নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
বনভোজনে অংশ নেয়া ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফজলুল হকের পরিবারের সদস্যরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
প্রাণের আমেজ আর হৃদয়ের উষ্ণতায় ১৩ জুলাই নিউইয়র্ক অঞ্চলে বসবাসরত বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীর বনভোজন অনুষ্ঠিত হলে লং আইল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ভ্যালি স্ট্রিম স্টেট পার্কে। কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল এবং ময়মনসিংহ জেলার প্রবাসীরা সপরিবারে অংশ নিয়ে কম্যুনিটি এবং নিজ এলাকার সামগ্রিক কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের সাথে মা-বাবা-খালা-খালু-চাচা-চাচিরাও ছিলেন আনন্দমুখর। ছিল বাহারি খাবারের আয়োজন। উল্লেখ্য, গত ৭ বছর যাবত বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীর ব্যানারে এমন আয়োজন হয়ে আসছে। এবারের বনভোজনে প্রধান অতিথি ছিলেন কম্যুনিটিতে নিরব সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত এবং খ্যাতনামা চিকিৎসক সায়েরা হক এমডি। তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সকলকে আর্ত-মানবতার কল্যাণে সরব থাকার পাশাপাশি প্রবাস প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে রাখার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুল মতিন ছিলেন বিশেষ অতিথি, তিনিও সকলকে অভিনন্দিত করেছেন এলাকার স্বার্থে দলমতের উর্দ্ধে থাকার জন্যে।
বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বনভোজন কেন্দ্রে আসা প্রবাসীদের স্বাগত জানান ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসী’র সভাপতি এম এ বারি বাদল এবং বনভোজন উপ-কমিটির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফজলুল হক। সে সময় পরিবেশন করা হয় সকালের নাস্তা। খরতাপে অতীষ্ঠরা তরমুজ গ্রহণের মাধ্যমে স্বস্তি খুঁজেছেন। তবে বিনোদনমূলক নানা প্রতিযোগিতায় সকলেই ভুলে যান অসহনীয় খরতাপকে। এভাবেইভর দুপুরে সকলের মধ্যে পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন আইটেমের খাবার। খাবারের আমেজেই চলে সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে সকলকে ম্গ্ধু করেন পল্লব সরকার, রবিউল হাসান এবং ফারুক ইসলাম।
বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীর বনভোজনে প্রধান অতিথির সাথে নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।
সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান,প্রধান পৃষ্টপোষক মাহবুবুর রহমান লিটন, সংগঠনের সভাপতি এম এ বারি বাদল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ জামান শান্ত, বনভোজন কমিটির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফজলুল হক, সদস্য-সচিব মাহবুব কবির বাবু প্রমুখের সমন্বয়ে অত্যন্ত চমৎকারভাবে সম্পন্ন হয় সকল কর্মসূচি। নির্দ্ধারিত কর্মসূচির বাইরে ছিল চুটিয়ে আড্ডার জমজমাট ব্যবস্থা। ফেলে আসা স্বদেশ-স্বজনের স্মৃতিচারণও করেন কেউ কেউ। এত্থেকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিও বাদ যায়নি।
দিনভর নানা কর্মসূচির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল র্যাফেল ড্র। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং র্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেছেন অতিথিরা।
সন্ধ্যার প্রাক্কালে নিজ নিজ গাড়িতে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার প্রাক্কালে অংশগ্রহণকারি সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য দেন আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফজলুল হক। উল্লেখ্য, বৃহত্তর ময়মনসিংহের সকল জেলা এবং উপজেলার পৃথক পৃথক সংগঠন রয়েছে। সেগুলোতে খুব কম সময়েই সকলের সমাগম ঘটে। এই একটিমাত্র সংগঠনের বনভোজনে ৬ জেলার বিশিষ্টজনেরা একত্রিত হবার সুযোগ পাচ্ছেন। আরো উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের সন্তান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফজলুল হক এবং ডা, সায়েরা হক দম্পতির স্পন্সরে যুক্তরাষ্ট্রে আসা একই পরিবারের ১৮৫ জনের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন এ বনভোজনে।
Posted ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর