বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১২:০০ অপরাহ্ণ
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মনে করেন, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যারা কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে গিয়ে পুলিশকে পিটিয়েছে, তাদেরকে ক্ষমা করা ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত। ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে জেল খাটা একজন ‘সেদিন ভুল করেছিলেন’ বলে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করার পর, এবার একই সুরে কথা বলেছেন খোদ ট্রাম্পের এই মিত্র। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, তিনি মনে করেন, যারা সেদিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে গিয়ে পুলিশকে বেধড়ক পিটিয়েছে, তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়াটা ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা করেছেন, তাতে অবাক হননি বলেও জানান এই সিনেটর।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার প্রথম কার্যদিবসেই ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনায় জড়িত প্রায় ১৬০০ জন দাঙ্গাবাজকে ক্ষমার আদেশ দেন। এই আদেশের পর পরই ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করেন ওই দাঙ্গায় দোষী সাব্যস্ত এক নারী পামেলা হেমফিল। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির দাঙ্গার জন্য কোনও ক্ষমা হওয়া উচিত নয়।
আর এখন লিন্ডসে গ্রাহামও দাঙ্গাবাজদেরকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত ভুল বলে মন্তব্য করলেন। এনবিসি নিউজে গ্রাহাম সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ঢালাও ক্ষমা আরও সহিংসতা ডেকে আনতে পারে। কারণ, এই ক্ষমায় মনে হতে পারে, যা করা হয়েছে তা ঠিকই আছে।”
গ্রাহাম এও বলেন, “ট্রাম্প দাঙ্গাবাজদের ক্ষমা করে কেবল তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। “তারপরও আমি বলব, লোকজন যারা শহর পুড়িয়ে দিয়েছে, পুলিশকে মারধর করেছে তাদের জেলের সাজা থেকে বের করে আনা কিংবা ক্ষমা করার বিষয়টি আমি পছন্দ করি না- সে আপনি রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট যে-ই হোন না কেন।”
ট্রাম্প ২০১৬ সালে নির্বাচনে জিতে হোয়াইট হাউজে উঠলেও সেই চার বছর গেছে ‘বিশৃঙ্খলা আর সমালোচনার’ মধ্য দিয়ে। এরপর ২০২০ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়লেও হেরে যান জো বাইডেনের কাছে।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের হেরে যাওয়ার পর ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে যৌথ অধিবেশনে ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের নির্বাচনে জয়ের স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলার সময় রিপাবলিকান দলের তৎকালীন পরাজিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকরা ভবনটিতে হামলা চালায়। এতে পুলিশসহ অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছিলেন। ট্রাম্প-সমর্থকদের নজিরবিহীন ওই তান্ডবে হতভম্ব হয় যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বের মানুষ। এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর বড় ধরনের আঘাত বলে বর্ণনা করেন অনেকেই। দাঙ্গার ঘটনাকে ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন অনেক আমেরিকান রাজনীতিবিদ।
Posted ৯:১১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর