অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফাইল ছবি
গাজায় জাতিসংঘ কর্মীদের শিবিরে ইসরায়েল বাহিনীর উপর্যুপরি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার আন্তর্জাতিক কর্মীদের এক তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিল জাতিসংঘ। সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজ এক বিবৃতিতে এমন ঘোষণাকালে বলেছেন, যুদ্ধ বিরতির পর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নারী-শিশুসহ শতশত ফিলিস্তিনি হতাহত হবার সময়ে মানবিক কারণে জাতিসংঘ কর্মীগণের উপস্থিতির বিশেষ প্রয়োজন সত্বেও সেটি অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে নিরাপত্তাজনিত কারণে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটাই প্রথম ঘটনা জাতিসংঘ কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার। যদিও কিছু কর্মী এখনো রাখার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে জাতিসংঘ। মহাসচিব বলেছেন, জাতিসংঘ গাজা ত্যাগ করছে না। সেখানকার বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার প্রশ্নে জাতিসংঘের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার করছি।
জাতিসংঘ মহাসচিব উল্লেখ করেছেন, ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এযাবত জাতিসংঘের ২৮০ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। অন্যকোন দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত দেশ বা অঞ্চলে এমন পরিস্থিতির ভিকটিম কখনো হয়নি জাতিসংঘের কর্মীরা।
মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেনি ডুজারিক বলেছেন, সামনের সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় কর্মরতদের ৩০% অর্থাৎ শ’খানেকের মত কর্মী গাজা ত্যাগ করবেন। আরো কিছু কর্মীকে প্রত্যাহার করাস হতে পারে সামনের দিনগুলোতে। তবে জাতিসংঘে কর্মরত স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা মানবিক দায়িত্ব অব্যাহত রাখবেন। ডুজারিক বলেছেন, ১৯ মার্চ ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক গাজার দিয়ের আল বালাহ এলাকায় হামলা করেছে। সে সময় বুলগেরিয়ার একজন কর্মী নিহত এবং আরো ৬ জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ ইসরায়েলিরা জেনেশুনেই জাতিসংঘ কর্মীদের শিবিরে হামলা চালিয়েছে। ডুজারিক উল্লেখ করেছেন ঘটনাটির ব্যাপারে জাতিসংঘ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালাবে। এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক আইন মেনে মানবিক সেবায় নিয়োজিত জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। অপরদিকে, ইসরায়েলের জাতিসংঘস্থ মুখপাত্র জোনাথন হারুনোফ বলেছেন, ঐ ট্যাঙ্ক হামলার জন্যে আইডিএফ’র সম্পৃক্ততা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়নি। কারণ, আমাদের একমাত্র টার্গেট হচ্ছে হামাস বাহিনী। গাজাবাসীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে হামাসের জঙ্গিরা ইসরায়েলিদের হত্যা ও অপহরন করেছে। এমনকি হামাসের সন্ত্রাসীরা জাতিসংঘের ত্রাণ-শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে এহেন অপরাধ অব্যাহত রাখতে। অপরদিকে, জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে যে, এর আগেও কয়েকবার জাতিসংঘ ত্রাণ শিবিরকে টার্গেট করে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। স্টিফেনি ডুজারিক আরো উল্লেখ করেছেন যে, বিমান হামলায় আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত জাতিসংঘ কর্মী এবং অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে এর আগেও ইসরায়েলিরা হামলা করেছে।
Posted ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24