Blog

  • বাংলাদেশ কী ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে এগোচ্ছে !

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    এই সময়ে বাংলাদেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় নিপতিত হয়েছে। শিশু গুম,নারী ধর্ষণ,সংখ্যালঘুদের প্রতি নির্মম নির্যাতন,রাজনৈতিক ভিন্নমতের টুঁটি চেপে ধরা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হচ্ছে বাংলাদেশে। খুবই হতাশাজনকভাবে ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশের সমাজ ও দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থা। বাড়ছে মানুষের বেকারত্ব। বন্ধ হচ্ছে কল কারখানা। বিদ্যুতবিহীন জনদুর্ভোগে বাড়ছে দ্রব্যমূল্যের দাম আশংকাজনকভাবে।
    চরম এই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের ভবিষ্যত কী- এমন প্রশ্ন রেখে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন।’
    ফাউন্ডেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড: নুরুন নবী ও সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্র যখন সম্পূর্ণই অরক্ষিত ঠিক সেই সময়ে বিশাল বহর নিয়ে জাতিসংঘ সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অথচ এই মার্কিন মুল্লুকের বিভিন্ন মানবাধিকার,শান্তিকামী সংগঠন বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেই যাচ্ছে।
    বাংলাদেশে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ২২ মে বিবৃতি দেয় ইউনিসেফ। সংস্থাটির তৎকালীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এসব ঘটনায় দায়মুক্তির অবসানের আহ্বান জানান। ঘর, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি পরিসরে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বানও উঠে আসে সংস্থাটির বক্তব্যে।
    বিবৃতিতে বলা হয়, এসব ঘটনায় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারপ্রক্রিয়া, স্থানীয় সুরক্ষা সেবা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার ঘাটতি দূর করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে ইউনিসেফ। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্রেও জবাবদিহি বাড়ানোর কথা তুলে ধরা হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে। কিন্তু বাংলাদেশ কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। গেল সাত মাসে পনেরো হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের সংবাদ বের হয়েছে। এর মাঝে তেরো হাজার শিশু বাড়ি ফিরেছে বলে পুলিশ দাবি করলেও দুই হাজারের অধিক শিশু এখনও লাপাত্তা রয়েছে।
    বিবৃতিতে বলা হয়, দখলদার ইউনুস এবং বর্তমান সরকারের চরম গাফিলতির কারণে প্রায় বারো শত শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে সরকারি ভাগ-বাটোয়ারাকারিদের হাতে।
    ফাউন্ডেশন তাদের বিবৃতিতে বলে, যারা দেশের আইন প্রণেতা বলে নিজেদের দাবি করছেন, তারাই জড়িয়ে পড়ছেন নানা জঘন্য অপরাধে। জামায়াতের একজন এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে কথিত নাবালিকা মরিয়ম বেগম ( ১৯ ) আত্মহত্যা করেছেন। একটি রাষ্ট্র কতটা খাদে পতিত হলে একজন এমপির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠতে পারে !
    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নেমে এসেছে নির্মম খড়গ। দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় প্রতি সপ্তাহে সনাতনীদের বাড়িঘর লুট করা হচ্ছে।
    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন) ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে দেশে সাম্প্রদায়িক হিংসার শিকার হয়েছেন ২৬১ জন মানুষ। অথচ মহান একাত্তরের চেতনায় সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ সমান অধিকারে বেঁচে থাকার কথা ছিল। সামনে দুর্গাপুজাকে কেন্দ্র করে সনাতনীরা চরম শংকা ও উদ্বেগের মুখোমুখি রয়েছেন।
    বিবৃতিতে বলা হয়, এ বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশের অর্থনীতির চরম অবনতির কথা জানিয়েছে। দারিদ্রতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়া, ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট অব্যাহত থাকার তথ্যও দিয়েছে। ৯৫টি শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ায় ৬১৮৮১ জন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী চব্বিশের কথিত কোটা আন্দোলনের পর সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের ৪ শতাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
    মানবাধিকার সংস্থা (হিউম্যান রাইটস ওয়াচ)’র তথ্য অনুযায়ী বর্তমান সরকারের ৬ মাসে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ জন নেতা মারা গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও সেগুলোর বিচার শুরুই হয়নি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে , ভিন্নমতের রাজনীতিকদের পর্যায়ক্রমে নিঃশেষ করার সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কারাগার এবং রাস্তা-ঘাটে কিংবা বাসা-বাড়িতে ঢুকে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কী তবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে ! প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়ার কোনো অশুভ চক্রান্ত কি করছে কেউ !
    বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘে দীর্ঘ বক্তৃতা কোনো কাজে লাগবে না , যদি দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে না পারে। বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ে এই সরকারকে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার স্বাধীনতা দিতে হবে। একই সাথে মহান একাত্তরের চেতনা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বাধীন মত প্রকাশে মিডিয়ার স্বাধীনতা ও মিথ্যা মামলায় আটক বরেণ্য সাংবাদিক,বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক সহ প্রত্যন্ত এলাকার সকল রাজনৈতিক নেতা কর্মীকে মুক্তি দিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে হবে। মনে রাখতে হবে এই দেশ ৩০ লাখ শহীদ ও চার লাখ নারীর সম্ভ্রমের উত্তরাধিকার। এখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সকল ধর্ম বর্ণ গোত্রের মানুষের নিরাপত্তা প্রদানে সরকার ব্যর্থ হলে- এর দায় তাদেরকেই নিতে হবে।

    Facebook Comments Box
  • বিএনপির বিশাল শো ডাউন জাতিসংঘের সামনে

    আনিসুর রহমান

    জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণকে স্বাগত জানিয়ে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্ব অব্যাহত থাকবে প্রত্যাশায় ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা র‌্যালি করেছেন। পুলিশ বেষ্টিত র‌্যালিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনাও করা হয়। এছাড়া গগনবিদারি স্লোগানে ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র সম্পর্কেও প্রবাসীদের সজাগ থাকার আহবান জানানো হয়। উল্লেখ্য, তারেক রহমানের ভাষণের নিন্দা ও প্রতিবাদে একইস্থানে আওয়ামী লীগসহ সমমনা সংগঠনগুলোও ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় আওয়ামী লীগের জন্যে অনুমতি ছিল বেলা ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত। আর বিএনপিকে সময় দেয়া হয় অপরাহ্ন ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ফলে পরস্পর-বিরোধী শো-ডাউনের সুযোগ ছিল না। নিজ নিজ কর্মসূচির সমর্থনে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছেন।

    জাতিসংঘের বাইরে বিএনপির স্বাগত-সমাবেশ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    বিএনপির এ সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আনোয়ার হোসেন খোকন, আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান ভূইয়া মিল্টন, গোলাম ফারুক শাহীন, আকতার হোসেন বাদল, আবু সাঈদ আহমেদ, এম এ বাতিন, জাকির এইচ চৌধুরী, শরাফ হোসেন বাবু, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, আনোয়ারুল ইসলাম, এম এ সবুর, মোশারফ হোসেন সবুজ, কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ, জসীম ভ’ইয়া,

    জাতিসংঘে সাধারণ অধিবেশনের গ্যালারিতে বিএনপি নেতা শাহজাহান শেখ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    শেখ শাহজাহান, কাজী আসাদউল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার সায়েম, জাহাঙ্গীর সোহরাওয়াদী, এম এ রেজা, অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান, জসিম উদ্দিন ভিপি, সাঈদুর রহমান সাইদ, আনোয়ার হোসেন, আরিফুর রহমান, রইচ উদ্দিন, হুমায়ুন কবির, আনিসুর রহমান, বদরুল হক আযাদ, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম শিকদার, শাহেদ আহমেদ, নাসিম আকতার, আশরাফ হোসেন, দেওয়ান কাউসার, নীরা রাব্বানী, এ আর মাহবুবুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, মাইনুল করিম টিপু, এম এ কাইয়ুম, রানা চৌধুরী, শাহাবুদ্দিন শাহীন, আব্দুল্লাহ, দেলুয়ার হোসেন, ইনজিনিয়ার মাইনুদ্দিন, আলামিন সুমন, মনসুর আলী, বাচ্চু মিয়া, হাবিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, বদিউল আলম, আহব্বাব চৌধুরী, ফয়েজ চৌধুরী, সিরাজ দৌলা বাবুল, মিজান, সুমন, সাদ্দাম প্রমুখ।  এই র‌্যালি শেষে অনেকে জাতিসংঘে দর্শক গ্যালারিতেও গমন করেছিলেন তারেক রহমানের ভাষণের সময়।

    Facebook Comments Box
  • আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ইস্যুর সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হবে

    নিউইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে মার্কিন উপ-সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসনের সাথে সাংবাদিকরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    বিশেষ সংবাদদাতা

    নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে Ôএকটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ এবং সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতিÕ শীর্ষক এক Ôঅন-দ্য রেকর্ড ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংÕ ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এই ব্রিফিংয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, বাংলা গেজেটের এ সংবাদদাতা ছাড়াও খবর ডটকমসহ বাংলাদেশী আরো দু’জন এবং ভারতীয়, নেপালি ও শ্রীলংকার সাংবাদিকরা ছিলেন।

    এ সময় জাতিসংঘ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অথবা তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে কিনা, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং তার বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে চ্যালেঞ্জের সুযোগ দেয়া হবে কিনা ইত্যাদি প্রাধান্য পায়। এছাড়া, একইসাথে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বজায় রাখার ফলাফল কী হতে পারে-এমন প্রশ্নও ছিল। দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে কর্মরত এই ঝানু ক’টনীতিক ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান গতি-প্রকৃতি আলোকে সকল প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সুনিপূণভাবে।

    প্রশ্ন : চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান নিয়েছেন। এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর অনুপস্থিতিতে ঢাকার একটি আদালত তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কিন্তু তার আগে শেখ হাসিনা নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং তার অনুপস্থিতিতে চলা বিচার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও চেয়েছেন। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী।

    উত্তর : এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। আমরা অনুধাবন করতে পারছি যে, বিষয়টি ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্ক বৈরী করার অন্যতম একটি বড় কারণ। তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে।  তবে হাসিনার সাথে কী ধরনের আচরণ হওয়া উচিত তা আমরা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে ভাবিনি।

    প্রশ্ন : গতমাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ টিমের এক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে যে, বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপ-মহাদেশের কয়েকটি দেশের ভেতরে আল-ক্বায়েদা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোপন সন্ত্রাসী সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সে প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখোন পর্যন্ত বাংলাদেশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কি?

    উত্তর : ঐ প্রতিবেদন সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানা নেই। তবে আমি এটা বলতে চাই যে, আল ক্বায়েদা হচ্ছে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এবং আমরা সকল দেশের সাথে একযোগে কাজ করতে চাই সন্ত্রাস দমনে গৃহিত পদক্ষেপ বাস্তবায়িত করতে। তবে আবারো বলছি যে ঐ প্রতিবেদন সম্পর্কে আমি বিস্তারিত কিছুই জানি না। তাই ঐ ব্যাপারে কোন মতামত দিতে চাই না।

    প্রশ্ন : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরার অনুমতিসহ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহগণে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আছে কি?

    উত্তর : বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে চলমান আলোচনা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে আমি এটা বলতে চাই যে, বাংলাদেশের সাথে আমাদের বিদ্যমান সম্পর্ক, বিএনপির সাথে আমাদের সম্পর্ক খুব, খুবই চমৎকার অবস্থায়। আমরা নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ অব্যাহত রাখতে চাই। এবং সেটিকেই আমরা সবসময় ফোকাসে রাখি। বাংলাদেশ আরো শক্তিশালী ও আরো নিরাপদ করার লক্ষ্যে যে কাজ চলছে তাকে এগিয়ে নিতে আমরা পাশে রয়েছি। বাংলাদেশকে আরো সমৃদ্ধি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোন কার্পণ্য নেই। তাই আমি ভাবছি যে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনায় আমাদের কিছু বলা সমীচিন নয়। যদিও আমাদের মধ্যেকার সম্পর্ক এখোন খুবই মধুর।

    প্রশ্ন : জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারটি।

    উত্তর : সেটি বাংলাদেশ সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং চীনের সাথে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিন বৃহৎ শক্তির মধ্যে যে কোন একটিকে বেছে না নিলে কীভাবে সকলের সাথে ক’টনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব? এটাকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিচ্ছে?

    উত্তর : জী, জী, বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের একটি জটিল অংশে অবস্থিত। এবং আপনার পয়েন্ট হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বড় প্রতিবেশী দেশের নিকটে অবস্থিত। আমরা সবসময় উৎসাহিত করি দেশসমূহকে তাদের পছন্দের মধ্যে অবস্থান করতে। শক্তি প্রয়োগ করি না পছন্দের বিরুদ্ধে যেতে। তবে, সেখানে কিছু বিষয় থাকে, যখোন আমরা অনুভব করি যে তাদের পছন্দে হিসাব থাকার প্রয়োজন আছে। আর তা হচ্ছে জটিল অবকাঠামোগত অবস্থা। টেলিকমের মত। এটা হচ্ছে খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয় এবং তাদের প্রতি আমাদের বার্তা হচ্ছে আমরা তোমাদের সার্বভৌমত্বকে সুসংহত রাখতে সহায়তা দিতে চাই। আমরা তোমাদের সিস্টেমকে নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা দিতে চাই। অর্থাৎ আমরা বুঝাচ্ছি যে কিছু দেশ তেমন কিছু তৎপরতায় লিপ্ত। আমরা তা প্রতিহত করতে চাই। এবং আমরা বিকল্প কিছু উপস্থাপনে আগ্রহী । আমরা বলছি না যে, আপনাকে এটি বা সেটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। আমরা বরং এসব দেশের জন্য বিকল্প দিতে চাই।

    প্রশ্ন : বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি লিখেছিলেন। এবং তিনি তারেক রহমানের সাথে মিটিংয়ের আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। সে আলোকে হোয়াইট হাউজ কি পরিকল্পনা নিচ্ছে -প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অথবা মার্কো রুবিয়ো  অথবা অন্য কোন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বৈঠকের ব্যাপারে?

    উত্তর : প্রেসিডেন্টের সিডিউলের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে তিনি (ট্রাম্প) পররাষ্ট্রমন্ত্রী রহমানের (খলিলুর রহমান) সাথে এ সপ্তাহে খুবই সংক্ষিপ্ত একটি সময়ের জন্যে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন। এবং প্রেসিডেন্টের সাথে ছবি তোলাও সম্ভব হয়েছে। প্রেসিডেন্টের সাথে সকল পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাক্ষাৎ অথবা ছবি উঠানোর সুযোগ ছিল না। এবং গতমাসে অথবা তারও আগে ম্যানিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী রুবিয়ো তাকে দেখেছেন আসিয়ান সম্মেলনে। এবং এধরনের দেখা-সাক্ষাতের ঘটনা ঘটেই চলছে। তাই আমি আপনাকে বলতে পারবো না বৈঠক/সাক্ষাতের সিডিউল আসছে কিনা। তবে আমি মনে করি সামনে আরো সুযোগ আসবে সাক্ষাতের।

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিষয়ে অপর এক সংবাদদাতার প্রশ্নের জবাবে জ্যেষ্ঠ ঐ কর্মকর্তা বলেন, তার মামলা ও স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা মূলত পর্যবেক্ষণের মধ্যেই সীমিত বলে জানান তিনি।

    এই ব্রিফিংয়ের আগে নিউইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ এবং সেন্ট্রাল এশিয়া সম্পর্কিত উপ-সহকারি মন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি আলোকে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকগণের সাথে একটি ফটো সেশনেও মিলিত হন।

    Facebook Comments Box
  • তোপের মুখে পাত্তাড়ি গুটালো এনসিপি

    জাতিসংঘেও তারেক রহমানকে নিষিদ্ধের স্লোগান আওয়ামী লীগের। ছবি-বাংলা গেজেট।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    ‘দেশ বাঁচাতে প্রয়োজন-শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’, `সন্ত্রাসের গডফাদার-তারেক-গো ব্যাক টু বাংলাদেশ’, ‘অবৈধ সরকার প্রধান-এখোনই করো প্রস্থান’, ‘এই মুহূর্তে দরকার-শেখ হাসিনার সরকার’, ‘শেখ হাসিনার সরকার-বারবার দরকার’  ইত্যাদি স্লোগানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, আমরা মুজিব, বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং যুক্তরাষ্ট্র জাসদের নেতা-কর্মীরা। ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনের পার্কে এ কর্মসূচির সময় এনসিপির ৮ কর্মী ব্যানার-প্লেকার্ড হাতে পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। ‘এনসিপি ডায়াসপোরা এলায়েন্স-ইউএসএ’ ব্যানার হাতে এবং ‘নো মোর এ্যামটি প্রমিজ-ইমপ্লিমেন্ট দ্য জুলাই চার্টার’, ‘জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড’, ‘অনর দ্য পিপুলস ম্যান্ডেট-মেইক রিফর্ম এ রিয়েলিটি’ এবং ‘জনতার রায় মানতে হবে’ লেখা প্লেকার্ড হাতে থাকা এই যুবকদের উদ্দেশ্যে আক্রমণাত্মক স্লোগান ধ্বনিত হওয়ায় তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সবকিছু গুটিয়ে প্রস্থান করেন। বিষয়টি অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। আর এভাবেই চব্বিশের জুলাই-আগস্টের সন্ত্রাসের সহযোগী হিসেবে ওরা এই প্রবাসেও চিহ্নিত হচ্ছে। বিক্ষোভ থেকে জানানো হয় যে, নানাবিধ অপরাধে লিপ্ত থাকার দায়ে দুই দশক আগে তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই আদেশ এখনো বহাল থাকায় জাতিসংঘের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া অন্য কোথাও কিছু করতে পারছে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এ সময় জানান, জাতিসংঘ মহাসচিবকেও অনুরোধ জানাচ্ছি সন্ত্রাসের গডফাদার তারেক রহমানের দোসর খলিলুর রহমানকেও নিষিদ্ধ করা হউক -যাতে তার মত কুখ্যাত ব্যক্তিরা এই বিশ্বসভায় সভাপতিত্ব করতে না পারে।

    জাতিসংঘেও তারেক রহমানকে নিষিদ্ধের স্লোগান আওয়ামী লীগের। ছবি-বাংলা গেজেট।

    বেলা ১২টা থেকে দু’টা পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভ-সমাবেশে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, এনামুল হক শামীম, ড. সিদ্দিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান, ডা. মাসুদুল হাসান, রানা হাসান মাহমুদ, আব্দুস সামাদ আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, আবুল হাসিব মামুন, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুর রহিম বাদশা,    এডভোকেট রকিবউদ্দিন মন্টু,      সাখাওয়াত আলী, ইমদাদ চৌধুরী, রফিকুর রহমান রফিক, মুজিবউদ্দিন, এডভোকেট জহির, শাহীন আজমল, সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, তারেকুল হায়দার  চৌধুরী, আকতার হোসেন, শাহানারা রহমান, ইকবাল ইউসুফ, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সাখাওয়াত বিশ্বাস, নুরুজ্জামান সর্দার, এইচ এম ইকবাল, সৈয়দ কিবরিয়া জামান, এম এ আলমগীর বিপ্লব, হাসান জিলানী, আবু তাহের,  যুবলীগের নেতা সেবুল মিয়া, মিজানুর রহমান চৌধুরী,


    রাজনীতিক-সাংবাদিকসহ সকলের নি:শর্ত মুক্তি দাবি আওয়ামী লীগের। ছবি-বাংলা গেজেট।

    ছাত্রলীগের মাহমুদুল হাসান ও হৃদয় মিয়া, শ্রমিক লীগের নেতা আজিজুল হক খোকন, জাসদের নেতা আব্দুল মোসাব্বির, নূরে আলম জিকো, হাকিকুল ইসলাম খোকনসহ শতশত নেতা-কর্মীর সাথে আরো ছিলেন পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিনাঞ্চলীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। মিশিগান, নিউইংল্যান্ড, টেক্সাস, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট, ভার্জিনিয়াসহ ওয়াশিংটন ডিসি,

    পাপেট সরকারের প্রধান তারেক রহমানের পদত্যাগের দাবি শ্রমিক লীগের। ছবি-বাংলা গেজেট।

    ম্যারিল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও এসেছিলেন নিজ নিজ ব্যানারসহ।  ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচির আওতায় ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসার পর থেকেই আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে।

    Facebook Comments Box
  • জাইমা রহমানসহ ৬ বাংলাদেশী চাকরি পেলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতির সচিবালয়ে

     

     

     

    লিগ্যাল অফিসার ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ছবি-সংগ্রহ।

    বিশেষ সংবাদদাতা

    ব্যারিস্টার জাইমা রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির সচিবালয়ে লিগ্যাল অফিসার (আইন কর্মকর্তা) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন দফতরে মোট ৪০ জনের মধ্যে বাংলাদেশী হচ্ছেন ৬ জন।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি (বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত) খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে জাইমা রহমান এই দায়িত্ব পেয়েছেন বলে ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন। একইসাথে একই সচিবালয়ের উপ-প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশী ক’টনীতিক ড. আব্দুল আলিম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোর বিষয় সংক্রান্ত সিনিয়র অ্যাডভাইজার হিসেবে     মো. রফিকুল আলম মোল্লা। এই তিনজনই খলিলুর রহমানের মেয়াদ (এক বছর) পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের বেতন, ভাতা, বাসা ভাড়া, ড্রাইভারসহ গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে বাংলাদেশকে। নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের খরচও বহন করবে বাংলাদেশ। জাইমা রহমান জাতিসংঘ থেকে কোন সুযোগ-সুবিধাই পাবেন না। ইউএনজিএ প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমানের নিউইয়র্কে থাকা, খাওয়া, গাড়িসহ ড্রাইভারের ব্যয়ভারও বহন করতে হবে বাংলাদেশকেই। তবে আব্দুল আলিম এবং রফিকুল আলম মোল্লার বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেবে জাতিসংঘ। পিজিএ’র অন্য দফতরে দায়িত্ব পাওয়া ৩ জন হলেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারি মোয়াজ্জেম হোসেন, সিনিয়র এডভাইজার মফিজুল ইসলাম এবং জাকির আহমেদ। তারাও বাংলাদেশ সরকার থেকে বেতন-ভাতা-থাকা-খাওয়ার সুবিধা পাবেন কিনা তা এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পিজিএ সচিবালয়ের উপ-প্রধান আব্দুল আলিম। ছবি-সংগ্রহ।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি পদে বাংলাদেশী নিযুক্ত হবার সংবাদে প্রবাসীরা উল্লাস প্রকাশ করলেও সভাপতি খলিলুর রহমান ও আইন কর্মকর্তা জাইমা রহমানের বিশাল ব্যয়-ভার বাংলাদেশকেই বহন করার সংবাদে কিছুটা হতাশাও তৈরী হয়েছে।

    জাতিসংঘ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জাইমা রহমান একজন পেশাদার ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিশেষজ্ঞ। তিনি যুক্তরাজ্যের ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন’ থেকে আইন ও রাজনীতিতে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ‘ইনার টেম্পল’ থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। জাইমা রহমান যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশ উভয় দেশেই আবাসন, কল্যাণ ও শ্রম আইন, স্বাস্থ্য খাত এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে আইনি পরামর্শক ও গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন।

    উল্লেখ্য, জাইমা রহমান বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জোবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি।

    জাতিসংঘের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সচিবালয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আইনি বিষয়গুলো দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন।

    অপরদিকে, ঢাকার তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র ড. আব্দুল আলীম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের  উপ-প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাবার আগে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের চৌকষ ক’টনীতিক হিসেবে বিভিন্ন দেশের মিশনে চাকরি করেছেন। ১৮তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় সার্বিকভাবে ১ম স্থান অধিকারী ড. আলিম আন্তর্জাতিক প্রশাসন ও সিভিল সার্ভিসে একটি বিশিষ্ট ক্যারিয়ার গড়েছেন। তার নিয়োগ বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশি কূটনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সুধীজনের কাছে। একইভাবে মো. রফিকুল আলম মোল্লাও একজন পেশাদার কূটনীতিক।

    সিনিয়র অ্যাডভাইজার মো. রফিকুল আলম মোল্লা। ছবি-সংগ্রহ।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির নীতি-নির্ধারণী ফোরামে তারা সভাপতি খলিলুর রহমানের বৈশ্বিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন।

    জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বিদ্যমান রীতির উদ্ধৃতি দিয়ে এ সংবাদদাতাকে জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট  জাতিসংঘের মূল কোনো স্টাফ নন এবং সংস্থাটি থেকে তিনি সরাসরি কোনো নিয়মিত বেতন পান না। সাধারণ পরিষদের সভাপতির বেতন-ভাতা, আবাসন বা বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ সাধারণত তার নিজের দেশ বা নিজ সরকার বহন করে থাকে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও স্বেচ্ছামূলক ট্রাস্ট ফান্ড থেকেও এর ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

    এজন্যে, ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর জন্য বাড়ি ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রস্তাব বা চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ চিঠিতে বাড়ি ভাড়া বাবদ মাসিক ১৫ হাজার ডলার হিসেবে বার্ষিক ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার ব্যয় হবে। যা বাংলাদেশি টাকায় মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকার সমান। সম্প্রতি এই অর্থ বাজেট বরাদ্দ হিসেবে চেয়ে অর্থ সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। চিঠিতে কোন খাতে কত টাকা প্রয়োজন তার একটি বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যালয়ের সভাপতি পদের কাজ শুরু করেছেন ৮ সেপ্টেম্বর। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ঐতিহাসিক অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    জানা গেছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি একটি অবৈতনিক পদ। এ পদের মর্যাদা, সাধারণ পরিষদের কার্যাবলীসহ অন্যান্য কূটনৈতিক কার্যাবলী সূচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য সভাপতির বেতন-ভাতা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থা ঐতিহ্যগতভাবেই মনোনয়ন প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে বহন করতে হয়। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত জাতিসংঘের ৪১ তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় বাংলাদেশ সরকারই বহন করেছিল।

     

    এ কারণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি অর্থাৎ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ করা প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র সচিব।

    জানা গেছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ এবং সেখানে থাকা-খাওয়ার (ভ্রমণ ও আনুষঙ্গিক) ব্যয় মূলত তিনটি প্রধান উৎস থেকে মেটানো হয়। এর একটি হচ্ছে অফিস অব পিজিএ  ট্রাস্ট ফান্ড : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়কে সহায়তার জন্য একটি বিশেষ ট্রাস্ট ফান্ড বা স্বেচ্ছামূলক তহবিল রয়েছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ, বিভিন্ন সংস্থা বা অংশীদাররা এই তহবিলে স্বেচ্ছায় অর্থ প্রদান করে। প্রেসিডেন্টের আন্তর্জাতিক সফর, প্রচারণামূলক কাজ এবং বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনার খরচের একটি বড় অংশ এই ট্রাস্ট ফান্ড থেকে বহন করা হয়।

    দ্বিতীয়টি হচ্ছে আমন্ত্রণকারী বা স্বাগতিক দেশ: প্রেসিডেন্ট যখন নির্দিষ্ট কোনো দেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা সরকারি সফরে যান, তখন অনেক সময়ই সেই স্বাগতিক দেশ বা সংশ্লিষ্ট সরকার তাঁর থাকা-খাওয়া, স্থানীয় যাতায়াত ও আতিথেয়তার সম্পূর্ণ বা আংশিক ব্যয় বহন করে। এছাড়া সভাপতির  নিজ দেশের সরকার: প্রেসিডেন্টের মূল আবাসন ও অন্যান্য খাতের মতো তাঁর সফরের বহর বা বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত খরচের জোগান তাঁর নিজের দেশের সরকারও দিয়ে থাকে।

    জাতিসংঘের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতির অংশ হিসেবে সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রতিটি অফিশিয়াল সফরের খরচ কোন উৎস (যেমন- ট্রাস্ট ফান্ড নাকি স্বাগতিক দেশ) থেকে সরবরাহ করা হয়েছে, তা জাতিসংঘের অফিসিয়াল ট্র্যাভেলস পোর্টালে জনসমক্ষে প্রকাশ করে থাকেন।

    প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, গত ২ জুন জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকোরিসকে পরাজিত করে এই ঐতিহাসিক জয় লাভ করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি ৯৯টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১ ভোট।

    Facebook Comments Box
  • আরো ১১টি বিমান ক্রয়ের চুক্তি বোয়িংয়ের সাথে

    প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ কর্মকর্তারা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    আনিসুর রহমান

    সরকার দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরো ১১টি  বিমান কেনার চুক্তি করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

    মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।’

    তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা হতে পারে।

    বাংলাদেশ চাহিদার ভিত্তিতেই বিমান কিনবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।’ বোয়িং প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

    তিনি বলেন, গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

    তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মাহদী আমিন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

    তিনি জানান, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে হয়েছে। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে এবং সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি জানান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

    তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানান তিনি।

    মাহদী আমিন বলেন, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে  ছিলেন।

     

    Facebook Comments Box
  • বিমানমন্ত্রী, ক্রীড়া মন্ত্রী ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ভিপি জসিমের

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হকের পাশে জসিমউদ্দিন ভিপি। ছবি-বাংলা গেজেট।

    আনিসুর রহমান

    জাতিসংঘের চলতি সাধারণ অধিবেশনে যোগদানরত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সাথে সাক্ষাৎ করে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইতিপূর্বে গঠিত ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার মঞ্চ’র সভাপতি জসিমউদ্দিন ভিপি। এ সময় জসিমউদ্দিন জাতিসংঘ সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির পথে এগুচ্ছে। এই এগিয়ে চলার সহযাত্রী হিসেবে আপনারাও গৌরবের অধিকারি। জসিম বিমানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন নিউইয়র্ক –ঢাকা রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত রাখতে। জসিম এ সময় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশেই এই রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চালু হয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় আশা করছি গণতন্ত্রের মা বেগম জিয়ার সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আবারো ফ্লাইট চালু হবে। এটা সর্বস্তরের প্রবাসীগণের ঐকান্তিক প্রত্যাশা। এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক সেখানে ছিলেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সাথে জসিমউদ্দিন ভিপি ও মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল। ছবি-বাংলা গেজেট।

    উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে ‘এডুকেশন হাউস ইউএনজিএ ৮১ আয়োজিত ‘এ্যামপাওয়ারিং টিচার্স ইন লো-রিসোর্স ক্লাসরুম টু কো-ডিজাইন এডটেক ফর স্টুডেন্ট-সেন্টার্ড লার্নিং’  শীর্ষক এক বৈশ্বিক সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ নিউইয়র্কে এসেছেন। তার সাথেও সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন জসিমউদ্দিন।

    Facebook Comments Box
  • তারেক রহমানের ৫ দফা রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে

    জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।

    একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। খবর বাসসের।

    তিনি রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

    ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।

    বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সহ-আয়োজক ও অন্যান্য অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা চরম বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বড় বড় ঢল এসেছে। ১৯৮০-এর দশকেও দেশটি রোহিঙ্গাদের কয়েকটি বড় দফার আগমন প্রত্যক্ষ করেছে। তৎকালীন বিভিন্ন সরকারের আমলে কিছু রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। উপরন্তু, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে এখনো মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে আসছে।

    তিনি বলেন, প্রতিবছর শিবিরগুলোতে হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন আরেকটি প্রজন্ম। রোহিঙ্গা মায়েরা তাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন, তরুণরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে উঠছে এবং প্রবীণরা নিজেদের ফেলে আসা ঘরবাড়ি ও গ্রামের স্মৃতি বুকে নিয়ে নিজভূমে ফিরে যাওয়ার আকুল আকাক্সক্ষা পোষণ করছেন।

    মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিবিরগুলোতে তাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, শিবিরগুলোতে বসবাসের পরিবেশ উন্নত করতে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এগুলো দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের উপযোগী কোনো আদর্শ স্থান নয়।

    দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের মাশুল শুধু রোহিঙ্গাদেরই দিতে হচ্ছে না, কক্সবাজারের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর ওপরও এর তীব্র প্রভাব পড়ছে।

    দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসী পাচার, মাদকপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধ রয়েছে। এমনকি অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। একটি দেশে অমীমাংসিত থেকে যাওয়া এই সংকট পুরো অঞ্চলের জন্যই নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।

    মানবিক সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন যত বাড়ছে, মানবিক সহায়তার জীবনরেখা ততই সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য তা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে; যা দিয়ে কেবল ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।

     

    ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে না’ উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের পাশে অব্যাহতভাবে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান এবং বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। একইভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কেবল বাংলাদেশই রোহিঙ্গাদের দায়ভার বহন করে যাবে- এমনটাও প্রত্যাশা করা যায় না।

    তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।

    রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা এখনো নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রম এবং নিরাপত্তাহীনতাসহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

    মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং ‘আরাকান আর্মি’- উভয়ের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে সেখানে এখনো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।

    প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন শুধুই সহমর্মিতা না দেখিয়ে সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

    প্রথম প্রস্তাব: আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

    দ্বিতীয় প্রস্তাব: রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নিজভূমিতে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান।

    তৃতীয় প্রস্তাব: রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও আন্তর্জাতিক সহায়তা বজায় রাখতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রতি উদার আতিথেয়তার কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের উন্নয়নের আকাক্সক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিবেচনায় নিতে হবে।

    চতুর্থ প্রস্তাব: টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের অবশ্যই কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

    পঞ্চম প্রস্তাব: আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। তারা যেন নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে নিজ ঘরে ফিরে যেতে পারে- বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানবিকতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। মিয়ানমারে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভাগ্য যেন কেবল নিপীড়ন, বিতাড়ন ও বাস্তুচ্যুতির আরেকটি গল্প হয়ে না থাকে; বরং এটি যেন ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও আশার গল্প হয়ে ওঠে।’

    তিনি বলেন, ‘এই গল্পের সূচনা হোক এখনই।’

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  ড. খলিলুর রহমান, গাম্বিয়ার উপরাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ বি. এস. জ্যালো, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখেন, জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমতা, প্রস্তুতি ও সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাদজা লাহবিব, সৌদি আরবের রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা এবং কিং সালমান হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের সুপারভাইজার জেনারেল আবদুল্লাহ আবদুল আজিজ আল-রাবিয়াহ, যুক্তরাজ্যের আমেরিকা, বহুপক্ষীয় ও মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস এলমোর, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি, ওআইসি’র মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যালিসন হুকার, থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব একসিরি পিন্টারুচি, অস্ট্রেলিয়ার প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি ডিভিশনের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ক্রেইগ চিটিক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মো. শুহাদা ওসমান।

    সহ-আয়োজক ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের মন্ত্রী বা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কও, ইউএনএফপিএ’র সহকারী মহাসচিব ড. ক্যাথরিনা বোয়েমে, ওএইচসিএইচআর এর সহকারী মহাসচিব ক্লদিয়া ফুয়েন্তেস জুলিও, আইওএমের উপ-মহাপরিচালক জাস্টিস উগোচি ড্যানিয়েল।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।

    Facebook Comments Box
  • ব্রুকলীন পার্কে প্রকাশ্যে গুলিতে যুবক হত্যা

    হত্যার মোটিভ উদঘাটনে পুলিশী তৎপরতা।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    নিউইয়র্ক সিটির ডাউন টাউন ব্রুকলীনে ম্যাকলোলিন পার্কের পাশে ক্যাথেড্রেল প্ল্যাসে মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর বেলা ২টায় জায়েদ ব্রাউন (২৪) নামক এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানায়, ব্রুকলীনের ব্রাউন্সভিলের বাসিন্দা এই যুবকের বুকে গুলিবিদ্ধ হয় এবং মুমূর্ষাবস্থায় তাকে নিকটস্থ মেথডিস্ট হাসপাতালে জরুরী বিভাগের নেয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

    পুলিশ মাঠে নেমেছে ঘাতকের সন্ধান এবং হত্যার মোটিভ উদঘাটনের জন্যে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে, জায়েদ ব্রাউন ২০২৫ সালে বেআইনী অস্ত্র বহনের দায়ে একবার গ্রেফতার হয়েছিল।

    Facebook Comments Box
  • ব্রঙ্কসে আগুন : নিহত-১, দগ্ধ ৭

    অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এপার্টমেন্টের একটি অংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটম।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে মরিস হেইটস এলাকায় ওয়েস্ট ১৭৪ স্ট্রিটের সন্নিকটে মন্টগোমারি এভিনিউতে অবস্থিত (১৪৮৪) এপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল পৌণে ৮টার দিকে ভয়ংকর এক অগ্নিকান্ডে এক ব্যক্তির মৃত্যু এবং দমকল বাহিনীর দুই অফিসারসহ ৭ জন দগ্ধ হয়েছেন। নিউইয়র্ক দমকল বাহিনী আরো জানায় অগ্নিদগ্ধ এক ব্যক্তি ভবনেই মারা গেছেন। আরেকজনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

    দমকল বাহিনী অগ্নিকান্ডের সংবাদ জেনেই অকুস্থলে আসে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা আরো জানান, ৬ তলা বিশিষ্ট এপার্টমেন্ট ভবনের চতুর্থ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর গাড়ি সেখানে পৌছানোর আগেই আশে-পাশের এপার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়েছিল আগুনের লেলিহান শিখা। বেলা একটায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত অগ্নিকান্ডের কারণ উদঘাটনে সক্ষম হয়নি সংশ্লিষ্টরা।

    Facebook Comments Box
  • বাঙালি সংস্কৃতির ফল্গুধারা বহুজাতিক এ সমাজে প্রবাহিত রাখার সংকল্প

    অ্যাপ্রিসিয়েশন পার্টিতে অতিথিসহ বাইটপোর কর্মকর্তারা।

    ডিসি প্রতিনিধি
    আড্ডা, স্মৃতিচারণ ও মেজবানি খাবারের মধ্য দিয়ে ‘বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন’ (বাইটপো)’র সদস্য, স্পনসর, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং গত ২৩ আগস্ট মেজবান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের লক্ষ্যে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর)ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে এক ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন পার্টি’ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে তুলে ধরার উদ্যোগ এবং সফল আয়োজনের নেপথ্যে থাকা কর্মী, স্পনসর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি উদাত্ত আহবান উচ্চারিত হয় সামনের দিনগুলোতেও বাঙালি সংস্কৃতির ফল্গুধারা বহুজাতিক এ সমাজে প্রবাহিত রাখার।
    প্রাণের আমেজ আর সম্প্রীতির বন্ধনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিফ। চ্যান্সেলর আবুবকর হানিফ সফলভাবে মেজবান আয়োজনের জন্য বাইটপো টিমের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে আরও সুন্দর ও বৃহৎ পরিসরে মেজবান আয়োজনের ক্ষেত্রে সংগঠনটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
    খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ এবং নিরব সমাজকর্মী ড. ফায়জুল ইসলাম বলেন, গত ২৩ আগস্ট ডিএমভি এলাকায় স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ মেজবান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান সংগীত পরিবেশন করেন। তিনি মেজবান আয়োজনের বিভিন্ন দিক ও সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। ড. ফাইজুল বলেন, বড় ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলে নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে যারা একটি আয়োজন সফল করেন, তাদের পরিশ্রম ও ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে আয়োজকেরা ভবিষ্যতে আরও ভালো অনুষ্ঠান করতে উৎসাহিত হবেন।

    অ্যাপ্রিসিয়েশন পার্টিতে মেজবানের নেপথ্য কর্মীগণের কয়েকজন। ছবি-বাংলা গেজেট।

    বাইটপোর সভাপতি সামছুদ্দীন মাহমুদ বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লোকসমাগম এবং নিবন্ধন ছাড়াই বিপুলসংখ্যক অতিথির উপস্থিতির কারণে খাবার ব্যবস্থাপনায় কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত খাবার পরিবেশনের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর কিছু অতিথি খাবার না পাওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। আগামী মেজবান আরও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান বাইটপো সভাপতি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে। এ বছর যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের আগামী বছরের আয়োজনে ফ্রি-রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া হবে। খাবার বিতরণ আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খল করতে চারটি পৃথক লাইন চালুর পাশাপাশি খাবার পরিবহনের সক্ষমতা তিন গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
    আগামী মেজবানে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাইটপো সভাপতি বলেন, পরবর্তী আয়োজনের প্রস্তুতি এমনভাবে নেওয়া হবে, যাতে কোনো অতিথিকে খাবার না খেয়ে ফিরে যেতে হয়।

    অনুষ্ঠানে বাইটপোর সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ খালেদ এবং ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর স্যাম রিয়াসহ সংগঠনের আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। আলোচনা ও স্মৃতিচারণের পাশাপাশি অ্যাপ্রিসিয়েশন পার্টিতেও ছিল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবারের আয়োজন।

    Facebook Comments Box
  • লন্ডনে চট্টগ্রাম উৎসব ১ নভেম্বর

    সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম উৎসবের কর্মকর্তারা। ছবি- নাহিদ জায়গীরদার।

    আনসার আহমাদ উল্লাহ

    লন্ডনে চট্টগ্রাম উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ১ নভেম্বর রোববার, সকাল ১১ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। স্থান: মেফেয়ার ভেন্যু, রমফোর্ড রোড, পূর্ব লন্ডন।

    মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্তোরার হলরুমে চট্টগ্রাম উৎসব-২০২৬ এর উদযাপন কমিটি আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব‍্য পাঠ করেন – উৎসব কমিটির পক্ষে মুহাম্মদ আলী রেজা।

    এসময় উপস্থিত থেকে কথা বলেন ব‍্যারিস্টার মনোয়ার হোসেইন, কাউন্সিলর সৈয়দ ফিরুজ গণি, গিয়াস উদ্দিন, অনুপম সাহা, মনির মাহমুদ, সুজন বড়ুয়া, মাসুদুর রহমান, শওকত ওসমান, নাবিল রহমান, সাইফুল ইসলাম, মুহাম্মদ কায়সার ও আলিম উল্লাহ রাহাত প্রমুখ।

    সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা আরো জানান, চট্টগ্রাম উৎসব কেবল একটি বার্ষিক সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি চট্টগ্রামের মেজবানসহ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গৌরব, ব‍্যবসা-বানিজ্য, প্রবাসে মানুষের চেতনাকে ধারণ এবং উদযাপনের একটি সম্মিলিত প্রয়াস।

    আয়োজকরা সম্মিলিত উদ‍্যোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে আগামী ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬ নিরাপদ, সর্বজনীন ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত করতে যুক্তরাজ্যের সকল চট্টগ্রাম ভিত্তিক সংগঠন, সর্বস্তরের কমিউনিটি ব‍্যক্তিত্ব, গনমাধ্যম কর্মী, তরুণ প্রজন্ম সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ, উপস্থিতি কামনা করেন। ঐদিন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজন উপভোগ করার আহ্বান জানান।

    Facebook Comments Box
  • ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকি ট্রাম্পের

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শান্তিচুক্তি না করলে ইরানে কঠোর হামলার হুমকি দিলেন।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে কোনও চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারেন তিনি।

    ট্রাম্প তার ভাষণে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জানান, তেহরানের সামনে এখন দু’টি পথ খোলা। চুক্তি করা নয়ত নতুন করে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হওয়া।

    ট্রাম্প বলেন, ‘‘এবার আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনও চুক্তি হবে, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন হবে এবং অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও উন্নত দেশ হয়ে উঠতে পারবে? না কি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেব এবং তা করব দ্রুত, যাতে তারা আর কখনওই হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা চালানোর সুযোগ না পায়?”

    ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “আমি কি তাদের অস্তিত্বের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা মহত্ত্বের কোনও আশা ছাড়া নরকে ঠেলে দেব?”

    তবে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে জানিয়ে ট্রাম্প এর আগে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাস, নির্বাচনের ঠিক পরেই আমরা একটি চুক্তি করব। কারণ, চুক্তি না করার কোনও যুক্তিযুক্ত কারণ তাদের (ইরানের) নেই। মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমি কেমন ফল করি, তারা সেটাই দেখার অপেক্ষা করছে।’’

    ট্রাম্প একইসঙ্গে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করার জন্য অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য দেশগুলোকেও যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    ট্রাম্প আরও বলেন, “ভেনেজুয়েলায় আমাদের পদক্ষেপই প্রমাণ করে দিয়েছে পশ্চিম গোলার্ধের কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনও হুমকিকে আর শিকড় গাড়তে দেওয়া হবে না।”

    ওদিকে অধিবেশন চলাকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ইরান সরকারবিরোধী শত শত বিক্ষোভকারী সমাবেশ করে। তাদের হাতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবিসংবলিত পোস্টার দেখা যায়।

    Facebook Comments Box
  • প্রথম দিন ১০টিতে অংশ নেন তারেক রহমান

    সংবাদ সম্মেলনে দুই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মিশনের প্রধান এবং পদস্থ কর্মকর্তারা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    আনিসুর রহমান

    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের প্রথম দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্ক্রমের আলোকে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মিশনে এক প্রেসি ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গিরা কথা বলেন। ছিলেন স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানও।

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বৈঠক করেছেন, সেখানে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও বিনিয়োগের মত বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় তুর্কি হাউসে তারেক-এরদোয়ান বৈঠক হয়।

    হুমায়ুন কবির বলেন, “প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একজন মূল্যবান ভাই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে বলেছেন যে, তুরস্ক সরকার বাংলাদেশের সাথে একটি বিস্তৃত  অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।”

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন  বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সাধারণ অবস্থান নেওয়া এবং কিছু নির্দিষ্ট মানবিক ইস্যুতে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    “এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি বৈঠক ছিল এবং দুই নেতাই খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন। উভয় নেতাই ভবিষ্যতে একটি বিশেষ দ্বিপfক্ষীক সম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন।”

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা ছিল ‘গঠনমূলক, আন্তরিক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ’।

    তিনি জানান, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট; সেই সঙ্গে তাকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।

    রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

    দিনের দুটি বৈঠক রোহিঙ্গা সংকটকেন্দ্রিক ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।

    ইউএনএইচসিআর এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

    মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে পরবর্তী দিন একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।

    পরে এক প্রশ্নের উত্তরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান বলেন, “আমরা চাই না রিফিউজি সিচুয়েশনটা ভুলে যাওয়া হোক। বাংলাদেশে এখন যে ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা আছে, সেটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিফিউজি কেসলোড।

    “প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছেন, উনি এখানে ইউএন-এর সব কাউন্টারপার্টস এবং বাইল্যাটারাল কাউন্টারপার্টদের সবার কাছ থেকেই সাহায্য চেয়েছেন এই সমস্যার সমাধান করার জন্য। আমাদের ক্যাম্পে যারা আছেন, তাদের জন্য আমাদের আরও ফান্ডস দরকার, সেই ফান্ডসগুলো যেন আসে এবং আমরা সবাইকে উৎসাহিত করছি আমাদেরকে একটি সমাধান খুঁজতে সাহায্য করার জন্য যাতে রিফিউজিরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে।”

     

    ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির সঙ্গে বৈঠক

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথম দিনে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ১২টি নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ১০টিতে তিনি সশরীরে অংশ নেন। দিনের শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে আয়োজিত প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান। এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।

    এদিন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হাই কমিশনারের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়।

    ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে জানান হুমায়ুন কবির। সার্ক কাঠামোর আওতায় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

    হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে মাহদী আমিন জানান।

    ঢাকায় কার্যালয় খোলার ‘আগ্রহ’ মেটার

    সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় তাদের একটি কার্যালয় বা ফোকাল পয়েন্ট স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেটার কার্যক্রম, সাইবার নিরাপত্তা, ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল হয়রানি কমাতে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেটা কীভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    শামা ওবায়েদ বলেন, ঢাকায় কার্যালয় খোলার বিষয়টি মেটা পর্যালোচনা করবে।

     

    Facebook Comments Box
  • তারেকের ৬ মাস : সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে বাংলাদেশ

     

    বিশেষ সংবাদদাতা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ১০০ দিনে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে ৬০৫ বাংলাদেশী। প্রথম ৬ মাস অর্থাৎ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে আরো যুক্ত হয়েছে শতাধিক রাজনৈতিক নেতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন। আর এসব হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে প্রকাশ্য রাজপথে অথবা নিজ ঘরের ভেতর কিংবা পুলিশ স্টেশনে। ক্ষমতাসীনদের অন্যায়-অপকর্মের সমালোচনা কিংবা প্রতিবাদ করলেই বিএনপি-জামাত-শিবির-এনসিপির সন্ত্রাসের ভিকটিম হতে হচ্ছে। এমন একটি অসহনীয় পরিস্থিতির শিকার গোটা বাংলাদেশ। সাংবাদিকরাও্ বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশে সাহসী হচ্ছেন না আক্রান্তের ভয়ে।

    ক্ষমতাসীনদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, নিউ এ্যাজ-সহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন এবং তা জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে বিলি করেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিপন্ন, মানবাধিকার বলতে কিছুই নেই, আইনের শাসন বলতে আওয়ামী লীগ নিধনকে বৈধতা দেয়া, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে হামলা, নারীকে ধর্ষণ এবং সপরিবারে হত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার নির্লজ্জ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে তথ্যের আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে ।

    বিশ্বব্যাংক এ বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের অর্থনীতির চরম অবনতি, দারিদ্রতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে লাগামহীনভাবে, ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট অব্যাহত থাকার তথ্য দিয়েছে। ৯৫টি শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ায় ৬১৮৮১ জন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। বিজিএমইএ’র তথ্য  অনুযায়ী চব্বিশের কথিত কোটা আন্দোলনের পর  সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের ৪ শতাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।

    মানবাধিকার সংস্থা (হিউম্যান রাইটস ওয়াচ)’র তথ্য অনুযায়ী তারেক রহমানের ৬ মাসে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ নেতা মারা গেছেন। এদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও সেগুলোর বিচার শুরুই হয়নি। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভিন্নমতের রাজনীতিকদের পর্যায়ক্রমে নি:শেষ করার সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কারাগার এবং রাস্তা-ঘাটে কিংবা বাসা-বাড়িতে ঢুকে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।

    চব্বিশের কথিত আন্দোলনে শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ৪ লাখের অধিক নেতা-কর্মী-সমর্থক গ্রেফতার হয়েছেন এবং অনেকের বিরুদ্ধে শতশত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় নিয়োজিতরাও কথিত হত্যা মামলার আসামী হয়েছেন। অনেক সাংবাদিকের ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এখনো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকের বিরাট একটি সংখ্যাকে প্রাণের ভয়ে অথবা গ্রেফতারের আতংকে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে।

    বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সুগভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্তরা কোটা আন্দোলনের আড়ালে চব্বিশের আগস্টের পর একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটানো হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট অপবাদ দিয়ে নিজেরাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানের ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র কায়েমের স্লোগান প্রদানকারিরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে একতরফা নির্বাচনের তামাশা করেছে।

    ‘বাংলাদেশ এ্যাট এ ক্রসরোড’ শীর্ষক এ রিপোর্টে এহেন অরাজক পরিস্থিতির অবসানে অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, গণমাধ্যমকে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া অবলম্বন, বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ তৈরী, সংখ্যালঘুদের সম-অধিকার নিশ্চিত, নারীরা যাতে অবাধে শিক্ষা লাভের পর চাকরি ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত থাকতে পারেন তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

    Facebook Comments Box