শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগ্রহ সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন

‘এটা বাংলাদেশীদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়’

এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম   প্রিন্ট
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : ৩:০১ অপরাহ্ণ

‘এটা বাংলাদেশীদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়’

 

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগ্রহ সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন

‘এটা বাংলাদেশীদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়’

 

এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিচারে তাকে মৃত্যুদন্ড প্রদানের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা সামনের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এ ব্যপারে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র গত শুক্রবার এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকমকে বলেছেন, ‘এগুলি বাংলাদেশীদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়।’

গত ১৯ অক্টোবর ওয়িাশিংটন ডিসিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভারত থেকে টেলিফোনে প্রদত্ত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বাংলাদেশের নাগরিক, তাদের রাজনৈতিক পটভূমি থেকে মুছে ফেলা যায় না। একইভাবে, যারা আমার সরকারের বিরোধিতা করেছে তারা দেশের নাগরিক এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে ‘’- এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের মতামত  ‍কি জানতে চাইলে ঐ মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন,  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং আমাদের দেশের স্বার্থকে এগিয়ে নিতে কার্যকর, সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য উন্মুখ রয়েছে-যা উভয় দেশের জন্য উপকৃত হয়।

 

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগ্রহ প্রকাশের পর আমেরিকাসহ গোটাবিশ্বে নানা গুঞ্জন উঠেছে। প্রবাসে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন দলীয় প্রধানের সফরসঙ্গি হতে। এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোন কোন পর্যায় থেকে অভিমত/প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে। তারই আলোকে নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকমের পক্ষ থেকে পৃথক ৪টি প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল স্টেট ডিপার্টমেন্টে। যার জবাব মিলেছে শুক্রবার। উত্তরের ধরণ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে, বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছানুযায়ী ট্রাম্প প্রশাসনের গতি-প্রকৃতি নির্দ্ধারিত হবে।

 

প্রশ্নগুলো এখানে উপস্থাপন করা হলো। ১. সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি জুলাই-আগস্ট’ ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন। আসছে ডিসেম্বরে ভারত থেকে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য বা অবস্থান কী?২.  শেখ হাসিনা ভারতে থাকাকালীন অর্থাৎ তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ অবস্থায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা যৌক্তিক হবে বলে কি মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র? ৩. ১৯ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসির জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত থেকে টেলিফোনে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতির আলোকে বলেন, “আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বাংলাদেশের নাগরিক, তাদের রাজনৈতিক পটভূমি থেকে মুছে ফেলা যায় না। একইভাবে, যারা আমার সরকারের বিরোধিতা করেছে তারা দেশের নাগরিক এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের মতামত  ‍কি? ৪. বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, আমি চাই না যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে। আমি শুধু চাই বাংলাদেশকেও একই মানদণ্ডে বিচার করা হোক যেভাবে বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রভাব রয়েছে এবং এর সাথে দায়িত্ব আসে। তবে তা বাংলাদেশকে শাসন করার নির্দেশ দিতে নয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সাংবিধানিক ব্যবস্থা, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা সমুন্নত রাখার জন্য। যুক্তরাষ্ট্র কি তাই মনে করে?

Facebook Comments Box

Posted ৩:০১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 347-623-7137
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us