নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রিন্ট
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৬:২৪ অপরাহ্ণ
অতিথিগণের সাথে নবগঠিত ‘ইউএসডিএন’র শীর্ষ কর্মকর্তারা। ছবি-বাংলা গেজেট।
নিজস্ব প্রতিনিধি
‘নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং জননীত বিষয়ক সমর্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশী তথা এশিয়ান-আমেরিকান সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্য ‘ ২৬ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করলো ‘ইউনাইটেড স্টেট ডেমক্র্যাটিক নেটওয়ার্ক’ তথা ইউএসডিএন। নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে মূলধারায় আরো জোরালোভাবে সম্পৃক্ততার বিকল্প নেই এবং এমন একটি তাগিদ অনুভূত হয় ২০০৮ সালে বস্টনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে তদানিন্তন সিনেটর বারাক ওবামার ভাষণ শোনার পর। নবগঠিত সংস্থাটির কো-ফাউন্ডার ও প্রেসিডেন্ট রাদওয়ান চৌধুরী এ তথ্য উপস্থাপনের সময় আরো উল্লেখ করেন, সে সময় আমি ছিলাম স্টুডেন্ট এবং ডেমক্র্যাটিক পার্টির তরুন অংশের একজন সমর্থক হিসেবে ঐ সম্মেলন থেকে আমি ওবামার বক্তব্যে আরো অনেকের মতো অভিভূত হই এবং অভিবাসী সমাজের সার্বিক কল্যাণে মূলধারায় উদ্বুদ্ধ হই। যদিও বাংলাদেশের মত একটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা বহুজাতিক এই দেশে বহুবছর যাবত বসবাস করলেও দেশীয় রাজনৈতিক ভাবধারাকেই আকড়ে রয়েছি। আর এমন পরিস্থিতি শুধুমাত্র বাংলাদেশীদের মধ্যেই সীমিত নেই, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের অভিবাসীরাই সে ধরনের মনমানসিকতা ধারণ করছেন। এখনো আমরা তেমন মাসিকতায় লিপ্ত রয়েছি।
‘ইউএসডিএন’র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন সাবিন হিন্টন। ছবি-বাংলা গেজেট।
ম্যারিল্যান্ড স্টেটের মন্টগোমারি কাউন্টির বাসিন্দা রাদওয়ান উল্লেখ করেন, এটা হচ্ছে ভাগ্য গড়ার দেশ। তাই সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে ঐক্যবদ্ধ থেকে মার্কিন রাজনীতিতে মিশে যাবার জন্যে। সে সংকল্পেই আমরা কিছু মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছি এই সংগঠনের ব্যানারে। রাদওয়ান উল্লেখ করেন, আমরা নেতৃত্ব বিকাশ এবং নাগরিক অধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করছি। আমাদের এই উদ্যোগ বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করা, স্থানীয় কন্ঠস্বরকে তুলে ধরা এবং জনসম্পৃক্ততার সকল স্তরে প্রতিনিধিত্ব প্রসারিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যবসা-বিনিয়োগ-নীতি নির্ধারণীতে আন্তর্জাতিক পরামর্শ সংস্থা ‘হিন্টন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার্স’ এর প্রতিষ্ঠাতা সাবিন হিন্টন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে ২০২২ সাল নাগাদ আড়াই বছর পলিটিক্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবসরে যাওয়া এই ঝানু কূটনীতিক সাবিন এম হিন্টন বলেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশে যাবার আগে আফগানিস্তানসহ কয়েকটি দেশে কাজ করেছি। সর্বত্র নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ দেখতে হয়েছে। ভোটের নামে প্রহসনের ঘটনাও ঘটতে দেখেছি। যা কখনোই কোন রাষ্ট্রের জন্যে ভালো হয়নি। সাবিনা হিন্টন ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় বাংলাদেশের ফ্যাশন ডিজাইনার তাসমিত আফিয়াত আর্নির সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হলে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। হিন্টন এ তথ্য উল্লেখ করেন আরো বলেন, আমি বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশের মানুষকে খুব ভালবাসি। বাংলা বলতে পারি, তবে তা খুব দুর্বল। হিন্টন নবগঠিত এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সাধ্যমত সহযোগিতা দেবেন বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, এই সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন আর্নি। আর্নিকে নিয়ে হিন্টন ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দা হলেও নিউইয়র্ক স্টেটের সিরাক্যুজে একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন এবং শীর্ঘই নিউইয়র্ক সিটিতেও বসতি গড়বেন বলে উল্লেখ করেছেন আর্নি। কারণ, এই সিটির মেয়র পদে লড়তে চান আর্নি।
এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উপস্থাপনকালে কো-ফাউন্ডার এবং পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ গালিব রহমান বলেন, মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনে আরো বেশী করে সম্পৃক্ত হওয়া, কম্যুনিটির সামগ্রিক কল্যাণের পথ সুগম করতে দেন-দরবার, প্রতিভাসম্পন্নদের সুসংগঠিত করে বাংলাদেশী তথা এশিয়ান আমেরিকানদের সামনে এগিয়ে চলার পথ-প্রদর্শক হবার অভিপ্রায়ে এই ইউএসডিএন সরব থাকবে।
উদ্বোধনী পর্বে আরো দাবি করা হয় যে, এটি একটি নির্দলীয় সামাজিক সংগঠন-যা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বাংলাদেশী আমেরিকানসহ এশিয়ান আমেরিকানদের নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্বকে উৎসাহিত করতে নিবেদিত থাকবে। সামাজিক অংশিদারিত্ব এবং শিক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে এটি আরো শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কম্যুনিটি গড়তে কাজ করবে।
‘ইউএসডিএন’র সমাবেশে গণমাধ্যম কর্মীগণের সাথে শীর্ষ কর্মকর্তারা। ছবি-বাংলা গেজেট।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ‘গ্লোবাল বাংলাদেশী এলায়েন্স’র প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান ড. মোহাম্মদ সালেহ। এ সময় সংস্থাটির পরিচালক মো. সোহেল হোসেন, তাসমিত আফিয়াত আর্নি, নাফিজা সাঈদা, রাফাত রহমানও সেখানে ছিলেন। সুধীজনের মধ্যে ছিলেন নবগঠিত ‘গ্লোবাল বাংলাদেশী চেম্বার অব কমার্স’র প্রেসিডেন্ট এবং সিইও কাজী এম আহমেদ, এ্যানভারণমেন্টাল প্রটেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড কন্সালট্যান্টস’র সিইও মো. সোলায়মান আকতার, বিশিষ্ট রিয়েল এ্যাস্টেট ব্যবসায়ী জাকির এইচ চৌধুরী প্রমুখ।
Posted ৬:২৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর