Blog

  •  Must remain beside the people & build resistance together with the people.

     

     

    Special Correspondent

    A meeting of the Central Executive Committee of the Bangladesh Awami League was held virtually on friday 18 September. The meeting was chaired by Presidium Member Sheikh Fazlul Karim Selim. Bangladesh Awami League President, Bangabandhu’s daughter and People’s Leader Sheikh Hasina delivered the keynote guidance-oriented address as the chief guest.

    A party organizing secretary confirmed that leaders joined the meeting virtually.

    Several members of the Awami League central committee and secretariat joined remotely from India and other countries. A number of figures, who are not currently members of the central committee but could take on senior leadership roles in the future, also attended the meeting in Delhi.

    Sheikh Hasina said that she had held consultations, in phases, with leaders and activists of the Awami League’s 83 district branches and 160 electoral constituencies in order to learn about the actual situation of the country and its people through grassroots leaders and activists, and to monitor the organizational condition of the party.

    Referring to her experience from these consultations, she said that every sector of the country was on the verge of destruction and that the situation was continuously deteriorating. Therefore, the country must be protected from this situation.

    Instructing the leaders responsible for organisational affairs, she said that wherever there is an organisational vacuum, priority should be given to those who have suffered various forms of persecution when selecting leadership. She said that the strength of the Awami League lies with the people and grassroots leaders and activists, and that the party places its trust in them; the Awami League does not rely on any other force.

    She said that information should be collected on those who have faced persecution and repression over the past nearly two years, regardless of political affiliation, and publicised to raise awareness among the people. At the same time, the identities and actions of those responsible for persecution and repression must also be exposed.

    Sheikh Hasina further said that many innocent military and civilian officials had been arrested in false cases, and she demanded their release.

    Sheikh Hasina said that in July-August 2024, members of the law enforcement agencies made every possible effort to ensure the safety of lives and property. As a result, many police officers were killed, their bodies were burned, and police stations were looted and set on fire. She expressed her determination to ensure justice in all the killings through judicial investigations.

    Based on information received from across the country, she said that the country was now plunged into darkness, with indiscriminate killings, rape, looting, extortion, the filing of cases and other forms of wrongdoing taking place. She alleged that the government was turning a blind eye to these activities and allowing its leaders and activists to commit wrongdoing.

    She said that although the government could not provide food for the people, it was able to produce bodies.

    To save the country from this situation, she reiterated her intention to return to the country. In this regard, she expressed her surprise, saying, “I am eager to return to the country, yet the government is creating obstacles.”

    Addressing party leaders and activists, the Awami League president said that no matter how much they were persecuted or how many death sentences were handed down against them, they must remain beside the people. They must build resistance together with the people.

    The meeting was moderated by Awami League Liberation War Affairs Secretary Advocate Mrinal Kanti Das. General Secretary Obaidul Quader, Presidium Members Mofazzel Hossain Chowdhury Maya Bir Bikram and valiant freedom fighter Advocate Jahangir Kabir Nanak, Joint General Secretary Agriculturist A.F.M. Bahauddin Nasim, Organising Secretaries S.M. Kamal Hossain and Sujit Roy Nandi, Member Professor Mohammad Ali Arafat, Deputy Secretary Raymond Areng and others spoke at the meeting, reviewing the overall situation in the country.

    Other leaders of the Central Executive Committee also participated in the meeting.

    In their statements, Awami League leaders demanded the cancellation of what they described as the illegal death sentences handed down by the so-called ICT Tribunal against Bangabandhu’s daughter Sheikh Hasina and other Awami League leaders, as well as the abolition of the illegal tribunal.

    The meeting expressed deep concern and outrage over the prevailing socio-economic and political situation in the country, the transition to a democratic state system, the deterioration of the supply and security situation concerning oil, gas, water and electricity, the deterioration of law and order, and the economic deadlock.

    The meeting also noted that, most recently, the so-called International Crimes Tribunal had handed down death sentences on what the party described as baseless and fabricated charges against Bangladesh Awami League President Sheikh Hasina and prominent party leaders including Obaidul Quader, Agriculturist A.F.M. Bahauddin Nasim, valiant freedom fighter Asaduzzaman Khan Kamal, Professor Mohammad Ali Arafat, Bangladesh Awami Jubo League Chairman Professor Sheikh Fazle Shams Parash, General Secretary Mainul Hossain Khan Nikhil, Bangladesh Chhatra League President Saddam Hossain and General Secretary Sheikh Wali Asif Enan, among others.

    The meeting expressed its firm view that the so-called tribunal had no legal basis and strongly rejected such actions.

    Following discussion, the meeting unanimously adopted the following demands and proposals:

    • The prices of essential commodities must be reduced.
    • The supply of electricity, oil, gas and fertiliser must be ensured.
    • Arrangements must be made to provide employment for workers who have lost their jobs.
    • Closed industries and factories must be reopened.
    • All political prisoners must be released.
    • All false cases must be withdrawn.
    • The ban on the Bangladesh Awami League must be withdrawn.
    • The so-called ICT Tribunal’s illegal death sentences against Bangabandhu’s daughter Sheikh Hasina and other Awami League leaders, as well as the illegal tribunal itself, must be abolished.
    • False cases filed against innocent military and civilian officials of the Republic must be withdrawn, and the release of those who have been arrested must be ensured.
    Facebook Comments Box
  • সিএনএনসহ ৩ সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউজে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

    নিউজ ডেস্ক

    প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘বৈরী’ ও ‘ভুয়া খবর’ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে তিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম— সিএনএন, এমএসনাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউজে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    শুক্রবার নিজের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলেছেন।

    সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে আরো কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ওপর একই ধরনের কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

    প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সোশাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “অনবরত ‘ভুয়া খবর’ পরিবেশন করার কারণে আমি অবিলম্বে সিএনএন, এমএসনাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউজে নিষিদ্ধ করছি।”

    তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প প্রশাসন কিংবা আমেরিকাকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের সময় সংবাদমাধ্যমগুলোর মনগড়া তথ্য ও মিথ্যা প্রচার চালানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। অন্যান্য ‘ফেক নিউজ’ মিডিয়ার বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ আসছে।”

    তবে এই নিষেধাজ্ঞা ঠিক কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ওভাল অফিসে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসে।

    অনুষ্ঠান শেষে ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহের কাজে যুক্ত ‘প্রেস পুল’কে সঙ্গে নিয়ে ভার্জিনিয়ায় তার গলফ ক্লাবে নিজের ‘সুপার প্যাক’ আয়োজিত বৈঠক ও নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে তাদের ক্যাম্প ডেভিডে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সাংবাদিকদের জন্য সীমিত প্রবেশাধিকারের স্থানগুলোর একটি।

    ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই তার প্রতি সমালোচনামূলক সংবাদ পরিবেশন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করা কিংবা ব্যক্তিগতভাবে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের আক্রমণ করে কথা বলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তার।

    এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘মেক্সিকো উপসাগরের’ নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত ট্রাম্পের নীতি অনুসরণ না করায় বার্তা সংস্থা এপির ওপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। সে সময় ওভাল অফিস, এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং সীমিত পরিসরের বিভিন্ন ইভেন্টে এপির সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে এপি, যা এখনও বিচারধীন।

    Facebook Comments Box
  • জাতিসংঘের অধিবেশনকালে বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ ৫৫ সংগঠনের পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচি

    সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। পাশে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে আগত বিশ্বনেতাগণের অনেকেই নানাভাবে বিতর্কিত, স্বৈরাচার, মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত বলে তাদের বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে এবং এজন্যে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ ৫৫টি সংগঠন নিউইয়র্ক পুলিশ/পার্ক ডিপার্টমেন্ট/এয়ারপোর্ট প্রশাসনের অনুমতি সংগ্রহ করেছে।

    বিক্ষোভের অনুমতির জন্যে সাবমিট করা দরখাস্তের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-সহ বহু দেশের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিল করা হবে। এমন ঘটনা সারাবছরই এই সিটিতে ঘটে আসছে। তবে তার মাত্রা বেড়ে যায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকালে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রথম সংশোধনী (বাক-ব্যক্তি-মিডিয়ার স্বাধীনতা, ক্ষোভ প্রকাশের অধিকার) অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠানে পুলিশ সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে কেউ যদি সহিংস হয় কিংবা ধ্বংসাত্মক আচরণে লিপ্ত হয়-তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

    ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্প্রতিবার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত  কোন সমাবেশে অংশ নেব না। এবং আমি তাদেরকে কখনোই প্রতিবাদি হতে উৎসাহিত করিনি। আমি সবসময় তাদের বলেছি যে, এই সিটিতে তারা প্রতিবাদ-সমাবেশ-মিছিল করার অধিকার রাখেন। আমরা সেই অধিকারকে সম্মান করি, এবং এই সিটি এমন একটি জায়গা যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের জন্যে গর্বিত, প্রথম সংশোধনীর জন্যে অহংবোধ করে এবং সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। মেয়র মামদানি অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিবাদ সমাবেশকালে কোন ধরনের হামলার হুমকি চালানোর বিশ্বাসযোগ্য কোন তথ্য তার অফিসে নেই।

    পুুলিশ কমিশনার এসময় জানান, ২২ সেপ্টেম্বর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুরু হবে এবং তার আগে থেকেই জাতিসংঘ সদর দফতরের সম্মুখের পার্কে, বিভিন্ন দেশের মিশনের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ শুরু হবে। কোন কোন দিন ৩/৪টি স্থানে বিক্ষোভ হবে।

    এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমণের সময় জেএফকে এয়ারপোর্টে পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। ২১ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে তারেক রহমান কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের কথা। সেখানে আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলো ব্যাপক বিক্ষোভের অনুমতি নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। একইসময়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে সমাবেশ করার অনুমতি নিয়েছে বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন। উভয়ের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা দেখা গেলেও এয়ারপোর্ট পুলিশসহ নিউইয়র্ক পুলিশের উপস্থিতি থাকবে। গতবছরও জাতিসংঘের অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের আগমনের সময় পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচি পালিত হয়। নিরাপত্তা বেষ্টনী সত্বেও ইউনূসের সফরসঙ্গিগণের মধ্যে কেউ কেউ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ক্ষোভের মুখে পড়ে নাজেহাল হয়েছেন। ডিম-হামলার শিকার হয়েছিলেন এনসিপির দুয়েকজন নেতা। সে আলোকে এবার বিশেষ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

    তারেক রহমান যে হোটেলে অবস্থান করবেন তার বাইরেও প্রতিদিনই বিক্ষোভের কর্মসূচি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এই অবস্থা মোকাবেলা করতে বিএনপিও স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করেছে। তাদের নেতাসহ সফরসঙ্গিগণের নিরাপত্তায় থাকবেন স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা-এ তথ্য জানান নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠকেও সবকিছু ঠান্ডা মাথায় মোকাবেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট্রা জানান।

    ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় বাইরে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ‘শান্তি-সমাবেশ’ করার অনুমতি নিয়েছে। এই কর্মসূচির সমন্বয় ঘটাচ্ছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ স¤্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান মিল্টন এবং গোলাম ফারুক শাহীন।

    একইসময়ে তারেক রহমানকে ‘গণতন্ত্রের দুশমন, ফ্যাসিবাদের নায়ক, একাত্তরের ঘাতকদের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে তাকে ক্ষমতাচ্যুৎ করতে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি নিয়েছে। এ উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, মিশিগান, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ইলিনয়, ওয়াশিংটন মেট্র এলাকা, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, বস্টন থেকেও নেতা-কর্মীরা নিউইয়র্কে আসবেন বলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ১৮ সেপ্টেম্বর এ সংবাদদাতাকে জানান।

    যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ডা. মাসুদুল হাসান জানান, সর্বকালের বৃহৎ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে জেএফকে এয়ারপোর্টে এবং জাতিসংঘের সামনে। সবটাই হবে শান্তিপূর্ণভাবে। বিশ্ববাসীকে আমরা জানান দিতে চাই যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে। গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশীরাই শুধু অনিরাপদ নন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশকেই সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হবে যদি তারেকের মত লোকজন ক্ষমতায় থাকেন।

    প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ২৫ সেপ্টেম্বর  অপরাহ্নে নিউইয়র্কে তারেক রহমানের নাগরিক সম্বর্ধনার কর্মসূচি বাতিল করা হলেও আমেরিকার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন নিউইয়র্কে। তারা আওয়ামী লীগের যে কোন ধরনের প্রতিরোধ-কর্মসূচি রুখে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। এরফলে নিউইয়র্কে প্রবাসীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা  বিরাজ করছে। আরো উল্লেখ্য, চব্বিশের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হবার আগে প্রতি বছরই জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের জন্যে নিউইয়র্কে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামাত-শিবিরের লোকজন তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এবার ঘটবে তার উল্টো অর্থাৎ বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল-জামাত-শিবির করবে শান্তি ও স্বাগত সমাবেশ। আর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ করবে বিক্ষোভ সমাবেশ।

    জানা গেছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শীর্ষ নেতাগনের বিতর্ক শুরুর আগে অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের সম্মুখস্ত ফার্স্ট এভিনিউ’র ৪১ স্ট্রিট থেকে ৪৮ স্ট্রিট পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এমনকি সর্বসাধারণকেও আইডি ছাড়া ঐ এলাকায় যেতে দেয়া হবে না।

    Facebook Comments Box
  • আওয়ামী লীগ আর বিএনপির কান্ডারি

    বিশেষ সংবাদদাতা

    বাংলাদেশের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বি পার্টির শীর্ষ পদে দুই নারীর নাম আবারো সামনে এসেছে। এরা  হলেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (৫৩) এবং ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান (৩০)। পুতুল এবং জাইমা উভয়েই বিশেষ দুটি পরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে আবির্ভূত হলেও নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরিবারের শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়েছেন। তার সাথে যোগ হয়েছে নানা-মা এবং দাদা-দাদির নেতৃত্ব গুণ।

    সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

    বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে নয়া দিল্লীতে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতি সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে হবেন (প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র সদস্য হিসেবে শেখ সেলিমের নাম এসেছে) তা প্রকাশের পর আওয়ামী পরিবারে নানা মুখী-আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের এবং ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারাও শেখ সেলিমকে পছন্দ করছেন না। সর্বশেষ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় শেখ সেলিম নিজেকে কখনো শেখ হাসিনার চেয়েও ক্ষমতাবান দেখানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনার আত্মীয় পরিচয়ে তিনি আরো এমনকিছু করেছেন-যাকে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ভালোভাবে নিতে পারেননি। আওয়ামী লীগের চরম এই দু:সময়ে তেমন একজনকে আওয়ামী লীগের হাল ধরার দায়িত্ব প্রদানের অর্থ হবে সবচেয়ে পুরনো এই রাজনৈতিক দলটিকে আরো নাজুক অবস্থায় নিপতিত করা-এমন মতামত-মন্তব্য সোস্যাল মিডিয়ায় অবিরতভাবে প্রকাশের মধ্যেই শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে প্রেসিডিয়াম মেম্বার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সংবাদে অনেকে স্বস্তিবোধ করছেন। প্রখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ পুতুল বিগত বছরসমূহে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজের ধারাবাহিকতায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগদানের মধ্যদিয়ে নিজের অবস্থানকে মানবিকতায় বিশেষ এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় পুতুল এমন কোন মতামত/মন্তব্য করেননি-যা তার নানার গড়া রাজনৈতিক দলের প্রধান প্রতিপক্ষের কাউকে কষ্ট দিতে পারে। শুধু তাই নয়, ন্যায়-নিষ্ঠভাবে নিজেকে পরিচালিত করতেও কার্পণ্য করেননি পুতুল। আর এভাবেই বঙ্গবন্ধুর অপর নাতি অর্থাৎ শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের চেয়ে অনেক বেশী গুণের অধিকারী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনে সক্ষম হয়েছেন সর্বসাধারণের কাছে। সবকিছু মিলিয়ে পুতুলকেই বর্তমানের দু:সময়ে আওয়ামী লীগের কান্ডারি হিসেবে নির্ভরযোগ্য মনে করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

    ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

    ঠিক এমনি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও বিএনপি রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দুতে উঠেছেন। রাজনৈতিক কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া বাবা তারেক রহমানের সাথে লন্ডনে বসতি গড়েন জাইমা রহমান ২০০৮ সালে। এরপর সেখানে উচ্চতর শিক্ষা লাভের পর ব্যারিস্টার হয়েছেন। এমনি অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তালুকদার জাইমা সম্পর্কে কট্যুক্তি করার পর জাইমা লাইম লাইটে এসেছেন। এরপর চব্বিশের জুলাইয়ে কথিত আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পতন ঘটলে মুহম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বাবা তারেক রহমান এবং মা জুবাইদা রহমানের সাথে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরেছেন ব্যারিস্টার জাইমা। আওয়ামী লীগকে সুযোগ না দিয়ে বিএনপি-জামাত-এনসিপির অংশগ্রহণে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচনের প্রচারাভিযানে জাইমা রহমান নিজের অবস্থানকে বিএনপির রাজনীতিতে অবিসম্বাদিত করেছেন। এছাড়া, ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্রেকফাস্ট প্রেয়ার মিটিংয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ এবং উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতাতেও ছিলেন ব্যারিস্টার জাইমা। নারীর ক্ষমতায়নে অন্যতম প্রবক্তা হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। আর এভাবেই ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে বিএনপির ভবিষ্যত কান্ডারি হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা। নানার পরিবারের খ্যাতির পাশাপাশি নিজের যোগ্যতা ও পৈত্রিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ জাইমা হবেন বিএনপির ভবিষ্যত নেতা-এমনটি ভাবতেও দ্বিধা করছেন না অনেকে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম এই জাতিসংঘ সফরের প্রাক্বালে গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে এসেছেন ব্যারিস্টার জাইমা। অবস্থান করছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানের বাসায়। সম্পর্কে খালা হোন জাইমার। অত্যন্ত কৌশলে বাবার মিটিংয়ের প্রক্রিয়াগুলো তৈরী করছেন বলে জানা গেছে।

    Facebook Comments Box
  • `তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’

     

    Screenshotতারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আগমন উপলক্ষে লংআইল্যান্ড বিএনপির উদ্যোগে ১৬ সেপ্টেম্বর এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন লংআইল্যান্ড বিএনপির সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন ।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট । টেলি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, সাবেক যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু।

    গেস্ট অফ অনর ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মূলধারার রাজনীতিক আক্তার হোসেন বাদল এবং সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুস সবুর ।

    প্রধান বক্তা ছিলেন নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সভাপতি অলি উল্লাহ আতিকুর রহমান ।

    অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা সাইদুর রহমান সাইদ ।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রইস উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল হক আজাদ এবং দেওয়ান কাউছার, স্টেট বিএনপির নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার , মোহাম্মদ জসিম, লংআইল্যান্ড বিএনপির সৈয়দ জিল্লুর রহমান জিল্লু , মোহাম্মদ রফিউর চেয়ারম্যান, শাহাজান সিকদার এবং লংআইল্যান্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বাবর উদ্দিন ।

    আরো বক্তব্য রাখেন রুমানা আক্তার জুথী,এজাজ আহমেদ শাহীন,কাউছার হোসেন ভিপি,হাসান আলী,শওকত আলী এবং মোহাম্মদ হাসান আলী প্রমুখ। লংআইল্যান্ডের মাটি তারেক রহমানের ঘাঁটি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম ইত্যাদি স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করা হয় এ সময় ।

    সকলেই ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে সরব থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেন।

     

    Facebook Comments Box
  • শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম আবির্ভাব তিথি মহোৎসব ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার

    অজিৎ ভৌমিক

    ‘পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম পুণ্য আবির্ভাব তিথি মহোৎসব’ উদযাপিত হবে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসে ওঁম শক্তি মন্দিরে( ৪০-২৩ ৭২ স্ট্রিট)।

    ‘যে আচরণ, বাক্য, কর্ম- বাঁচাবাড়ার উৎস হয়/তাকেই জানিস  ধর্ম বলে নইলে ধর্ম কিছুই নয়’-মন্ত্রে উজ্জীবিত দিনব্যাপী এই মহোৎসবের আয়োজক হচ্ছে ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসংঘ, ইউএস’।

    এ উপলক্ষে গঠিত কমিটির আহবায়ক সুবাশ দত্ত এবং সদস্য-সচিব সুবাশীষ দত্ত জানান, সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ঝুলন চৌধুরী এবং সম্পাদক সুবাষ তালুকদারের সার্বিক সমন্বয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে সবকিছুকে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ প্রবাসীর সমাগম ঘটাতে।

    Facebook Comments Box
  • নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সম্বর্ধনা বাতিল

     

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাগরিক সম্বর্ধনা হচ্ছে না। এমনকি ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীগণের সাথে যে বৈঠক হবার কথা ছিল ২৬ সেপ্টেম্বর সেটিও বাতিল হয়েছে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে ১৬ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন যে, ২৫ সেপ্টেম্বর  অপরাহ্নে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে অভিজাত একটি হোটেলের বলরুমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনকে নাগরিক সম্বর্ধনার প্রস্তুতি চলছিল। সেজন্যে কন্স্যুলেট তিন লাখ ডলারের একটি বাজেট চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের নেতা সম্বর্ধনার নামে এত অর্থ ব্যয়ে সম্মতি দেননি। বিকল্প হিসেবে আমি জানিয়েছিলাম যে, প্রবাসে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সে অর্থের জোগান দেব। এতদসত্বেও বাংলাদেশের মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে এতবড় অংকের অর্থ ব্যয়ে আমাদের নেতা সম্বর্ধনায় রাজি হননি।

    তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত জনপদে ব্যানার। ছবি-বাংলা গেজেট।

    গিয়াস আহমেদ আরো জানান, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির শত-সহস্র নেতা-কর্মী প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাবেন। সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে সর্বত্র।

    নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটে সানফ্রান্সিসকো-তে যাবার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সেই প্রোগ্রামও বাতিল হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ন কাজের জন্যে সফরসূচি কিছুটা সংক্ষিপ্ত করে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। এর আগে হোটেলে দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে সাক্ষাৎ দিতে পারেন চেয়ারপারসন।

    গোলাম ফারুক শাহীন আরো জানান, এয়ারপোর্টে এবং জাতিসংঘের সামনে স্বাগত ও শান্তি সমাবেশের জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছে।

    নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন চলমান প্রস্তুতি আলোকে ১৬ সেপ্টেম্বর আরো জানান, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতা হিসেবে তারেক রহমান নিউইয়র্কে আসবেন ২১ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য শুরু হবে। সে পর্বে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্প্রতিবার অপরাহ্নে তারেক রহমানের ভাষণ দেয়ার কথা। সে সময় জাতিসংঘের সামনে তারেক রহমানের ভাষণকে স্বাগত জানাতে শত-সহস্র নেতা-কর্মীর সমাবেশ ঘটবে।

    এদিকে, নিউইয়র্কে তারেক রহমানের পুরো কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীগণকে সুশৃঙ্খলভাবে জেএফকে এয়ারপোর্টে এবং জাতিসংঘের সামনে উপস্থিত হবার আহবান জানিয়েছেন। চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে যাদের অভিবাসনের স্ট্যাটাস নেই বা সমস্যা রয়েছে, তারা যেন গোলযোগের আশংকা থাকা কোন স্থানেই না যান।

    এদিকে, তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে বাংলাদেশী অধ্যুষিত বাণিজ্যিক পাড়া।

    তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে প্রতিরোধের আহবানে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    অপরদিকে, নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে প্রতিরোধের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। তারাও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন জেএফকে এয়ারপোর্টে, জাতিসংঘের সামনে এবং তারেক রহমানের অবস্থানকারি হোটেলের সামনে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শনের। ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণাকালে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ডা. মাসুদুল হাসান জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না। কারণ, তিনি ইউনূসের প্রেতাত্মা হিসেবে আওয়ামী লীগ নির্মূলের চেষ্টা চালাচ্ছেন অত্যন্ত কৌশলে। একদিকে তিনি ‘অন্তর্ভুক্তি’র কথা বলেন, অপরদিকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের আইন করেছেন। বিএনপি আর জামাত-শিবিরের সাবেক জোট এখোন একাট্টা হয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংসের নীলনক্শা অনুযায়ী কাজ করছে-যা একাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিতরা মেনে নিতে পারি না।

    Facebook Comments Box
  • নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বাংলা নাট্যোৎসব ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর

    আনিসুর রহমান

    প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের বন্ধন অটুট রাখতে নাট্যচর্চা হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মাধ্যম। সেই ধারাবাহিকতায় কয়েক বছর ধরে নিরলস প্রচেষ্টা ও ভালোবাসায় নিউইয়র্কে বাংলা নাটকের চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রবাসী নাট্যদলগুলো।

    তাদের ধারাবাহিক আয়োজনে এবার গ্রীষ্মের শেষপ্রান্তে লং আইল্যান্ডে বসছে শিল্পাঙ্গন নাট্যদলের নবম নাট্য উৎসব। আগামী ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর লং আইল্যান্ডের Levittown Hall, Hicksville-এ দুই দিনব্যাপী এ নাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে শিল্পাঙ্গনের নিজস্ব প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হবে চারটি নাটক। পাশাপাশি নিউইয়র্কের অন্যান্য নাট্যদলও তাদের নির্বাচিত নাটক নিয়ে অংশ নেবে।

    দুই দিনের এ আয়োজনে দর্শকদের জন্য থাকছে শিল্পাঙ্গন নাট্যদলের ভিন্ন স্বাদের চারটি নাটক—‘আমাদের হালখাতা’, ‘রক্তকরবী’, ‘কাঁটাতারে বিঁধে আছে লাল গোলাপ’ এবং ‘বেদের মেয়ে’। প্রতিটি নাটকের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন স্ব স্ব নাটকের রচয়িতা ও নির্দেশকরা, যাঁদের সৃজনশীল ভাবনা ও মঞ্চনির্দেশনায় প্রবাসের মঞ্চে বাংলা নাটক নতুন মাত্রা পাবে। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় মঞ্চস্থ হবে ‘আমাদের হালখাতা’ ও ‘রক্তকরবী’। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় দর্শক দেখবেন ‘কাঁটাতারে বিঁধে আছে লাল গোলাপ’ ও ‘বেদের মেয়ে’।

    প্রবাসে বাংলা নাটকের চর্চা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরিরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিশেষ করে নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক নগরীতে নিয়মিত নাট্যচর্চার মধ্য দিয়ে বাংলা সংস্কৃতির নিজস্ব পরিসর তৈরি করে চলেছে শিল্পাঙ্গন।

    কুইন্স থেকে এবার লং আইল্যান্ড—মঞ্চ বদলালেও বাংলা নাটকের প্রতি ভালোবাসা ও দর্শকের সঙ্গে শিল্পীদের সেই সম্পর্কই থাকছে এ উৎসবের মূল শক্তি। আয়োজকদের প্রত্যাশা, দুই দিনের এ উৎসব প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের জন্য হয়ে উঠবে শিল্প, সংস্কৃতি ও মিলনমেলার এক প্রাণবন্ত উপলক্ষ। নাট্যপ্রেমী ও সংস্কৃতি সচেতন প্রবাসীদের উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিল্পাঙ্গনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—“মঞ্চের আলোয় মিলিত হই, বাংলা নাটকের সঙ্গে, আপনজনের সঙ্গে।”

    উৎসবের নাটক ও সময়সূচি

    ১৯ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৪টা : আমাদের হালখাতা — রচনা ও নির্দেশনা : মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
    রক্তকরবী — রচনা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , নির্দেশনা : শিরিন বকুল।
    ২০ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৪টা : কাঁটাতারে বিঁধে আছে লাল গোলাপ — রচনা : রাজিয়া নাজমী, নির্দেশনা : মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বেদের মেয়ে — রচনা : পল্লীকবি জসীম উদ্দীন, নির্দেশনা : মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম

    উৎসবস্থান : Levittown Hall 201 Levittown Pkwy, Hicksville, NY 11801

     

    Facebook Comments Box
  • কাদের-নাছিমসহ আওয়ামী লীগের ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

    Screenshot

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেতাকর্মীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্থানীয় সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

    আরো ছিলেন সাবেক পানি সম্পদমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের প্রচার ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক, যুবলীগের সভাপতি সেবুল মিয়া, ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ও সেক্রেটারি হৃদয় মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এইচ এম ইকবাল, সেক্রেটারি  সৈয়দ কিবরিয়া জামান, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ শাহনাজসহ সংগঠনসমূহের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও কর্মসূচিতে ছিলেন।

    বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। সেখানে ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান এবং দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের প্রচারপত্রে রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ও ‘সাজানো বিচার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরে বিচারপ্রক্রিয়া ও প্রহসনের রায় প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে রায় বাতিলের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত চব্বিশের জুলাই-আগস্ট’র কথিত গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

    Facebook Comments Box
  • নিউইয়র্কে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

     

     

    জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    দীপক কুমার আচার্য

    ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউতে এই মহা-শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী বাঙালি অধ্যুষিত এই এলাকার ১৬২ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে ১৬৯ স্ট্রিট পর্যন্ত আনন্দমিছিলটি প্রদক্ষিণ করে। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১২০০ জনেরও বেশি পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাজে সজ্জিত শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য সবার নজর কাড়ে। ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার এই মেলবন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন

    সামাজিক সংগঠন এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন ভজন সরকার, শীতাংশু গুহ, ড. সব্যসাচী ঘোষ দস্তিদার, প্রিয়তোষ দে, রণজিৎ সাহা, সমর রায়, দীপক কুমার আচার্য, গোবিন্দজী বানিয়া এবং রীনা সাহা।

    জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    এই অত্যন্ত সফল আয়োজনের সার্বিক নেতৃত্বে ছিলেন প্রিয়তোষ দে। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে যৌথভাবে সহযোগিতা করেছে নিউইয়র্কের একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মহামায়া মন্দির, বাবা লোকনাথ আশ্রম, জ্যামাইকা কালী মন্দির, টাইমস স্কোয়ার দুর্গা পূজা, ওম শক্তি টেম্পল, গৌর নিতাই মন্দির, বালগোপাল সংঘ, সার্বজনীন গীতা সংঘ, গুরুচক্র পরিবার, হিন্দু কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ সেন্টার, উত্তর আমেরিকান হিন্দু কল্যাণ সংঘ, বাংলাদেশ সেবা সংঘ, শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ ইউএসএ ইনক, বাংলাদেশ বেদান্ত সোসাইটি, মতুয়া মিশন অব নিউইয়র্ক, শ্রীমদভগবত গীতা স্টাডি সেন্টার ইনক, হরেকৃষ্ণ নামহট্ট সোসাইটি অব নিউইয়র্ক, বাংলাদেশ পূজা সমিতি এবং সনাতন সেবাশ্রম ফাউন্ডেশন ইনক (মহাকালী মন্দির)। আয়োজকরা জানান, এই উৎসব কেবল প্রবাসী বাঙালি ও বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির অবদানকেই তুলে ধরেনি, বরং পরিবারগুলোকে একত্রিত হওয়ার, নিজেদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য উদযাপনের এবং শিশুদেও দেশীয় সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করার এক অপূর্ব সুযোগ তৈরি করেছে।

    Facebook Comments Box
  • আবার কেন জিন্নাহ আলোচনা ঢাকায়

     

    মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে আবারও আলোচনা ঢাকায়। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহকে ঘিরে আমাদের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার বিতর্ক নতুন নয়। তবে জিন্নাহকে বুঝতে হলে শুধু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক ইতিহাস দেখলেই হবে না, দেখতে হবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং ভারত ভাগের পর তাঁর একমাত্র মেয়ে দিনা ওয়াদিয়ার জীবনও।

    মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একমাত্র মেয়ে দিনা ওয়াদিয়া পাকিস্তান সম্পর্কে বাবার মাজারে গিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বোম্বাই ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যান চিরতরে। মুম্বাইয়ের অভিজাত মালাবার হিল এলাকায় তাঁর বাড়িটি এখনও আছে। জিন্নাহর একমাত্র মেয়ে দিনা ওয়াদিয়া ভারত ভাগের পর বাবার সঙ্গী হননি। তিনি মুম্বাইয়েই থেকে যান। যাননি পাকিস্তানে।

    এই একটি তথ্যই জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক জীবনের একটি বড় বৈপরীত্য সামনে আনে। যে মানুষটি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংগ্রাম করেছিলেন, তাঁর নিজের একমাত্র সন্তান সেই নতুন রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেননি।

    দিনা ওয়াদিয়া ছিলেন জিন্নাহর একমাত্র সন্তান। ১৯১৯ সালে লন্ডনে তাঁর জন্ম। তাঁর মা রতনবাই জিন্নাহ ছিলেন পারসি পরিবারের মেয়ে। দিনার শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় সময় ভারত ও ইংল্যান্ডে কেটেছে। পরবর্তী জীবনে তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত, বিয়ে এবং জীবনযাপন নিয়ে জিন্নাহর সঙ্গে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়।

    দিনা পারসি পরিবারের যুবক নেভিল ওয়াদিয়াকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে জিন্নাহ সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। বাবা-মেয়ের সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ে। কিন্তু দূরত্ব তৈরি হলেও সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বাবার প্রতি দিনার আবেগ ও ভালোবাসা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশ পেয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হলো। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলো। জিন্নাহ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হয়ে নতুন রাষ্ট্রের নেতৃত্ব নিলেন। বোম্বাইয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান হলো। তিনি চলে গেলেন পাকিস্তানে। কিন্তু দিনা থেকে গেলেন ভারতে। তিনি পাকিস্তানে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেননি।

    দিনা জীবনে দুইবার পাকিস্তান সফর করেন। প্রথমবার, তাঁর বাবা পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুর পর, ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে তিনি পাকিস্তানে যান। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম পাকিস্তান সফর।

    এরপর দীর্ঘ সময় দিনা ওয়াদিয়া পাকিস্তান যাননি। ভারতে, বিশেষ করে মুম্বাইয়েই তিনি দীর্ঘ সময় বসবাস করেন। জীবনের শেষদিকে তিনি লন্ডন ও নিউইয়র্কেও বাস করেন।

    প্রথম সফরের দীর্ঘ ৫৬ বছর পর ২০০৪ সালে দ্বিতীয়বার পাকিস্তান সফরে যান দিনা। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের সময় আমন্ত্রণ জানান। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের একটি বিশেষ সময়ে এই সফর হয়েছিল। ক্রিকেট তখন দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছিল।

    ২০০৪ সালের সেই সফরে দিনা ওয়াদিয়া তাঁর বাবার মাজারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দীর্ঘ ৫৬ বছর পর বাবার সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর আবেগ ছিল স্পষ্ট। ব্যক্তিগত আবেগ ও বাবার প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই তিনি মন্তব্য বইয়ে লিখেছিলেন—

    “এটি আমার জন্য একই সঙ্গে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিস্ময়কর এক অভিজ্ঞতা। তাঁর পাকিস্তানের স্বপ্ন যেন সত্যি হয়।”

    বাবার মাজারে দাঁড়িয়ে একমাত্র মেয়ে দিনা ওয়াদিয়ার এই মন্তব্যে যেন তাঁর নিজের সংশয় ও বেদনার কথাই উঠে এসেছিল। একজন মেয়ের কাছে এটি ছিল বাবার স্মৃতির সামনে দাঁড়ানোর মুহূর্ত; কিন্তু ইতিহাসের দৃষ্টিতে এটি ছিল আরও বড় একটি প্রতীকী ঘটনা।

    কারণ দিনা ছিলেন সেই মানুষের একমাত্র সন্তান, যিনি পাকিস্তানের জন্মের জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অথচ সেই রাষ্ট্রে তিনি কখনো স্থায়ীভাবে বসবাস করেননি। ২০০৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে তাঁকে বাবার মাজারে দাঁড়াতে হয়েছিল একজন অতিথি হিসেবে। এই বৈপরীত্য ইতিহাসের একটি গভীর প্রশ্ন সামনে আনে—রাষ্ট্রের রাজনৈতিক জন্ম আর মানুষের ব্যক্তিগত পরিচয় কি সব সময় একই পথে চলে?

    ভারত ভাগের ইতিহাস মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ইতিহাস হলেও এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিয়েছিল সাধারণ মানুষ। পরিবার ভেঙেছে, মানুষ দেশ বদলেছে, সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ এক ভূখণ্ড থেকে অন্য ভূখণ্ডে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। জিন্নাহর নিজের পরিবারও এই বিভাজনের মানবিক অভিঘাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল না।

    দিনা ওয়াদিয়ার জীবন সেই বিভাজনের একটি ব্যতিক্রমী প্রতিচ্ছবি। তাঁর বাবা পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু তাঁর নিজের জীবন ভারতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় হননি, কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেননি এবং পাকিস্তানে বসবাসও করেননি। তাঁর পরিচয়ের মধ্যে একই সঙ্গে ছিল জিন্নাহর উত্তরাধিকার, ভারতের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং বিভক্ত উপমহাদেশের জটিল ইতিহাস।

    এখানেই জিন্নাহকে নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান আলোচনার গুরুত্ব। বাংলাদেশের ইতিহাস পাকিস্তানের ইতিহাস থেকে আলাদা হয়ে জন্ম নিয়েছে। ১৯৪৭-এর পাকিস্তান থেকে ১৯৭১-এর বাংলাদেশ—এই দীর্ঘ পথের মধ্যে বাঙালির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ভাষার অধিকার, অর্থনৈতিক বৈষম্য, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জাতীয়তাবাদের প্রশ্ন একে একে সামনে এসেছে। তাই বাংলাদেশে জিন্নাহকে নিয়ে আলোচনা কখনোই শুধু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাকিস্তানের জন্ম, পূর্ববাংলার অভিজ্ঞতা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস।

    জিন্নাহকে কেউ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দেখেন, কেউ ভারত বিভাজনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবে মূল্যায়ন করেন। আবার বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর উত্তরাধিকারকে দেখা হয় ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার অংশ হিসেবে। ফলে জিন্নাহকে নিয়ে আলোচনা করতে হলে আবেগের পাশাপাশি ইতিহাসের ধারাবাহিকতাও মনে রাখতে হবে।

    আর দিনা ওয়াদিয়ার জীবন সেই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দিক সামনে আনে। জিন্নাহ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর একমাত্র মেয়ে সেই পাকিস্তানে বসবাস করেননি। ২০০৪ সালে জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি বাবার মাজারে ফিরে এসে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁর বক্তব্যে ছিল বাবার প্রতি ভালোবাসা, স্মৃতি ও আবেগ; পাশাপাশি ছিল পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের প্রত্যাশা ও সংশয়ের ছাপ।
    ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর, ৯৮ বছর বয়সে নিউইয়র্কে দিনা ওয়াদিয়া মারা যান। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জিন্নাহ পরিবারের একটি দীর্ঘ ব্যক্তিগত অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
    কিন্তু ইতিহাসের গল্প শেষ হয় না। জিন্নাহকে নিয়ে ঢাকায় যখন আবার আলোচনা হচ্ছে, তখন তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পাশাপাশি দিনা ওয়াদিয়ার জীবনও মনে রাখা দরকার। কারণ ইতিহাস শুধু রাষ্ট্রের জন্মের গল্প নয়, ইতিহাস মানুষেরও গল্প। জিন্নাহ একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; তাঁর একমাত্র মেয়ে সেই রাষ্ট্রে বসবাস করেননি। এই বৈপরীত্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভারত ভাগের ইতিহাসের অনেক না-বলা কথা।

    ১৯৪৭ সালের বিভাজন শুধু মানচিত্র বদলায়নি মানুষের পরিচয়, পরিবার, সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎও বদলে দিয়েছিল। জিন্নাহর পরিবারও সেই ইতিহাসের বাইরে ছিল না। আর তাই আজ ঢাকায় জিন্নাহকে নিয়ে আলোচনা উঠলে প্রশ্ন শুধু হওয়া উচিত নয় জিন্নাহ কে ছিলেন? প্রশ্ন হওয়া উচিত, তাঁর রাজনৈতিক স্বপ্নের পরিণতি কী হয়েছিল, সেই স্বপ্নের ভেতরে থাকা মানুষগুলো কোথায় দাঁড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত উপমহাদেশের ইতিহাস আমাদের কোথায় নিয়ে গিয়েছিল?

    Facebook Comments Box
  • জেএফকে-জাতিসংঘে-হোটেলের সামনে বিক্ষোভসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে স্মারকলিপি

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী। ছবি-বাংলা গেজেট।

     

    অজিৎ ভৌমিক

    নিউইয়র্কে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় এক জনাকীর্ন সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্যে আসা বাংলাদেশের ‘অসাংবিধানিক-অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তথা জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের জনক তারেক রহমান’ কে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধের বিস্তারিত কর্মসূচি অবহিত করা হয়। এ সময় জানানো হয়, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে এবং সেই সন্ত্রাসের নেপথ্য নায়ক ছিলেন তারেক রহমান। এছাড়া, এটা সকলেই জানেন যে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশুণ্য করার যে ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছিল তার মাস্টারমাইন্ডও ছিলেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের আচরণ এতটাই নৃশংস ছিল, ঘোষ দুর্নীতিতে এতটাই নিমজ্জিত ছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে নিষিদ্ধ করেছিল। কখনোই সে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। কিন্তু সুদখুর ইউনূসের কূটকৌশলে বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়রাণ্যে পরিণত করে বিশেষ গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার অঙ্গিকারে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে বাঙালি জাতিগোষ্ঠির বিরুদ্ধে জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং সর্বত্র তারেককে প্রতিহত করার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়। জেএফকে এয়ারপোর্টে তুমুল প্রতিরোধ রচনায় হাজার হাজার নেতা-কর্মীর সমাবেশ ঘটানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিক্ষোভ-সমাবেশের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সংগ্রহ করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। ছবি-বাংলা গেজেট।

    সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য প্রদানের পর লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুর রহমান চৌধুরী ইমদাদ। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান এবং মানবাধিকার সংগঠক ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মঞ্চে উপবেশনকারি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা নুরুল আবসার সেন্টু, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কিবরিয়া জামানসহ মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ।

    সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ডা. মাসুদুল হাসান (সর্ববামে)। ছবি-বাংলা গেজেট।

    এ সময় ইমদাদ চৌধুরী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে প্রতিরোধ করতে আওয়ামী পরিবার ঐক্যবদ্ধ এবং সারা আমেরিকার নেতৃবৃন্দ জড়ো হবেন নিউইয়র্কে। বিদ্যমান আইনের আওতায় আমরা সবকিছু করবো। বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমরা অবহিত করতে চাই যে, তারেক রহমান হচ্ছেন মানবতার দুশমন, গণতন্ত্রের শত্রু এবং ঘুষ-দুর্নীতির বরপুত্র। তারেকের কারণে বাংলাদেশে কেউ স্বস্তি-শান্তিতে নেই। বিচারের নামে চলছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তার হোলিখেলা। তারেক রহমানেরা গণতন্ত্রের জিকির তোলে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল ‘আওয়ামী লীগ’কে নিষিদ্ধের নামে তামাশা শুরু করেছে। এসব তথ্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবহিত করে অবিলম্বে তারেকের অপসারণ দাবি করা হবে। ডা. মাসুদুল হাসান জানান, তারেকের বিরুদ্ধে এবারের আন্দোলন হবে সবচেয়ে জোরদার এবং সুসংগঠিত।

    সংবাদ সম্মেলনের প্রারম্ভে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগানে মুখরিত অবস্থায় নবান্ন পার্টি সেন্টারে প্রবেশের সময় ভিন্ন এক পরিবেশ তৈরী হয়েছিল এবং এরমধ্যদিয়েই বাংলাদেশে চলমান অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রবাসেও তৈরী হওয়া ক্ষোভের আভাস মেলেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে সমাপনী বক্তব্য দেন রফিকুর রহমান রফিক। ছবি-বাংলা গেজেট।

    উপস্থিত সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেকের বিরুদ্ধে সকল কর্মসূচিতে সচেতন প্রবাসী এবং গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক।

    সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য এখানে উপস্থাপন করা হলো :

    আসসালামুআলাইকুম/আদাব। শুভসন্ধ্যা ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই মুজিবীয় শুভেচ্ছা। আপনারা জানেন গত ১২ ফেব্রুয়ারির সান্ধ্য ভোট তথা পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন। আপনারা জানেন তারেক রহমান সেই ব্যক্তি যাকে মার্কিন সরকার ব্যাপক দুর্নীতির জন্য তাদের দেশ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তদানীন্তন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক গোপন তারবার্তা পাঠিয়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্বে সাড়া-জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস ওই তারবার্তাটি প্রকাশ করে। তারবার্তায় বলা হয়, দূতাবাস মনে করে, রাজনৈতিকভাবে সংঘটিত ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতির জন্য তারেক রহমান দায়ী। তার দুর্নীতির কারণে মার্কিন ঘোষণাপত্রে বর্ণিত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তার লক্ষ্য বিনষ্ট হওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তারেক রহমান যাকে বাংলাদেশের মানুষ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে চেনে এবং সেই সময়ে যার আরেক নাম ছিলো “মি. টেন পারসেন্ট”, আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সফর করতে পারেননি। এই সেই তারেক রহমান যিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে হাওয়া ভবন-খোয়াব ভবন খুলে বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    একুশে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল এবং দীর্ঘ ১৭ বছর সে লন্ডনে পালিয়েছিল। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৭টি মামলা হয়েছে।

    পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, অর্থ-পাচারসহ ২০ টি মামলা বিচারাধীন ছিলো। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খুনী ও সুদখোর ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতায় আদালতের ওপর প্রভাব খাটিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ সকল মামলা থেকে তার বেকসুর খালাসের ব্যবস্থা করেন তিনি। পরে ইউনুসের সাথে লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক গোপন সমঝোতার অংশ হিসেবে ১৭ বছরের পলাতক জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন।

    সুতরাং যেই মার্কিন সরকার তারেক রহমানের মতো একজন চরম দুর্নীতিবাজ লোককে তাদের দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তাঁকে আবার তাঁদের দেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছে দেখে আমরা খুবই আশ্চর্য ও মর্মাহত হয়েছি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই এবং একই সাথে মার্কিন সরকারের নিকট এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাই।

    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,

    আপনারা জানেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত তথা মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জনগণের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। আর এই ষড়যন্ত্রের পেছনে অন্যতম প্রধান কুশীলব ছিলো তারেক রহমান ও তার দল বিএনপি।

    তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই বিএনপি-জামাত অশুভ চক্র কথিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নামে বহু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, পুলিশ সদস্যসহ অসংখ্য মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে ও পুড়িয়ে মারে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস করে ও জ্বালিয়ে দেয়।

    পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর তাদের এই বর্বরতা ইতিহাসের সকল রেকর্ড ভেঙে ফেলে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রতিশোধের নামে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতি চিহ্ন মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।

    তারা শত শত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। তাদের হামলা-মামলার কারণে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী আজ বিনাবিচারে কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এদের অনেকেই বিনা চিকিৎসায় জেলেই মারা গেছেন। তাদের প্রতিহিংসার কারণে লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আজ দেশ ছাড়া, ঘর ছাড়া।

    ষড়যন্ত্রকারী ও হায়েনাদের দখলে থাকা বিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের জীবন আজ অভিশপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন । বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির হাতে অবরুদ্ধ। তাঁদের কারণে দেশ আজ খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, বলাৎকার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মানুষের জীবনে এখন নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সারের হাহাকার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে দেশের মানুষ চরম দুঃসহ জীবন কাটাচ্ছে।

    সুশাসনের অভাবে মাত্র ৬ মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ খেলাপি ঋণের দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে বা ১ নম্বরে অবস্থান করছে ঠিক যেমন ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ টানা ৫ বার দুর্নীতিতে “বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন” হয়েছিল।

    আমরা মনে করি দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা ও এই ভয়াবহ সংকটের জন্য এই অবৈধ বিএনপি সরকার ও এর অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পূর্ণভাবে দায়ী এবং সেই জন্য জাতিসংঘের আসন্ন ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ এবং ভাষণ দেয়ার কোন অধিকার তার নেই।

    সুতরাং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক অবস্থানকালে অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণ থেকে শুরু করে তার নিউইয়র্ক ত্যাগ করা পর্যন্ত “যেখানে তারেক—সেখানেই প্রতিরোধ” কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমানের আগমনের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টের সামনে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ হেডকোয়ার্টারের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    আর এই কর্মসূচি সফল করার জন্য নিউ ইয়র্কের সাংবাদিক সমাজ থেকে শুরু করে সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

    জয় বাংলা
    জয় বঙ্গবন্ধু
    বাংলাদেশ চিরজীবী হোক ।

    Facebook Comments Box
  • ভিসার ক্ষেত্রে `পাবলিক চার্জ’ বিধি বাতিলের দাবিতে ২২ স্টেটের মামলা

     

    স্টেট এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমসকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মামলা প্রসঙ্গে কথা বলছেন সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি-সংগ্রহ।

    বিশেষ সংবাদদাতা

    জরুরী চিকিৎসা, আবাসন-সহ সরকারী সহায়তা গ্রহণকারিদের জন্যে গ্রীণকার্ড নিষিদ্ধ করার একটি নীতি থামিয়ে দেয়ার অভিপ্রায়ে সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ফেডারেল কোর্টে একটি মামলা হয়েছে। নিউইয়র্কসহ ২২ স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি, ওয়াশিংটন ডিসিসহ বেশ কটি সিটির পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের এহেন পরিকল্পনাকে অমানবিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং মাননীয় আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে সেই নীতি কার্যকর করা থেকে প্রশাসনকে বিরত থাকার নির্দেশ জারির জন্যে। উল্লেখ্য, সামনের শুক্রবার নয়া এই নীতি কার্যকর হবার কথা। মামলা দায়েরকারি স্টেটসমূহ হচ্ছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, কলরাডো, কানেকটিকাট, দেলওয়ারে, হাওয়াই, মেইন, ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসেচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, নিউজার্সি, নিউ মেক্সিকো, নেভাদা, ওরেগণ, পেনসিলভেনিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া। সিটি প্রশাসনের পক্ষে রয়েছেন নিউইয়র্ক সিটি, শিকাগো, সানফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, সান্তাক্লারা, কিং কাউন্টি।

    মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এমন বিধি চালুর শিকার হবে কম্যুনিটিভিত্তিক সুপার মার্কেট/গ্রোসারিসহ হাসপাতালসমূহ। কারণ, এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ গ্রাহকই ফুডস্ট্যাম্প অথবা মেডিকেইডের ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী সিটিজেনশিপ গ্রহণের পরই ফুড স্ট্যাম্প এবং মেডিকেইডÕর যোগ্য হন ইমিগ্র্যান্টরা। এর বাইরে গ্রীণকার্ড হয়নি অথবা অবৈধভাবে বসবাসরত পরিবারে জন্মগ্রহণকারি মার্কিন শিশুরা ফুডস্ট্যাম্প-সহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছে। এমন যোগ্যতাসম্পন্ন অভিবাসীদেরকে ভবিষ্যতে গ্রীণকার্ড এবং ফুডস্ট্যাম্প/হাউজিং/মেডিকেইডের সুবিধা গ্রহণকারিগণের স্বজনের অভিবাসন ভিসা প্রাপ্তির প্রত্যাশাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে-ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নয়া নীতি কার্যকর হলে। মামলা দায়েরকারি স্টেট এটর্নী জেনারেলগণের পক্ষে নিউইয়র্কের এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস এক বিবৃতিতে বলেছেন, কঠোর পরিশ্রমী মানুষদের তার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। অথচ শুক্রকর কার্যকর হতে যাওয়া বিধির পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের ভয়ে ন্যায়সঙ্গত সুযোগ-সুবিধা নিতেও সাহসী হবেন না। অপরদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নীতির সমর্থকেরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই Ôপাবলিক চার্জÕ নীতি সমুন্নত রাখতে হচ্ছে আমেরিকানদের স্বার্থেই। কারণ, অভিবাসনের ভিসা গ্রহণের সময়েই সংশ্লিষ্টরা অঙ্গিকার করেন যে, তারা সরকারী সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। এমন নীতি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই কার্যকর করা হয়েছিল। তবে তা রদ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে। স্মরণ করা যেতে পারে, নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন হ্রাসের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে আসছে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট টানার অভিপ্রায়ে অভিবাসী সমাজের বিরুদ্ধে সাড়াশী অভিযান চালানো হচ্ছে। কথা ছিল কেবলমাত্র গুরুতর অপরাধে লিপ্ত অথবা দন্ডিত অবৈধ অভিবাসীদেরকে যুক্তরাস্ট্র  থেকে বহিস্কারের। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টো। দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকে এখোন পর্যন্ত যত অভিবাসীকে গ্রেফতারের পর বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে তার ৮৯% এর বিরুদ্ধেই অপরাধের কোন অভিযোগ নেই। এভাবে গোটা কম্যুনিটিকে সন্ত্রস্ত জনপদে পরিণত করা হয়েছে। এমনকি, ফেডারেল সরকারের উদ্ধৃতি দিয়ে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কোন দেশের অভিবাসীরা কত পার্সেন্ট সরকারী সহায়তা নিচ্ছেন তার একটি চিত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। সেখানে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশী আমেরিকানদের ৫৫% ফুড স্ট্যাম্প নিচ্ছেন। কোন কোন দেশের সিটিজেনের ৭২% নিচ্ছেন সরকারী সুবিধা।

    ইতিমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারাবিশ্বের কন্স্যুলেটকে ব্রিফ করা হয়েছে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে স্পন্সরকারিদের আর্থিক সক্ষমতা এবং ভিসা প্রত্যাশীগণের দক্ষতা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার জন্যে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনায় অনেকে বিব্রত। এ অবস্থায় ফেডারেল কোর্টে মামলার ঘটনায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে কম্যুনিটিতে।

     

    Facebook Comments Box
  • ব্রিকস সম্মেলন: কার কতটা লাভ হল?

    নিউজ ডেস্ক

    নরেন্দ্র মোদী, শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের হাসিমুখে পরস্পরের হাত চেপে ধরে দাঁড়িয়ে থাকার ছবিটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের এক শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক বার্তা বহন করে। তবে মূল সম্মেলনের ফাঁকে তোলা আরেকটি ছবি এই জোটের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রভাবের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

    এবিসি নিউজ লিখেছে, জোটের এই সক্ষমতা বুঝতে ব্রিকসের পটভূমি জানা প্রয়োজন। ২০০৬ সালে জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল ‘ব্রিক’। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা তাতে যোগ দেয়।

    আর বছর দুয়েক আগে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, ইথিওপিয়া, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হওয়ায় এর সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১১–তে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্ব ব্যাংক ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মত পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার বাইরে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রভাব বাড়াতে কাজ করছে এই জোট।

     তবে নেটো বা জি৭ জোটের মত ব্রিকসের সুনির্দিষ্ট কোনো আদর্শিক ভিত্তি নেই। অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়ে এ জোট।

    বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জোটে ফাটল স্পষ্ট, কারণ ইরান যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে গত সপ্তাহেও সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউজের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক চিতিগ বাজপেয়ি বলেন, “এই জোটের ভেতরে স্পষ্ট কিছু বিভাজন রয়েছে। ভারত ও ব্রাজিল একে স্রেফ একটি অর্থনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখতে চায়, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন একে ব্যবহার করতে চায় ভূরাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে।”

    মোদী ও শির বড় জয়

    এসব অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সত্ত্বেও ১৪০ দফার এক সর্বসম্মত যৌথ ঘোষণা অনুমোদন করিয়ে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও এক বড় কূটনৈতিক বিজয় নিয়ে সম্মেলন শেষ করেছেন। যৌথ ঘোষণায় আফ্রিকার ৫০টিরও বেশি দেশকে চীনের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে।

    ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন আগে গ্লোবাল সাউথে বাণিজ্যিক নেতৃত্ব দৃঢ় করার এ সুযোগ শির জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    পুতিন ও পেজেশকিয়ানের পশ্চিমা–বিরোধী সুর

    সম্মেলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিশ্ব অর্থনীতির রূপান্তরের কথা তুলে ধরেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেইন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

    মিলনায়তনে উপস্থিতদের করতালির ঝড় ও শিস দিয়ে দেওয়া অভিবাদন প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়াকে একঘরে করার পশ্চিমা চেষ্টা সফল হয়নি।

    একই ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যায়িত করেন।

    সংলাপের সুযোগ কাজে লাগাল ইরান

    তবে ব্রিকসের আসল কূটনৈতিক শক্তি উন্মোচিত হয়েছে অন্য এক ছবিতে। সেটি ছিল ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদের মুখোমুখি বৈঠকের মুহূর্ত।

    ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাত শুরুর পর এটিই ছিল দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে প্রথম আলোচনা।

    ব্রিকস সম্মেলনে গাছের চারা রোপণ করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো/

    এবিসি নিউজ লিখেছে, সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচিতে না থাকা এই বৈঠকের মেজাজ ছিল কিছুটা শীতল। তবে এই আলোচনার পরই ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় পশ্চিম এশিয়ায় ‘সর্বোচ্চ সংযম’ বজায় রাখার সম্মিলিত আহ্বান জানানো হয়।

    গবেষক চিতিগ বাজপেয়ি বলেন, “ব্রিকসের প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে ভিন্নমুখী মেরুর দেশকে একই টেবিলে এনে বসানোর সামর্থ্যের মধ্যে।”

    জোটের বাঁধাধরা নিয়মকানুন না থাকায় এটি জাতীয় স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকা দেশগুলোকেও এক ছাদের নিচে আনার সুযোগ তৈরি করে দেয়। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সাধারণ স্বার্থের জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে পারে।

    এবিসি নিউজ লিখেছে, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হুতি বিদ্রোহীরা দখলে নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা যখন নতুন করে চরম রূপ নিচ্ছে, তখন ব্রিকসের মত মঞ্চে সাধারণ স্বার্থে যে কোনো সীমিত ঐকমত্যও সঠিক দিশার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে।

    Facebook Comments Box
  • তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে নিউইয়র্কে স্টেট বিএনপির জোর প্রস্তুতি

    নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন আনোয়ার হোসেন খোকন। ছবি-বাংলা গেজেট।

    আনিসুর রহমান

    জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্কে আগমণকে স্বাগত জানানোর জন্যে ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় স্টেট বিএনপির উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মৌলানা আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভায় নেতৃবৃন্দ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে দলীয় চেয়পারপাসন তারেক রহমানকে ব্যাপক অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের অভিপ্রায়ে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এ সময় বলা হয়, কারো উস্কানীতে উত্তেজিত না হয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে তারেক রহমানকে ‘শুভেচ্ছা-স্বাগত’ স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত রাখতে হবে। এ সময় উল্লেখ করা হয় যে, বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের বক্তব্য উপস্থাপনের সময়েও বাইরে ‘স্বাগত সমাবেশ’কে সাফল্যমন্ডিত করতে হবে বিপুল উপস্থিতির মধ্যদিয়ে।

    নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সমাবেশের শুরুতে অনুষ্ঠিত দোয়া-মাহফিলে নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    এই প্রস্তুতি সমাবেশে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন ছিলেন প্রধান অতিথি। কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন স্টেট বিএনপির সেক্রেটারি সাঈদুর রহমান সাঈদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রইচ উদ্দিন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন সাবেক যুক্তরাষ্ট্র বি এন পির মহিলা সম্পাদক সৈয়দা মাহমুদা আক্তার শিরিন, কাজী আসাদউজ্জামান, স্টেট বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, বদরুল হক আযাদ, হুমায়ন কবীর, দেওয়ান কাউসার, আশরাফ হোসেন এবং সাংবাদিক আনিসুর রহমান, এবাদ চৌধুরী, নীরা রাব্বানী, আর মাহবুবুল হক,  এম এ কাইয়ুম, জিয়াউর রহমান মিলন, খন্দকার সাইফুর রহমান সাবু, সাইফুল আলম অপু, রানা চৌধুরী, বাফেলো বি এন পির প্রধান উপদেষ্টা সিরাজদৌলাহ বাবুল, সহ সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল হেলাল, উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন, ইনজিনিয়ার মইনুদ্দিন, আলআমিনসহ লং আইল্যান্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ। শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত এবং তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাতে নেতৃত্ব দেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান।

    এদিকে, নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস-সহ বাংলাদেশী বাণিজ্যিক পাড়ায় ‘তারেক রহমানকে-শুভেচ্ছা-স্বাগতম-অভিনন্দন’ জানিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। সর্বত্র সাজসাজ রব উঠেছে বিএনপি নেতার জাতিসংঘে আগমণ উপলক্ষে। অপরদিকে, ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। তবে উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ কর্মসূচির পক্ষে প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

    Facebook Comments Box