এজাজ আহম্মেদ
প্রিন্ট
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
সংগৃহীত ছবি
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যাসহ অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনি এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম এবং সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১০টি মামলার তদন্ত চলছে এবং প্রতিটি মামলার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি র্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর বিচার চলছে উল্লেখ করে বলেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধান কৌঁসুলির দাবি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ চট্টগ্রামের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের মতো আলোচিত ঘটনাগুলোতেও বেনজীর আহমেদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি মামলায় তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি ইতোমধ্যে এনসিবির কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিবিকে চিঠি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হবে।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর তার বিপুল সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার জাতীয় সংসদে জানান, ওই রেড নোটিসের ভিত্তিতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলাম বলেন, রেড নোটিস কার্যকর করার ক্ষেত্রে এনসিবি ও ইন্টারপোলের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার ভাষ্য, ইন্টারপোলের তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ। আমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংযুক্ত করে ইউএই সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠিয়েছে। দেশটির আদালতের অনুমোদন মিললে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরিয়ে আনার পর বিচারাধীন মামলাগুলোতে বেনজীর আহমেদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। পাশাপাশি তদন্তাধীন মামলাগুলোতে প্রয়োজন হলে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, অভিযোগগুলোর বিচার কঠোরভাবে সম্পন্ন করা হবে।
Posted ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর