তারেক রহমানের নিরাপদে সরে দাঁড়ানো এবং বাংলাদেশকে অরাজক পরিস্থিতি থেকে রক্ষাকল্পে অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দায়েরকৃত সকল মামলা উঠিয়ে নিয়ে রাজবন্দিদের মুক্তির অভিপ্রায়ে চতুর্মূখী সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। প্রথম পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপ হতে হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশকে জঙ্গিদের অভয়রাণ্য থেকে রক্ষাকল্পে শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠাকল্পে। আর এই সংলাপে দূতিয়ালি করতে হবে ভারতকে। কারণ, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের যন্ত্রণা ভারতকেও সইতে হবে। তারেক রহমানের সাথে আওয়ামী লীগের সংলাপেও বিশেষ ভ’মিকায় থাকতে হবে ভারতকে। কারণ, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের নীলনক্সা বাস্তবায়নে চব্বিশের জুলাইয়ের আন্দোলনের নেপথ্যে ছিল কোটা আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনে সহজ-সরল মানুষেরা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন, এখোন অনেকের বোধোদয় ঘটেছে। কিন্তু এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিথ্যা ও সাজানো মামলায় লাখো নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জঙ্গিরা হত্যা করেছে হাজারো নেতা-কর্মীসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রগতিশীল চিন্তা-ে চতনার মানুষকে। এর ধারাবাহিকতায় এখনো বিচার বহির্ভূত হত্যা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি কারাগারেও হত্যার শিকার হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এসবের দায় মুহম্মদ ইউনূস ও তার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানও। বাংলাদেশের অরাজক পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ অবসানে দরকার সংলাপ। সেটি হতে হবে আওয়ামী লীগের সাথে তারেক রহমানের। তেমন ক্ষেত্র তৈরীর পূর্বশর্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃত সকলের মুক্তি।
আব্দুর রকিব মন্টু।
১ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার উদ্যোগে ‘৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কার্যক্রম ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেমিনারে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন সংলাপের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বাংলাদেশী আমেরিকানদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত সিনেটর-কংগ্রেসম্যান, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে দেন-দরবারের আহবানও জানিয়েছেন।
ফরিদা ইয়াসমিন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের সভাপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু এবং সঞ্চালনা করেন হোস্ট সংগঠনের সেক্রেটারি এডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লিটন। বাংলাদেশে গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের আইনী সহায়তা প্রদানের জন্যে আওয়ামী লীগের ‘আইন সহায়তা পরিষদ’র সদস্য-সচিব এডভোকেট নুরুন্নবী বুলবুলও টেলিফোনে বক্তব্য দিয়েছেন সেমিনারে।
সুধীর একাংশ।
নিউইয়র্কে বসবাসরত এডভোকেটগণ ছাড়াও এ সেমিনারে ছিলেন বিজ্ঞানী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক-বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী, সিনিয়র সাংবাদিক এম ফজলুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, মানবাধিকার আইনজীবী শাহ বখতিয়ার, মূলধারার রাজনীতিক সাখাওয়াত আলী, মঞ্জুর চৌধুরী, সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, চিকিৎসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হাসান, নারী সংগঠক হুসনেআরা, কৃষিবিদ সিদ্দিকুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক, আব্দুর রহিম বাদশা প্রমুখ। আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন এডভোকেট মিয়া জাকির, এডভোকেট নূর কানিজ ফাতেমা, মো. আলী বাবুল প্রমুখ।
সমবেত কন্ঠে জাতীয় জঙ্গিতে আইনজীবীরা।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু এ সেমিনারে বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরো কথা বলেছেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ শাহনাজ, শাহানারা রহমান, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা মোর্শেদা জামান, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এইচ এম ইকবাল, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ও সেক্রেটারি হৃদয় মিয়া, শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যার্তন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সেক্রেটারি জুয়েল আহমেদ, গীতিকার আল আমিন বাবু, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা সিরাজউদ্দিন সোহাগ, সুব্রত সতালুকদার।
বক্তাগণের অনেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সুরক্ষা, আইনের শাসন পুনরুজ্জীবিত, মিথ্যা মামলায় হয়রানির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে কাজ করছেন বলে দাবি করেন। কেউ কেউ নিয়মিতভাবে বিপদগ্রস্ত নেতা-কর্মীগণের জন্যে তহবিল পাঠানোর কথাও উল্লেখ করেন।
সেমিনারে আরো জানানো হয় যে, বাংলাদেশকে ধ্বংস্তুপে পরিণত করা এবং আইনের শাসনকে ভ’লুন্ঠিত করার বিচার দাবিতে মার্কিন আদালতে মামলা করার একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সেমিনার থেকে সামনের দিনগুলোর করণীয় সমূহ আলোকপাতকালে হোস্ট সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রকিব মন্টু জানান, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আহবান জানানো হবে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ঘটনা এবং পরবর্তী সকল মানবাধিকার লংঘনের নিরপেক্ষ তদন্তে জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করতে; শিশু অপহরণ, ধর্ষণ, ও বলাৎকারের ঘটনার অবসানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যদিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলায় আটক ৫০ হাজারের অধিক রাজবন্দিকে অবিলম্বে মুক্তি এবং তাদের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগসহ বাংলাদেশের সকল নিবন্ধিত প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংলাপ আয়োজন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গঠিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালের বেআইনী রায় বাতিল করার জোর দাবি উপস্থাপন করছে সেমিনার থেকে।