অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
সংগৃহীত ছবি
জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবির প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন দলটির সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ধরলাম, আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?’
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ২২ জুন বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় জামায়াতকে ইঙ্গিত করে দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিলেন। সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ টি এম আজহার এ মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে তিনি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে কি না। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, ‘চার মাস আপনারা একজন লোক খুঁজে পেলেন না যে প্রেসিডেন্ট কে হবে?’
বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে বিএনপির এত পছন্দ কেন—এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাঁকে পদে রাখার বিষয়ে বিএনপি কোনো ইঙ্গিত পেয়েছে কি না, সেটিও জনগণের জানার বিষয়। ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে হলে এর সব চিহ্ন মুছে ফেলার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী হাসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করেন এ টি এম আজহার। তিনি দাবি করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত এসব নেতাকে ‘মিথ্যা মামলায় জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা’ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
প্রস্তাবিত বাজেটকে অতি উচ্চাভিলাষী ও ঋণনির্ভর আখ্যা দিয়ে এ টি এম আজহার বলেন, রাজস্ব আহরণে অনিশ্চয়তা, ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয় সংকোচনের কারণে বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক চাপ ও বড় রাজস্ব ঘাটতির বাস্তবতায় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
পরিচালন ব্যয়কে সবচেয়ে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
এ টি এম আজহার বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুদমুক্ত আর্থিক উপকরণ বা ফিন্যান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, ‘সুদ একটি বড় পাপ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সুদভিত্তিক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে চলতে পারে না।’ তার মতে, সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক রিটেইল সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, স্বল্প সময়ে পুরোপুরি সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা চালু করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে দেশ সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
Posted ৮:১০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর