নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
সোমবার, ০২ জুন ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
“ও আমার দেশের মাটি” গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন মাইশা আর মাহিমা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্ম-জয়ন্তিতে স্বদেশ-ভাবনা, মানবতাবোধ, মানবপ্রেম বিষয়ক তাঁর গান দিয়ে সাজানো ডালি নিয়ে কবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘প্রকৃতি, নিউইয়র্ক’র উদ্যোগে ১ জুন সন্ধ্যায় ব্যতিক্রমী এক আয়োজনে বিদগ্ধ প্রবাসীরা আপ্লুত হয়েছেন। “ব্যক্ত হোক জীবনের জয়’ শীর্ষক এ আয়োজনে সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় প্রবাসের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী মাইশা আর মাহিমা কর্তৃক “ও আমার দেশের মাটি” গানের সাথে দৃষ্টিনন্দন নৃত্য পরিবেশনা। উল্লেখ্য, এই গানটি অধিকার-স্বাধিকার আন্দোলনের সময়ে রচিত এক অনন্য দেশাত্মবোধক রচনা, যা রাজনৈতিক ও আত্মিক প্রতিরোধের অস্ত্র হয়ে ওঠে এবং আজও ভারত-উপ-মহাদেশে জাতিসত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
জন্ম-জয়ন্তি উপলক্ষে বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ‘প্রকৃতি-নিউইয়র্ক’র শিল্পীরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
মঞ্চের পাশে স্থাপিত রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি ও মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে বাছাইকৃত গানের মনোমুগ্ধকর এ আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কম্যুনিটি লিডার ড. প্রদীপ রঞ্জন কর। এ সময় সামগ্রিক প্রেক্ষাপট এবং কম্যুনিটিকে মানবিকতার গুণে গুণান্বিত হয়ে উঠার ক্ষেত্রে রবী ঠাকুরের উদ্দিপনামূলক নৃত্য-গীতের চর্চার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মন্তব্য করে বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক-সংগঠক অনুপ বড়ুয়া, কন্ঠশিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, অভিনয়-শিল্পী লুৎফুন্নেসা লতা এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতা মিথুন আহমেদ। এরপরই জলি করের নেতৃত্বাধীন ‘প্রকৃতি-নিউইয়র্ক’র ২৩ শিল্পী কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘের পরিবেশনা শুরু করেন তাঁরই লেখা ‘হে নূতন দিক আরবার’ গানটি দিয়ে। শিল্পীরা ছিলেন নাসিমা শাহীন, দিঠি হাসনাত, মৌগন্ধা আচার্য্য, প্রসূন ঘোষ রায়, জলি কর, জয়ন্তী ভট্টাচার্য্য জয়া, মিনি কাদির, রুপালি ঘোষ, চন্দ্রিকা দে সেঁজুতি, তানভীর রহমান প্রতীক, মুক্তি সরকার, সোনিয়া মোত্তালিব, কার্তিক চন্দ্র, জোসিফিন মিষ্টি, স্বপ্নিল সজীব।
জন্ম-জয়ন্তি উপলক্ষে বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ‘প্রকৃতি-নিউইয়র্ক’র অনুষ্ঠানে সুধীজনের একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
এরপর একে একে একক ও সমবেত কন্ঠে গীত হয় ‘শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয়’, ‘আমরা মিলেছি আজ মায়ের ডাকে’, ‘আমার নিশীথ রাতের বাদলধারা’, ‘আসা যাওয়ার পথের ধারে’, তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা’, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, ‘ভালোবেসে সখী, ‘সেই ভালো সেই ভালো’, ‘সার্থক জনম আমার’, ‘এখন আর দেরি নয়’, ‘আমরা সবাই রাজা’, ‘সুখে আমায় রাখবে কেন’, ‘ওহে সুন্দর মম’, ‘দুজনে দেখা হলো’, ‘ও আমার দেশের মাটি’, ‘আমি তোমার প্রেমে’, ‘পাখি আমার নীড়ের পাখি’, ‘শুধু মনে পড়ে হাসি মুখখানি’, ‘লাজে বাধো-বাধো সোহাগের বাণী’, ‘মনে পড়ে সেই হৃদয়-উছাস নয়নকূলে’, ‘তুমি যে ভুলেছ ভুলে গেছি, তাই এসেছি ভুলে’, ‘ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে’, ‘ও যে মানে না মানা’, ‘দিবস রজনী আমি যেন কার’, ‘তুমি রবে নীরবে’, ‘সঙ্কোচের বিহ্বলতা’, ‘নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। সুরের সাগরে আরো কিছুক্ষণ মন্থন করেছেন সকল বয়েসী প্রবাসীর প্রিয় শিল্পী স্বপ্নিল সজীব।
জন্ম-জয়ন্তি উপলক্ষে বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ‘প্রকৃতি-নিউইয়র্ক’র অনুষ্ঠানে সুধীজনের একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
আত্মবিশ্বাস জাগাতে, সঙ্কোচ ও ভীরুতা কাটাতে, এবং নিজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় উদ্দীপ্ত হতে গানগুলোর অন্তর্নিহিত আত্মজাগরণের আহ্বান যেমন যাদুর মতো কাজ করেছে ঠিক ততোটাই অর্থবহ এটি আজ এই সময়েও। তাই তো গানসমূহ হয়ে উঠেছে সর্বজনীন এবং পেরিয়েছে সময়ের দুর্লঙ্ঘ্য সীমা।
সাহিত্য-সৌন্দর্য, সুরের মাধুর্য এবং গভীর ভাব-গাম্ভীর্যের কারণে শৈল্পিক মান উত্তীর্ণ হয়ে রবিঠাকুরের গানগুলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সর্বজনীন ও শাশ্বত হয়ে উঠেছে। সে কারণেই মিলনায়তন ভর্তি শ্রোতা তন্ময় হয়ে বিমুগ্ধচিত্তে শেষ পর্যন্ত প্রাণভওে ত উপভোগ করেছেন। আটলান্টিকের এপাড়েও বাংলা আর বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যমন্ডিত সংস্কৃতির বিশুদ্ধ ফল্গুধারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত রাখার সংকল্পে ‘প্রকৃতি-নিউইয়র্ক’র অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে অনেকের প্রত্যাশা।
Posted ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০২ জুন ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর