গ্রেফতার, দন্ডিত হবার তথ্য গোপন করায়

গ্রীনকার্ডধারী এবং সিটিজেনশিপ গ্রহণকারি বাংলাদেশীরাও বহিষ্কারের আতংকে

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০৫ আগস্ট ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

গ্রীনকার্ডধারী এবং সিটিজেনশিপ গ্রহণকারি বাংলাদেশীরাও বহিষ্কারের আতংকে

ইউএসসিআইএস।

সিটিজেনশিপ বাতিল করেও অনেক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কারের এখতিয়ার রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা চলতি বছর ঘটেছে। এবং বেশ কয়েক ডজন বাংলাদেশীসহ শতাধিক অভিবাসীকে ইউএসসিআইএস (টঝঈওঝ ) নোটিশ পাঠিয়েছে। অনেক গ্রীণকার্ডধারীকেও অবিলম্বে নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে হাজির হবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসী/গুরুতর অপরাধী অভিবাসীকে গ্রেফতার ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের চলমান অভিযানে তটস্থ কম্যুনিটিতে আরেকদফা আতংক বিস্তৃত হয়েছে সিটিজেন এবং গ্রীণকার্ডধারীদের গ্রেফতার/নোটিশ প্রদানের সংবাদে। চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য ৪ অগাস্ট এ সংবাদদাতাকে দিয়েছেন ইমিগ্রেশনে খ্যাতনামা এটর্নী এবং ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ মঈন চৌধুরী। মঈন চৌধুরী জানান, অনেকে এসাইলাম প্রার্থনার সময় বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছিলেন ইত্যাদি তথ্য উল্লেখ করেন। এভাবে তারা গ্রীণকার্ড পেয়েছেন এবং অনেকে সিটিজেনশিপও পেয়েছেন। সিটিজেনশিপ গ্রহণের আবেদনের সময় ইতিপূর্বে কোথাও গ্রেফতার হয়েছিলেন কিনা এমন একটি প্রশ্নের জবাবে অনেকেই ‘না’ লিখেন। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বসতি শুরুর পর কোন কারণে গ্রেফতার হয়েছিলেন কিনা, আদালতে দন্ডিত হয়েছেন কিনা ইত্যাদিও জবাব লিখতে হয়। সেক্ষেত্রেও অনেকে সত্য গোপন করেন। অথচ উভয় ক্ষেত্রে তা ইমিগ্রেশন বিভাগ তথা যুক্তরাষ্ট্রের আইনি প্রক্রিয়ার সাথে প্রতারণার সামিল। আর এমন অভিযোগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সিটিজেনশিপ বাতিলের পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে প্রশাসনের। এটর্নী মঈন উল্লেখ করেন, চলতি সপ্তাহেই নিউইয়র্কে এক প্রবাসীকে আটক করা হয়েছে। তিনি স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের অভিপ্রায়ে একাধিক নামে এসাইলামের আবেদন করেছিলেন। সর্বশেষ আবেদনে শুনানীর জন্যে তাকে ইমিগ্রেশন অফিসে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আরেক নামের এসাইলামের আবেদন নাকচ হবার পর তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ জারি হয়েছে-সেটি আইনগত প্রক্রিয়ায় ঠেকানোর কোন চেষ্টাই করেননি। সে কারণে সম্প্রতি তাকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে হাজিরা দিতে। যথারীতি এটর্নীসহ গিয়েছিলেন। ফেডারেল ভবন তথা ইমিগ্রেশন অফিসে প্রবেশের পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর তার নিয়োজিত এটর্নীরও সন্ধান পাচ্ছেন না ঐ ব্যক্তির স্বজনেরা। এজন্যে আমাকে ফোন করেছিলেন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির স্বজনেরা। অথচ যিনি মোটা ফি নিয়েছেন তার কোন হদিস নেই। এটর্নী মঈন জানান, এসব ক্ষেত্রে খুব কম সময়েই সুফল আসে। কারণ , জেনে শুনে সত্য গোপন করাকে অভিবাসন দফতর কখনো বরদাশত করে না। এটর্নী মঈন জানান, সিটিজেনশিপের আবেদনের সময় এসব গোপন না কলে সত্য উপস্থাপন করলে আর কোন সমস্যাই হতো না। সে সময়েই ঐসব অপরাধবোধ থেকে অব্যাহতি পাবার সুযোগ তৈরী হয়। আর যারা সেই সত্য গোপন করেন তাদেরকে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

মামলা, গ্রেফতার কিংবা দন্ডিত হবার ঘটনা বিশ্বের যেখানেই ঘটুক না কেন কিংবা গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়ে থাকে, সে তথ্যও অস্বীকারের সুযোগ নেই। সিটিজেনশিপ গ্রহণের পর তা উদঘাটিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অধিকার খোয়াবেন। এমন কিছু বাংলাদেশীও নোটিশ পেয়েছেন সে সব সত্য গোপন করার জন্যে। কারণ তারাও মার্কিন প্রশাসনের সাথে প্রতারণা করেছেন। যেমন বিয়ের ক্ষেত্রে, আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের কোন অনুমতি নেই যুক্তরাষ্ট্রের আইনে। একইভাবে সত্য গোপন করার মধ্যদিয়ে যারা গ্রীণকার্ড পেয়েছেন এবং সিটিজেনশিপ লাভ করেছেন-তারা সে সব পুরনো অপরাধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন।

ইবি-থ্রি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আগতদের কোন ধরনের ফি প্রদান করতে হয় না। এ দায়িত্ব হচ্ছে স্পন্সরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীর। কারণ, যে প্রতিষ্ঠানে দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর প্রয়োজন, তাদেরকেই সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে হবে। এটর্নী ফি থেকে সমস্ত খরচ বহনের দায়িত্ব ঐসব প্রতিষ্ঠান/কোম্পানীর। এ তথ্য জানিয়ে এটর্নী মঈন চৌধুরী জানান, কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের অনেকে দেশেই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন এজেন্সির নামে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে থেকে মোটা অর্থ নেয়া হচ্ছে। এমনকি কোন কোন এটর্নীও ফি নিচ্ছেন সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে। এটর্নী মঈন বলেন, এটর্নী হিসেবে চাকরি প্রার্থীর কাছে কোন ফি নেয়ার এখতিয়ার নেই এটর্নীর। এমনকি চাকরি প্রার্থীকে চেনারও কথা নয়। সব দায়িত্ব হচ্ছে নিয়োগ প্রদানে আগ্রহীর। বিরাজমান পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যেই এহেন অনৈতিক/অপকর্মে লিপ্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারণ, অনেকেই ইবি-থ্রি ভিসা প্রসেসিংয়ের টোপ দিয়ে মোটা অংকের ফি (ঘুষ) নিয়েছেন। ভিসার আবেদনে উল্লেখ করতে হয় যুক্তরাষ্ট্রে এসে কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অনেকে মন্টানা, ইলিনয়, আলাবামা, ওহাইয়ো, মিনেসোটার মত প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করছেন। অথচ তারা কাজ করার কথা নিউইয়র্কে কিংবা নিউজার্সি অথবা পেনসিলভেনিয়ায়।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে টেক্সাসে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানীকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভিসা-প্রতারণার অভিযোগে।

ছবির ক্যাপশন-লগো
ইউএসসিআইএস।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৫ আগস্ট ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us