বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের অরাজক পরিস্থিতি, পতিত সরকারের সমর্থকদের নাজেহাল, এবং হত্যার ঘটনায় মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটছে। রাজনৈতিক শত্রুতা হাসিলের অভিপ্রায়ে এবং অবৈধ উপায়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার মতলবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতি-সম্পাদক-সাংবাদিকদেরকেও হত্যা মামলার আসামী করা হচ্ছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিমত এবং পর্যবেক্ষণ জানতে চেয়েছিল এ সংবাদদাতা। লিখিতাকারে প্রশ্নের জবাব এসেছে ২৬ জুন স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখমাত্র ই-মেলে জানিয়েছেন, ড. ইউনূসের সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছি, কারণ তারা বাংলাদেশের জন্য একটি সুরক্ষিত গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টে প্রেরিত প্রশ্ন এবং তার উত্তর এখানে উপস্থাপন করা হলো।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের গণমাধ্যম সমূহ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় বিশ্বাসযোগ্য তথ্য জানা সর্বসাধারণের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে। এমনি অবস্থায় মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গত ১০ মাসে ৩ লাখ ৬০ হাজারের অধিক মানুষকে গ্রেফতারের তথ্য জানা গেছে কারা মহাপরিদর্শকের অফিস থেকে। যদিও বাংলাদেশের কারাগারসমূহের ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ৪২ হাজারের মত। এরফলে কারাগারসমূহে মানবেতর পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে, মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। সবচেয়ে বেশী অন্যায়-অত্যাচার চলছে বিচার ব্যবস্থায়। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল-আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের কাছে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের অভিপ্রায়ে ১৮ হাজারেরও অধিক খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে-যেগুলোর একটিরও সত্যতা নেই বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যেই ধারণা করেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার জের হিসেবে গত ১০ মাসে আরো ৩০ লাখ মানুষ গরিবের চেয়েও গরিব হয়ে পড়েছে। এহেন পরিস্থিতির আলোকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কোন পর্যবেক্ষণ আছে কি?
উত্তর: আমরা বিশ্বের দেশসমূহের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং তা প্রকাশ করা হয় বার্ষিক মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কিত রিপোর্টে। যাকে মনে করা হয় ‘দ্য হিউম্যান রাইটস রিপোর্ট’ হিসেবে। আমরা আপনাকে ঐসব রিপোর্ট দেখার আহবান জানাচ্ছি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের আইনের শাসন, বিচারালয়ের স্বাধীনতা এবং নাগরিক স্বাধীনতা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের ন্যায় বিচার পাবার কোন সুযোগই নেই। এবং আইনকে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে। যদিও মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, অধিকার সমুন্নত রেখে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের অঙ্গিকার করে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর ১০ মাস অতিবাহিত হয়েছে, এখনো আইনের শাসন কায়েমের কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থকদের হামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নিহত হচ্ছে, অনেকের বাসা-বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটতরাজ ও ভাংচুরের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এব্যাপারে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কোন মতামত আছে কি?
উত্তর: সকল বাংলাদেশীর জন্যে আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকারের অভিপ্রায়কে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছি, কারণ তারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি সুরক্ষিত গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্যে কাজ করছেন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রথিতযশা ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিরাও হত্যা মামলার আসামী হয়েছেন/হচ্ছেন। ঐসব হত্যা মামলার আসামীর তালিকা থেকে সাংবাদিক/সম্পাদকরাও বাদ যাচ্ছেন না। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রতিদিন কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর দৈনিক পত্রিকায় (প্রথম আলো, ডেইলি স্টার) ছাপা হয়েছে। সে অনুযায়ী জুলাই মাসে ৩২৯ জনের মৃত্যু হয় এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অর্থাৎ আগস্টের ৫ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে আরো মারা গেছে ৩২৮ জন। সে অনুযায়ী জুলাই আন্দোলনে সর্বোচ্চ ৬৫৭ জনের মৃত্যু হয়। ইউনূস সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে, মোট ৮২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে আন্দোলনকালে। জাতিসংঘের প্রাথমিক প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৫০ জন উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে ড. ইউনূসের বক্তব্য অনুযায়ী জাতিসংঘ তার রিপোর্টে ১৫০০ জন নিহত হবার কথা উল্লেখ করেছে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকের সংখ্যা ১৪৪ জন অর্থাৎ মোট নিহতের ২২% হলেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের লোক। সে সময়ের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন যে, অধিকাংশের মৃত্যু হয় ৭ পয়েন্ট ৬ বুলেটে। অথচ এমন বুলেট ব্যবহার করে না বাংলাদেশের পুলিশ। ঐ ৭ পয়েন্ট ৬ বুলেট এখোন উদ্ধার হচ্ছে কথিত সমন্বয়কারিদের বাড়ি থেকে। এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভিমত কি?
উত্তর: যাচাই করা হয়নি এমন কোন ব্যাপারে আমাদের কোন মন্তব্য নেই।
প্রশ্ন: ঢাকাস্থ জাতিসংঘের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ মিস লিউইস গুয়েনের বক্তব্য ঘিরে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর জাতিসংঘের চাপ নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি দুর্ভাগ্যজনকভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করলেও অথবা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটিকে বৈধ বলে মনে করা যাবে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবো কি?
উত্তর: জাতিসংঘের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভের মন্তব্যের ব্যাপারে জানতে আমরা আপনাকে জাতিসংঘে যোগাযোগের আহবান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের ভবিষ্যত কী হবে তা বাংলাদেশের মানুষই নির্দ্ধারণ করবে। বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলকে অন্যটির বিরুদ্ধে যেতে আমরা কখনোই সমর্থন করি না।
Posted ১১:১০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর