শফিকুর রহমান চলে গেলেন

শিতাংশু গুহ   প্রিন্ট
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ

শফিকুর রহমান এমপি। ছবি-সংগ্রহ।

 

 

শিতাংশু গুহ

 

 শফিকুর রহমান মারা গেছেন। তিনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। তাকে আমি চিনতাম, শুধু চিনতাম বললে ভুল হবে, খুব ভালোই চিনতাম। আমার জীবনে আমি প্রচুর হিন্দী ম্যুভি ও ইংরেজী ম্যুভি দেখেছি, এই কৃতিত্ব শফিক ভাইয়ের। আশির দশকে আমরা ছিলাম জাতীয় প্রেসক্লাবের সার্বক্ষণিক সদস্য, অর্থাৎ ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার প্রায় সবই প্রেসক্লাবে? নীচতলায় ক্যান্টিনের সাথে রুমটি ভিআইপি রুম হিসাবে ব্যবহৃত হতো। ওই রুমে আমরা প্রতিদিন ২/৩টি ম্যুভি দেখতাম। দুপুর হলেই শফিক ভাই বলতেন, চলো  শিতাংশু ম্যুভি নিয়ে আসি। পল্টনের অদূরে একটি ভিডিও’র দোকান থেকে আমরা ক্যাসেট নিয়ে আসতাম। অন্তত: ২৫/৩০জন সাংবাদিক অলস দুপুরে ম্যুভি দেখে কাটিয়ে দিতাম, এরমধ্যে ফটোগ্রাফারদের আধিক্য ছিল। অবশ্য কেউ কেউ সোফায় ঘুনিয়ে পড়তেন। 

 

শফিকুর রহমান দৈনিক ইত্তেফাকে চাকুরী করতেন, সিনিয়র রিপোর্টার। তখন ইত্তেফাকের সাংবাদিকরা মোটামুটি সবাই ধনী ছিলেন, কারণ বেতন, ঘরভাড়া ছাড়াও তারা বছরে ৬টি বোনাস পেতেন। শফিকভাই অবশ্য পরে ষ্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য হন, এবং অনেক বড়লোক হ’ন। সাংবাদিক ইউনিয়নের আমরা একই গ্রূপ করতাম, সবাই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের এবং আওয়ামী ঘরানার লোক ছিলাম। শফিক ভাই পরে আওয়ামী লীগের এমপি হন। দেশে গেলে আমি ঢাকায় নামার পরদিনই প্রেসক্লাবে যাই, সম্ভবত: ২০২৬–তে প্রেসক্লাবে গেলে শফিকভাই’র সাথে দেখা, জিজ্ঞাস করলেন, ‘কবে আইসো’, বললাম, গতকাল। বললেন, ‘ইস, গতকালই আমার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলো, আগে জানলে তুমি আসতে পারতে (সালটা ২০১৪–ও হতে পারে)। 

 

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আমরা ভেবেছিলাম শফিক ভাই প্রেস–সেক্রেটারি হবেন, এবং সেটি সঠিক চয়েস হতো, তিনি হ’ননি। ১৯৯৭/৯৮ সালে দেশে গেলে একদিন প্রেসক্লাবে লাঞ্চের সময় আমি শফিভাই’র টেবিলে বসলাম, টেবিলে প্রায় ৭/৮ জন বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। একটু বাদে বেবী আপা ঢুকলেন, তিনি অন্য একটি টেবিলে বসলেন। আস্তে আস্তে একজন একজন করে শফিকভাই’র টেবিলে থেকে উঠে বেবী আপার টেবিলে গিয়ে বসলেন। একটু বাদে দেখলাম শফিক ভাই’র টেবিলে শুধু তিনি এবং আমি। আমি জানতাম শফিকুর রহমান–বেবী মওদুদ দ্বন্ধের কথা, কিন্তু এতটা ভাবিনি। খানিক বাদে  শফিক ভাই আমাকে বললেন, শিতাংশু, তুমি যাওনা কেন? বললাম, যাবো, আপনি যাওয়ার পর। বেবি আপা আমাকেও খুবই স্নেহ করতেন। একটু বাদে শফিক ভাই চলে গেলেন, আমিও গিয়ে বেবি আপার টেবিলে বসলাম। 

 

বেবি আপা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র বান্ধবী এবং প্রথম টার্মে তিনি ছিলেন শেখ হাসিনা’র সার্বক্ষণিক সহচর। এমনকি শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে এলে তাঁর পাশের স্যুইটটি ছিলো বেবি আপার। সুতরাং প্রথমবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বেবি আপার কারণে শফিক ভাই কোনঠাসা ছিলেন। এমনিতে দু’জনই চমৎকার মানুষ, প্রায় সবাই দু’জনকে পছন্দ করতো, দু’জনের দ্ধন্ধের কারণ ঢাকার সাংবাদিকরা জানেন। বেবি আপা প্রায়ত: হয়েছেন অনেকদিন, শফিক ভাইও গেলেন। যেতে তো হবে সবাইকে, তবু কোন কোন যাওয়া মনে আঁচড় কেটে যায়। ২০০৯–এ শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসেন, শফিক ভাই তখন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ী সম্ভবত: কচুয়া–শাহরাস্তি, চাঁদপুর। আমিও চাঁদপুর শহরের, এটিও হয়তো আর একটি কারণ যে আমরা দুজনই চাঁদপুইরা। আমি তাকে শফিক ভাই বলতাম, কারন পেশায় তিনি ছিলেন আমার অগ্রজ। বয়সেও তিনি বড় ছিলেন, যদিও শফিক ভাই বলাটা ছিলো পারস্পরিক, শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও স্নেহের, তিনি আমায় স্নেহ করতেন।  এ লেখাটি তার প্রতি আমার শেষ শ্রদ্ধা।

Facebook Comments Box

Posted ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 347-623-7137
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us