এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৪:১৪ অপরাহ্ণ
এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম
বিপর্যস্ত মানবতা, সংকটাপন্ন স্বাধীনতা—প্রতিবাদে কণ্ঠ মেলাই, প্রতিরোধে ঐক্য গড়ি। এই প্রতিবাদী স্লোগানকে ধারণ করে সাম্য, মানবিকতা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রত্যয়ে নিউইয়র্কে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান, ঐক্যবদ্ধ ও গণমুখী করার দৃঢ় আহ্বানে মুখরিত হয়ে ওঠে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান।
গান, কবিতা, আবৃত্তি, নাটক, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধি ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করেন শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও অতিথিরা।
৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সভাপতি ক্ল্যারা রোজারিওর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক লিলি মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানার সাবেক প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক বাঙালীর সম্পাদক কৌশিক আহম্মদ, সাবেক ছাত্রনেতা জুলফিকার হোসেন বকুল এবং প্রগ্রেসিভ ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি হাফিজুল হক।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বাবুল আচার্য, জ্যামাইকা উদীচী শাখার সভাপতি আশীষ রায়, ব্রঙ্কস শাখার সহ-সভাপতি শেলি শামস এবং প্রগ্রেসিভ ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য জাকির হোসেন বাচ্চু।
সভাপতির বক্তব্যে ক্ল্যারা রোজারিও উদীচীর ৫৮ বছরের সংগ্রামী সাংস্কৃতিক অভিযাত্রার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, উদীচীর দীর্ঘ পথচলা কেবল একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইতিহাস নয়, বরং অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে সংস্কৃতির শক্তিতে দাঁড়িয়ে থাকার এক গৌরবময় ইতিহাস।
তিনি বলেন, ১৯৬৮ সালে যে স্বপ্ন ও প্রত্যয় নিয়ে উদীচীর যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই স্বপ্ন ছিল মানুষের মুক্তির স্বপ্ন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়। গান, নাটক, আবৃত্তি, নৃত্যসহ সংস্কৃতির নানা মাধ্যমকে হাতিয়ার করে উদীচী সব সময় সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্নকে ধারণ করেছে।
ক্ল্যারা রোজারিও বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; সংস্কৃতি প্রতিবাদের ভাষা, মানুষকে জাগিয়ে তোলার শক্তি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস। নানা প্রতিকূলতা, বাধা, ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার মধ্য দিয়েও উদীচী তার আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসেনি। উদীচীর অনুষ্ঠানে বর্বর হামলায় প্রাণ হারানো সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কঠিন বাস্তবতা ও অপরিহার্যতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
![]()
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাংস্কৃতিক পর্বে যুক্তরাষ্ট্র উদীচী, জ্যামাইকা উদীচী ও ব্রঙ্কস শাখার শিল্পীরা সংগীত ও কবিতা আবৃত্তি করেন। একঝাঁক শিশু শিল্পীর চিত্রাঙ্কন, নৃত্য ও কবিতা পাঠ অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্নমাত্রা।
অতিথি শিল্পী হিসেবে অংশ নেন সাংস্কৃতিক সংগঠন মাটির গানের সিইও ও সংগীতশিল্পী শাহীন হোসেন। শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলা লোকসংগীতের ঐতিহ্য ও বাউল সাধনার আবহ পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান তবলা শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেবু চৌধুরী, কণ্ঠশিল্পী খ্রিস্টেলা কুইয়া, তুলি বিশ্বাস, মলি ডেসা ও মহুয়া ভট্টাচার্যসহ তাঁর দল এবং অতিথি শিল্পী নিগার নাঈম তমা।
এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন উদীচীর সদস্য সুলেখা পাল, লিলি মজুমদার, ফুলু রায়, সুপর্ণা সরকার রিমা, মুনমুন সাহা, ইমন বিশ্বাস, জুলি খাস্তগীর, সুমন দে, শহীদ জাকির ও রাবেয়া আক্তার।
নাটক মঞ্চস্থ করেন উদীচী জ্যামাইকা শাখার সহ-সম্পাদক দিলীপ মোদক। সংগীত, আবৃত্তি ও নাটকের সমন্বয়ে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চেতনার এক সমৃদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
Posted ৪:১৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24