আটলান্টা প্রতিনিধি
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি বোলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং রাজাকারের প্রেতাত্মা মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার দাবিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি রোববার জর্জিয়া স্টেটের আটলান্টায় ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’র এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসেন প্রচন্ড ক্ষোভের সাথে বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি তথা রাজাকার-জামায়াতের লোকজন এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গিরা সম্মিলিতভাবে কোটা আন্দোলনের লেবাসে শেখ হাসিনাকে উৎখাতের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সময়ের পরিক্রমায় তা এখোন সকলের কাছেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বাংলাদেশকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার জন্যে।
এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলম, যুগ্ম সম্পাদক উত্তম দেব ও মাহাবুব আলম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হাসান।
আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়েই বাংলাদেশ আবারো উন্নয়নের মহাসড়কে উঠবে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। তারা বলেন, ৫ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের শত সহস্র নেতা-কর্মীকে ইউনূসের লেলিয়ে দেয়া জঙ্গিরা হত্যা করেছেন। নেতা-সমর্থকদের বাড়ি-ঘর লুটের পর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমন অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষায় শেখ হাসিনাকে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার বিকল্প নেই।
সভার শুরুতে জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসেন লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আবারো চরমপন্থি-জঙ্গিবাদের খপ্পড়ে পড়েছে। খুবলে খাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নাম-নিশানা। জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বাঙালির মুক্তি আন্দোলনের সূতিকাগার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি। তছনছ করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বপ্রদানকারি আওয়ামী লীগের অফিস এবং জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে নেতৃবৃন্দের বাড়ি-ঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্র থেকে গ্রাম পর্যায়ের ৩ হাজারের অধিক নেতা-কর্মীকে হত্যা এবং হাত-পা কেটে ফেলা হয়েছে শতশত নেতা-কর্মীর। গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫ হাজারের অধিক নেতা-কর্মীকে। গায়েবী খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাসহ হাজারো নেতা-কর্মীর নামোল্লেখ করে। হাস্যকর হলেও সত্য যে, জঙ্গি নিয়ন্ত্রিত জুলাই-আগস্টের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে জননেত্রী শেখ হাসিনা-সহ শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদন্ড প্রদানের নাটক শুরু হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আপনার জেনে অবাক হবেন যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারি সাংবাদিকরাও জঙ্গিদের রোষানলে পড়েছেন। ৬ সাংবাদিককে হত্যা, ১৮ জনকে গ্রেফতার, টিভি-পত্রিকার ৫০টি অফিসে হামলা এবং ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এক হাজারের মত সম্পাদক-সাংবাদিককে বরখাস্তে বাধ্য্ করা হয়েছে মালিক-কে চাপ দিয়ে। ১৬৮ সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কেড়ে নেয়া হয়েছে। বেশ কিছু সাংবাদিকের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করার ঘটনাও ঘটেছে। অর্থাৎ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহম্মদ ইউনূস তার মুখোশ উম্মোচিত করেছেন একাত্তরের ঘাতকদের প্রেতাত্মা হিসেবে।
আলী হোসেন আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আইন ও প্রশাসন বলতে কিছু নেই। ইউনূসের টোকাই বাহিনী সন্ত্রাসী জনপদে পরিণত করেছে গোটা বাংলাদেশকে। পুলিশী ব্যবস্থা তছনছ করার পর সেনাবাহিনীকেও বিতর্কিত করা হচ্ছে-যাতে শীঘ্রই বাংলাদেশকেও তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করা সহজ হয়। ব্যাংকে নগদ অর্থ উঠানোর পথ রুদ্ধ হয়েছে। টোকাইদের অঙ্গুলি হেলনে চলছে অচলাবস্থায় নিপতিত করার সর্বশেষ কর্মকান্ড। এ অবস্থায়ও বাংলাদেশের কথিত সুশীল সমাজ আজ নিরব কেন? তাহলে তারাও কি ইতিপূর্বে জঙ্গিদের পয়সায় শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগারে লিপ্ত ছিলেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন বলেন, টিআইবি নামক ভাড়াটে একটি সংস্থা ৫ আগস্টের আগে ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৯৪ হাজার কোটি টাকা পাচারের উদ্ভট তথ্য প্রচার করেছে। অথচ গত ৬ মাস ১০ দিনে এমন কোন তথ্য জাতির সামনে হাজির করতে সক্ষম হননি যে, একশত কোটি টাকা পাচার হয়েছে। যেভাবে আসিফ নজরুল নামক এক দুষ্ট চরিত্রের অধ্যাপক বছরের পর বছর টক শো-তে বলেছেন যে, বাংলাদেশে ২৬ লাখ ভারতীয় চাকরি করছেন। এখোন সেই আসিফরা ক্ষমতায়, গত ৬ মাসে একজনকেও তো কথিত চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে দেখিনি। একইভাবে টিআইবিও জঘন্য মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।
আলী হোসেন বলেন, দেখতে দেখতে জঙ্গিরা জল অনেক ঘোলা করেছে। আর সময় দেয়া ঠিক হবে না। তাই আসুন প্রবাস থেকে যতটা সম্ভব জঙ্গিদের গুরু মুহম্মদ ইউনূসের স্বরূপ উদঘাটনে সচেষ্ট হই। একাত্তরের মত দেশপ্রেমিক প্রতিটি প্রবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মার্কিন কংগ্রেস, সিনেট এবং হোয়াইট হাউজে লবিং জোরদার করি। একইসাথে ইউনূসের লেলিয়ে দেয়া ঘাতকদের হাতে নিহতদের এবং যারা প্রাণের ভয়ে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন সে সব অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াই।
আলী হোসেন ক্ষোভের সাথে বলেন, গত ১৫ বছর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে থেকে যারা নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, তাদের প্রতিও আহবান রাখছি দুর্দিনে সরব হবার জন্যে। তা না হলে সময় পাল্টালে তৃণমূলের কর্মীদের তোপের মুখে পড়তে হবে। তখোন পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, মুজিব আদর্শে উজ্জীবিতরা কখনো অন্যায়-অবিচারকে সহ্য করে না।
Posted ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর