বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
রবিবার, ২৪ আগস্ট ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
অভিবাসন নিয়ে কঠোরতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে হিসপ্যানিক ভোটারের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানীতে পৌঁছেছে বলে শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ এক জরিপে উদঘাটিত হয়েছে। ‘ইউগভ/ইকনোমিস্ট’ পরিচালিত জরিপে চলতি আগস্টে ২৮% হিসপ্যানিক ট্রাম্পের কর্মকান্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬৮%। এর আগের সে অসন্তোষ প্রকাশকারি হিসপ্যানিক ভোটারের হার ছিল ৩৫%। চলতি সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্স’র অপর একটি জরিপ রিপোর্টে হিসপ্যানিক ভোটারের ৩২% ট্রাম্পের কর্মকান্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আর এটি হচ্ছে গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর সর্বনিম্ন। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্পের বিজয়ে হিসপ্যানিক ভোটারের অবদান ছিল অপরিসীম। ঐতিহাসিকভাবে ১৯৬০ সালের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই হিসপ্যানিক ভোটারের সিংহভাগই ডেমক্র্যাটদের পক্ষে গেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী ২০১২ সালের নির্বাচনে ৭১% হিসপ্যানিক ভোট দিয়েছেন বারাক ওবামাকে। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিন্টন পেয়েছেন ৬৬% ভোট। সংবাদ সংস্থা ‘এপি’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেন পেয়েছিলেন ৬৩%। কিন্তু গতবছরের নভেম্বরের নির্বাচনের ইতিপূর্বেকার সকল হিসাব-নিকাষ পাল্টে দিয়ে ট্রাম্প হিসপ্যানিক ভোটারের ৪৩% লাভ করেছিলেন অর্থাৎ ২০২০ সালের চেয়ে ৮% বেশী ছিল। আর গত নির্বাচনেই সবচেয়ে বেশী হিসপ্যানিক ভোটারের সমর্থন লাভে সক্ষম হয় রিপাবলিকান কোন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। সে নির্বাচনে ডেমক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস পেয়েছিলেন ৫৫%। আর এটিও অন্যতম একটি কারণ কমলার পরাজয়ের। ৮ মাসের ব্যবধানে ট্রাম্পের প্রতি হিসপ্যানিকদের সমর্থণের ধারা কেন কমছে সে বিশ্লেষণকালে উদঘাটিত হয় অভিবাসন-বিরোধী নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর দুর্বল নেতৃত্বের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রে ল্যাটিনোদের ভোটের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কর্মরত ‘ইউনিডোস’ নামক একটি সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্লারিসা মার্টিনেজ ডি ক্যাস্ত্রো শনিবার গণমাধ্যমে বলেছেন, অভিবাসন-বিরোধী অভিযানে তিক্ত-বিরক্ত জনগোষ্ঠির অন্যতম হচ্ছেন হিসপ্যানিকরা। শুধু হিসপ্যানিকরাই নন, অন্য কম্যুনিটিও ট্রাম্পের আচরণে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ট্রাম্পের আচরণে ইতিহাসের চাকা বিপরীত দিকে ঘুরছে বলেই মনে হচ্ছে। অভিবাসীগণের রক্তঘামে গড়ে উঠা আমেরিকায় কঠোর পরিশ্রমী অভিবাসীগণের সাথে যে আচরণ শুরু হয়েছে তা কল্পনারও অতীত। মামুলি অপরাধে লিপ্ত ছিলেন বহু বছর আগে, সেটি খুঁজে এখোন এ্যাকশন নেয়া হচ্ছে। ট্রাফিক আইন লংঘন কিংবা ছোটখাটো চুরির জন্যে গ্রেফতারের তথ্য উদঘাটনের পর সংশ্লিষ্ট অভিবাসীর গ্রীণকার্ড কেড়ে নিয়ে বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে গত কয়েকমাসে।
‘সোক্যাল স্ট্র্যাটেজিস’ নামক অপর একটি সংস্থার জরিপে ৪২% হিসপ্যানিকই ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণে চরমভাবে অসন্তুষ্ট বলে উদঘাটিত হয়েছে। এই জরিপে অংশগ্রহণকারি হিসপ্যানিকের ৬৫% বলেছেন যে, অবৈধ অভিবাসীর গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানকে সিটিজেনশিপ প্রদানের বিদ্যমান রীতি বহাল থাকা উচিত। সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে জন্মগতভাবে নাগরিক হবার অধিকার বহুবছর আগে থেকে কার্যকর রয়েছে। গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আইনী লড়াইয়ে এখনো তা থমকে রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবারো উ্চ্চতর আদালতে আপিল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে হিসপ্যানিকদের অবদান ৩০% এরও বেশী ২০১৯ সাল থেকে। যার পরিমাণ ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের মত। সেনসাস তথ্য অনুযায়ী মাঝারি শ্রেণীর হিসপ্যানিকদের বার্ষিক আয়ের পরিধি ৬৫৫০০ ডলার করে হলেও শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে তা ৯৩৯০০ ডলার করে। ব্লু-কলার সার্ভিস এবং কন্স্ট্রাকশনেই নিবেদিত সিংহভাগ হিসপ্যানিক।
চলতি মাসের জরিপে অর্থনৈতিক নাজুক অবস্থা সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করেছে হিসপানিকদেরকে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য এবং বাড়ি ভাড়া যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় মজুরি বৃদ্ধি পাওয়া দূরের কথা ক্ষেত্রবিশেষে সংকুচিত হয়েছে। ফলে প্রতিদিনই ঋণের বোঝা বাড়ছে অন্য কম্যুনিটির মানুষের সাথে হিসপ্যানিকদেরও। জরিপে অংশ নেয়া হিসপ্যানিক ভোটারের ১৬% চরম বিতশ্রদ্ধ মুদ্রাস্ফীতির কারণে। ১৫% বিতশ্রদ্ধ শুধুমাত্র অভিবাসনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের কারণে।
Posted ৭:০১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৪ আগস্ট ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর