দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে মিশিগানের হ্যামট্রমক সিটির মেয়র হিসেবে বাংলাদেশী মুহিত মাহমুদ আসছে রোববার ৮ নভেম্বর শপথ নেবেন। ওয়াইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্সকে মুহিত মাহমুদের নাম গ্যাজেটভুক্ত করার চ’ড়ান্ত নির্দেশ প্রদান করেছেন ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি। ৩০ অক্টোবর প্রদত্ত এক রায়ে মাননীয় বিচারক ম্যাকার্থি সিলেটের গোলাপগঞ্জের সন্তান মুহিত মাহমুদের স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত অভিযোগ নাকচ করার পরই বাংলাদেশী ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমান অধ্যুষিত হ্যামট্রমক সিটির মেয়র পদে শপথ গ্রহণের পথ সুগম হয়েছে। এর আগে গত বছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডাকযোগে আসা ৩৭টি ব্যালট গণনা ছাড়াই ফলাফল ঘোষণা করলে ইয়েমেনী আমেরিকান আদম আলহারবিকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এ নিয়ে মুহিত মাহমুদ আদালতে গিয়েছিলেন। মাননীয় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৩৭ ব্যালট গণনার পর মুহিত মাহমুদ ২০৮৯ ভোট এবং আদম আলহারবির ভোটের পরিমাণ হয় ২০৭৭ অর্থাৎ মুহিত মাহমুদ ১২ ভোট বেশী পেয়ে জয়ী হলেন। উল্লেখ্য, ব্যালট যুদ্ধে ধরাশায়ী হবার সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে আদম আলহারবি মুহিত মাহমুদ এই সিটিতে বসবাস করেন না বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মাননীয় আদালতে। সেটির রায় এসেছে ৩০ অক্টোবর।
ওয়েইন কাউন্টির বিচারক মাহমুদকে হ্যামট্রামকের পরবর্তী মেয়র হওয়ার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছেন। তিনি রায় দিয়েছেন যে, নির্বাচিত পদে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বাসস্থানের শর্ত তিনি পূরণ করেছেন। মাহমুদ যে এলাকায় বসবাসের দাবি করেছেন তা নাকচ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, “সাক্ষীদের সাক্ষ্য শুনে এবং সমস্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করার পর, আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, মেয়র হিসেবে নির্বাচিত পদে আসীন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বসবাসের শর্তটি মাহমুদ পূরণ করেন। এটিও স্পষ্ট যে, বিভিন্ন শহরে জনাব মাহমুদের আরও বাসস্থান রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা মূঔু পার্শ্ববর্তী ট্রয় শহরে থাকেন। তবে এই বিষয়টি তাঁকে নির্বাচিত পদে আসীন হওয়া থেকে বিরত করে না।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের নির্বাচনের পরদিন হ্যামট্রামক শহরের ক্লার্কের কার্যালয়ে খোলা খামের ভেতর এই ৩৭টি ব্যালট পাওয়া গিয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে একজন বিচারক ব্যালটগুলো গণনা করার নির্দেশ দেন। ১৬ অক্টোবর ‘ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স’ ব্যালটগুলো পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করে। তারা যে অনানুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে, তাতে দেখা যায়, মেয়র অ্যাডাম আলহারবির ২০৭৭ ভোটের বিপরীতে ২০৮৯ ভোট পেয়ে মাহমুদ এগিয়ে গেছেন। ভোটের নতুন সংখ্যা পাওয়া সত্ত্বেও, বোর্ড জানিয়েছিল যে তারা ফলাফল প্রত্যয়ন করতে পারছে না, কারণ মাহমুদ হ্যামট্রামক বসবাস করেন কিনা, তা নিয়ে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২২ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে এ বিষয়ে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং শুক্রবারের রায়ে সেই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। উল্লেখ্য, আলহারবি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্মরণ করা যেতে পারে, মুহিত মাহমুদ হলেন যুক্তরাষ্ট্রে কোন সিটির মেয়র হিসেবে নির্বাচিত দ্বিতীয় বাংলাদেশী আমেরিকান। আরেকজন হচ্ছেন পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়া সংলগ্ন মিলবোর্ন সিটির মেয়র মাহবুবুল আলম তৈয়ব। তিনি চট্টগ্রামের সন্তান। স্মরণ করা যেতে পারে এই সিটির ৬ কাউন্সিলরের ৪ জনই বাংলাদেশী আমেরিকান। এরা হলেন আবু আহমেদ মুসা, মোহাম্মদ হাসান, মোহতাসিন সাদমান এবং নাঈম চৌধুরী লিয়ন।