরকে চির বসন্তের শহর বলা যায় এবং এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য যে কাউকে আকর্ষণ করে। তাই জীবন যাপনের খরচ যতই বেশি হোক, খুব সহসা এই শহর কেউ পরিত্যাগ করে না।

    লসঅ্যাঞ্জেলেস এমন একটি আন্তর্জাতিক শহর যেখানে ২৩৫টি দেশের মানুষ বাস করে এবং এরা ২২৪টি ভাষায় কথা বলে। রাষ্ট্রভাষা ইংরেজি। স্প্যানিশ হলো দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় ভাষা। এর পর কোন দেশের কতজন মানুষ বাস করে এবং কে কোন ভাষায় কথা বলে তা নির্ণয় করা সম্ভব না। তবে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় কোরিয়ান ভাষা তৃতীয় হিসেবে পরিগণিত হয়। এরপর আমাদের পরিচিত ভাষার মধ্যে হিন্দি, উর্দু, আরবি, চায়নিজ, জাপানি, থাই, জার্মান এগুলো রয়েছে বলে মনে হয়। বাকি ভাষাগুলো সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। তবে একজন বাংলাদেশি হিসেবে দুঃখ প্রকাশ করে বলতে হয় এখানে বাংলাকে সবচেয়ে অবহেলিত ভাষা বলে মনে হয়। কারণ আমাদের সমসাময়িকরা অনর্গল বাংলা ভাষা ব্যবহার করলেও নতুন প্রজন্ম বাংলা ভাষা ব্যবহারে একেবারেই অনভ্যস্ত। এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাও এমনই যে ইংরেজি ছাড়া অন্য কোনো ভাষাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ক্ষেত্র বিশেষে বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণা বা অন্যকিছু করার সুযোগ খুবই সীমিত। ইতোমধ্যে অবশ্য সিটি অব লসঅ্যাঞ্জেলেস ভোটের ব্যালট পেপার এবং নিয়মাবলীগুলো বাংলা ভাষায় ছাপাতে শুরু করেছে। লসঅ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরে সিটি অব প্যারিস সরকারি অর্থায়নে স্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে দিয়ে বাংলা ভাষার প্রতি অসীম শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে। লসঅ্যাঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ২০১০ সালে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় সামান্য কিছু এলাকাকে ‘লিটল বাংলাদেশ’ (খরঃঃষব ইধহমষধফবংয) এলাকা হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষণা করেছে। যে কারণে স্বল্প পরিসরে হলেও লসঅ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশিদের একটা দাপট আছে। এ ছাড়াও প্রতি বছর সিটি অব লসঅ্যাঞ্জেলেস লোটাস ফেস্টিভ্যাল (খড়ঃঁং ঋবংঃরাধষ) আয়োজন করে এবং বহু ভাষাভাষির মধ্যে বাংলাদেশও যোগদান করতে পারে। আমাকেসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে তারা সম্মাননা পত্র দিয়েছে। এ সব কিছু অর্জনের এসমাত্র উৎস হচ্ছে ভাষা।

    বাংলা ভাষা বিশ্বের সেরা মধুর ভাষা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে পুঁজি করে বিশ্বে আমরা একটি মহান জাতি হিসেবে সম্মানিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ মিশনগুলো এ ব্যাপারে সামান্যতম পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। শুধু সরকার থেকে পাঠানো কয়েকটি বাণী পাঠ আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দামি খাবার বিতরণের মধ্যে তাদের কার্যক্রম সীমিত থাকে। বহির্বিশ্বে বাংলা প্রচার ও প্রসারে সরকারি উদ্যোগের একটি খবরও জানা যায় না। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টি দেশে বাংলাদেশের ৮১ টি কুটনৈতিক মিশন চালু আছে। সেই মিশনের কর্মকর্তারা চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলা ভাষার ব্যাপক পরিচিতি লাভ করাতে পারেন। বিশেষ করে ২১ শে ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলা ভাষার তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষাবিদদের নিয়ে টেলিভিশনে আলোচনা করতে পারেন। স্থানীয় স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ভাষাভিত্তিক অনুষ্ঠান করে বাংলা ভাষাকে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করাতে পারেন। কুটনৈতিক মিশনগুলো ফ্রি বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স বা সামান্য বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে বাংলা প্রসারের ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশে ৫২ টি দেশের দূতাবাস রয়েছে। এসব দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারিদের ফ্রি বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণ দিয়ে একদিকে যেমন বাংলা ভাষার প্রসার ঘটানো সম্ভব অন্যদিকে বাংলাদেশে তাদের কাজ করা অনেক সহজ হবে। তবে এই কাজটি সরকারকেই করতে হবে। ব্যক্তি উদ্যোগে বা কোনো সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশে এটা করা সম্ভব নয়।

    বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসই ভাষা কেন্দ্রীক। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাংলা ভাষার চেতনা থেকে জন্ম নেয় এবং একটি স্বাধীন জাতির আবির্ভাব ঘটে। সুতরাং আমাদের মাথায় রাখতে হবে বাংলা ভাষাকে কোনোভাবে অবজ্ঞা করা মানে আমাদের পুরো জাতির জন্ম ইতিহাসকেই অবজ্ঞা করা। বাংলা ভাষাকে আমরা যত সম্মান দেখাতে পারব, ততই সম্মানিত হব। এর জন্ম ইতিহাস অন্তত সে সাক্ষতই দেয়।

    (লেখক: লসএঞ্জেলেস প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক)

    Facebook Comments Box
  • ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট: ঢাকা ছাড়লেন ফখরুল-খসরু, লন্ডন থেকে যোগ দেবেন জাইমা

    ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট: ঢাকা ছাড়লেন ফখরুল-খসরু, লন্ডন থেকে যোগ দেবেন জাইমা

    যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন তারা।

    যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল। অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিবর্তে যাচ্ছেন মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি লন্ডন থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

    এদিকে ঢাকা ছাড়ার আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ও আমীর খসরু। বিএনপি মহাসচিব সফরকালে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
    আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিনিধিত্ব করবেন তার কন্যা জাইমা রহমান।

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠান হবে। গত ১১ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মার্কিন কংগ্রেসের আয়োজিত ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ কমিটি চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানায়। এ অনুষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতাদের মধ্যে সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম।

    Facebook Comments Box
  • মন্ত্রণালয় নয়, বৈষম্যবিরোধীদের দায়িত্ব ক্যাম্পাসে: রিজভী

    মন্ত্রণালয় নয়, বৈষম্যবিরোধীদের দায়িত্ব ক্যাম্পাসে: রিজভী

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কমিটি গঠন করছে, কিন্তু তাদের মূল দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ে কমিটি গঠন করা নয়; বরং তাদের দায়িত্ব ক্যাম্পাসে থাকা।

    শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী হলে ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ এর কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচিতি সভায় এসব মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি আরো বলেন, মন্ত্রণালয়, জেলা অফিস বা ডিসি অফিসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা কমিটি গঠন করলে ব্যবসায়ী এবং অন্য স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ছাত্রদের পেছনে লাগতে পারে, যা আন্দোলনের উদ্দেশ্য থেকে বিরত করবে।

    কুমিল্লায় এক বিএনপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ অন্যায় করে, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা হোক, তবে কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানুষকে মেরে ফেলবে?’ তিনি সরকারের সময়কালে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটার বিষয়টিও তীব্র নিন্দা করেন।

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, তিনি নির্বাচিত সরকার না হলেও তার রাজনৈতিক দল ও দেশের মানুষের সমর্থন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ড. ইউনূসের আমলে, শেখ হাসিনার শাসনামলের মতো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে এগোনোর আহ্বান জানান রিজভী।

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে বিএনপি সমর্থন জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতার শেয়ার চায় না, তবে তারা আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়।’

    এদিকে, দেশে হাসিনা সরকারের পতন নিয়ে ভারতের মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানোর বিষয়ে রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভারতীয় মিডিয়া তাদের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার করছে।’

    Facebook Comments Box
  • পর্দা উঠলো অমর একুশে বইমেলার

    পর্দা উঠলো অমর একুশে বইমেলার

    বহুল কাঙ্ক্ষিত অমর একুশে বইমেলার পর্দা উন্মোচন হলো বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে শুরু হলো এবারের আয়োজন।

    শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় মাসব্যাপী এ বইমেলার উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হয়েছে প্রাণের বইমেলা। এবার সবচেয়ে বড় বইমেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলা একাডেমি।

    বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে….ছবি সংগৃহীত

    সংগৃহীতবইমেলায় অংশগ্রহণকারী ৭০৮ জন প্রকাশকের মধ্যে ৯৯টি স্টল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে, ৬০৯টি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মাণ করা হবে। গত বছর বইমেলায় ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৩৭টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

    মেলায় ৩৭টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। একটি বাংলা একাডেমিতে এবং ৩৬টি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। লিটল ম্যাগাজিন কর্নারটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছে গাছের নীচে থাকবে, তাতে প্রায় ১৩০টি লিটল ম্যাগাজিন স্টল থাকবে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বইমেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. সরকার আমিন জানান, এ বছরের বইমেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ’।

    এ সময় তিনি অমর একুশে বইমেলা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় বহির্গমন গেটটি মন্দিরের গেটের কাছাকাছি সরানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট ও ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের কাছে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য চারটি পয়েন্ট থাকবে।

    ড. সরকার আমিন জানান, মেলার সীমানা বরাবর খাবারের স্টলের আয়োজন করা হবে ও মেলা প্রাঙ্গণে ৩০টি শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে, যা মেলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের দ্বারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। অনুষ্ঠানস্থলে তিন শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে আর্চওয়ে স্থাপন করা হবে।

    বিগত বছরগুলোর মতো এবারও মেলার মূল মঞ্চ হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে; আর ‘বই খোলা’ এবং ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ স্থাপন করা হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে। মূল মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল ৪টায় সেমিনার ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

    ৮ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি বাদে শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে বিশেষ ‘শিশু প্রহর’। প্রতিবছরের মতো এবারও মেলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের জন্য শিল্পাচার্য, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হবে।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই বছর অমর একুশে বইমেলা পরিবেশবান্ধব এবং শূন্য-বর্জ্য হওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। সকল অংশগ্রহণকারী এবং বইমেলার অংশীদারদের একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাট, কাপড় ও কাগজের মতো টেকসই উপকরণ ব্যবহার করার জন্য উৎসাহিত ও অনুরোধ করা হচ্ছে।

    প্রতি কর্মদিবসে সবার জন্য বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং সরকারি ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে বইমেলা। দুপুরের খাবার ও নামাজের জন্য এক ঘন্টা বিরতি থাকবে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মেলা সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।

    Facebook Comments Box
  • ডেমক্র্যাটিক ২২ স্টেট ও ডিসিতে ট্রাম্পের নির্দেশ অকার্যকর করলেন ডিস্ট্রিক্ট জজ

    ডেমক্র্যাটিক ২২ স্টেট ও ডিসিতে ট্রাম্পের নির্দেশ অকার্যকর করলেন ডিস্ট্রিক্ট জজ

    স্বল্প ও মাঝারি আয়ের মানুষের চিকিৎসা-সেবা, পুষ্টিকর খাদ্য ক্রয়ে সহায়তা, গৃহায়ণে ভর্তুকি, গরিব অথচ মেধাবি ছাত্রদের বৃত্তি, পাবলিক স্কুলে খাবার ক্রয়ন ইত্যাদি প্রকল্পে ফেডারেল অর্থ-সহায়তা বন্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে শুক্রবার অভিনব এক নিষেধাজ্ঞা দিলেন ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ জন জে ম্যাককনেল। গত সোমবার রাতে জারিকৃত এই আদেশের বিরুদ্ধে পরদিনই ওয়াশিংটন ডিসি ফেডারেল কোর্টের জজ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন-যা সোমবার ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। এরইমধ্যে জজ জন জে ম্যাককনেল যে নির্দেশ দিলেন সেটির কোন সময়-রেখা নেই। তবে পরবর্তী কোন বিধি তৈরী (কংগ্রেসে) না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐ নির্দেশনা অকার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন রোড আইল্যান্ডের এই জজ।

    মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই নির্দেশনা কার্যকর হবে ঐ আদালতে আবেদনকারি ২২ স্টেট এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে। এই স্টেটগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন ডেমক্র্যাটরা। এরফলে অপর ২৮ স্টেটের ভাগ্যে সোমবারের পর কী ঘটবে তা নিয়ে সংশয় বিরাজ করছে বলে শুক্রবার রাতে প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদে জানা গেছে। উল্লেখ্য, নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর এবং ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি ও হুংকার দিয়েছেন যে, ডেমক্র্যাট শাসিত স্টেটসমূহকে তিনি প্রতি পদে নাজেহাল করবেন। বিষয়টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের জজ জন জে ম্যাককনেলকেও প্রভাবিত করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন। এভাবে বিচারালয়কেও দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে পরিণত করার প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সুশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করছেন।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপরোক্ত আদেশকে গণবিরোধী এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে অভিহিত করে মাননীয় জজ উল্লেখ করেছেন, কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত উপরোক্ত খাতের ফেডারেল তহবিল থামিয়ে দেয়ার ট্রাম্পের নির্দেশ মানার কোন প্রয়োজন নেই। গত মঙ্গলবার দায়েরকৃত ওয়াশিংটন ডিসি এবং ২২ স্টেটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ পাতার এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, হোয়াইট হাউজের ম্যানেজমেন্ট ও বাজেট বিষয়ক অফিসের জারি করা নির্দেশ হচ্ছে ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা। তাই কংগ্রেসের অনুমোদিত বাজেট থামিয়ে দেয়ার আইনগত এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই। এ রায় ডেমক্র্যাট অধ্যষিত স্টেটসমূহের বড় একটি বিজয় বলে মনে করা হচ্ছে। স্টেটগুলো হচ্ছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, রোড আইল্যান্ড, নিউজার্সি, ম্যাসেচুসেটস, আরিজোনা, কলরাডো, কানেকটিকাট, ডেলওয়ারে, হাওয়াই, মেইন, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নর্থ ক্যারলিনা, নিউ মেক্সিকো, ওরেগণ, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন, উইসকনসিন এবং ওয়াশিংটন ডিসি।

    প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, সোমবারের ঐ নির্দেশনার বিরুদ্ধে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়ার পরই বুধবার হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারলাইন লেভিট বলেছেন, এটা ফেডারেল ফান্ডিং বন্ধের নির্দেশনা নয়। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে কোন ফান্ডিং বন্ধ হয়নি, সবকিছু চালু আছে এবং থাকবে। প্রেস সেক্রেটারির এমন অভিমতের সামান্য হলেও কিছুটা প্রতিফলন ঘটেছে উপরোক্ত রায়ে। জাজ ম্যাককনেল উল্লেখ করেছেন যে, অন্য কোন নামেও ফেডারেল প্রকল্পসমূহে ফান্ডিং বন্ধের নয়া কোন আদেশ জারি করতে পারবেন না।

    এদিকে, ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফরী শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের জারিকৃত আদেশসমূহের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, আদালতের পাশাপাশি কংগ্রেস ও রাজপথেও আমরা সরব থাকবো।

    প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, জন্মগত সিটিজেনশিপের অধিকার হরণের যে নির্দেশ ইতিপূর্বে ট্রাম্প জারি করেছিলেন তা আদালত রুখে দিয়েছে। অর্থাৎ হাউজ এবং সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে হোয়াইট হাউজে অধিষ্ঠিত হয়েও ট্রাম্প যা খুশী তা করতে সক্ষম হচ্ছেন না। শুধুমাত্র অবৈধ অভিবাসী দমনের ক্ষেত্রে উভয় পার্টির সমর্থন পেয়েছেন এবং তা অব্যাহত রয়েছে।

    Facebook Comments Box
  • ৭ মার্চ এবিপিসির ইফতার মাহফিল

    ৭ মার্চ এবিপিসির ইফতার মাহফিল

    নিউইয়র্কসহ আমেরিকায় কর্মরত সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’ তথা এবিপিসির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে ৭ মার্চ। ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এবিপিসির কার্যকরী কমিটির বৈঠকে আরো জানানো হয় যে, নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ‘সানাই পার্টি হলে’ ইফতার মাহফিলে কম্যুনিটির বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। ক্লাব সদস্য-কর্মকর্তাগণ থাকবেন সপরিবারে।

    এবিপিসির সভাপতি রাশেদ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শাহ ফারুকের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিল এবং অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেন লাবলু আনসার, আলিম খান আকাশ, আনিসুর রহমান, কানু দত্ত, অনিক রাজ, নুরুন্নাহার নিশা খান, অজিৎ ভৌমিক প্রমুখ। এ সময় ইতিপূর্বে সম্পন্ন থ্যা্কংসগীভিং পার্টি সাফল্যমন্ডিত করতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করা হয়। একইচেতনায় ইফতার মাহফিলকেও অনন্য একটি অনুষ্ঠানে পরিণত করার সংকল্প ব্যক্ত করেন ক্লাবের সদস্য-কর্মকর্তারা।

    Facebook Comments Box
  • আবেয়ার কর্মকর্তারা অভিষিক্ত

    আবেয়ার কর্মকর্তারা অভিষিক্ত

    আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস (আবেয়া), নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের নতুন কমিটির শপথ, ইয়ং স্টার সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জ্যামাইকার আল আকসা পার্টি হলে ২৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালায় প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিরা স্বপরিবারে অংশগ্রহণ করেন।

    সংগঠনের সাবেক সভাপতি এস কে আমজাদ হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী সদস্য নজরুল ইসলামের পরিচালনায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রথমেই বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সভাপতি শামসুল সিদ্দিকী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন অপর সাবেক সভাপতি শামীম এ জুয়েল।

    সংগঠনের বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম (রিংকন) এবং আর্থিক রিপোর্ট পেশ করেন ট্রেজারার নুরল হক। সভায় অতিথিরা ছাড়াও সভাপতি মোহাম্মদ সাজেদুল মোনায়েম খান শরীফ এবং বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

    অনুষ্ঠানে ইয়ং স্টার, অতিথিসহ অন্যতম স্পন্সর ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হককে সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সংগঠনে অনন্য অবদান রাখার জন্য বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় প্রয়াত সভাপতি ড. সুফিয়ান এ খন্দকার, নূরল হক এবং আব্দুল মোমেনকে।

    অনুষ্ঠানে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে শপথ নেন উত্তর আমেরিকার অন্যতম এ পেশাজীবী সংগঠনটির নবনির্বাচিত কর্মকর্তারা। নয়া কমিটিকে শপথ করান সংগঠনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান। এসময় নির্বাচন কমিশনের অপর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    শপথ গ্রহণকারী কর্মকর্তারা হলেন : সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম (রিংকন), সাধারণ সম্পাদক এ মামুন, ট্রেজারার নুরল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রবীর কে বিশ্বাস, নির্বাহী সদস্য কাজী নাফিসা আঞ্জুম, মোহাম্মদ পি রেজা ও শিরাদ মিয়া।

    অভিষেক উৎসবে সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় সদস্য-কর্মকর্তারা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    শপথ গ্রহণ শেষে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংগঠনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এ মামুন। সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম (রিংকন) বলেন যে, প্রাচীন এ সংগঠনটি তার ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রেখে সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখাসহ সৃষ্টিশীল কর্মকান্ডে নবীনদের অংশগ্রহণসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    অতিথিরা ইয়ং স্টারদের সম্মাননা সহ সুন্দর আয়োজনের জন্যে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আয়োজক সংগঠনের কর্মকর্তারা। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে নতুন প্রজন্মের দিহানা মানার নৃত্য সহ সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী রোখসানা মির্জা, কৃষ্ণা তিথিসহ সংগঠনের সদস্যরা।

    Facebook Comments Box
  • আটলান্টিক সিটিতে ‘মুসলিম ঐতিহ্য মাস’ পালিত

    আটলান্টিক সিটিতে ‘মুসলিম ঐতিহ্য মাস’ পালিত

    ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউজার্সি স্টেটের আটলান্টিক সিটির শোবোট হোটেলে ‘মুসলিম ঐতিহ্য মাস’ পালন উপলক্ষে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল সুধী সমাবেশ, কথামালা, সম্মাননা প্রদান, ধর্মীয় পুস্তক প্রদর্শনী, ধর্মীয় কুইজ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।

    পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে আমের কাশ্মীরি স্বাগত বক্তব্য রাখেন । হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইমাম আমিন মুহাম্মদ ও ইমাম আবদুল মুইজ। অনুষ্ঠানে নিউজার্সি স্টেটের এ্যাসেম্বলিম্যান ডন গার্ডিয়ান, আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, আটলান্টিক কাউন্টির কমিশনার এ্যাট লার্জ জন রিসলি, শোবোট হোটেলের স্বত্বাধিকারী বার্ট ব্লাটস্টেইন,সিটির পুলিশ প্রধান জেমস সারকোস, সিটি কাউন্সিল সহ-সভাপতি কলিম শাহবাজ , আটলান্টিক কাউন্টির ডেমোক্র্যাটিক কমিটির চেয়ারম্যান মাইক সুলেমান,প্রাক্তন কাউন্সিলম্যান আনজুম জিয়া,আটলান্টিক সিটি স্কুল বোর্ড সদস্য সুব্রত চৌধুরী, বিএএসজে সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাবুল, বিএএসজে ট্রাস্টি বোর্ড সভাপতি আব্দুর রফিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    মুুসলিম ঐতিহ্য মাসের সমাবেশে কয়েকজন মুসলিম তরুনী বক্তব্য রাখেন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    মুুসলিম ঐতিহ্য মাসের সমাবেশে কয়েকজন মুসলিম তরুনী বক্তব্য রাখেন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪। [/caption]অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল আটলান্টিক সিটি মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ও সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সি।

    আয়োজকদের পক্ষে আমের কাশ্মীরি, মালিক সোহেল, আবিদ কাইউম, আসাদ চৌধুরী, আদিল মালিক, সরফরাজ আহমদ, মো: ইমরান, মঈন খান, বেনহুর সলোমন, কামরান আজিজ, মো: জামিন, মো: ওয়াইস, মো: সেলিম অনুষ্ঠান সফল করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

    Facebook Comments Box
  • অশোক কুমার কর্মকার

    অশোক কুমার কর্মকার

    Facebook Comments Box
  • গান গাইতে গাইতে মঞ্চে লুটিয়ে পড়লেন সাবিনা ইয়াসমিন

    গান গাইতে গাইতে মঞ্চে লুটিয়ে পড়লেন সাবিনা ইয়াসমিন

    গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই লুটিয়ে পড়লেন কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। পরে দ্রুত তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘আমাদের সাবিনা ইয়াসমিন: আমি আছি থাকবো’ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি জানিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় গীতিকার রবিউল ইসলাম জীবন। তিনি লিখেছেন, গান গাইতে গাইতে মঞ্চে পড়ে গেলেন সাবিনা ইয়াসমিন। নেওয়া হলো হাসপাতালে।

    এদিকে, সাবিনা ইয়াসমিনের অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগীত শিল্পী দিঠি আনোয়ার। তিনি জানান, সাবিনা ইয়াসমিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, তবে শঙ্কামুক্ত।

    দিঠি আনোয়ার বলেন, অনেকদিন পর আন্টি মঞ্চে গান গাইতে উঠেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নেওয়া হয়। আন্টি এখন ভালো আছেন। দুই একদিন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থেকে তিনি বাসায় ফিরবেন। ২০২৩ সালের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ায় একাধিক স্টেজ শো করেন সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর আর তাকে মঞ্চের গান পরিবেশনায় দেখা যায়নি। এ সময় ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। আয়োজকরা জানান, দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর মঞ্চে উঠেছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। একই মঞ্চে শনিবারও তার গান গাওয়ার কথা ছিল।

    Facebook Comments Box
  • ইসলামিক হোম ফিন্যান্স সেমিনার

    ইসলামিক হোম ফিন্যান্স সেমিনার

    নিউইয়র্কের বিশিষ্ট রিয়েলটর কামরুজ্জামান বাচ্চু এবং গাইডেন্স রেসিডেন্সিয়ালের সৌজন্যে ২৪ জানুয়ারী বিকেল ২টায় ব্রঙ্কসের আল আকসা চাইনিজ পার্টি হলে ইসলামিক হোম ফিন্যান্স সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। কোরআন তেলয়াত এবং সুদের উপর আলোচনা করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল ইয়াহিয়া।

    অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে গাইডেন্স রেসিডেন্সিয়ালের ইষ্ট কোষ্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সামি কবির গাইডেন্সের হোম ফিন্যান্সের সেবার পরিধি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গাইডেন্স কোন ব্যাংক না এটা একটি রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি। আমরা হোম বায়ারের সাথে কো-ওনার হই একটি এলএলসি তৈরীর মাধ্যমে, তাই এখানে কোন সুদের প্রশ্ন আসে না। ব্যাংক হলে সুদ থাকত, আমরা কোন ব্যাংক না। কেউ যদি কিস্তি দিতে দেরি করে আমরা লেট ফি চার্জ করি না এবং কিস্তি বন্ধ করে দিলে তার বিনিয়োগকৃত মূলধন ইকুইটি সহ ফিরিয়ে দেই। ব্যাংক হলে ৩ মাস পেমেন্ট না দিলে বাড়ি ফরক্লোজ শুরু করবে, কিন্তু আমরা ফরক্লোজ করি না। সামি কবিরের সাথে লোন অফিসার শাকিল কামরান উপস্থিত ছিলেন। তারা আগত অতিথীদের ইসলামী ফিন্যান্স নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

    সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে ছিল রিয়েলটর কামরুজ্জামান বাচ্চুর সেবার পরিধি নিয়ে আলোচনা। তিনি ২০০৪ সাল থেকে নিউইয়র্কে রেসিডেন্সিয়াল, কমার্শিয়াল, বিজনেস, ইনভেষ্টমেন্ট, ইন্ডাষ্ট্রিয়াল, HUD, অকশন, ফরক্লোজার, ব্যাংক মালিকানা, REO বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ে সহায়তা করে। তিনি বসবাস অথবা ইনভেষ্টমেন্ট করার জন্য বাড়ি, প্রপার্টি ক্রয়-বিক্রয়ে সহায়তা করেন। কেউ যদি তার বাড়ি বা প্রপার্টি বিক্রি করতে চান সেটাও সে সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে সক্ষম কারন তার কাছে অসংখ্য কোয়ালিফাইড ও ক্যাশ বায়ার আছে। তিনি বাড়ি ভাড়াও দিয়ে থাকেন। ইনকাম চেক করে W2, ইনকাম ট্যাক্স, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে ক্যাশে, CITY PHEPS, PHEPS, Section-8 ও বিভিন্ন প্রোগ্রামে বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকেন।
    অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হোমবায়ার ছাড়াও বিশিষ্ট আইনজীবি মোহাম্মদ এন মজুমদার, সি.পি.এ এইচ জাকির চৌধুরি, ডা: মো: শাহজাহান, প্রফেসর আ: করিম, সাইফুল নিজাম, আব্দুল্লাহ আল সাকিব, মো: এম হোসাইন, এমডি হাসান, মো: রহমান, মো: কামাল হোসেইন, সোয়েইব আহম্মেদ, এমডি মহসিন মিয়া, এমডি শাহাজাদা ইমরান, এমডি হোসেইন, এমডি মোজাম্মেল হক, জুয়েল লস্কর, এমডি মহিউদ্দিন, লাল মিয়া, নাজমুল ইসলাম, আব্দুল মালিক, এমডি শাহজান মালি সহ গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    Facebook Comments Box
  • আইডি সঙ্গে না থাকায় বৈধরাও গ্রেফতার হচ্ছে

    আইডি সঙ্গে না থাকায় বৈধরাও গ্রেফতার হচ্ছে

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী চলমান অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার অভিযানের সময় বৈধরাও গ্রেফতার প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারলাইন লেভিট স্পষ্ট করেই বলেছেন যে, আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এ্যানফোর্সমেন্ট) এজেন্টসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর চলমান যৌথ অভিযানের সময় পরিচয় পত্র দেখাতে ব্যর্থরাও গ্রেফতার হচ্ছেন। তাই সকলে যেন নিজ নিজ পরিচয় পত্র সাথে রাখেন। প্রেস সেক্রেটারি আরো বলেছেন, মেক্সিকো হয়ে বেআইনী পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারিরা হচ্ছে প্রধান টার্গেট। কারণ, তাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অপরাধী রয়েছে এবং তারাই আমেরিকার সমাজ-ব্যবস্থার জন্যে হুমকি। ট্রাম্পের নির্দেশে তাদেরকে গ্রেফতার ও বহিষ্কারের অভিযানে বিচলিত হবার কিছু নেই। উল্লেখ্য, এই অভিযানে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বসবাসরত এক বাংলাদেশীও গ্রেফতার হয়েছেন যিনি দালালকে ২৫ লাখ টাকা দিয়ে বিভিন্ন দেশ ঘুরে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। এবং রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার ডক্যুমেন্টও রয়েছে। সিলেটের বিয়ানিবাজার সদরের বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি ঢুকেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। আইসের এজেন্টরা সাব্বিরকে পেনসিলভেনিয়ায় ডিটেনশন সেন্টারে রেখেছে আরো কয়েক বাংলাদেশীর সাথে। এদিকে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সিটিতে হানা দিয়ে ১০১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। একইদিন চোরাই পথে সীমান্ত অতিক্রমের সময় আটক হয়েছে আরো ৮১৪ জন। উল্লেখ্য, বস্টন, ওহাইয়ো, নিউজার্সি, মিশিগান থেকেও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে যারা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন কিংবা অন্য কোন প্রোগ্রামে অভিবাসনের মর্যাদা পাবার প্রক্রিয়ায় আছেন।

    অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতারের অভিযানে জনমানবশূন্য হয়ে পড়েছে অনেক সিটির বাণিজ্যিক পাড়া। কমেছে রেস্টুরেন্টর ব্যবসাও। নিউইয়র্ক সিটির পাতাল ট্রেনেও ভীড় হ্রাস পাচ্ছে বলে নিয়মিত যাত্রীরা উল্লেখ করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস এবং ইপসোস জরিপে ট্রাম্পের এই মনোভাবের প্রতি ৫৫% আমেরিকানের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পাওয়া গেলেও ৮৮% বলেছেন যে, গ্রেফতার আর বহিষ্কার অভিযানে মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না। এজন্যে প্রয়োজন অভিবাসনের ভঙ্গুর অবস্থাকে ঢেলে সাজানো। এদিকে, বিশ্বখ্যাত নিউজউইকে শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে গণবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার জন্যে কংগ্রেসে অবিলম্বে অভিসংশনের বিল পাশের গণ-দরখাস্তে বৃহস্প্রতিবার পর্যন্ত এক লাখ আমেরিকান স্বাক্ষর করেছেন। অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকে যেসব আদেশ জারি করেছেন তাতে ক্রমান্বয়ে শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানরাও বিতশ্রদ্ধ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। স্মরণ করা যেতে পারে প্রথম মেয়াদে অন্তত: দু’বার ট্রাম্পকে অভিসংশনের বিল পাশ হয়েছিল প্রতিনিধি পরিষদে। রিপাবলিকান শাসিত ইউএস সিনেটে সে বিল অনুমোদন পায়নি।

    গত ১০ দিনে গ্রেফতার হওয়া অবৈধদের প্রায় সকলকেই বিশেষ বিমানে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার কথা জানিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। তারা জানায়, আমেরিকার জনজীবনকে নিরাপদ রাখতে এ অভিযানের বিকল্প ছিল না। সীমান্তকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার আওতার আনার পাশাপাশি ইতিপূর্বে বেআইনী পথে ঢুকে পড়াদেরকেও তাড়াতে হবে। তাহলে নতুন করে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা ভাববে না।

    Facebook Comments Box
  • ফুরিয়ে আসছে ফাঁকির দিন

    ফুরিয়ে আসছে ফাঁকির দিন

    পিপিএল (পাবলিক পার্টনারশিপ এলএলসি) নামক একটি কোম্পানী এসেছে হোমকেয়ার ব্যবসার সামগ্রিক মনিটরিংয়ের অভিপ্রায়ে। নিউইয়র্ক স্টেট হেল্থ ডিপার্টমেন্ট অনুমোদিত এই সংস্থা হোম হেল্থ কেয়ার গ্রহণকারিগণের দৈনন্দিন সেবা-কার্যক্রম তদারকি করবে। অর্থাৎ রোগী ঠিকমত সেবা পাচ্ছেন কিনা সেটি তদারকি করবে। সিডিপ্যাপের আওতায় সেবা গ্রহিতাগণকে এপ্রিলের আগেই পিপিএল’র সাথে তালিকাভুক্ত হবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হঠাৎ কেন পাল্টে গেল হোমকেয়ার সার্ভিসের তদারকি? এ প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে প্রোহেল্থ হোমকেয়ারের চিফ এক্সিকিউটিভ মামুনুর রশীদ জানান, জর্জিয়াভিত্তিক পিপিএল নিউইয়র্কের স্টেট গভর্ণরকে কনভিন্স করতে সক্ষম হয়েছেন যে, সিডিপ্যাপ (কনজ্যুমার ডিরেক্টেড পার্সনাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম)’র প্রোগ্রামে সেবা গ্রহিতারা যথাযথভাবে সেবা পাচ্ছেন না মনিটরিংয়ের অভাবে। এখোন যে ধরনের সেবার জন্যে স্টেট স্বাস্থ্য দফতরের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, আমি একইধরনের সেবার নিশ্চয়তা দেব। তবে ব্যয়ের পরিমাণ কমবে। অর্থাৎ এখোন অর্থের অপচয় ঘটছে। পিপিএলকে মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হলে সেবার মান অপরিবর্তিত থাকবে, ব্যয়ের পরিমাণ কমবে।
    হোমকেয়ার ব্যবসায় তুলনামূলকভাবে জুনিয়র হলেও বিভিন্নভাবে অভিজ্ঞতা অর্জনকারি মামুনুর রশীদ বলেন, কম্যুনিটিতে এই ব্যবসায় হঠাৎ করে অনেকেই ফুলে ফেপে উঠেছেন। এ বিষয়টিও বর্তমানের কড়াকড়ি আরোপকে উৎসাহিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনোযোগী হয়েছেন ত্রুটিগুলোকে সেরে নিয়ম-শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে। উল্লেখ্য, হোমকেয়ার সার্ভিস শত বছরের পুরনো একটি ব্যবস্থা, যার সুফল পেয়ে আসছেন চলতে অক্ষম মানুষেরা। প্রতি বছরই মোটা অর্থ ব্যয় করে স্টেট স্বাস্থ্য ডিপার্টমেন্ট। জুইশ, রাশিয়ান, আফ্রিকান-আমেরিকানের পর চীনারা এই ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত রয়েছেন। ৫/৬ বছর যাবত তা সম্প্রসারিত হয়েছে বাংলাদেশীদের মধ্যেও। অসুস্থ মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি অথবা নানা-নানীকে নিজ ঘরেই চিকিৎসা-সেবার মাধ্যমে মোটা অর্থ আয়ের ব্যপারটি সকলকেই আকৃষ্ট করেছে। আর এ সুযোগে গড়ে উঠেছে অনেক এজেন্সি। কেউ লাইসেন্স পেয়েছেন, আবার কেউ এজেন্ট বা ব্রোকার হিসেবে কাজ করছেন। উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে বাড়তি আয়ের সুযোগ। অভিযোগ রয়েছে যে, অনেকের মা-বাবা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানীকে সেবা প্রদানের প্রয়োজন হয় না। কাগজে-কলমে সেবা প্রদানের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগে আরো জানা গেছে, সেবা প্রদানকারির বড় একটি অংশ ফুল টাইম চাকরি করছেন, একইসাথে হোমকেয়ারের সেবাদাতা হিসেবে সাপ্তাহিক পারিশ্রমিকের চেক ড্র করছেন। এরফলে কেউ কেউ সপ্তাহে ১৪০ ঘন্টা কাজের বেতন ড্র করছেন, অর্থাৎ দৈনিক ২০ ঘন্টা করে কাজ করেন; যা বাস্তবে অকল্পনীয়। এসব বিষয় কর্র্তপক্ষ জানতে পেরেই স্টেট গভর্ণর ক্যাথি হোকুল কৌশলে জর্জিয়াস্থ পিপিএল’কে নিয়োগ করেছেন নিউইয়র্কের হোমকেয়ার ব্যবসার তদারকির একক দায়িত্ব পালনের জন্যে। এ প্রসঙ্গে মামুন বলেন, পিপিএল তৎপর হওয়ার পর নিউইয়র্ক স্টেটের ৬ শতাধিক হোমকেয়ার এজেন্সি-তে তালা ঝুলতে পারে অথবা তারা পিপিএল’র ব্রোকার হিসেবে কিংবা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রোগীগণকে পিপিএল’র কাছে সমর্পণের মাধ্যমে এককালিন মোটা অর্থ পেতে পারবেন। এর বাইরে তারা ঐসব সেবা প্রদানকারিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে কমিশন বাবদ কিছু আয়ে সক্ষম হবেন না। আর যদি সবগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে হয়তো ফুল টাইম কর্মচারি হিসেবে হাজার দুয়েক মানুষ বেকার হয়ে পড়বেন। এটি স্টেট গভর্ণরের দেখার বিষয় নয়। কারণ অনিয়মসমূহ দূর করা সম্ভব হলে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে ১২ বছরের পুরনো টিডিএস ইন্স্যুরেন্স ব্যবসায় সুনাম অর্জনের ধারাবাহিকতায় অভিজ্ঞ মামুন আরো বলেন, তবে পিপিএল একচ্ছত্র আধিপত্য পেলে এই সেক্টরের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে-তা সময়েই জানা যাবে। তবে মানুষের সেবা নিরবিচ্ছিন্নভাবে-নির্বিঘ্নে প্রদানের ব্যাপারটি একক প্রতিষ্ঠানের হাতে ন্যাস্ত করা হয়তো ঠিক হচ্ছে না। এ নিয়ে কম্যুনিটির অনেকে সরব হলেও সেই আন্দোলন-লবিংয়েও ছিল বিভক্তি। যার ফলে সত্যিকারের সুফল আসেনি। পিপিএল’র লবিংয়ের কাছে কম্যুনিটির ব্যবসায়ীগণের লবিং হেরে গেছে।

    প্রতীকী ছবি

    মামুন বলেন, হোমকেয়ার ব্যবস্থার সাথে কম্যুনিটিকে পরিচিত করা, অসুস্থ মানুষ-জনকে সেবা দেয়া, হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকের চেম্বারে আনা-নেয়া করা, সময় মত ওষধ সেবন, গোসল করানো, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পরিবেশন ইত্যাদি কাজে (যতটাই ঘটে থাকুক) লোকজনকে অভিজ্ঞ করতেও অনেকের অবদান অস্বীকারের উপায় নেই। এমনি অবস্থায় প্রযুক্তির মাধ্যমে ৫০/৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়ার ঘটনাটি হৃদয় বিদারক বৈকি।
    পিপিএল এখনো কোন অফিস খুলেনি। সবকিছু ফোন (১-৮৩৩-২৪৭-৫৩৪৬ ), অনলাইনে (pplfirst.com/cdpap.)করছে। এই প্রক্রিয়া কম্যুনিটির অনেকের পক্ষেই অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যেহেতু তারা টেকনিক্যাল হ্যান্ডেড নন। মামুন রশীদ বলেন, তারা হয়তো অফিস নেবে, কিন্তু বর্তমানের মত কম্যুনিটির দোর-গোড়ায় কী আসতে পারবে? অর্থাৎ সেবা প্রার্থীরা এক ধরনের অনিশ্চয়তায় নিপতিত হয়েছেন। মামুন বলেন, যারা সেবা নিচ্ছেন তারা কেউই ইংরেজীতে তেমনভাবে কথা বলতে পারেন না। নিজ ভাষায় কথা বলতে না পারলে সেবাদাতাও স্বাচ্ছন্দবোধ করবে না। একইসাথে রোগীর সমস্যা সম্পর্কেও তেমন ওয়াকিবহাল হতে সক্ষম হবেন না। এছাড়া, শোনা যাচ্ছে যে, পিপিএল পুরো ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাতে চাচ্ছে। তার ফলে বর্তমানে সেবা প্রাপ্তির ঘন্টা কমতে পারে। অর্থাৎ সেবা প্রদানকারির আয় কমার আশংকা দেখা দেবে। মজুরিও প্রতি ঘন্টায় ৩ ডলার করে কমতে পারে। এ অবস্থায় অনেকে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে এবং মনোকষ্টে পড়েছেন।
    মামুন বলেন, পিপিএল তার কার্যক্রম শুরু করলে সেবাদাতাদেরকে একটি কোর্স নিতে হবে। চিকিৎসা-সেবা সম্পর্কে ন্যূনতম একটি ধারণা থাকতে হবে। এধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর বর্তমানের মত মা-বাবা, ভাই-বোনকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। আত্মীয় নন-এমন রোগীকে সেবা দিতে হবে। এরফলে প্রবীনরা পড়বেন আরেক ধরনের সংকটে। নিজ ভাষায় কথা বলা, নিজ সংস্কৃতির আবহে সেবা নেয়ার ব্যাপারটি গভীর এক সংকটে পড়বে। অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, তবে কম্যুনিটির সেবা দাতারা যদি কম্যুনিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারেন, তাহলেও কিছুটা সংকট কমতে পারে। তবে সেবা না দিয়ে বেতন ড্র করার পর ভাগাভাগির বর্তমানের বিশেষ ব্যবস্থাটি অকল্পনীয় হয়ে পড়বে-তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক বছর সিডিপ্যাপের তালিকাভুক্ত অনেকেই অসুস্থ না হয়েও ডাক্তারের সার্টিফিকেট নিয়ে হোমকেয়ারের সুবিধা নিয়েছেন। কেউ কেউ মাসের পর মাস বাংলাদেশে অবস্থান করেও চিকিৎসা-সেবা নিয়েছেন। বাংলাদেশ ভ্রমণকালে মৃত্যু হয়েছে এমন ব্যক্তির নামেও হোমকেয়ার অব্যাহত রাখা হয়েছে। সেবা দাতা এয়ারপোর্ট অথবা সুপার মার্কেট কিংবা অন্য কোন অফিসে ফুলটাইম জব করা সত্তে¡ও হোমকেয়ার থেকে নিয়মিত চেক ড্র করছেন। আরো জানা গেছে, একাকী চলতে পারেন না জানিয়ে নিয়মিত হোমকেয়ার গ্রহণকারিরা হেঁটে গ্রোসারি কিংবা রেস্টুরেন্টে যাচ্ছেন অথবা নাতি-পুতিকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন এবং বাসায় আনছেন, কিংবা ঘনিষ্ঠ কাউকে চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মসজিদ-মন্দির-চার্চেও যাতায়াত করছেন। ঐ সময়েই দেখা যাচ্ছে যে সেবা প্রদানকারি তাকে সেবা দিচ্ছেন বলে ভাতা ড্র করছেন। এমন কিছু ঘটনা কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরই কৌশলে স্টেট গভর্ণর সিডিপ্যাপের সার্ভিস পিপিএল’র নিয়ন্ত্রণে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। কারণ, পিপিএল প্রতিটি সেবা গ্রহিতাকে মনিটরিংয়ে রাখবে। একইসাথে সেবা দাতার গতিবিধিও মনিটরিং করা হবে। ফলে সেবা না দিয়েও ভাতা নেয়ার সুযোগ থাকবে না।
    জানা গেছে, নিউইয়র্ক স্টেটের কয়েক লাখ মানুষ হোমকেয়ার সেক্টরে রয়েছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশীর সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশী হবে। অর্থাৎ মোটা আয়ের একটি ব্যবস্থায় তারা ছিলেন। গত দু’তিন বছরে নিউইয়র্কে যারা প্রথমবারের মত বাড়ির মালিক হয়েছেন তার সিংহভাগই হোমকেয়ারের সাথে সম্পৃক্ত। আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের পথে হোমকেয়ার ব্যবস্থাকে অনেকে স্থায়ী একটি বন্দোবস্থ ভেবেছিলেন। সেটি এখোন স্বপ্ন ভঙ্গের মত হতে চলেছে। তবে যারা রীতি অনুযায়ী কাজ করবেন তাদের আয়ের পথ সীমিত হবার পরিবর্তে বাড়তেও পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আর যারা এই ব্যবসার নামে অনিয়ম-অনাচার এবং জাল-জালিয়াতিতে লিপ্ত হয়েছেন তাদের এখোন মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাই প্রবল।

    Facebook Comments Box
  • পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা নাহিদ

    পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা নাহিদ

    পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা নাহিদঅন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন নাহিদ ইসলাম, দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে আজ এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই সবার মুখে এক প্রশ্ন, তবে কী সত্যিই পদত্যাগ করছেন তিনি? উত্তরও দিলেন উপদেষ্টা নিজে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক দল গঠন ও পদত্যাগের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকারে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলে থাকব না, এতটুকু বলতে পারি।

    তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি আমার নজরে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখেছি। পত্রিকাটি আসলে কোন উৎস থেকে এটা করেছে, সেটা পরিষ্কার করেনি। তাছাড়া আরেকটি বিষয় বলে রাখি, যদি পদত্যাগ করি তবে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবেই করবো ও সবাইকে বলব।

    এ সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সুযোগ থাকা উচিত না। তবে যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তারা সাধারণ ক্ষমা পেতে পারেন।

    হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা ষড়যন্ত্র করলে সরকার কঠোর হবে। তবে আন্দোলন দমন করবে না।

    তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করে দিতে চাই, যাতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন ফ্যাসিবাদ আর না ফিরে আসে।

    তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামাজিকতার দিক থেকে চাপ থাকলেও সরকারের জায়গা থেকে গণমাধ্যমের ওপর কোন চাপ নেই। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নামে ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেয়া যাবেনা।

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার নিয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

    স্পষ্টভাষায় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অবশ্যই বিচার হবে। বিচার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কাজ চলমান আছে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি আছে। তবে বিএনপি সময় চাওয়ায় তা বিলম্ব হচ্ছে। ।

    Facebook Comments Box