এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম
প্রিন্ট
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
সংবাদ সম্মেলনে সহকর্মীগণকে পাশে নিয়ে কথা বলছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের।
এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম
থমকে গেল বহুল আলোচিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। ২৩ অক্টোবর অপরাহ্নে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে অবস্থিত সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। স্থগিতাদেশে স্বাক্ষর করেছেন মাননীয় বিচারপতি চেরী এ বাগস। এই মামলা করেছিলেন ওসমান চৌধুরী। তিনি ভোটার হবার আবেদন করেছিলেন কিন্তু তা নাকচ করা হয়েছে। এছাড়া, সদস্য তালিকাভুক্তি এবং একই ঠিকানায় শতশত প্রবাসীর ভোটার হবার অভিযোগ ছাড়াও ২৭৫ জন ভোটার ব্যবহার করেছেন একটি ফোন নম্বর-৬৪৬-৬৩৩-৭১৬৮। একইভাবে ২৩১ জনে ৬৪৬-৬৪৪-৩৫১৭, ২৩০ জনে ৩৪৭-৬৩৬-৫১৫৩, ২২৩ জনে ৭১৮-৪৩৭-৮০০০, ২০৭ জনে ৯১৭-৪৪২-৯০০২ টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন। একই ঠিকানায় ডজনখানেক ভোটার হবার তথ্যও উদঘাটিত হয়েছে বলে এ সংবাদদাতাকে জানান ওসমান চৌধুরী। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ৩৫ হাজার ২৪২ জন ভোটারের এই নির্বাচন নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত কুইন্স, ব্রুকলীন, ব্রঙ্কসে ৫টি কেন্দ্রে হবার কথা ২৫ অক্টোবর রোববার। সেলিম-আলী এবং কুনু-ফিরোজ প্যানেল সরাসরি লড়ছে ২১টি আসনের কার্যকরি কমিটির নেতৃত্ব পেতে। প্যানেলের বাইরে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন একজন-রাব্বি সৈয়দ। আরো উল্লেখ্য, ৫০ বছরের পুরনো নিউইয়র্ক তথা উত্ত্বর আমেরিকায় সর্ববৃহৎ এই সংগঠনে এবারই সবচেয়ে বেশী প্রবাসী ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন মাধাপিছু ২০ ডলারের ফি প্রদান করে।
সকল প্রস্তুতি সত্বেও নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ জারির ঘটনায় সমগ্র কম্যুনিটি হতাশ হয়েছে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের জানান। ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সোসাইটির ভবনে আহূত সংবাদ সম্মেলনে আবু নাসের আরো জানান, এই স্থগিতাদেশ নিয়ে বিস্তারিত শুনানীর তারিখ ধার্য করা হয়েছে ৫ নভেম্বর।অর্থাৎ ৫ নভেম্বরের শুনানীর পর মাননীয় আদালতের নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে নির্বাচনের পরবর্তী কার্যক্রম।
![]()
সোসাইটির ফ্যাসিস্ট চরিত্রের আলোকে মাননীয় আদালতের মন্তব্য ও আদেশ। এমন বিধি তৈরী হয়েছে রব-রুহুলের আমলে।
সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত ডক্যুমেন্ট বিতরণ করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্রের নবম ধারার ৬ নম্বর সেকশন অনুযায়ী বাংলাদেশ সোসাইটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার এখতিয়ার নেই কারোরই। এমন যুক্তিকে ‘নিউইয়র্কের সংবিধিবদ্ধ আইন এবং পাবলিক পলিসির বিরুদ্ধে অকার্যকর, বেআইনী এবং অপ্রয়োগযোগ্য’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন মাননীয় বিচারক। একইসাথে বাংলাদেশ সোসাইটির সপ্তম ধারা অনুযায়ী ওসমান চৌধুরীকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত এবং সভাপতি পদে নির্বাচনের যোগ্য ঘোষণার আহবানও জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সকল ভোটারের মধ্যে সৃষ্ট হতাশার জন্যে দু:খ প্রকাশ করে আবু নাসের পরবর্তী পরিক্রমায় গণমাধ্যমসহ সচেতন সকল প্রবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। আবু নাসের উল্লেখ করেছেন যে, ২০১৮ সাল থেকেই ওসমান চৌধুরী মামলা করে আসছেন। কয়েকটি মামলা এখনো আদালতে ঝুলে রয়েছে।
ওসমান চৌধুরী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলা দায়েরকারি ওসমান চৌধুরী বগুড়ার সন্তান এবং ১৯৮৪ সাল থেকে নিউইয়র্কে বাস করছেন। পেশা ট্যাক্সি ড্রাইভিং। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্ক সিটিতে কর্মরত অবস্থায় ওসমান চৌধুরীর এক যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছার পর ভুলে ডায়মন্ডের ৩১টি রিং-সহ ব্যাগ ফেলে যান। এরপর রীতি অনুযায়ী পরবর্তী যাত্রী উঠানোর আগে ট্রাঙ্ক খুলে ওসমান চৌধুরী বিপুল অংকের ঐসব রিং দেখে আৎকে উঠেন। কারণ, ঐ নারী যাত্রীকে নামানোর পর বেশ কিছুক্ষণ ট্যাক্সি চালিয়ে যাত্রী পেয়েছেন অর্থাৎ ব্যস্ততম নিউইয়র্ক শহরের কয়েক মাইল অতিক্রম করতে হয়। এ অবস্থায় পরবর্তী যাত্রীকে গন্তব্যে নামিয়ে ডায়মন্ডের রিং ফেলে যাওয়া যাত্রীকে যেখানে নামিয়েছিলেন সেখানে গমন করেন এবং বহুতলা ঐ ভবনের রিসিপশনিস্টের মাধ্যমে নারীর হদিস পান এবং রিং-সহ মূল্যবান সামগ্রি ভর্তি ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় হাতে পেয়ে নারীটি যারপর নাই খুশী হন। সাথে সাথে বিষয়টি সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি, এনবিসি, ফক্স টিভি, ওয়ালস্ট্রিট জার্ণালসহ শীর্ষস্থানীয় সকল গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার ও প্রকাশ পায়। ওসমান চৌধুরীর সততাকে শুধু বাংলাদেশীদের মধ্যেই সীমিত না রেখে সকল গণমাধ্যম কঠোর পরিশ্রমী অভিবাসীগণের সততাকেই সবিস্তারে উপস্থাপন করেছিল। সেই ওসমান চৌধুরী এখনো একইপেশায় রয়েছেন এবং কম্যুনিটিতে অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে সরব থাকেন। শুধু তাই নয়, ট্যাক্সি ড্রাইভারদের অধিকার ও মর্যাদা প্রশ্নেও সকল আন্দোলনে অন্যতম সংগঠক হিসেবে তাকে দেখা যায়। এমন একজন মানুষকে সদস্যপদ না দেয়ার সংবাদটি বিবেকবান সকল প্রবাসীকে হতাশ করেছিল। মাননীয় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখোন তার সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে সকলে আশা করছেন। এবং নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থিতার সুযোগদানের নির্দেশ প্রদানের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সদস্য রুহুল আমিন সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য শামসুদ্দিন আযাদ, বদরুল হক খান, মিঠু হামিদ এবং মো. দুলাল মিয়া ছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটির বিদায়ী কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য আতোয়ারুল আলম, রুহুল আমিন হাওলাদার, আজিমুর রহমান বোরহান।
Posted ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24